১৭৭৩-এর শুরুতে হেস্টিংস এভাবেই লিখছিলেন; কিন্তু আগের বছর বছরে তিনি যে ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, সেটা দীর্ঘকাল অক্ষুণ্ণ থাকেনি। দেখা গেছে তাঁর সরকার মুর্শিদাবাদ আর পাটনার রাজস্ব পরিষদ বিলুপ্ত করেছিল এবং কালেক্টরদের সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়েছিল। কালেক্টরদের (রাজস্ব সংগ্রাহকদের) ব্যাপারে হেস্টিংসের মনে যে সংশয় ছিল সেটা জে. ডুপ্রে-র কাছে লেখা চিঠি (৬ই জানুয়ারি, ১৭৭৩) থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি: —
“কে যেন বলেছিলেন, তিনি প্রজাদের জন্য এমন সব আইন প্রণয়ন করেছিলেন, যা গ্রহণ করার সামর্থ্য তার প্রজাদের ছিল — এমন নয় যে সেগুলোই ছিল সম্ভাব্য সর্বোত্তম আইন। প্রায় একই নীতির ওপর ভিত্তি করে, আমরা আমাদের শাসনব্যবস্থায় একটা গুরুতর ত্রুটি বহাল থাকতে দিয়েছি — আমি কালেক্টরদের কথাই বলছি। ‘সুপারভাইজার’ থেকে ‘কালেক্টর’ — এই পদনাম পরিবর্তনের জন্য আমরা যে আনুষ্ঠানিকতার আশ্রয় নিয়েছি, সেটা দেখে আপনারা নিশ্চই উপহাস করবেন না। আপনারা খুব ভালো করেই জানেন, নামের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীর মানুষের মতামত কতটা প্রভাবিত হয়। আদিতে ‘সুপারভাইজার’ শব্দটির অর্থ মানে বোঝায়, এরা ছিলেন ঠিক তেমনই, — অর্থাৎ নিছকই পর্যবেক্ষক মাত্র; কিন্তু আমার এখানে পৌঁছানোর আগেই যদিও সেই পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল, তবুও আমি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম যে, ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর কাছে তাঁরা তখনও তাঁদের সেই আদি রূপেই পরিচিত ছিলেন। কোম্পানির ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল; আর সেই উদ্দেশ্যেই আমরা ওই কর্মকর্তাদের এমন একটি পদবিতে ভূষিত করেছি, যা তাঁদের পদের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। একসময় তো কালেক্টরদের পদ পুরোপুরি লুপ্ত করে দেওয়ারই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁরা দেশের বাণিজ্যের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছেন; আর স্বাভাবিকভাবেই, বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশে অর্থ বা ধাতু মুদ্রার (specie) প্রবাহ ফিরে আসা তাঁরা রুদ্ধ করে দেন — কারণ তাঁরা তাঁদের পদের সুবাদে প্রাপ্ত ‘পারিতোষিক’ বা উপরি আয়ের অর্থ দিয়েই ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতেন। আমার বিশ্বাস, এই ‘পারিতোষিক’গুলো ছিল সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের নিপীড়ন এবং ঠিকঠাক রাজস্ব আদায়ে খুব বড় অন্তরায়। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন তাঁদের নিজস্ব ‘বানিয়া’ বা ব্যবসায়িক সহকারীদেরই প্রতিনিধি — এবং তাঁরা এক একজন যেন সাক্ষাৎ শয়তান। (এই বাক্য কিছুটা অস্পষ্ট; ‘কলকাতা রিভিউ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে একজন প্রাজ্ঞ হিন্দু লেখক এর অর্থ করেছিলেন এই বলে যে, হেস্টিংস কালেক্টরদের ‘শয়তান’ হিসেবেই গণ্য করতেন। তবে আমার মনে হয় হেস্টিংস এখানে ‘তাঁরা’ বলতে মূলত ওই ‘বানিয়া’দেরই বুঝিয়েছিলেন) আর যেহেতু কালেক্টরের পদগুলো কোম্পানির চাকরিতে অন্য যেকোনো পদের চেয়ে — এমনকি স্বয়ং সরকারের পদগুলোর চেয়েও (ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন) — অনেক বেশি লাভজনক, তাই কোনো প্রকার কঠোর পদক্ষেপ বা জবরদস্তি ছাড়া প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য আমরা কোনো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারছি না; কারণ, কে-ই বা বছরে তিন-চার হাজার টাকার একটি ‘মোটামুটি ভালো’ বেতনে সন্তুষ্ট থাকবেন — যা দিয়ে কেবল কলকাতায় কোনোমতে দিন গুজরান করা যায় — যখন কিনা তিনি কালেক্টরের পদে থেকে এক লাখ বা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন (আমার বিশ্বাস, অনেকেই এই পদ থেকে ততটা অর্থই কামিয়েছেন) এবং মফস্বল এলাকায় অবস্থান করার সুবাদে তাঁর নিজের কোনো খরচই করার দরকার হয় না? তবে ওই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য বা যুক্তি যা-ই থাকুক না কেন, শেষমেশ দেখা গেল — তাঁদের দলে এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যাঁরা হয় ডিরেক্টরদেরই সন্তান কিংবা তাঁদেরই স্নেহধন্য শিষ্য (eleves), অথবা ‘কাউন্সিল’-এর সদস্যদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন; তাই শেষমেশ তাঁদের স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্তই শ্রেয় বলে বিবেচিত হলো। …তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা বা পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করে প্রশাসনের প্রতিটি কাজের বিরুদ্ধেই একদল প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়ার চেয়ে এটিই শ্রেয়। তাদের পদে বহাল রাখা হলো বটে, তবে তাদের ক্ষমতা সংকুচিত করা হলো; এবং তাদের পর্যায়ক্রমিক অপসারণের পথও সুগম করা হলো। এর ফলে ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’ বা পরিচালক পর্ষদের হাতে এমন যথেষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হলো, যার ভিত্তিতে তারা অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারেন।” (Gleig: op. cit., vol. I., pp. 268-69. ‘ইন্ডিয়া অফিস’-এ সংরক্ষিত ‘Orme MSS’-এর (ওর্মে পাণ্ডুলিপি) অন্তর্ভুক্ত নথিপত্রের মধ্যে পাওয়া যাবে — ”Regulations proposed for the Government of Bengal” [বাংলা সরকারের জন্য প্রস্তাবিত বিধিমালা], যা ১৭৬৫-র দিকে মি. হেস্টিংস রচনা করেছিলেন। দেখুন: Hill: Catalogue of Manuscripts belonging to the Library of the India Office, vol. ii part i. The Orme Collection. Oxford, 1916)
মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় সর্বোচ্চ বিচারালয়, রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র এবং ‘খালসা’ (রাজস্ব দপ্তর) দপ্তর স্থানান্তরের মাধ্যমে হেস্টিংস এমন একটি নীতি কার্যকর করছিলেন, যা সুপরিকল্পিতভাবে এই শেষোক্ত স্থানটিকে (কলকাতা) ব্রিটিশ বাংলার রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করবে। যদি জব চার্নককে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে হেস্টিংসকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক রাজধানী হিসেবে কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও এই মহান প্রশাসক (Proconsul) এক পর্যায়ে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে এবং সাময়িকভাবে মুর্শিদাবাদের গুরুত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তবুও কলকাতাকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় সংকল্প কখনোই শিথিল হয়নি; এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। ৩রা নভেম্বর ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই পরিবর্তনের সুফলগুলো তুলে ধরেন :
১. “যতদিন পর্যন্ত রাজস্ব সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাহী কার্যক্রম এবং কালেক্টরদের বা রাজস্ব আদায়কারীদের সাথে চিঠিপত্রে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব মুর্শিদাবাদের পরিষদের (Council) ওপর ন্যস্ত ছিল, ততদিন আপনাদের প্রশাসনের সদস্যদের পক্ষে রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে সেই গভীর আর সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি — যা কেবল ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব।”
২. “এই পরিবর্তন প্রদেশগুলোর অধিবাসীদের জন্য প্রভূত স্বস্তি বয়ে আনবে; কারণ এর ফলে ন্যায়বিচার লাভের পথ তাদের জন্য আরও সুগম হবে। অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে, নিম্ন আদালতগুলোর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এখন সরাসরি প্রেসিডেন্সিতেই করা যাবে — যেখানে এর আগে এই আপিলগুলো প্রথমে মুর্শিদাবাদের কাউন্সিলে পাঠানো হতো এবং সেখান থেকে আমাদের (উচ্চতর কর্তৃপক্ষের) কাছে আপিল করার সুযোগ থাকত।”
৩. “এর আরেকটা সুফল দেখা যাবে, সেটি হল কলকাতায় অধিবাসীদের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের বিপুল বৃদ্ধি। এটি কেবল আমাদের মাতৃভূমি থেকে আমদানিকৃত অত্যন্ত মূল্যবান পণ্যসামগ্রীর ভোগ বা ব্যবহারই বৃদ্ধি করবে না, বরং স্থানীয় অধিবাসীদের আমাদের রীতিনীতি ও আচার-আচরণ সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেবে এবং আমাদের নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের অনুকূল ও সহমর্মী করে তুলবে।”
টিকা
১৭৭৫-এ ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর উদ্দেশ্যে হেস্টিংসের লেখা চিঠির সাথে জুড়ে দেওয়া নিচের বিবৃতি ১৭৬৯-৭৪ সময়কালে কলকাতার বাণিজ্যের অবস্থা তুলে ধরে। (কাউন্সিলের কার্যবিবরণী, ২২শে এপ্রিল, ১৭৭৫)

বর্তমান অধ্যায়ের উপসংহারে একটা কথা উল্লেখ করা দরকার যে, ১৭৭২-এ হেস্টিংস যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন — যদিও ১৭৭৩-এ ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’ মফস্বল এলাকা থেকে ইংরেজ কালেক্টরদের প্রত্যাহারের নির্দেশের ফলে সেই নীতিটি আমূল পরিবর্তিত হতে যাচ্ছিল — তবুও তার সেই নীতি সেই খামখেয়ালি শাসন সংগঠনের (capricious governing body) অনুমোদন লাভে সমর্থ হয়েছিল। ১৭৭৩-এরর ১৬ই এপ্রিল, তাঁরা বাংলা গভর্নরকে এই চিঠি লিখলেন:
৫. “রাজস্ব বন্দোবস্তকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের প্রতি আপনার মনোযোগ আমাদের পূর্ণ অনুমোদন লাভ করেছে; এবং আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে লক্ষ্য করছি যে, ‘ইজারা প্রথা’ (farming system) ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হবে। বিশেষত এই কারণে যে, বিগত দুই বছরে পরিচালিত অনুসন্ধান ও তথ্যানুসন্ধানের ফলে জমিজমার প্রকৃত মূল্য ও উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে একটি মোটামুটি নিশ্চিত ধারণা পাওয়া গেছে; ফলে আমরা আশা করি, জমির মূল্য সম্পর্কে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার জালিয়াতি বা অতিরঞ্জন এবং প্রজাদের ওপর কোনো প্রকার নিপীড়ন সহজেই এড়ানো সম্ভব হবে।
৬. “মহম্মদ রেজা খানের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা ছিল একান্তই অপরিহার্য কাজ; এবং একইভাবে শিতাব রায়কে গ্রেপ্তার করাও ছিল সমান জরুরি — কারণ শিতাব রায় দীর্ঘকাল ধরে মহম্মদ রেজা খানের সাথে এমন নিবিড়ভাবে জুড়ে ছিলেন যে, তাঁর প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে, যদি পরিস্থিতি এমন নাও হতো, তবুও বাংলায় ‘নায়েব দেওয়ান’ পদ বিলুপ্ত করার পর বিহার প্রদেশে সেই পদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হতো চরম অযৌক্তিক পদক্ষেপ। আর ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর অভ্যন্তরীণ রদবদল বা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মহম্মদ রেজা খান যদি কোনোভাবে লাভবান হওয়ার আশা পোষণ করে থাকেন, তবে সেই আশা অতি শীঘ্রই ধূলিসাৎ হবে; কারণ, যদিও কোনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁদের মতামতের মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবুও মহম্মদ রেজা খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং কোম্পানির প্রশাসনিক দায়িত্ব এমন সব ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করার যৌক্তিকতা ও অপরিহার্যতার বিষয়ে তাঁরা সকলেই সর্বান্তঃকরণে একমত — এমন সব ব্যক্তি, যাঁদের ভারতবর্ষে কৃতকর্মের জন্য ইংল্যান্ডে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা সম্ভব হবে।”
৭. “নবাবের অভিভাবক হিসেবে বেগমকে আপনার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত আমরা সম্পূর্ণরূপে অনুমোদন করছি; নন্দকুমারের মাধ্যমে আপনি যে কার্যসিদ্ধির পরিকল্পনা করেছেন, তা অত্যন্ত যথাযথ। আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে লক্ষ্য করছি যে — যখন নন্দকুমারের বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত মনোভাবের সাথে জনকল্যাণের বিষয়টি সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হলো — তখন আপনি বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে আপনার সমস্ত ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন।”
১০. “যদি ‘নায়েব দেওয়ান’ পদটা বিলুপ্ত করা এবং আপনাদের সরাসরি প্রধান বা ‘প্রিন্সিপাল’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা — এই বিষয়গুলো আপনাদের ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের মনে বিন্দুমাত্র উদ্বেগের সৃষ্টি করে থাকে, তবে এ কারণে উদ্ভূত হতে পারে এমন যেকোনো অযৌক্তিক সন্দেহ বা ঈর্ষা নিরসনের জন্য আমরা আপনাদের বিচক্ষণতার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছি।”
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ