দ্বাদশ অধ্যায়
প্রাদেশিক পরিষদ এবং ফৌজদারেরা
৭ই এপ্রিলের সাধারণ পত্রে, পরিচালক সভা ইংরেজ কালেক্টরদের দেশের অভ্যন্তরভাগ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেন;একই সঙ্গে গভর্নর ও কাউন্সিলকে বিপুল ক্ষমতা দিয়ে বলা হয়”প্রতি জেলার উপযুক্ত মূল্যমান সম্পর্কে জানা এবং বাসীন্দাদের পরিত্রাণের লক্ষ্যে আপনারা যেন ‘অন্য কোনো বিকল্প পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেন—যতদিন না আপনারা আমাদের এই দপ্তরের কার্যপরিচালনা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রেরণ করতে সক্ষম হন, যা বর্তমানে আমাদের সক্রিয় বিবেচনার অধীনে রয়েছে।” গভর্নরের হাতে বিপুল ক্ষমতা ত্রুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ১৭৭২-এ থেকে চালু হওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল পুনর্গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ল। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৭৬৯-তে কমার্শয়াল রেসিডেন্ট Commercial Residents প্রসঙ্গে কোর্ট অফ ডিরেক্টরদের মত ১৭৭২-এ সুপারভাইজারদের প্রসঙ্গে তাঁদের [গভর্নর ও কাউন্সিলের] মতেরই কাছাকাছি ছিল। (১৭৬৯-এর ১৭ই মার্চ কোর্ট লিখল – “২৬. সমগ্র প্রদেশ জুড়ে ইংরেজ রেসিডেন্টরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের আড়ালে ব্যাপক তাদের পদে দুর্নীতি আর অপব্যবহার চালাচ্ছিল বলেই আমাদের রেসিডেন্টদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ জারিকরতে বাধ্য হয়েছিলাম; কিন্তু এখন যেহেতু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই ক্ষতিকর একচেটিয়া বাণিজ্যের নীতিগুলোকে আমরা সমূলে উৎপাটন করতে সক্ষম হয়েছি, তাই যেসব স্থানে কোম্পানির ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা পণ্যসংগ্রহের প্রয়োজনে রেসিডেন্সি থাকা একান্ত অপরিহার্য, সেখানে সেই পদে নিয়োগের কাজ পুনরায় চালু করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। অতএব, আপনারা যদি মালদা রেসিডেন্সিতে কোম্পানির কোনো কর্মচারীকে নতুন করে নিযুক্ত করা আবশ্যক বলে মনে করেন, তবে আপনাদের প্রতি আমাদের সেই অনুমতি দ্রয়া রইল; কিন্তু আমাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে নতুন করে কোনো রেসিডেন্সি স্থাপন করা চলবে না।”)
১৭৭৩-এর ২৩শে নভেম্বর, বোর্ড অফ রেভিনিউ (রাজস্ব পরিষদ) বৈঠকে মিলিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ১৭৭২-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার সেই সংশোধন বা পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা, যা কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের আগে উল্লিখিত চিঠির বক্তব্য কার্যকর করার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। আগের বছরে চালু হওয়া কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা তাঁদের কাঁধে যে গুরুভার চাপিয়ে দিয়েছিল, কাউন্সিল সদস্যরা ইতিমধ্যেই সেই ভার অনুভব করতে শুরু করেছিলেন; একই সময়ে, তাঁরা সেই ভয়াবহ অশুভ পরিণামগুলোও আঁচ করতে পারছিলেন—যা প্রথম পরিবর্তনের (১৭৭২ সালের সংস্কার) পরপরই এত দ্রুত দ্বিতীয় আরেকটি পরিবর্তনের (১৭৭৩ সালের সংস্কার) ফলে অনিবার্যভাবে দেখা দিতে পারত। তাই তাঁরা এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন, যার একটি অংশ—তাঁদের আশা অনুযায়ী—স্থায়ী প্রকৃতির হবে; আর বাকি অংশটি হবে কেবলই সাময়িক, যা পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন কিংবা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সুযোগ রাখবে। নিচে সেই পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো। (রাজস্ব বোর্ডের কার্যবিবরণী, ২৩শে নভেম্বর, ১৭৭৩। দ্রষ্টব্য: হ্যারিংটন: Analysis, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯; কোলব্রুক: Supplement, পৃষ্ঠা ২০০ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।)
১. একটি স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে।
১. বর্তমানে বিদ্যমান কালেক্টরেটগুলোর অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ অপরিবর্তিত থাকবে; তবে এমন কিছু পরিবর্তন বা বিন্যাস করা যেতে পারে, যা সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাকে আরও সহজতর করে তুলবে।
২. প্রতিটি জেলার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে একজন দেওয়ান বা আমিল নিয়োজিত থাকবেন; তবে যেসব জেলা সম্পূর্ণভাবে জমিদার বা দায়িত্বশীল ইজারাদারদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে—সেক্ষেত্রে উক্ত জমিদার বা ইজারাদারদেরই তত্ত্বাবধানের সেই ক্ষমতা অর্পণ করা হবে।
৩. প্রেসিডেন্সিতে একটি ‘রাজস্ব কমিটি’ (Committee of Revenue) গঠন করা হবে। এই কমিটি বোর্ডের দুজন সদস্য এবং কাউন্সিলের পদমর্যাদার নিচে অবস্থানকারী তিনজন বরিষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত হবে। কমিটি প্রতিদিন বৈঠকে মিলিত হবে এবং জেলাসমূহের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও আদেশসমূহ প্রণয়ন করবে। এছাড়া, যেসব বিশেষ ঘটনা, দাবি বা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কাউন্সিলের আদেশের প্রয়োজন হতে পারে—সেসব বিষয়ে কমিটি প্রতিবেদন পেশ করবে; এই প্রতিবেদনগুলো কাউন্সিলের ‘রাজস্ব বিভাগ’-এর সামনে উপস্থাপন করা হবে।
৪. দেওয়ান উক্ত কমিটির সভাপতি এবং ‘রায় রায়ান’-এর সাথে পত্রালাপ বা যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
৫. দেওয়ানদের উদ্দেশ্যে জারিকৃত আদেশসমূহ কমিটির সভাপতি এবং কমিটির নামেই লিখিত হবে এবং তাতে ‘খালসা’র (রাজস্ব দপ্তরের) সীলমোহর অঙ্কিত থাকবে।
৬. বিশেষ স্থানীয় তদন্ত বা অনুসন্ধানের প্রয়োজনে সাময়িক কমিশনার বা পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে। এঁদেরকে কোম্পানির কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করা হবে—তবে তা কেবল জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ভাষার ওপর দখল এবং সংযত আচরণের বিষয়টি বিবেচনা করে বোর্ড কর্তৃক স্বাধীনভাবে নির্বাচিত করা হবে; বোর্ডের কোনো একজন সদস্যও যদি তাঁদের নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে সেই ব্যক্তি নিয়োগের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এই ধরনের কমিশনারের মাসিক বেতন হবে ১,৫০০ টাকা। কমিশনাররা তাঁদের সাথে করে জেলায় কোনো ‘বানিয়ান’ (স্থানীয় প্রতিনিধি বা দালাল) নিয়ে যেতে পারবেন না; এছাড়া বিশেষ অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো ভৃত্য বা নির্ভরশীল ব্যক্তিকে সাথে নিতে পারবেন না। তাঁরা জেলায় অবস্থানকালে অর্থ ধার দিতে বা নিতে পারবেন না, কোনো পণ্য ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারবেন না, তালুক ইজারা নিতে পারবেন না, কারো জামিনদার হিসেবে দাঁড়াতে পারবেন না—এবং তাঁদের ভৃত্যদেরও এ ধরনের কোনো কাজ করার অনুমতি দিতে পারবেন না।
৭. সিপাহি বাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আদেশ জারি করা হবে, যাতে তাঁরা সামরিক উদ্দেশ্য-বহির্ভূত কোনো কাজে সিপাহিদের নিয়োজিত না করেন এবং নিজেরা কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হন।
৮. ফৌজদারি আদালতের কর্মকর্তাদের ইজারা নেওয়া কিংবা অনাবাসিক ব্যক্তিদের পক্ষে আদালতে নায়েব বা গোমস্তা হিসেবে কাজ করা নিষিদ্ধ করা হলো।
৯. রায়তদের (প্রজাদের) পক্ষ থেকে আগত সকল অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. সাময়িক ব্যবস্থা।
১. তিনটে প্রদেশকে পাঁচটি প্রাদেশিক পরিষদে বিভক্ত করা হলো; প্রতিটি পরিষদ একজন প্রধান, চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন ফারসি অনুবাদক, একজন হিসাবরক্ষক ও তাঁর সহকারীদের নিয়ে গঠিত হবে এবং সরকার কর্তৃক একজন দেওয়ান নিযুক্ত হবেন। এছাড়া কলকাতায় একটি ‘রাজস্ব কমিটি’ গঠন করা হবে, যা বোর্ডের দুজন সদস্য, তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন সচিব, একজন ফারসি অনুবাদক, সহকারীরা এবং দেওয়ান হিসেবে ‘রায় রায়ান’-কে নিয়ে গঠিত হবে।
২. প্রাদেশিক পরিষদসমূহ রাজস্ব বিভাগের বিষয়ে গভর্নর ও তাঁর পরিষদের সাথে এবং দেওয়ানগণ ‘রায় রায়ান’-এর সাথে পত্রালাপ করবেন।
৩. জেলাগুলোর কালেক্টরদের বর্তমান দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাঁদেরকে জেলা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
৪. প্রাদেশিক পরিষদগুলো রাজধানী থেকে দূরের জেলাগুলোর জন্য ‘নায়েব’ নিযুক্ত করবেন; ২১ আগস্ট, ১৭৭২-এর প্রবিধান অনুযায়ী এই নায়েবরা ‘দিওয়ানি আদালত’-এর বিচার পরিচালনা করবেন।
এই পরিকল্পনায় ‘রাজস্ব কমিটি’ (Committee of Revenue) — যাকে সমগ্র পরিষদ নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ ‘রাজস্ব বোর্ড’ কিংবা ১৭৮১ সালে গঠিত ‘রাজস্ব কমিটি’ — কোনোটির সাথেই গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়—সূচনালগ্নে নিম্নোক্ত এলাকাগুলোর ওপর এখতিয়ার বা বিচার ক্ষমতা প্রয়োগ করত:
কলকাতা পরগনা।
হুগলি।
হিজলি।
মাহিষাদল [Maisadal]
তমলুক।
নদীয়া।
যশোর।
মহম্মদশাহী [Mahmudshahi]
কান্তনগরের তালুকসমূহ। (১ নং টিকা দেখুন)
“এমন সব বিত্তবান ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন জমিজমা, যাঁদের স্থায়ী বাসস্থান কলকাতায় অবস্থিত।”
(১নং টিকা) ১৭৭২-এর ২০শে আগস্ট, ‘কমিটি অফ সার্কিট’ (Committee of Circuit) এক সিদ্ধান্ত নেয় যে — “নিম্নলিখিত জেলা ও মহলগুলো যেহেতু দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, তাই এগুলি যথারীতি ‘খালসা’ দপ্তরেই তাদের রাজস্ব প্রদান অব্যাহত রাখবে; তবে এগুলি মুর্শিদাবাদে প্রতিষ্ঠিত প্রাদেশিক ‘আদালত’সমূহের এখতিয়ার বা বিচারের আওতাধীন থাকবে। যথা : —”

কলকাতার এই অধীনস্থ কমিটি ১৭৮০-র ১২ই মে পর্যন্ত কলকাতাতেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল; এরপর সম্ভবত ওয়ারেন হেস্টিংসের অত্যধিক ও কড়া নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তারা তাদের দপ্তর হুগলিতে স্থানান্তরিত করে। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে — যে সময়ে হেস্টিংস আর বারওয়েল কাউন্সিলের অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে কাউন্সিলের দুজন সদস্যই যেহেতু এই কলকাতা কমিটিরও সদস্য ছিলেন, তাই বিরোধী পক্ষের স্বার্থসিদ্ধি ও উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে এই কলকাতা কমিটি ফ্রান্সিসের (Francis) হাতে একটি ক্ষুদ্র অথচ কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পাঁচটি প্রাদেশিক কাউন্সিল নিম্নোক্তভাবে জেলাসমূহের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল : —
মুর্শিদাবাদ —
রাজশাহী (পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগ)।
রুকনপুর।
চুনাখালি।
লস্করপুর।
জাহাঙ্গীরপুর।
খাস তালুকসমূহ।
বর্ধমান —
রাজমহল।
ভাগলপুর (মুঙ্গের থেকে সংযুক্ত এলাকাগুলোসহ)।
খড়গপুর, জঙ্গলতরাই।
“ক্যাপ্টেন ব্রুকের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে থাকা জেলাসমূহ”
বর্ধমান —
বর্ধমান।
মেদিনীপুর।
বিষ্ণুপুর।
পাঞ্চেত।
বীরভূম।
রামগড়।
“ক্যাপ্টেন কার্নাকের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে থাকা জেলাসমূহ”
দিনাজপুর –
দিনাজপুর।
সিলবেরিস [সালবড়ি]।
পূর্ণিয়া।
রংপুর।
ইদ্রাকপুর।
বাহারবন্দ।
কুচবিহার। ( প্রবিধান ১৯। “কুচবিহারের কালেক্টরেটকে রামগড় এবং খড়গপুরের সমপর্যায়ে স্থাপন করা হবে; এখানকার কর্মকর্তারা কেবল গভর্নরের কাছ থেকেই নির্দেশ গ্রহণ করবেন এবং কেবল নিয়মশৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের কাউন্সিলের নিকট হিসাবপত্র প্রেরণ করবেন।”)
রঙ্গামাটি।
ঢাকা –
ঢাকা।
সিলেট।
আতিয়া।
কগমারি। বারবাজু [কার্যত এটিই ময়মনসিংহ জেলা]। [বাজুহা হলো ‘আইন-ই-আকবরী’-তে উল্লিখিত সরকারগুলোর অন্যতম; এর অন্তর্ভুক্ত ছিল ময়মনসিংহ জেলার প্রায় সমগ্র অংশ এবং ঢাকা, পাটনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলার কিয়দংশ। বাজু = ‘একটি বাহু বা ডানা’]
বিহার পাটনার প্রধান ও পরিষদের এখতিয়ারভুক্ত থাকার কথা ছিল; এবং চট্টগ্রাম ও টিপ্পেরা রাজস্ব বোর্ডের সাথে সমন্বয় রেখে চট্টগ্রামের (ইসলামাবাদ) প্রধান ও পরিষদের এখতিয়ারভুক্ত থাকার কথা ছিল।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ