| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪০০ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

একই সঙ্গে প্রসঙ্গসূত্রে বলা দরকার পলাশী উত্তর সময়ে কোম্পানি [নবাবের সঙ্গে] চুক্তি সম্পাদন করে ন্যূনতম সুবিধা, নগণ্যতম মূল্যে অর্জন করেছিল বললেও অত্যুক্তি হয় না। ১৭৫৭-র ফেব্রুয়ারির চুক্তি অনুসারে, সম্রাট ফারুখসিয়ারের ১৭১৭-র সনদ অনুযায়ী সিরাজ-উদ-দৌলা, আটত্রিশ গ্রামের তালুকদারি করার অধিকার কোম্পানিকে বিক্রি করেছিলেন—কিন্তু [অতীতে আমরা সেই অধিকার পেলেও] ধূর্ত নবাব মুর্শিদকুলি খান আমাদের এই ভূমিখণ্ড বিক্রি করার ফরমানের নির্দেশ প্রতিরোধ করেন। যেমন ইংরেজ জমিদারিতে মীর জাফরের চব্বিশ পরগনা সংযোজন, ক্ষমতাচ্যুত পূর্বসূরীর দেওয়া দানের তুলনায় সামান্য কিছু বেশি ছিল। কোম্পানির বাণিজ্য সুবিধা অর্জন বিষয়ে ১৭৬০-এ গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট বলেছিলেন পলাশীর যুদ্ধ ইংরেজ সওদাগরদের নতুন কোনও সুবিধা দেয় নি। (এইচ. ভ্যান্সিটার্ট: এ ন্যারেটিভ অফ দ্য ট্রানজ্যাকশনস ইন বেঙ্গল। লন্ডন, ১৭৬৬, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪: ‘বাণিজ্য সম্পর্কে, মীর জাফরের কাছে কোনো নতুন সুবিধা চাওয়া হয়নি; প্রকৃতপক্ষে কোম্পানির কোনো সুবিধার প্রয়োজনও ছিল না, কারণ তারা ১৭১৬-র প্রদত্ত শর্তাবলীতেই সন্তুষ্ট ছিল এবং কেবল নবাবদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার কারণে যে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছিল, সে সব থেকে তারা মুক্তি পেতে চেয়েছিল’) লর্ড ক্লাইভের সাথে থেকে ১৭৫৭-র বাংলার রাজনীতি আর প্রশাসনের সমস্ত কার্যকলাপে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা লুক স্ক্র্যাফটন বলেছেন: ‘এই সময়ে কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ছিল, পলাশীর যুদ্ধ আমাদের কলকাতা দখলের আগের পরিস্থিতিতেই ফিরিয়ে এনেছে; সুবাদারকে আগের মতোই স্বাধীন মনে হচ্ছে, আর ইংরেজরা প্রচলিত সওদাগরের ভূমিকা পালন করছে; পরিস্থিতির একটিমাত্র পরিবর্তন ছিল যুদ্ধে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওনা এবং সামান্য ভূখণ্ড লাভ, যা দিয়ে সামরিক ব্যয় নির্বাহ করা গেল; কারণ পলাশীর আগে সেনাবাহিনীর ব্যয়, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থেকে মেটানো কষ্টসাধ্য ছিল; পলাশীর পর সুবাদার চাইলে, ব্রিটিশ সৈন্যকে নিজের খরচেই যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হতো।’ (লুক স্ক্র্যাফটন, পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২) পলাশীর সাত মাস পর, হুগলির নায়েব ফৌজদার কোম্পানির পুরোনো কুঠির চারপাশে প্রহরী মোতায়েন করেন এবং ইংরেজ পতাকা নামিয়ে ফেলার হুমকি দেন (জেমস লং: সিলেকশনস ফ্রম দ্য আনপাবলিশড রেকর্ডস অফ দ্য গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, নং ৩৩৫।)

তবে এই সমস্ত তথ্য সত্ত্বেও, আমরা সকলেই জানি ১৭৬২-তে ক্লাইভ অমর সামরিক গৌরবে ভূষিত হয়েই কিন্তু আইরিশ অভিজাত শ্রেণিতে প্রবেশ করলেন ‘ব্যারন ক্লাইভ অফ প্লাসি’ [পলাশী]  উপাধি লাভ করে; প্লাসি সম্ভবত ক্লাইভের নামের সাথে জুড়ে থাকা একমাত্র যুদ্ধ, যা আমইংরেজের স্মৃতিতে আজও সমুজ্জ্বল।(ইতিহাসে পলাশীর স্থান সম্পর্কে স্থানীয় ভারতীয় ঐতিহ্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করি ‘কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়রা ভেবেছিল যে ইংরেজ রাজ তার শততম বছর পর্যন্ত টিকে থাকবে না, এবং ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর মাঠে ক্লাইভের বিজয়ের শতবর্ষপূর্তিতে এর পতন ঘটবে।’ রবার্টস: ফর্টি-ওয়ান ইয়ার্স ইন ইন্ডিয়া, ভলিউম, ১, পৃ. ১৭১) ইংরেজি ইতিহাসের জনপ্রিয় বিশ্লেষণে পড়ি: ‘১৭৫৭। কলকাতা পুনরুদ্ধার। পলাশীর যুদ্ধ (২৩শে জুন) বাংলায় ইংল্যান্ডের অধিকার নিশ্চিত হল।’(অ্যাকল্যান্ড এবং র‍্যানসম: ইংলিশ পলিটিক্যাল হিস্ট্রি, পৃ. ১৩) স্যার আলফ্রেড লায়াল লিখছেন, ‘১৭৫৭-এ  ক্লাইভের বিজয়ে বাংলা দখল হল।’(লায়াল: দ্য রাইজ অফ দ্য ব্রিটিশ ডমিনিয়ন ইন ইন্ডিয়া, ১৮৯৮, পৃ. ১১৪) সাম্প্রিককালে প্রকাশিত ডিক্সনারি অব ডেটস-এ বলা হয়েছে: ‘১৭৫৭ পলাশীতে ক্লাইভের বিজয়ের ফলে বাংলা ভূখণ্ড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে আসে; ১৭৬৫-তে মুঘল সম্রাটের থেকে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর লাভ করে।’ (এ ডিকশনারি অফ ডেটস, নেলসন অ্যান্ড সন্স, ভলিউম। ১, পৃ. ১৪৭) এই সব বিবৃতির সমালোচনায় যাই বলা হোক না কেন, স্পষ্টভাবে বলা দরকার পলাশীর যুদ্ধ ইংরেজদের জন্য এবং স্বয়ং ক্লাইভের জন্য কোনো বড় সামরিক কৃতিত্ব নয়। আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্পষ্টভাবে জানান দেয় যে এর প্রকৃত ফল তুলনামূলক নগণ্য ছিল। এতদসত্ত্বেও স্বীকার করতেই হবে পলাশীর বিজয় জনকল্পনায় এতটাই গভীরে প্রভাব ফেলেছে যে, পলাশীর যুদ্ধকে সাম্রাজ্য বিজয়ের কৃতিত্ব দেওয়ার জনপ্রিয় বিশ্বাস নিজে থেকেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। এই বাস্তব সত্য উপেক্ষা করা অসম্ভব, ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নির্মাতারা মনের অবচেতন গভীরে এমন এক বিশ্বাস পোষণ করতেন যা তাদের শাসনের উৎসকে তরবারির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিজয়ের ঘটনার সাথে যুক্ত করেছিল—অর্থাৎ ২৩শে জুন, ১৭৫৭-র ঘটনা।

সুপ্রিম কোর্ট অফ জুডিকাচারের এক মামলায় আদালতের দুই প্রধান বিচারপতি [original Justices of that Court] রায় দেন, ‘এই [কলকাতা] শহরের বাসিন্দা সকলেই ব্রিটিশ প্রজা, কারণ এই শহর অ্যাডমিরাল ওয়াটসন এবং কর্নেল ক্লাইভ জয় করেছিলেন, কিন্তু এই রায় অধীনস্থ কুঠির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’ (আচার্য: কোডিফিকেশন ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। ট্যাগোর ল লেকচার্স, ১৯১২, পৃ. ৪০৮) ১৭৫৭-য় সশস্ত্র বাহিনীর কলকাতা পুনরুদ্ধার ঐতিহাসিক ঘটনা, এবং সে তথ্য অস্বীকারও করার কোনও উপায় নেই, এবং বলা দরকার এই সামরিক অভিযান যে খুবই উল্লেখযোগ্য ঘটনা সন্দেহ নেই; সমস্যা হল সম্ভবত বিচারপতিরা জানেন না, সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অস্ত্রবলে কলকাতা দখল হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ইংরেজরা সামরিক বিজয়ের শর্তে কিন্তু শহর দখলে রাখতে চায় নি; তারা নবাবের থেকে রাজধানীর অবাধ বাসস্থান অধিকারের সনদ চায় আর সেটা তারা পায়ও। এই গবেষণা পত্রে যে সময়কাল নিয়ে আমি আলোচনা করছি, সেই সময় সারণীতে বাংলায় ইংরেজ দখলের ন্যায্যতা কোনো না কোনওভাবে মুঘল সম্রাটদের অধীনে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবেই কাজের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাজস্ব আদায়কারী হিসেবে ক্রমশ ইংরেজরা দেশের প্রকৃত শাসক হয়, এবং রাজস্ব পরিষেবার অপরিহার্যতা তাদের নতুন শাসন কাঠামো তৈরিতে বাধ্য করেছিল এবং দেশীয় সার্বভৌমত্বের কার্যকারিতা ধ্বংস করার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পুরোনো শাসককে বিতাড়িত করেছিল। সুতরাং, রাজস্ব প্রশাসনের ইতিহাসই হলো বাংলায় ইংরেজ দখলের ইতিহাসের মেরুদণ্ড।

পলাশী বা বক্সার কোনও যুদ্ধই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে লড়া হয়নি; সেই যুদ্ধ আদতে মুর্শিদাবাদের মসনদে (মসনদ ছিল সুবাদার বা নায়েবের সিংহাসন। প্রকৃতপক্ষে ছোট পাথরের মঞ্চ) এমন একজন শাসককে টিকিয়ে রাখার জন্য লড়া হয়েছিল যিনি ব্রিটিশ কুঠি উচ্ছেদ করতে ক্ষমতাহীন। যদিও কিছু কিছু সময়ে লন্ডন এবং বাংলায় তাদের প্রতিনিধি উভয়ই যুদ্ধংদেহী মনোভাব (উদাহরণ স্বরূপ, ১৬৮৬-তে তাদের ‘কর্নেল’ চার্নককে দেওয়া চট্টগ্রাম দখল করার আদেশ) দেখিয়েছিলেন, এবং যদিও অনেক সময়েই আঞ্চলিক ক্ষমতা দখলদারির আকর্ষণ স্পষ্টতই লোভনীয় ছিল, তবুও আমরা দেখতে পাই যে কোম্পানি সামগ্রিকভাবে ‘অঞ্চল’ বা ‘সম্পত্তি’ দখল করে নি এবং বাংলার তাদের কর্মচারী, কোনো গুরুত্বপূর্ণ জরুরি অবস্থায় প্রভাবিত না হলে, দেশীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে বা ব্যবসায়ীর অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন। (৭ই জুলাই, ১৭১২-য় ফোর্ট উইলিয়ামের কাউন্সিল এই মর্মে সম্মত হয়েছিল যে, ‘আমরা পাটনায় একটি চিঠি লিখব এবং তাদের মুচলকা (চুক্তি) দিতে নিষেধ করব, এবং তাদের জানাব যে আমরা বিস্মিত না হয়ে পারি না যে তারা কীভাবে বিশ্বাস করে যে আমরা মুর্শিদকুলি খানকে কোনোভাবে সাহায্য করেছি, যেহেতু এ নবাবকে সামরিক সাহায্য করা বণিকদের কাজ নয়, বা সরকারের কোনও বিষয়েই নিজেদের জড়ানো আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ আমরা ভালো করেই জানি যে এটি আমাদের মাননীয় কর্তাদের সমস্যায় ফেলবে’) আঞ্চলিক দখলদারি নিয়ে কোম্পানি আর তার কর্মচারীর মনোভাবের (যেমন, ১৭৬৫-এ গাজিপুরের অধিকার ত্যাগ। দেখুন, কোর্ট অফ ডিরেক্টরস-এর বাংলার উদ্দেশ্যে লেখা সাধারণ চিঠি, ১৬ই মার্চ, ১৭৬৮, অনুচ্ছেদ ৭: ‘আমরা এখন এই ধরনের জোটের প্রতি অসম্মতি পুনর্ব্যক্ত করছি, যা আমাদের মতে পরিস্থিতির কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজন হতে পারে না, এবং আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে আমরা মুঘলদের অনুদানবলে প্রাপ্ত বা দেওয়ানের পদ থেকে উদ্ভূত ক্ষমতা বা সম্পত্তি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর লক্ষ্য রাখব না, এবং ফলস্বরূপ বাংলা, বিহার এবং ওডিসার সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব’) বহু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, তবে বর্তমানে শুধুমাত্র দুটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে

(১) ১৭১৭-র সম্রাট ফারুখসিয়ারের দরবারে সুরমান দৌত্য ছিল বহু বছরের প্রস্তুতি, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় এবং অপরিসীম ব্যক্তিগত সাহস, আত্মসংযম, ধৈর্য ও কূটনৈতিক দক্ষতার ফল। এই দৌত্য কোম্পানির জন্য কলকাতার নিকটবর্তী আটত্রিশ গ্রামের রাজস্ব আদায় অধিকার নিশ্চিত করেছিল। (সুরমান দৌত্য কাহিনীর জন্য দেখুন সি. আর. উইলসন, আর্লি অ্যানালস অফ দ্য ইংলিশ ইন বেঙ্গল, খণ্ড ২, দ্বিতীয় অংশ। কলকাতা, ১৯১১) কর্মচারীদের প্রাপ্ত সুবিধাগুলোর প্রতি কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ধরণটি ছিল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। ১৭১৯-এর ৩রা ফেব্রুয়ারির ডেসপাচে লন্ডনের কর্তারা লিখলেন:-

আমাদের মনে সন্দেহ ছিল, যদি আটত্রিশটি শহর মঞ্জুর হয়, তবে সেই বরাদ্দ আদৌ আমাদের জন্য লাভজনক হবে কিনা, অথবা ভবিষ্যতে যখন তারা শহরগুলোকে সমৃদ্ধ হতে দেখবে এবং সেগুলো কেড়ে নিতে চাইবে, তখন [এই অধিকার] আমাদের মুরদের [মুসলমান] সাথে বিবাদে জড়িয়ে ফেলবে কিনা- এ বিষয়ে আমরা আপনার মতামত জানতে চেয়ে লিখেছিলাম; আমরা ৮৫ নম্বর অনুচ্ছেদে দেখতে পাচ্ছি, আপনি বলেছেন শহরগুলো পেলে আমাদের জন্য তা অত্যন্ত সুবিধা হবে। আমরা এই বিষয়ে মিস্টার ফ্র্যাঙ্কল্যান্ডের (হেনরি ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড (অলিভার ক্রমওয়েলের মায়ের দিকের প্রপৌত্র) বাংলা পরিষেবা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কিন্তু তিনি ১৭২২-এ কলকাতা ফিরে আসেন এবং ১৭২৬-২৮ পর্যন্ত গভর্নর ছিলেন। দেখুন বেঙ্গল পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট, খণ্ড ৯, ২৩৮ এবং পরের পৃষ্ঠাগুলো) সাথে আলোচনা করেছি এবং শহরগুলোকে রক্ষা করার জন্য বা আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় সৈন্যবাহিনীর খরচ নিয়েও কথা বলেছি; এবং একদিকে প্রত্যাশিত লাভ এবং অন্যদিকে এর ফলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় সৃষ্ট হতে পারে এমন ঝামেলা ভালোভাবে বিবেচনা করে, আমরা মনে করি আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে যদি আমরা কেবল ততগুলো শহরই নিই (যখন আপনি সেগুলো কিনতে পারবেন) যেগুলো নদীর উজান এবং ভাটিতে তিনটি শহর সংলগ্ন এবং নদীর অন্য পাড়ের শহরগুলো, কেনা হলে আপনার দিকের শহরগুলোর প্রায় সমান এলাকা জুড়ে থাকবে; এবং আমরা কেবল সেই শহরগুলোই নিতে আগ্রহী যেগুলো নদীর তীরে বা প্রায় দুই মাইলের মধ্যে অবস্থিত, কারণ যদি কখনও কোনো প্রতিবেশী স্থানীয় ছোট শাসকের আক্রমণ থেকে সেগুলোকে রক্ষা করার প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের সৈন্যদের সীমানা রক্ষা করার জন্য দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্লান্ত হতে হবে। আমরা আরও মনে করি যে, যখন জাফর খান বা অন্য কোনো গভর্নর দেখবেন যে আপনি আপনার প্রাপ্য অংশের কেবল কিছুমাত্র অংশ চাইছেন, তখন তিনি বা তারা সহজেই সম্মতি দেবেন এবং ভবিষ্যতে কোনো বিবাদ সৃষ্টি করবেন না; কারণ আমাদের মূল কাজ যেহেতু বাণিজ্য, তাই আমাদের পক্ষে খুব বেশি অঞ্চলের শাসন অধিকার সামলানোয় ভারাক্রান্ত হওয়া রাজনৈতিকভাবে বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না। মিস্টার ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, আপনার দিকের নদীর অন্য পাড়ের জমি আমাদের জাহাজ মেরামতের ডক তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কারণ সেখানকার নদীর স্রোত ততটা তীব্র নয়, এবং আমরা ডক সম্পর্কে যেমন বলেছি, একটি ভালো ডক পেলে আমরা উপকৃত হব। আমরা আরও যোগ করতে পারি, যদি কখনও আমরা এমন পরিস্থিতিতে [অঞ্চল শাসনের ভার নেওয়া — অনুবাদক] জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হই, তবে সেখানে আমাদের বসতি নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম করবে; কিন্তু এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে সামান্যতম ইঙ্গিতও করা উচিত নয়, পাছে আমাদের এই ভাবনা  সরকারকে শঙ্কিত করে তোলে। (এই উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে অবারের: রাইজ অ্যান্ড প্রগ্রেস অফ দ্য ব্রিটিশ পাওয়ার ইন ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩-২৪ থেকে। স্যার টমাস রোর মত ছিল পর্তুগিজ আর ওলন্দাজরা তাদের বাণিজ্য থেকে যা লাভ করত, তার চেয়ে বেশি অর্থ তাদের [অধিকৃত] অঞ্চলগুলোয় ব্যয় করত)

আবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৭২১ তারিখে কোর্ট অফ ডিরেক্টর্স লিখলেন: ‘মনে রাখবেন, আমরা বড় অঞ্চল দখল নিতে আগ্রহী নই, বিশেষ করে যদি তা আপনাদের বাসস্থান থেকে দূরে হয়, অথবা সমুদ্রতীরের কাছাকাছি না হয়, এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো অঞ্চলের প্রতিই আমাদের আগ্রহ নেই, যদি না আপনারা নৈতিকভাবে নিশ্চিত হন যে এই ভূমিখণ্ড সরাসরি আমাদের প্রকৃত উপকারে আসবে।’

(২) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে কোম্পানির অনিচ্ছার দ্বিতীয় একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের মনোভাব থেকে, যখন লর্ড ক্লাইভ তাদের পক্ষে তিনটি প্রদেশের দেওয়ানি গ্রহণ করেছেন বলে তাদের প্রথম জানানো হয়েছিল। তারা লিখেছিল, ‘আমরা রাজার দেওয়ানের ক্ষমতা সম্পর্কে আপনার দেওয়া বিবরণটি লক্ষ্য করেছি, যা পূর্বকালে ছিল সমস্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা, অথবা সেনাবাহিনীর খরচ মেটানোর পর এবং নিজামত পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ দিল্লিতে প্রেরণ করা… এই বর্ণনাটি এমন কোনো পদ নয় যা আমরা পালন করতে চাই।’ প্রকৃতপক্ষে, ডিরেক্টররা পূর্ববর্তী একটি ঘটনায় গভর্নর ভ্যান্সিটার্টের দেওয়ানি প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে তাদের অনুমোদন জানিয়েছিলেন।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev