[এর আগের কিস্তিগুলোয় কেলি ফার্মিঙ্গার যদিও বলেছেন, সাম্রাজ্য বিস্তারে নিজেদের বাহিনী ছাড়াও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাহিনীর প্রত্যক্ষ্য পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে কোম্পানি, কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস পূর্ব দেশে কলকাতা জমিদারি প্রাপ্তি থেকে শুরু করে ১৭৬৫-র দেওয়ানি অধিকার পাওয়ার যাত্রার সুবাদেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল শাসনের অন্ত ঘটিয়ে কোম্পানির শাসন শুরু করল। তার সেই বক্তব্যের প্রমান হিসেবে তিনি ১৭৫৭ থেকে চার নবাব ১৭৬৫ পর্যন্ত সিরাজ-উদ-দৌলা, মীর জাফর, মীর কাশিম এবং নজম-উদ-দৌলার সাথে চুক্তির উপযুক্ত ধারা উল্লেখ করেছেন। এই কিস্তি শেষ হচ্ছে সেই ধারাগুলো উল্লেখ করে]
(৩) ক্লাইভ দেওয়ানি অধিকারকে কোম্পানির পক্ষে ‘ছদ্মবেশী শাসন ব্যবস্থা’ বলেছিলেন। অর্থাৎ মুঘলদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেও কোম্পানির স্বার্থ সুরক্ষা করতে বাংলা শাসনের পরিকল্পনা করা। সেটি বাংলার কোম্পানির কর্মচারীদের কাছে ইংরেজদের দেশ দখলের সময় ও পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত নীতি বলেই মনে হতে পারত। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতে নিজেদের স্বার্থ বিপন্ন হওয়ায়, কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক আইনের দরবারে ফরাসিদের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের শাসক হিসেবে নিজেদের অবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। উল্লেখ্য দেওয়ানি হস্তান্তরের [১৭৬৫] তিন বছর আগে, বাংলা, বিহার ও ওডিসার সুবাদারের অঞ্চল সীমানা নির্ধারণে ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের সুস্পষ্ট চুক্তি হয় (১৭৬২-র অ্যানুয়াল রেজিস্টার, পৃষ্ঠা ২৪৪ (রাষ্ট্রীয় দলিলপত্র)। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইস্ট ইন্ডিজের বাংলার সীমানা সম্পর্কে প্যারিসে নিযুক্ত ব্রিটিশ মহামান্য সম্রাটের বিশেষ রাষ্ট্রদূতের ঘোষণায় বলা হয়েছিল: ‘বাংলার সুবার রাজ্য ইয়ানন [অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী ব-দ্বীপে উত্তর-পূর্ব করমণ্ডল পুদুচেরির জেলা, ইয়ানাম (বা ইয়ানাওন)। ঐতিহাসিকভাবে ফরাসি উপনিবেশিক ছিটমহল। ফরাসিরা এই অঞ্চলকে ব্যবহার করেছে তাদের বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য (ফরাসি বাগিচার জন্য শ্রমিক সরবরাহ ইত্যাদি)। ফরাসি-তেলুগু সংস্কৃতিতে এই অঞ্চলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ছিটমহলে ৩০০ বছরের ফরাসি শাসনের ঝলক এখনও দেখা যায় – অনুবাদক] পর্যন্ত বিস্তৃত বলে গণ্য হবে, তবে ইয়ানন এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে না, এবং ইয়াননকে করমণ্ডল ও উড়িষ্যার উত্তর অংশের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করা হবে।’ ১৭৬২-র এই চুক্তি সম্পর্কে লর্ড ক্লাইভের মন্তব্য ছিল: ‘আমি আশা করি, প্রত্যেক কর্তা এই ভেবে অসীম আনন্দ পাবেন যে, চূড়ান্ত চুক্তির একাদশ অনুচ্ছেদ দ্বারা তাদের জন্য সুরক্ষিত এই মহান ও গৌরবময় সাফল্যের সুফল তারা শীঘ্রই ভোগ করতে পারবেন। যদিও এতে কিছু ভৌগোলিক ত্রুটি রয়েছে, যেমন বাংলার সুবার রাজ্যকে ইয়ানন পর্যন্ত প্রায় দু’শো মাইল বেশি বিস্তৃত দেখানো হয়েছে এবং ইয়াননকে উড়িষ্যা উপকূলের দক্ষিণাংশের পরিবর্তে উত্তরাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে; সালাবত জংকে দাক্ষিণাত্যের বৈধ সুবা এবং মহম্মদ আলি খানকে কর্ণাটকের বৈধ নবাব হিসেবে স্বীকার করার বিষয়টি কয়েকটি কারণে বাদ দিলেই ভালো হতো এবং এটি ভবিষ্যতে দুটি কোম্পানির মধ্যে বিরোধের জন্ম দিতে পারে; তবুও, সামগ্রিকভাবে, এই অনুচ্ছেদটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।’ A Letter to the Proprietors of the East India Stockfrom Lord Clive, to which are added the opinions of the Hon. Charles Yorks and Sir Fletcher Norton on his Lordship’s Jaghire. London, 1764, pp. 9 and 10.)। আমরা দেখেছি পূর্ব আফ্রিকায় ‘পশ্চাৎভূমি নীতি’-র আশ্রয় নিয়ে ইওরোপীয় জাতিরা কীভাবে ‘প্রভাব ক্ষেত্র’ সুরক্ষিত করেছে। বিভিন্ন ইওরোপীয় শক্তি দাবি বোঝানোর জন্য, সে মহাদেশের মানচিত্রের বিশাল অঞ্চলে লাল, নীল, সবুজ রঙে অধিকৃত অঞ্চল চিহ্নিত করেছে — যদিও প্রায়শই সংশ্লিষ্ট জাতিগুলো, দাবি করা অঞ্চলের একটিতেও প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি। সুতরাং, বোঝা কঠিন নয়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফরাসিদের বিরুদ্ধে এমন জমিকে ‘সম্পত্তি’ বা ‘অঞ্চল’ হিসাবে দাবি করত, যা তাদের প্রভাবের অধীনে থাকলেও, দেশীয় সরকারের সাপেক্ষে তখনও তাদের সার্বভৌম রাজ্যের অংশ ছিল না। ১৭৫৭-য় ফরাসি বাণিজ্যিক বসতিগুলোর পতনের যুগে ইওরোপীয় রাজনীতির দৃষ্টিকোণ সাপেক্ষে বাংলা এমন একটি রাজনৈতিক ভৌগোলিক ক্ষেত্র ছিল, যেখানে ইংরেজরা কর্তৃত্ব করার অধিকার স্বাভাবিক অধিকার অর্জন করেছিল, যদিও এটাও মনে রাখা দরকার সম্রাট অথবা কোম্পানি আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব অর্জনের সচেতন উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলায় একটিও বড় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি। বরং মুঘল সাম্রাজ্যের সংবিধানের অধীনে কাজ করার অজুহাতে, কোম্পানির কর্মচারীরা অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এবং তাদের এই প্রশাসনিক কাঠামোর দেয়াল একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছলে বোঝা গেল ব্রিটিশ রাজার সূর্য মধ্যগগনে উদিত হয়েছে এবং মুঘল সাম্রাজ্যের অস্তগামী নক্ষত্রপুঞ্জের ছায়া চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা মুখে দাঁড়িয়ে। কলকাতা পুনরুদ্ধার, পলাশী, উদয়নালা এবং বক্সারের যুদ্ধ এমন কোনো বড় সৃষ্টিশীল উদ্যম ছিল না যার মাধ্যমে উত্তর ভারতজুড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব ছিল। ইতিহাসের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে অনেক আগেই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে; এবং ভারতে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ধৈর্যশীল শ্রমজীবী মানুষের চেতনায় ছাপ না ফেলে একটি রাজবংশ ক্ষমতায় আসে আবার চলেও যায়। জনগণের ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলে না – সেখানে যুদ্ধ আর চুক্তি করে বিশাল অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিপ্লব নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতির ধারণা তৈরি করা বিশেষভাবে সন্দেহজনক ব্যাপার। তবে, এই প্রয়োজনীয় এবং মূলত স্বাস্থ্যকর প্রতিক্রিয়াকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয় যাতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সত্য বাদ পড়ে। ইতিহাসে, তরবারির ডগায় বাংলা বিজয়ের কোনো প্রমাণ নেই; তবুও, আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তরবারি সরাসরি ব্যবহৃত না হলেও, ইংরেজদের বেসামরিক বন্দোবস্তে সেই প্রবল শক্তি কাজ করেছে। ‘শুধু সামরিক কার্যকলাপের’ ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব ঘটনা থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখা আমাদের নিষ্ফলা স্ববিরোধিতার দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে। এটাও সত্য ইংরেজরা দেশীয় শক্তিগুলোকে ধ্বংস না করার লক্ষ্যে স্থির ছিল—বস্তুত লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫তে [দেওয়ানি অধিকার কালে] আত্মতৃপ্ত ছিলেন যে তিনি মুঘলদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলেন (‘মহামোগলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা তাঁদের অধিকারও প্রতিষ্ঠা করেছি।’ গভর্নর (লর্ড ক্লাইভ) এবং সিলেক্ট কমিটির পক্ষ থেকে কোর্টের কাছে লেখা চিঠি, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৬৫) — বরং তার এমন দেশীয় শাসক টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য ছিল, যে শান্তিপূর্ণভাবে ইংরেজ বণিক কোম্পানি লালনক্র করবে, ধ্বংস করবে না; তবুও, এই কাজ করতে গিয়ে ইংরেজরা ধাপে ধাপে সেই বিপুল অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য ধ্বংস করেছে যার ওপর বাংলায় মুসলিম শক্তি নির্ভরশীল ছিল, এবং একই সাথে তারা নিজেদের সৈন্য ও গ্যারিসন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজস্বের একচেটিয়া অধিকারও প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এই পর্যায়গুলো নিম্নলিখিত চুক্তিগুলোর মাধ্যমে যে ঘটেছিল, সে কথা নির্দেশ করা যেতে পারে :
সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে চুক্তি, ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭।
৪. কোম্পানিকে কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাদের আত্মরক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করে এমনভাবে কলকাতা দুর্গ নির্মাণ করার অনুমতি দেওয়া হবে।(এইচ. ভেরেলস্ট A View of the Rise and Progress and Present State of the English Government in Bengal’ লন্ডন, ১৭৭২, পৃষ্ঠা ১৪০; সি. ইউ. আইচিসনে ‘Collection of Treaties, Engagements and Sanads’ পূর্বোক্ত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬)
মীর জাফরের সাথে চুক্তি, ১৫ই জুলাই, ১৭৫৭।
২. ইংরেজদের শত্রুরাই আমার শত্রু, তারা ভারতীয় হোক অথবা ইওরোপীয়।
১০. যখনই আমি ইংরেজদের সাহায্য চাইব, তাদের ভরণপোষণের ভার আমিই বহন করব। (ভেরেলস্ট: পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ১৪৩-৪৪; আইচিসন পূর্বোক্ত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬)
মীর কাসিমের সাথে চুক্তি, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৭৬০।
৪. ইংরেজ সেনাবাহিনীর ইওরোপীয় এবং তেলিংগারা (ভেরেলস্ট: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১৫৭। আইচিসন: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, খণ্ড ১, পৃ. ২১৫। ভেরেলস্ট তেলিঙ্গার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: জনৈক ‘সিপাহী, যার নাম এসেছে সেই দেশের নাম থেকে, যেখান থেকে সম্ভবত প্রথম সিপাহীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।) নবাব মীর মোহাম্মদ কাসিম খান বাহাদুরের [অর্থাৎ মীর কাসিম] সমস্ত কার্য পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে; এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল সমস্ত বিষয়ে তারা তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে।
৫. কোম্পানির এবং উক্ত সেনাবাহিনীর সমস্ত খরচ, যুদ্ধের রসদ ইত্যাদির জন্য বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমি বরাদ্দ করা হবে ইত্যাদি।
মীর জাফরের সাথে, ১০ই জুলাই, ১৭৬৩।
৬. আমি তিনটি প্রদেশে বারো হাজার অশ্বারোহী এবং বারো হাজার পদাতিক সৈন্য পোষণ করব। যদি আরও সৈন্যের প্রয়োজন হয়, তবে গভর্নর এবং কাউন্সিলের সম্মতিক্রমে জরুরি অবস্থা অনুযায়ী সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়াও, যখনই প্রয়োজন হবে, ইংরেজ কোম্পানির বাহিনী সর্বদা আমার সাথে থাকবে।
৭. আমি মুর্শিদাবাদে বা অন্য কোথাও আমার দরবার স্থাপন করি না কেন, আমি গভর্নর এবং কাউন্সিলকে জানাব; এবং আমার কার্য পরিচালনার জন্য যত সংখ্যক ইংরেজ সৈন্যের প্রয়োজন হবে, আমি তাদের কাছে চাইব এবং আমাকে তা দেওয়া হবে। (ভেরেলস্ট : পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১৬০। আইচিসন : পূর্বোক্ত গ্রন্থ, খণ্ড ১, পৃ. ২১৯-২০। ৫ই জুলাই, ১৭৬৩ তারিখের ‘প্রস্তাবিত’ চুক্তির ৪র্থ অনুচ্ছেদে (ভেরেলস্ট: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পরিশিষ্ট পৃ. ১৫৯) বলা হয়েছে: ‘যে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সৈন্যরা নবাবের সরকারের সমর্থন এবং তার দেশ রক্ষার জন্য সর্বদা তার সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য প্রস্তুত থাকবে; নবাব তার পক্ষ থেকে এই মর্মে সম্মত হবেন যে, তিনি তার সীমান্ত রক্ষা এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য ৬০০০ অশ্বারোহী এবং ১২০০০ কার্যকর পদাতিক সৈন্যের বেশি সৈন্য তার বেতনভুক্ত রাখবেন না।’)
নজম-উদ-দৌলার সাথে চুক্তি, ফেব্রুয়ারি, ১৭৬৫।
৪. আমি কোম্পানির সৈন্যদের সাধারণ খরচ মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট উৎস হিসেবে বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রামের চাকলাগুলো কোম্পানিকে নিশ্চিত করছি, যেভাবে আমার পিতা পূর্বকালে হস্তান্তর করেছিলেন, ঠিক সেই রূপেই। তাদের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ সিক্কা টাকা প্রদানের বিষয়ে আমার পিতা সম্মত হয়েছিলেন; আমি আমার কোষাগার থেকে সেই অর্থ প্রদান করতে সম্মত হচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ত এত বড় সেনাবাহিনী রাখার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান থাকবে। কোম্পানির পরিস্থিতি সৈন্যদের ব্যয়ের পরিমাণ কমানোর সুযোগ করে দেবে, তখন গভর্নর এবং কাউন্সিল এই বরাদ্দ থেকে আমাকে সেই অনুপাতে অব্যাহতি দেবেন, যা প্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ বাহিনী বজায় রাখার কারণে সৃষ্ট বর্ধিত ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; এবং যেহেতু আমি কোম্পানির সৈন্যকে সম্পূর্ণরূপে আমার নিজের সৈন্য সমতুল্য মনে করি, তাই আমি কেবল ততটুকু সৈন্যই রাখব যা আমার নিজের মর্যাদা ও সরকারের জন্য এবং প্রদেশজুড়ে রাজস্ব আদায়ের কাজের জন্য একান্ত অপরিহার্য।(৩ ভেরেলস্ট: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৬৫-৬৬। আইচিসন: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৪। দেখুন সি. ডি. ফিল্ড: রেগুলেশনস অফ দ্য বেঙ্গল কোড। কলকাতা, ১৮৭৫, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৪। ‘কিন্তু সম্রাটের ফরমানটি (১৭৬৫) আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে, অর্থাৎ ‘যেহেতু উক্ত কোম্পানি প্রদেশগুলোর সুরক্ষার জন্য একটি বিশাল সেনাবাহিনী রাখতে বাধ্য,’ ইত্যাদি শব্দগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে। এই শব্দগুলো কোম্পানিকে বাংলা, বিহার এবং ওডিসার সামরিক প্রতিরক্ষা পরিচালনার, সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ করার এবং সার্বভৌমত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশেষাধিকারের কর্তৃত্ব দিয়েছিল। সায়েফ-উদ-দৌলার সাথে ৩০শে সেপ্টেম্বর সম্পাদিত চুক্তিতে, তিনি সম্মত হয়েছিলেন যে বাংলা, বিহার এবং ওডিসা প্রদেশের সুরক্ষা এবং সেই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বাহিনী সম্পূর্ণরূপে কোম্পানির বিচক্ষণতা ও সুব্যবস্থাপনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। মোবারক-উদ-দৌলার সাথে ৩১শে মার্চ ১৭৭০ তারিখে সম্পাদিত চুক্তিতেও ঠিক একই রকম একটি ধারা পাওয়া যায়। সুতরাং দেখা যায়, ১৭৬৫-তে দেওয়ানি মঞ্জুর ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার এবং ওডিসার তিনটি প্রদেশের সামরিক শাসন, দেওয়ানি বিচার পরিচালনার অধিকার এবং অর্থব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর, যে চুক্তি সম্রাটকে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা দেওয়া এবং ফৌজদারি বিচার পরিচালনার খরচ ও পুলিশ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ভার বহনের শর্তে হয়েছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে, নামে না হলেও, এই প্রদেশগুলোর সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর ছিল, কারণ এটি ছিল সার্বভৌমত্বের সমস্ত অপরিহার্য উপাদানগুলোর হস্তান্তর।’ লং: সিলেকশনস, নং ৮২৪ অনুসারে নবাবের ‘অকেজো সামরিক জনতা’ কমানোর জন্য দরবারে রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।)
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ