| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৬৪ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

১৭৬৫-তে নবাবকে সুবাহদার বা নাজিম পদে বজায় রেখে কোম্পানির হাতে দেওয়ানি বা রাজস্ব প্রশাসন হস্তান্তর করা হয়েছিল, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বকে এই বিবেচনায় বাতিল করতে হবে যে, ১৭৬৫-র ফেব্রুয়ারির চুক্তিতে নবাবের কার্যনির্বাহের জন্য স্বাধীন সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার শর্ত রদ করা হয়। অর্থাৎ এই প্রথম আইন বালে নবাবের হাতে স্বাধীন সামরিক বাহিনী থাকল না। [দেওয়ানি চুক্তি বলে] কোম্পানি বাংলা-বিহার-ওডিসায় আদৌ কোনো সার্বভৌম অধিকার অর্জন করেনি, তাদের প্রশাসন মুঘল সংবিধানের আওতায় ছিল, কোম্পানি প্রশাসন কোনও ভাবেই মুঘলদের ওপর চাপানো হয়নি, এই তত্ত্ব কোম্পনিই প্রথমত বাংলায় ফরাসিদের হস্তক্ষেপ, ঈর্ষা এড়াতে ব্যবহার করেছিল এবং দ্বিতীয়ত সেই সব মানুষের জন্য প্রচার করা হয়েছিল যারা স্বতঃসিদ্ধভাবে ধরে নিয়েছিল, ইংরেজি সাংবিধানিক আইনে ব্রিটিশ প্রজারা তাদের সার্বভৌম ব্যতীত কোনও অঞ্চলেরে নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে না। এইভাবে দিওয়ানির ভিত্তিতে বাংলা পরিচালনার ব্যবস্থা, বাংলায় কোম্পানির বিষয়ে রাজার মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপের পক্ষে বাধা ছিল। তবে ইংরেজরা de facto (কার্যত) বাংলায় সামরিক আধিপত্য স্থাপন করেছিল এবং সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষমতার এই হস্তান্তরই ‘কার্যত দেশ বিজয়’ ছিল।

মুঘল সাম্রাজ্যের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি নবাবের সামরিক ক্ষমতা কেড়ে নেবার প্রক্রিয়াটি ইতিহাসের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হিসেবে আজ গণ্য হয়। ১৭৬৫-তে বাংলায় ইংরেজদের অধিকৃত সমস্ত জমি কোনো না কোনোভাবে মুঘল রাজস্ব আইনের ভিত্তিতেই তাদের অধিকারে এসেছিল। ১৭৫৭-য় মীর জাফরের দেওয়া জমি ‘অন্য জমিদারদের মতোই’ রাজস্ব জমার শর্তে দেওয়া হয়। কলকাতা জমিদারীতেও কোম্পানি প্রথাগতভাবে চুক্তিবদ্ধ (মুচলকা) হয়। বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রামের রাজস্ব নবাবকে হস্তান্তর করা হয়, যদিও এই জেলাগুলোর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রশাসনের দায়িত্ব ইংরেজদের ওপর ন্যস্ত করা না হলেও, বাস্তবে কিন্তু তারাই এই ব্যবস্থাটার তত্ত্বাবধান করত। দেওয়ানির সনদ ছিল মূলত বেসামরিক বিভাগ হস্তান্তর, যা একটি নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সেই কর্তৃত্ব তখনও নবাবের হাতেই ন্যস্ত ছিল। ভ্যান্সিটার্ট এবং ভেরেলস্টের মতো ব্যক্তিরা দ্বন্দ্ব না সৃষ্টি করে নির্বিঘ্নে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে এই শান্তিপূর্ণ অধিগ্রহণ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছিলেন; কিন্তু ঘটনাবলীর একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক, এমনকি ১৭৬৫তেও, স্পষ্ট ছিল যে ইংরেজরা কেবল নির্দিষ্ট বেসামরিক পদ পেয়েছে — এই কথা বলা যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের সামরিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। নবাব কেবল দেওয়ানি কর্তৃত্ব হস্তান্তর করেননি, বরং তিনি দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বও কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। (তিনি কোম্পানির জনৈক মনোনীত ব্যক্তিকে ‘নায়েব সুবাহ’ এবং তাঁর নাবালকত্বকালে তাঁর পরিবারের অভিভাবক হিসেবেও গ্রহণ করেছিলেন।)

ইংরেজ সামরিক আধিপত্যের প্রভাব যাই হোক না কেন, লক্ষ্য করা দরকার, এই তত্ত্ব, ১৭৮৪-র পিটের ভারত বিল পাস হওয়ার সময় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের প্রভাবিত করেছে। [এডমন্ড] বার্ক, যখন ইংরেজ রাজকোষের লোভের আগ্রাসন থেকে কোম্পানিকে রক্ষা করতে প্রস্তুত হচ্ছেন, তখন কোম্পানির সম্পত্তি সম্পর্কে বলেছিলেন যে এগুলো in virtue of grants from the Delhi Emperors, in the nature of offices and jurisdictions dependent on his crown। ১৭৬৯-এ কোম্পানির কর্মচারীরা এই মতবাদ কতটুকু মেনে চলেছিল, তা গভর্নর হ্যারি ভেরেলস্টের তাঁর কাউন্সিলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেখা বিদায়ী চিঠি থেকে অনুমান করা যায় —

‘এই বিপদসংকুল প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। আমরা পূর্ববর্তী সমস্ত নজির ও দৃষ্টান্ত অতিক্রম করে এগিয়ে এসেছি। আমাদের আচরণের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য আমাদের কাছে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে প্রশংসনীয় যুক্তি রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা সেই চরম সীমায় পৌঁছেছি, যা অতিক্রম করা আদতে সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য ঘোষণা বলে গণ্য হতে পারে। মনে রাখতে হবে যে, আমাদের আরও বেশি ক্ষমতাধর হতে চাওয়া আদতে সুস্থ নীতির পরিপন্থী হবে; দেশের অভ্যন্তরে আমাদের নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ এবং বিদেশে আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক — উভয়ই এই কাজে বাধা দেয়। পরিবর্তনের আগে যেহেতু আমরা দেশীয় সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করা এবং বিদেশি জাতিগুলোর ঈর্ষা জাগানো থেকে সতর্ক ছিলাম, এখন আমাদের সেই বিচক্ষণতা দ্বিগুণ করা উচিত। এই পরিবর্তন নিজেই, যদি আমরা সর্বোচ্চ সংযমও অবলম্বন করি, নিজামত নামটি ধ্বংস করার অনিবার্য প্রবণতা তৈরি করেছে, যা কোম্পানি ও জাতির জন্য সবচেয়ে সুখকর ঘটনা হতে পারত, সেটি বর্তমানে বিভ্রান্তি আর ঈর্ষার উৎস হয়ে উঠতে পারে; এমনকি কোম্পানির বিশেষাধিকার হারানোর কারণও হতে পারে। তবে, এখনও একটা মধ্যপন্থা বিদ্যমান, যে সংযম আমাদের পথ দেখাবে এবং আমাদের পরিচালিত করবে; যেখানে আমরা নিরাপত্তা, সুবিধা এবং সঙ্গতি বজায় রেখে চলতে পারি, অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা বা অতিরিক্ত স্বাধীনতা চাওয়ার বিপদের আশঙ্কা ছাড়াই। বাহ্যিক বিষয়গুলো অপরিহার্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রতিটি আদেশ অবশ্যই দেশীয় সরকারের অনুমোদন বহন করতে হবে। তার অনুগ্রহে আমাদের নির্ভরতা, তার আদেশ আমাদের আনুগত্য, এর মন্ত্রীদের প্রতি আমাদের সৌজন্য — সবকিছুই ব্যবসা বা আনুষ্ঠানিকতার সমস্ত লেনদেনে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া উচিত।’ (ভেরেলস্ট: ভিউ, ইত্যাদি, পরিশিষ্ট, পৃ. ১২৩)

১৭৭২-এর ফেব্রুয়ারিতে, ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতায় ফিরে আসেন এবং পরের এপ্রিলে, বন্ধু কিন্তু প্রশাসন পরিচালনায় অদক্ষ কার্টিয়েরের থেকে সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সন্দেহ নেই, মাদ্রাজে হেস্টিংসের কার্যকাল তার রাজনৈতিক ধারণার গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করেছে। সেখানেই তিনি ‘ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য’-র মত সাহসী অভিব্যক্তি ব্যবহার করতে শিখেছিলেন এবং বুঝেছিলেন, তিন প্রেসিডেন্সির দখলদারিত্বের ইতিহাস যতই বৈচিত্র্যময় হোক না কেন, একদিকে ফরাসি ষড়যন্ত্র এবং অন্যদিকে হায়দার আলীর ক্ষমতার মোকাবিলায়, ইংরেজরা যে সমস্ত অঞ্চলকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করত, সেই সমস্ত অঞ্চলে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা প্রয়োজনীয় ছিল।

বাংলায় ওয়ারেন হেস্টিংসের কাজ নিঃসন্দেহে সহজতর হয়েছিল মসনদে আসীন নাবালক নবাব-নাজিমের জন্য। মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতিতে কোম্পানি নবাব-নাজিমের জন্য loco parentis-এর [(‘পিতামাতার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত’) এমন এক ল্যাটিন আইনি মতবাদ যেখানে এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নাবালকের প্রতি পিতামাতার কর্তব্য, দায়িত্ব, কর্তৃত্ব গ্রহণ করে] ভূমিকা পালন করেছে। তবে, হেস্টিংসের শক্তির বৈশিষ্ট্য হল আক্রমণের মুখেও ১৭৭২-৭৪-এ তার প্রশংসনীয় আইন মুঘল সাম্রাজ্যের সংবিধানের কর্তৃত্ব দাবি করেনি। ১৭৭৫-এ তিনি দাবি করেন, ১৭৭২-এর ঘটনাগুলো ঘটেছিল নবাবের সার্বভৌম ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং নবাব-নাজিমের কোম্পানির এক ধরণের ওয়ার্ড ইন চ্যান্সারিতে [প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে — নাবালক বা আইনত অক্ষম শাসককে বোঝায় যার সম্পত্তি এবং নিজেও কোর্ট অফ ওয়ার্ডস পরিচালন করতত। এটা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (ইংলিশ কোর্ট অফ চ্যান্সারির মতো) প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যা বড় জমিদারদের উত্তরাধিকারী যারা তাদের জমিদারি পরিচালনা করতে পারতেন না তাদের সুরক্ষার জন্য, তাদের প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত যথাযথ লালন-পালন এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭৯৭-তে গভর্নর-জেনারেল জন শোর বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন ধনী ভারতীয় পরিবারের সম্পত্তি অব্যবস্থাপনা থেকে রক্ষা করত, প্রায়শই পুরো সম্পত্তি এবং পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ করে, কালেক্টর কখনও কখনও আদালতের কর্তৃত্বে অভিভাবক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে এই ব্যবস্থা বাংলায় তৈরি করা হয়েছিল রাণী ভবানী, রাণী জয়দুর্গা চৌধুরাণী, রাণী বিষ্ণুকুমারীদের মত ইংরেজ প্রশাসনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাল্লা দিয়ে লড়াই করা ‘ত্যাঁদড়’ মহিলাদের ব্যবস্থাপনায় চলা জমিদারী কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে — প্রথম ধাক্কাটা আসে বর্ধমানের রাণী বিষ্ণু কুমারীর সম্পত্তির অধিকার কেড়ে রাজা রামমোহন রায়ের পিতার হাতে বেশ বড় পরিমানে সম্পত্তি সঁপে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে। Women, Monastic Commerce, and Coverture in Eastern India circa 1600-1800 CE-তে ইন্দ্রাণী চ্যাটার্জী লিখছেন — The peculiar and rocentrism of estate management that was demanded by the Company after 1782 was officially sealed by 1790. That year, the governor-general of India established that ‘every zamindar or taluqdar who is a minor or female was to be declared incapable of having any concern whatever in the management of lands paying revenue immediately to government and that no engagement thereof be contracted with any zamindars and taluqdars under this description’. At the same time, all zamindars’ rights to levy, collect, and redistribute earnings from the imposts and tolls (sair) were also compulsorily handed over to the office of the European collector—and through him, the collector’s favoured nominees (১৭৮২-র পর কোম্পানির দাবি করা এস্টেট ব্যবস্থাপনার সেই অদ্ভুত পুরুষতান্ত্রিকতা ১৭৯০-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকাপোক্ত করা হয়। সেই বছর, ভারতের গভর্নর-জেনারেল এই মর্মে একটি নিয়ম জারি করেন যে, ‘প্রত্যেক জমিদার বা তালুকদার যিনি নাবালক বা নারী, তাকে সরকারকে সরাসরি রাজস্ব প্রদানকারী জমির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে এবং এই ধরনের কোনো জমিদার ও তালুকদারের সাথে চুক্তি করা হবে না’। একই সময়ে, কর ও শুল্ক (সায়ের) থেকে প্রাপ্ত আয় আরোপ, সংগ্রহ এবং পুনঃবণ্টনের জন্য সমস্ত জমিদারের অধিকারও বাধ্যতামূলকভাবে ইওরোপীয় কালেক্টরের কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল—এবং তার মাধ্যমে কালেক্টরের পছন্দের মনোনীত ব্যক্তিদের কাছে।)] পরিণত হয়েছিলেন; যে কোম্পানি আসলে নবাবের পেমাস্টার ছিল। হেস্টিংস বিশ্বাস করতেন তার রাজস্ব প্রশাসন সংস্কার ছিল আদতে মুঘল প্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবন, একেবারে নতুন সৃষ্টি নয়, এবং হেস্টিংস নবাব-নাজিমের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা তুলে দেওয়ার জন্য কর্নওয়ালিসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও ১৭৭৫-এ হেস্টিংস স্পষ্টতই ১৭৭২-এর পরিবর্তনের জন্য মুর্শিদাবাদের সার্বভৌম শক্তির ওপর নির্ভরতার কথা অস্বীকার করেছিলেন, তবুও ১৭৭২-এর আইন প্রণয়ন এবং ১৭৭৪-এর কাউন্সিলের বিতর্কের মাঝের সময়ে তিনি নবাবের সার্বভৌমত্বকে বিলুপ্ত বলে গণ্য না করে, প্রয়োজনে পরিপূরক হিসেবে কোম্পানির অধিকার বজায় রেখেছিলেন। ১০ জুলাই, ১৭৭৩ তারিখে তিনি লিখলেন : (Proceedings of Council, ৩রা আগস্ট, ১৭৭৩।)

‘যদিও আমরা নামেমাত্র ক্ষমতায় আসীন নাজিমকে সমস্ত ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে রেখেছি, এবং তার আদালতের কর্মকর্তাদের এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনভাবে তাদের নিজস্ব আইন, পদ্ধতি এবং মতামত অনুযায়ী কাজ করার অনুমতি দিয়েছি; তবুও এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে যেখানে এই নিয়ম অপরিবর্তনীয়ভাবে অনুসরণ করলে যে শক্তির দ্বারা এই দেশের শাসন পরিচালিত হচ্ছে, তার জন্য এবং বাসিন্দাদের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। যখনই এমন ঘটনা ঘটবে, প্রতিকার কেবল তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যাবে যাদের হাতে সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে। এই ব্যক্তিদের ওপরই বাসিন্দারা সুরক্ষা এবং অভিযোগের প্রতিকার আশা করে, এবং এই প্রত্যাশা পূরণের অধিকার তাদের রয়েছে, এই অধিকার কোনো চুক্তি অথবা কূটতর্কে তাদের থেকে কেড়ে নেওয়া যায় না। অতএব, যদি নিজামতের ক্ষমতা এই কল্যাণকর উদ্দেশ্য পূরণ করতে না পারে; অথবা, সেই ক্ষমতা অপব্যবহার, যা নাজিমের বর্তমান দুর্দশা এবং দেশের কল্যাণে তার অনাগ্রহের জন্য ব্যাপক আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই অবস্থা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠা সম্ভব; আমি মনে করি, কোম্পানির প্রভাব খাটানো ন্যায়বিচার ও যুক্তির সাথে সম্পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ, কারণ কোম্পানি দেওয়ান হিসেবে দেশের কল্যাণে আগ্রহী এবং শাসক শক্তি হিসেবে ন্যায়বিচার, সমান অধিকার রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই যেখানেই নাজিমের কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করা, তার আদালতে বিচার দেওয়ার ঘাটতি পূরণ করা বা অনিয়ম সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মনে হবে, সেখানে এই সরকারের কর্তব্য, এমন উপায় অবলম্বন করা যা তাদের বিচারে ন্যায়বিচারের সঠিক প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্যকে সর্বোত্তমভাবে উৎসাহিত করবে; কিন্তু এই অনুমতিটি চরম প্রয়োজন এবং অত্যন্ত গভীর বিবেচনার পর ছাড়া কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়।

‘অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ প্রথা থেকে প্রয়োজনীয় বিচ্যুতির প্রেক্ষিতে নবাবের পরোয়ানা পাওয়া কঠিন নাও হতে পারে, এবং এটা বাঞ্ছনীয় যে তার কর্তৃত্ব দ্বারা এগুলোকে সর্বদা কার্যকর করা হোক; কিন্তু আমি দেখছি যে তার সম্মতি এবং অসম্মতি উভয় থেকেই বিপুল খারাপ পরিণতির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তাই আমি বরং প্রস্তাব করতে চাই যে এই ধরনের প্রতিটি কাজ আমাদের নিজস্ব সরকার তার রায়ের সাথে অতিরিক্ত বক্তব্য যুক্ত করা হোক।

‘ন্যায়বিচার পাওয়া এবং জনগণের মঙ্গল করার অধিকারের প্রশ্নে আমার এটিই মত, আমি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে ব্যক্তিগত বিবেচনার প্রতিটি যুক্তি এর তীব্র বিরোধিতা করে, কারণ আমার কাছে আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত জনপ্রিয় স্রোত প্রবল থাকবে, যা কোম্পানি বা তার প্রতিনিধিদের প্রতি সততার সমস্ত অনুভূতিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সরল ও পরিচিত পথ থেকে এক পাও সরে যাওয়া আমাদের চরিত্র ও ভাগ্য উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হবে; এবং আমাদের উদ্দেশ্য যতই প্রশংসনীয় হোক না কেন, আমরা ইতিমধ্যেই অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছি। আমার কর্তব্য আমাকে এই পরামর্শ দিতে বাধ্য করে যা আমি দিয়েছি; এবং এর জন্য আমি অন্য সমস্ত বিবেচনা স্থগিত রাখছি’।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev