| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (২য়) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫১৭ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রেক্ষিত

১৮১০-এ সিলেক্ট কমিটি গঠন করে ১৮১২-এ পঞ্চম সমীক্ষা/প্রতিবেদন পার্লামেন্টের সামনে পেশ করার আগে পার্লামেন্ট এবং তার বহু আগে থেকেও পার্লামেন্টের বাইরে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের গণপরিসরজুড়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত সরকার পরিচালনার তরিকা, প্রবল প্রশাসনিক এবং আর্থিক দুর্ণীতি, সম্পদ লুঠ, ভারতের সঙ্গে তার একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার বজায় রাখা, ভারতের বাজারে একচেটিয়া পকড় ইত্যাদি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক চলছিল [এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার ১৮১২-র ৬ ফেব্রুয়ারির পঞ্চম সমীক্ষার কমিটি বিষয়ে পার্লামেন্ট বিতর্কের অনুবাদ দিয়ে আমরা অনুবাদকের মুখড়া পর্ব শেষ করে মূল অনুবাদ ক্ষেত্রে প্রবেশ করব]। এই বিতর্কের ছাপ যে ১৮১৩-র সনদ নবীকরণ আইনের ধারাসমূহে পড়েছে সে কথা বলাই বাহুল্য এবং আমরা সে উদাহরণও দেখব। এবং হাসার কথা হল এই বিড়ালের পিঠেভাগ বিতর্কে, অর্থাৎ ভারতের বাজার, তার সার্বভৌমত্ব, তার সম্পদের অধিকার ইত্যাদি ভাগাভাগির নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় ভারতের জনগণের বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণও ছিল না, ভূমিকাও ছিল না। ফিফথ রিপোর্ট অনুবাদ সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এবং বাইরে ফিফথ রিপোর্টের প্রেক্ষিত আলোচনায় সে সময়ের চার গুরুত্বপূর্ণ বক্তার অবস্থান তুলে ধরার আগে ফিফথ রিপোর্ট বা পঞ্চম প্রতিবেদন পার্লামেন্টে জমা পড়ার প্রেক্ষিতটি আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক।

অমিয় কুমার বাগচী কলোনিয়ালিজম এন্ড ইন্ডিয়ান ইকনমি বইতে যে শুরুয়াতি সময়কে আখ্যা দেবেন ১৯০ বছরের স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসি লাগু করার বছর হিসেবে, সেই ১৭৫৭-র পরের সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাঙলার সম্পদ লুঠের পাশাপাশি গঞ্জ, জেলা, হাটের বাজার কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছে তার দ্বৈত ক্ষমতা ব্যবহার করে, ১৭৬৫ উত্তর সময়ে বিপুল সেনাবাহিনী তৈরি করে, পুলিশি ব্যবস্থা জমিদারদের হাত থেকে কেড়ে কেন্দ্রিয় সরকারের অধীনে নিয়ে এসে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তপূর্ব সময়ের জমিদারদের নগদী সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়ে যাতে সামগ্রিক বাংলাবাজার প্রতিরোধ, প্রতিযোগী শূন্য হয়। নবাবী আমলে কোম্পানির ব্যবসা নিয়ে যে সব বাধাবন্ধ, নিষেধাজ্ঞা ছিল সেসব পলাশীর পরে এক লহমায় হাট হয়ে খুলে গেল, উবে গেল কর্পূরের মত। এরজন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী সিরাজ হত্যা উত্তর সময়ের ব্রিটিশ স্বার্থে মাথা ঝুঁকিয়ে রাখা বাঙলার নিজামতের নবাব-নাজিম আর তার বড় আমলাতন্ত্র। এই প্রথম বাঙলাভূমে বিনা বাধায় কোম্পানি পতাকা তলে একচ্ছত্র আধিপত্য চালাতে শুরু করল কোম্পানির মদতে ব্যবসা করা ইওরোপিয় আমলা, ইওরোপিয় ব্যক্তিগত ব্যবসায়ী, কোম্পানির বড় সেনা আমলারা। কোম্পানির পতাকাই হল ইওরোপিয়দের বাংলা জোড়া অবাধ ব্যবসার ছাড়পত্র। বাজার থেকে দেশিয় প্রতিযোগীদের প্রবল বল প্রয়োগে বার করে দেওয়া হল। নায়েব-নাজিম মীরজাফরকে সরিয়ে যে নায়েব-নাজিম মীরকাশিমকে ক্ষমতায় এনেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, বুঝছিলেন, দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় তার বাঙলা শাসন অধিকার খর্ব করছে ব্রিটিশ, সেটা ক্লাইভকে চিঠি লিখে জানালেনও (all the English chiefs, with their Gomasthas and agents in every district, act as collectors, renters, Zemindars and Talukdars, and setting up the Company’s colours allow no power to my officers)। সৈয়দ গোলাম হুসেন খান সিয়ারেমুতক্ষরিনে (আধুনিক কালের সংবাদ সমীক্ষা) অবাক বিষ্ময়ে লিখছেন, এতকাল ধরে বাংলার ব্যবসা জগত সব ধরণের ব্যবসায়ীর জন্যে উন্মুক্ত ছিল, সেই উন্মুক্ত ক্ষেত্র গ্রাস করে নিচ্ছে ব্রিটিশ আমলা আর ব্যবসায়ীরা ([O]f the various branches of trade heretofore open to all, none is free. They are all engrossed by the Company themselves or by the English in general; as these, whether they enjoy the Company’s service … or chance to be otherwise circumstanced, very seldom are without concerns in trade)। কলকাতাকে জায়গির হিসেবে কোম্পানির কাউন্সিলকে ভেট দেওয়া হল। তারা হুগলির নদীতে পথ দেখানো বাবদ (pilotage) শুল্ক আদায় আর বন্দর শুল্ক বসিয়ে কলকাতার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করল পলাশী উত্তর সময়ে।

তো, ঠিক পলাশীর পরের দিন থেকে সিলেক্ট কমিটির পঞ্চম সমীক্ষা জমা পড়ার সময় পর্যন্ত ১৭৫৭ থেকে ১৮১২ — প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক তার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রথমে বড় বাঙলার বাজার, পরে মোটামুটি দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল বিশাল বাজারে সে যেমন বাছা ইওরোপিয় উৎপাদককে পণ্য বিক্রির সুযোগ দিয়েছে, তেমনি এসব বাজার থেকে অত্যধিক কম দামে কাঁচামাল তুলে ইওরোপের বিশাল হাঁ করে বসে থাকা মিলগুলোর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করে বিপুল লাভ করেছে। যে বাংলার মেয়েদের বোনা কুইল্ট ১৫০০ শতের আশেপাশে দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে চাওয়া ভাস্কোডাগামাকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজা উপহার দেবেন, সেই বাঙলার হাজার হাজার বছরের প্রাচীন বিশ্বজয়ী উৎপাদন কাঠামো ভেঙে দেওয়ায় পলাশীর পর ফিনিশড গুডস রপ্তানি বন্ধ হল, বাঙলা — পরে গোটা দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বজুড়ে প্রখ্যাত হল বিশ্বের প্রধান কাঁচামালের আড়তদার হিসেবে; প্রতিযোগিতা শূন্য দেশিয় আর বিদেশি বাজারে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বকলমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। সে বিপুল লাভের [এবং রাজস্ব লুঠে] উদ্বৃত্তে প্রথমে ব্রিটেনে পরে গোটা পশ্চিম ইওরোপ আর সাদা কলোনিগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে ব্রিটিশ আঙ্গিকের লুঠেরা গণহত্যাকারী পুঁজিবাদ — জেসন হিকেলের মতে যে পুঁজিবাদ আদতে এক্ট্রিম পোভার্টি — চরমতম দারিদ্রের জন্মদাতা হবে। কর্পোরেট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যমে উপনিবেশিক বাংলায় দেশিয় লবন, বস্ত্র, ইস্পাত, নৌ নির্মাণের মত বিশ্বজয়ী পণ্য উৎপাদন কাঠামো ভেঙে চুরে দেওয়ার পরে কোম্পানির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা সার্বিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্যাপটিভ বাজার খুলে দেওয়ার জন্য, ততদিনে বাঙলা লুঠের অর্থে বলশালী হয়ে ওঠা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্পোরেট প্রতিপক্ষরা পার্লামেন্টে প্রবল লবি করেছে, পার্লামেন্টের বাইরে বিপুল আন্দোলন করে জনমত সংগঠিত করেছে। মাথায় রাখতে হবে প্রথমে বাঙলা পরে দক্ষিণ এশিয়া লুঠ অর্থে ইংলন্ডের জেলায় জেলায় কেন্দ্রিভূত উৎপাদন কাঠামো তৈরি করা কর্পোরেটেরা তাদের উৎপন্ন দ্রব্য সরাসরি ভারতে বিক্রি করে লাভ করতে চাইছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরমত মধ্যস্থদের বাধা সরিয়ে। বাধা কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার। এই বিপুল প্রতিবাদের ধাক্কায়, কোম্পানির অন্দরমহলের হেঁসেরবাড়ির খোঁজ করার উদ্যমে তৈরি হল পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটি। তারা এ বাবদে বেশ কয়েকটা সমীক্ষা পার্লামেন্টে জমা দেবে। সেই সিরিজের শেষ সমীক্ষা, ফিফথ রিপোর্টে বাঙলায় কোম্পানির কারনামে আলোচনা সাজিয়েগুজিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন বেঙ্গল পাস্ট এন্ড প্রেজেন্ট পত্রিকার সম্পাদক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার ১০০ বছর আগে। তো এই ধারাবাহিকে আমরা সেই ফিফথ রিপোর্ট, ভারতের রাজনীতিতে যা পঞ্চম প্রতিবেদন হিসেবে খ্যাত, তার বাঙলা অনুবাদ প্রকাশ করছি।

সে সময়ের আরেকটা বড় ইস্যু ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশে ধর্ম প্রচারের অধিকার। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত শাসন করতে আসা কর্তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন খ্রিষ্ট ধর্ম গোষ্ঠীর অনুগামী হলেও তাদের ইচ্ছা অমান্য করে ভারতে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ করেছেন কোম্পানির লন্ডনের বড় কর্তারা। খ্রিষ্টপন্থীরা চান সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এ সব নিয়েই পার্লামেন্টে এবং বাইরেও পঞ্চম প্রতিবেদন বিতর্ক। মাথায় রাখতে হবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া সওদাগরির অধিকার রাখার পক্ষে যেমন কোম্পানি পক্ষীয় এমপিরা বক্তব্য পেশ করেছেন, তেমনি ব্রিটিশ কর্পোরেট উৎপাদকদের কাছে ভারতের বাজার খুলে দেওয়ার দাবি এবং ইংলন্ডে ভারতের সুতি কাপড় আমদানির বিরুদ্ধে গলা তুলেছেন বিরুদ্ধ পক্ষের এমপিরা।

মি. ওয়ালেস — পঞ্চম প্রতিবেদন লেখা কমিটিকে পুনরায় নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া সাংসদ। কমিটির কাজ সমর্থন করে বলেন যে এটি ইতিমধ্যে মূল্যবান প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সনদ পুনর্বিবেচনার আগে তার আর্থিক বিষয়গুলো পরীক্ষা প্রয়োজন।

টমাস ক্রিভি

টমাস ক্রিভি ব্যবসায়ী উইলিয়াম ক্রিভির পুত্র। কেমব্রিজের কুইন্স কলেজে যান। সপ্তম র‍্যাংলার হিসেবে স্নাতক হন (১৭৮৯)। ইনার টেম্পলে ছাত্র। ডিউক অফ নরফোকের মনোনয়ন সূত্রে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন (১৮০২)। ছয় সন্তান এবং বিপুল সম্পত্তির অধিকারী বিধবা মিসেস এলিনর অর্ডকে বিয়ে করেন। ক্রিভি ছিলেন হুইগ এবং চার্লস জেমস ফক্সের অনুসারী। তার সক্রিয় বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজে আর অবাধে মেশার গুণাবলী রাজনৈতিক মহলের নেতাদের সাথে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা এনে দিয়েছিল। ১৮০৬-এ কম সময়ের “অল দ্য ট্যালেন্টস” মন্ত্রিসভা (মিনিস্ট্রি অফ অল দ্য ট্যালেন্টস গ্রেট ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ঐক্য সরকার উইলিয়াম পিট দ্য ইয়ংগারের মৃত্যুর পর ১৮০৬-এর ১১ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী প্রথম ব্যারন গ্রেনভিল উইলিয়াম গ্রেনভিল গঠন করেছিলেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ অল দ্য ট্যালেন্টস’ খুবই কম সাফল্য পেয়েছিল। ফ্রান্সের সাথে কাঙ্ক্ষিত শান্তি স্থাপন করতে ব্যর্থ হলে এটি আরও প্রায় এক দশক ধরে চলে। ১৮০৭-য় ব্রিটেনে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করলেও ক্যাথলিক অধিকারের প্রশ্নে ওই বছরে ভেঙে যায়) গঠিত হলে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সচিবের পদ পান। ১৮৩০-এ তার দল ক্ষমতায় এলে পার্লামেন্টে সদস্যপদ না পাওয়া ক্রিভিকে অর্ডন্যান্সের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়; পরে লর্ড মেলবোর্ন তাকে গ্রিনউইচ হাসপাতালের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন (১৮৩৪)।

তিনি কোম্পানির কট্টর সমালোচক সাংসদ। সিলেক্ট কমিটিকে “পুরোপুরি অক্ষম” আখ্যা দিয়েছেন। কোম্পানির বিপুল ঋণের (২ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে বৃদ্ধি) পাশাপাশি, কোম্পানি যে সরকারকে বছরে ৫ লক্ষ পাউন্ড দিতে ব্যর্থ তার উদাহরণও দেন। ফ্রি ট্রেডার ও কোম্পানির সমালোচক গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিলেন টমাস ক্রিভি। ১৮১২-১৮১৩-র সনদ বিতর্কে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তীব্র আর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন নিয়মকরে। ক্রিভির বক্তব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ জনগণ ও ভারতীয় প্রজা উভয়কেই সেবা করার কাজে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান এবং এর বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার অবশ্যই দ্রুত খতম করতে হবে। ১৮১৩-র চার্টার অ্যাক্টে কোম্পানির ভারত শাসনের রাজনৈতিক অধিকার বজায় থাকলেও, ক্রিভির মত বহু সমালোচকদের চাপই কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার রদ করার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

কোম্পানির আর্থিক ব্যর্থতা ও ঋণ বিষয়ে তিনি বলেন কোম্পানির ভারত অপারেশনের ঋণ ২ মিলিয়ন পাউন্ড-এর অনুমোদিত সীমা ছাড়িয়ে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। ১৭৯৩-এর সনদ অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজকোষে বছরে ৫ লক্ষ পাউন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পালনেও ব্যর্থ হচ্ছে কোম্পানি। কোম্পানিকে দেউলিয়া এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য বোঝা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই সাদা হাতির একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার সমর্থনযোগ্য নয়। এর একচেটিয়া ব্যবসা অধিকার কেড়ে নেওয়া সময়ের দাবি।

বণিক সরকার-এর স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী হল মুনাফালোভী বণিক কোম্পানির পক্ষে লক্ষ কোটি ভারতীয় প্রজার ন্যায়সঙ্গত শাসক হওয়া সম্ভব নয়। কোম্পানি স্বভাবতই অন্যায় আর অত্যাচারী শাসন ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। তিনি কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক ভূমিকার মধ্যে মৌলিক সংঘাত তুলে ধরে এ দুটিকে আলাদা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি ফিফথ রিপোর্ট তৈরি করা নির্বাচিত কমিটিকে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম আখ্যা দেন। তার মতে, কমিটি কোম্পানির জটিল ও বিভ্রান্তিকর হিসাব-নিকাশ বুঝতে অক্ষম থেকেছে এবং তার সদস্যরা প্রকৃত জনবিরোধী সংগঠনের নানান বিষয়ে, বিশেষ করে দুর্নীতি অনুসন্ধানে তীব্র ব্যর্থ। সংসদীয় তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে চূড়ান্ত রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev