বাংলায় কোম্পানি প্রশাসনের দ্যি যুযুধান প্রধান হেস্টিংস এবং ফ্রান্সিস তাদের শাসন আমলে যে সব জমিদারির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে পরিচিত ছিলেন, সে সব জমিদারি এস্টেটের উদ্ভব টোডরমলের শাসনিকালের বাঙলায় ঘটে নি। বর্ধমান রাজের সূচনা ঘটেছিল পাঞ্জাব থেকে বাংলায় অভিবাসিত হয়ে আসা জনৈক ক্ষত্রিয় আবু রায় সূত্রে; তিনি ১৬৯০-এর কাছাকাছি সময়ে বর্ধমানের চৌধুরী এবং কোতোয়াল নিযুক্ত হন। জনশ্রুতি, সীতারাম রায়কে মুসলিম কর্তৃপক্ষ রাজস্ব খেলাপিদের থেকে বকেয়া আদায় করার উদ্দেশ্যে বাংলা সুবায় পাঠিয়েছিল। তিনি উদ্যমী মানুষ ছিলেন। রহস্যময় উপায়ে নিজে বিশাল জমিদারি সম্পত্তির মালিক হন। এবং পরে নিজেও রাজস্ব খেলাপি হয়েছিলেন। (Westland: District of Jessore, p. 25 et seq.) তাঁর গ্রেপ্তারি এবং মৃত্যুদণ্ড অবশ্যই ১৭১৭-র আগে ঘটে থাকবে। সে বছর ইংরেজরা কলকাতায় তার বিধবা এবং সন্তানদের ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার জন্য উৎসাহী হলেও। তারা সতর্ক হয়ে পা ফেলছিল (C R Wilson, The Early Annals Of The English In Bengal, Vol.i, pt. 1, p. 166)। নাটোর পরিবারের উত্থান ঘটে সীতারামের সম্পত্তি খণ্ড খণ্ড করে ভেঙে ফেলা সূত্রে। নাটোর পরিবার, নিহত সীতারামের বিভাজিত সম্পত্তি দ্রুত দখল নিয়ে জোড়া লাগাতে শুরু করলে রাজশাহী বিপুল বিশাল জমিদারিতে রূপান্তরিত হয়। সে জন্য রাজশাহী অঞ্চলের সাথে এই পরিবারের সম্পর্কের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭২৮-য় এই রাজশাহীর জমিদারি বিস্তৃত ছিল, পশ্চিমে ভাগলপুর থেকে পূর্বে ঢাকা পর্যন্ত। সেই ভূখণ্ডে নীল চাকলা রাজশাহী নামে এক বড় মহকুমা একদিকে মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া অন্যদিকে বীরভূম আর বর্ধমানের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নবাবের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধরণের ভূসম্পত্তি দখলদারি সূত্রে রাজশাহী জমিদারি ১৩,০০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই জমিদারি নবাবকে বছরে ২৭ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিত।(ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ার, একবিংশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬২) গভর্নর ভ্যানসিটার্টের সম্মান জনাতে জনৈক স্থানীয় ঐতিহাসিকের লেখা ‘ন্যারেটিভ অফ দ্য ট্রানজেকশনস ইন বেঙ্গল’ (ফ্রান্সিস গ্ল্যাডউইন অনূদিত, কলকাতা, ১৭৮৮, পৃষ্ঠা ৬১-৬৩) বইতে বলা হয়েছে:
‘উদয়নারায়ণের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী জমিদারি পরিচালনা করেছেন। তাদের জমিদারি পরিচালন দক্ষতা, ব্যবসায়িক উদ্যম এতটাই নবাবের পছন্দের ছিল যে, মুর্শিদকুলি খান তাকে খালসা রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব দেন এবং তার সুরক্ষার জন্য ২০০ ঘোড়সওয়ারি সেনার সেনাপতি গোলাম মোহাম্মদ জমিদারকে তাঁর জমিদারিতে মোতায়েন করেন। জমিদার প্রবল হিংসা চাপিয়ে রায়তদের থেকে রাজস্ব আদায় করতে থাকলে, প্রজাদের অভিযোগক্রমে চরম বিরক্ত মুর্শিদকুলি খান, তাঁর একজন চেলা (চেলা-প্রাসাদে জন্মানো দাস।’ [অনুবাদকের নোট।]) মোহাম্মদ জানের নেতৃত্বে বাহিনী পাঠান উদয়নারায়ণকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে। রাজবাড়ির (রাজবাড়ি: রাজার বাড়ি) কাছে দু’পক্ষের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হলে সেনাপতি গোলাম মোহাম্মদ জমিদার নিহত হন এবং তীব্র অসন্তুষ্ট মুর্শিদকুলি খান তার ওপর প্রবল হিংসা নামিয়ে আনতে পারেন, এই ভয়ে উদয়নারায়ণ আত্মহত্যা করেন। এরপর রাজশাহীর জমিদারি গঙ্গার পূর্ব পাড়ের দুই জমিদার রাজেওয়ান ও রানুখেওয়াকে (Rajewan and Ranookhewa,) অর্পণ করা হয়, কারণ তারা বাংলার অন্য জমিদারদের তুলনায় অনেকটাই নিয়মিত সময়ে খাজনা জমা দিতেন।’ (ক্যালকাটা রিভিউ, ভল. lvi-ও দেখুন)
গল্পটির আরেকটি সংস্করণ স্যার জন শোর ১৭৮৮-র ২রা এপ্রিলের কার্যবিবরণীতে (মিনিট) উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পূর্ববর্তী জমিদাররা রাজস্ব জমা দেওয়ার কাজে অবহেলা দেখালে ১৭০৭-এর দিকে, ছোট বনগাছির জমিদারি কামদেবের পুত্র রঘুনন্দনকে রামজীবনের নামে লিখে দেওয়া হয়। চার বছর পরে, রাণী সর্বাণীর মৃত্যু হলে উত্তরাধিকার না থাকায় রঘুনন্দন ভাতুড়িয়ার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। ১৭১৩-য় উদিতনারায়ণকে বন্দী করার পুরস্কার হিসেবে তার নামে রাজশাহী পরগনা লিখে দেওয়া হয়। সীতারাম রায়ের মৃত্যুর পর, রঘুনন্দন ভূষণার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। ১৭১৩-য় জমিদার রামজীবন মারা যান এবং ১৭৩৩-এর সনদে দত্তক পুত্র রামকান্তর হাতে জমিদারি পরিচালনার ভার তুলে দেওয়া হয়। প্রখ্যাত রাণী ভবানী ছিলেন রামকান্তের বিধবা স্ত্রী। (লং: সিলেকশনস, নং ৬৯৩: ওয়েস্টল্যান্ড: অপ. সিট., পৃ. ৪৮)
এই মিনিটেই শোর দাবি করে লেখেন, ‘বাংলার অধিকাংশ প্রখ্যাত জমিদারির প্রতিষ্ঠাকালের কাহিনী খুব বেশি হলে বিগত দেড় শতাব্দীর ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’ জেমস গ্রান্ট, ‘অ্যানালাইসিস অফ দ্য ফাইন্যান্সেস অফ বেঙ্গল’ গ্রন্থে এতদূর পর্যন্ত লিখেছিলেন যে, ‘জাফর খানের [মুর্শিদকুলি খানের] শাসনকালে জমিদার নামক এই প্রয়োজনীয় পদাধিকারী শ্রেণী সর্বজনীনভাবে নতুন করে সৃষ্ট হয়।’ তবে ইতিহা প্রমান গ্রান্টের দাবি অনেকটাই অতিরঞ্জিত। তাঁর সময়ে প্রখ্যাত জমিদার পরিবার, জমিদারির প্রতিষ্ঠা, পরিচালনার ইতিহাস সম্পর্কে ভুল, অতিরঞ্জিত তথ্য ভিত্তি করে গ্রান্ট এই অলীক মন্তব্যের জন্ম দেন। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় দিনাজপুর (ক্যালকাটা রিভিউ, খণ্ড ৫৫। প্রবন্ধ। ই. ভেসি ওয়েস্টম্যাকটের ‘দিনাজপুর রাজ’), বর্ধমান, নদীয়া, (ক্যালকাটা রিভিউ, খণ্ড ৫৫। প্রবন্ধ। ‘নদীয়া রাজ’), লস্করপুর (ক্যালকাটা রিভিউ, খণ্ড ৫৬, ‘রাজশাহীর প্রাচীনতম আঞ্চলিক অভিজাত পরিবার পাটিয়ার ঠাকুর বা রাজারা, মুর্শিদাবাদের রাজদরবারের কর্মকর্তা লস্করদের থেকে, জমিদারি লাভ করেছিলেন বলে জানা যায়।’ মুর্শিদাবাদ নাম মুর্শিদকুলি খানের স্মৃতিবিজড়িত, তিনি সেই স্থানকে রাজধানী বানালেও, মুর্শিদকুলি খানের নবাবি আমলের অনেক আগে থেকেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল। ১৬৭৬-এ মুর্শিদাবাদে ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছেন। দেখুন টেম্পল: ডায়েরিজ অফ স্ট্রেয়নশাম মাস্টার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০), নলডাঙ্গার (ওয়েস্টল্যান্ড: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৪৮। নলডাঙ্গা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রণবীর, যিনি বাহুবলে ‘জনৈক আফগান জমিদার পরিবার নির্মূল করে’ জমিদারির অধিকারী হন) জমিদারীগুলো মুর্শিদকুলি খান বাংলার দেওয়ান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠিত।
রায়ত (রাইয়াত) বা কৃষকদের সাথে সরাসরি রাজস্ব নির্ধারণের ব্যবস্থা ‘রায়তওয়ারি’ কাঠামো; এবং ‘জমিদারি’ বলা হয় সেই রাজস্ব ব্যবস্থাকে যখন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে, নির্ধারিত পরিমান রাজস্ব আদায়ের জন্য শাসকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। (ব্যানার্জী: এ স্টাডি অফ ইন্ডিয়ান ইকনমিক্স, পৃষ্ঠা ১৬৮। When the revenue is assessed by the State on an individual or community owning an estate and occupying a position identical with, or analogous to, that of a landlord, the assessment is known as zamindari; where the revenue is imposed on individuals who are, or represent, the actual occupants of holdings, the assessment is known as rayatwari. Under either system, there may be rent-paying sub-tenants.” ‘যখন রাষ্ট্র কোনো এস্টেটের মালিক কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের ওপর রাজস্ব ধার্য করে এবং যার অবস্থান অনেকটাই জমিদারদের মতই, তখন সেই মূল্যায়নকে জমিদারি বলা হয়; যেখানে রাজস্ব এমন ব্যক্তির ওপর আরোপ করা হয় যারা জোতের প্রকৃত দখলদার অথবা তার প্রতিনিধি, সেই মূল্যায়নকে রায়তওয়ারি বলা হয়। উভয় ব্যবস্থার অধীনেই রাজস্বদায়ী প্রজা বা রায়তেরা থাকতে পারে।’) কেউ কেউ দাবি করেন টোডরমলের রাজস্ব নির্ধারণ পদ্ধতি ছিল রায়তওয়ারি। আইন-ই-আকবরীতে রাজস্ব সংগ্রাহকদের কাজকর্মের যে বিবরণ দেওয়া আছে, সেটা ফৌজদারদের কার্যপদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু বাংলার প্রাথমিক মুঘল ব্যবস্থায় ফৌজদাররাই রাজস্ব আদায়ের জন্য চূড়ান্তভাবে দেওয়ানের কাছে দায়ী ছিলেন। আইন-ই-আকবরীর অঙ্কগুলো সম্ভবত রাজস্ব বাবদ কী পরিমাণ আয় আশা করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল; এবং এই উল্লিখিত রাজস্ব অঙ্ক ছিল ফৌজদারের কর্মতৎপরতা মূল্যায়নের মানদণ্ড বিশেষ। উৎপাদনের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে জমির রাজস্ব মূল্যায়নের জন্য বিস্তারিত নীতিগুলো কেবল সেই জেলাগুলোর ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছিল, যেগুলো সরাসরি কেন্দ্রিয় মুঘল কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছিল। তাই মনে হয় এই নীতিগুলো আংশিকভাবে বিজিত প্রদেশের স্বল্প পরিচিত জেলাগুলোয় হয়ত কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। আকবরের সময়ে বাংলা সুবা থেকে প্রাপ্ত মোট রাজস্বের পরিমাণ আইন-ই-আকবরীতে বিভিন্ন সরকারের রাজস্ব আয় হিসেবে উল্লিখত অঙ্কগুলো যোগ করার সহজ প্রক্রিয়ায় নির্ণয় করা সম্ভব কিনা ভাবা দরকার।
এইভাবে নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করে আদৌ রাজকোষে জমা দেওয়া হত কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাই যেতে পারে, কারণ আইন-ই-আকবরীতে দেখা যায়, রাজস্ব নির্ধারণে চট্টগ্রামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, এবং এই অঞ্চল কিন্তু মুঘলদের দখলে ছিল না, এবং উড়িষ্যার হিসেবও কষা হয়েছে, কিন্তু বলা দরকার, আকবরের রাজত্ব শেষ হওয়ার আগেই এই ভূখণ্ড আফগান নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। ফলে ফ্রান্সিসের এই পয়েন্টে তর্ক করা বৃথা যেহেতু টোডরমলের নির্ধারিত রাজস্বের মোট পরিমাণ শুজা খানের নির্ধারিত মোট পরিমাণের থেকে খুব বেশি আলাদা নয়, তাই বলা যায় রাজস্ব নির্ধারণে হয় যৎসামান্য পরিবর্তন হয়েছে অথবা কোনো পরিবর্তনই হয়নি। তবে এটা স্বীকার করা উচিৎ, টোডরমলের রাজস্ব নির্ধারণে কানুনগোদের থেকে সংগৃহীত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এই তথ্য কিছু ক্ষেত্রে জমি পরিমাপের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল। স্যার জন শোর (লর্ড টেইনমাউথ) লিখেছেন, ‘তিনি সার্বভৌম শাসকের জন্য কতটুকু অংশ নির্ধারণ করেছিলেন, তা আমি জানি না। আমার কাছে থাকা একটি অজ্ঞাত সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি জমির অবস্থান এবং মাটির পরিমাণ অনুসারে, চাষাবাদের শ্রম ও ব্যয়ের ভিত্তিতে, মোট আনুমানিক রাজস্বের অর্ধেক থেকে এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন অনুপাতে নির্ধারণ করেছিলেন। এটাই হয়ত সম্ভাব্য বিবরণ ।’(স্যার জে. শোর: এপ্রিল, ১৭৮৮ সালের কার্যবিবরণী, J. H. Harington’s An Elementary Analysis of the Laws and Regulations, Calcutta, ১৮১৪-১৫, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৩-৩৪। এই মূল্যবান কার্যবিবরণীটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাউস অফ কমন্সের সিলেক্ট কমিটির পঞ্চম প্রতিবেদনে (১৮১২) অন্তর্ভুক্ত হয়নি। শোরের মন্তব্য ছিল আকবর সম্ভবত ‘ইনস্টিটিউটস অফ তৈমুর’-এর নীতিমালায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তিনি(শোর) এবাবদে মেজর ডেভি আর অধ্যাপক হোয়াইটের অনুবাদ উদ্ধৃত করে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্ধৃত অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে আকবরের আমলে হস্ত-ও-বুদ [হস্ত-ও-বুদ: কর্মকর্তারা গ্রাম [রাজস্বদায়ী ইউনিট পরিদর্শন করে মোট উৎপাদনের অনুমান করতেন এবং রাজস্ব দাবির [জমা] নির্ধারণ করতেন, মাথায় রাখতে হবে মোট উৎপাদন মূল্যায়নে রায়তের লাঙ্গলের সংখ্যা বিবেচনায় থাকত] করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল – ‘মনে হয় না যা বলছি সেটা খুব বিতর্কিত’। বিষয়টা খুবই কৌতূহলোদ্দীপক, কারণ ফ্রান্সিসের দাবি মুঘল শাসনামলে হস্ত-ও-বুদের মূল্যায়ন পদ্ধতি অজানা ছিল। শোর, সি. ডব্লিউ. বাউটন রাউসকে লেখা চিঠি (২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৭৮৯) থেকে নেওয়া; নিচের উদ্ধৃতিতে দেখা যায় তিনি আইন-ই-আকবরীর পাণ্ডুলিপিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন: ‘মিঃ গ্রান্টের ‘রুব্বা’ বা ‘চতুর্থাংশ’-র প্রধান ভিত্তি উদ্ভূত হয়েছে ‘রুব্বা’ শব্দটিকে ‘রেয়া’ বা ‘উৎপাদন’ বলে ভুল বোঝার কারণে; যদিও যে অনুচ্ছেদে শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরবর্তী সারণিগুলো দেখায় যে অনুপাতটি এক-তৃতীয়াংশ। আমি আইন-ই-আকবরীর চারটি অনুলিপি তুলনা করেছি এবং সবকটিতেই ‘রেয়া’ শব্দটি পেয়েছি। তার কাজের গুণমান নিঃসন্দেহে মহান, কিন্তু এটি তার লেখার শৈলীতে এতটাই অস্পষ্ট যে এর অর্থ বোঝার জন্য আমার পক্ষে যতটা সম্ভব তার চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টি এবং মনোযোগের প্রয়োজন।’ লর্ড টেইনমাউথের জীবন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৯।)
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ