| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৮৫ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

[আমরা গত কয়েকটা পর্বে বাঙলার মুঘল জমিদারির চরিত্র এবং একই সঙ্গে মুঘল আমলে, বিশেষ করে সম্রাট আকবরের বাঙলা অধিকারের পর জমিদারদের সঙ্গে রাজস্ব নির্ধারণ করতে আসা মুঘল অর্থমন্ত্রী টোডরমলের কাজ করার তরিকা নিয়ে বিতর্ক পড়েছি। ১৭৭২-এর পর হেস্টিংস এবং ফিলিপ ফ্রান্সিসের কর্মপদ্ধতি আর তত্ত্বিক বিরোধ আমরা দেখতে চাইছি গভীর নজরদারি সূত্রে। হেস্টিংস সর্বোচ্চ ক্ষমতায় যাওয়ার আগে অন্তত ২৩ বছর কোম্পানির অধস্তন কর্মচারী হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন, দৈনন্দিনের প্রশাসনিক কাজে হাত পুড়িয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তাঁর কাছে কোম্পানি স্বার্থই চূড়ান্ত — ঠিক যেমন ৭০ বছর আগে বাংলায় আসা মুর্শিদকুলি খানের কাছে আওরঙ্গজেবের বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাঁর নির্দেশ এবং মুঘল সাম্রাজ্য স্বার্থ রক্ষাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। অন্যদিকে ফিলিপ ফ্রান্সিস বাংলায় আসছেন লাট পরিষদের সদস্য হিসেবে পার্লামেন্টারি সুপারিশে। ১৭৬১-এ জুনিয়ার পিটের সেক্রেটারি হিসাবে তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। হুইগ আর র‍্যাডিক্যাল দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ছিলেন। ‘জুনিয়ার্স লেটার্স’ লিখে তিনি রাজনৈতিক তর্কযুদ্ধে হাত পাকিয়েছিলেন। তিনি মেট্রোপলিটনের নব্য এলিট যিনি ভরা যৌবনে ৩৪ বছর বয়সে বাংলায় এসেছেন কোম্পানির অন্য সদস্যদের তুচ্ছ করে আপন মহিমার পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরতে। রণজিত গুহ ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সূত্রপাত’-এ বলছেন, ‘ফ্রান্সিস যে হেস্টিংসকে তাঁর উন্নতির পথে কাঁটা বলে মনে করতেন এবং এই কাঁটাটি তুলে ফেলার জন্য রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সব রকম চেষ্টাই তিনি করেছেন সে বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই। কলকাতায় বসে সুদীর্ঘ অভিযোগপত্র গোপনে বিলাতে পাঠিয়ে, সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা মন্ত্রণা দিয়ে অনুচরদের সাহায্য পার্লামেন্টের নানা মহলে কলকাঠি নেড়ে হেস্টিংসের বিরুদ্ধে একটা জনমত তৈরি করার চেষ্টায় তিনি যে নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছিলেন, লাট পরিষদের সভায় প্রথম বিতর্ক থেকে শুরু করে পার্লামেন্টে ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচারের শেষ অধিবেশনটি পর্যন্ত তিনি প্রতিপক্ষকে মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে না দিয়ে যেমন একাগ্রভাবে শরসন্ধান করে গেছেন, তার ইতিহাস নিয়ে একখানি আধুনিক মুদ্রারাক্ষস রচনা করা চলে। …ফ্রান্সিস পেশাদার পলিটিশিয়ানের মতো গোড়া থেকেই নিজেকে ওই [কোম্পানি] শাসন ব্যবস্থা থেকে স্বতন্ত্র রেখেছেন। হেস্টিংসের কাছে কোম্পানির স্বার্থই বড়ো কথা, একমাত্র কথা; ফ্রান্সিসের কাছে ব্রিটিশ রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্বার্থই [অর্থাৎ বাঙলা লুঠের অর্থে নতুন গজিয়ে ওঠা কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর স্বার্থ দেখা] সবচেয়ে বড়ো।’ সব থেকে বড় কথা ১৭৭৬-এ আমেরিকার ১৩ উপনিবেশ হাতছাড়া হয়ে যাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের। এই প্রেক্ষিতে তৎকালীন কলকাতার কোম্পানির অন্দরমহলে ঘটে যাওয়া হেস্টিংস-ফ্রান্সিস দ্বৈরথ বুঝতে হবে। হেস্টিংস চাইছেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাজার রক্ষা আর ফ্রান্সিস চাইছেন নবোদ্ভিন্ন কর্পোরেটের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়া।

কিন্তু একটা পরিষ্কার কথা বুঝে নেওয়া জরুরি — দুটো বিষয়ে দুজনের ভিন্নমত হওয়ার কারন নেই, প্রফেশনাল জেলাসি [রণজিত গুহ যাকে তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বলতে ভালবেসেছেন। মাথায় রাখতে হবে হেস্টিংস-ফ্রান্সিসের দ্বৈরথের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ১৭৮০-তে সুতো কল তৈরি হবে ইংলন্ডে; তার জন্য বিপুল পরিমান লুঠ সম্পদ ইংলন্ডে যাওয়া জরুরি] ছাড়া এই দুই বিষয় হল — ১। মুক্ত বাণিজ্য করার অধিকার একমাত্র ব্রিটেনের — যার পক্ষে তাবড় তাবড় তাত্ত্বিকেরা সওয়াল করছেন, কিন্তু এই অধিকার ভারতের বা বাঙলার কারিগর বণিকদের নেই, তাদের জন্য বিশ্ববাজার বন্ধ; এমন কি কাপড় উৎপাদন কাঠামোর বিশিল্পায়ন চালু হয়েছে। ২। ভূমি রাজস্ব যেহেতু সব থেকে বড় লুঠ সম্পদ আদায়ের ক্ষেত্র [তারপরের স্থানই লবণ বুঝেই বাংলায় পা দিয়েই কোম্পানির হয়ে প্রথমেই লবণ উৎপাদন ব্যবস্থা একচেটিয়াকরণ করবেন হেস্টিংস] তাই দুজনেরই ভাবনা কিভাবে লুঠের পরিমান বৃদ্ধি করা যায়। লুঠ ম্যাক্সিমাইজেশন না হলে উপনিবেশ চালিয়ে কি লাভ হবে? — অনুবাদক]

ফ্রান্সিস তাঁর রাজস্ব পরিকল্পনা আইন-ই-আকবরি পাঠ সংক্রান্ত ধারনা নির্ভর করে বড়ভাবে ব্যাখ্যা করে বলছেন :

‘এই জমার একটি তালিকা বা রেকর্ড তৈরি করা হয়, যা ফারসি ভাষায় ‘তুমর’ নামে পরিচিত, যেখান থেকে টোডরমলের বন্দোবস্তকে ‘তুমর জমা’ বলা হয়, অর্থাৎ রাজস্বের তালিকা (রোল অব রেন্ট);(দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, লেখকরা ভূমি রাজস্বকে সহজভাবে ভূমি রাজস্ব বলছেন না। লেখকদের এই বিষয়টিকে ‘ভাড়া’, (rent) ‘quit-rent’[ঐতিহাসিক ভূমি কর, যা জমির মালিক সামন্ততান্ত্রিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে (যেমন ক্রাউন) ‘quit’ বা শ্রম পরিষেবা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বার্ষিক ফি প্রদান করে , মূলত কৃষিকাজের মতো বাধ্যবাধকতা থেকে স্বাধীনতা কেনা এবং জমিদারির নামমাত্র স্বীকৃতি হিসেবেও এটা কাজ করে- অনুবাদক] এবং ‘ভূমি কর’(land tax) বলার অভ্যাস বিষয়টিকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। ভারতে বহুকাল ধরেই ভূমি রাজস্ব একটি অনন্য বিষয়। কৃষকের গোলা থেকে শস্যের একটি অংশের ওপর হিন্দু রাজার প্রাচীন অধিকার প্রতিনিধিত্ব করে রায়তের দেওয়া ভূমি রাজস্ব। মুঘল সাম্রাজ্য এই পরম্পরার প্রতিষ্ঠান আত্মীকৃত করে এবং পরিভাষা, নথি ইত্যাদি নতুন করে ঢেলে সাজায়, এবং সম্ভবত তারা ভূমি পরিমাপনের পদ্ধতিও চালু করে। (দেখুন Baden-Powell : Land Revenue in British’ India, পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭) যে সব ইংরেজ ভূমি রাজস্বকে ‘ভাড়া’(rent) বলেন তারা (ফিলিপ) ফ্রান্সিস-(জন) শোরের অনুগামী – মনে করেন জমিদাররাই জমির বৈধ মালিক। আর  যারা ‘কর’(tax) শব্দ ব্যবহার করেন, তারা মনে করেন জমি সার্বভৌম শাসকের মালিকানাধীন –  আসল বা মূল জমা পরের সমস্ত পরিবর্তন আর সংযোজনের সাপেক্ষে তৈরি করা হয়।

‘একই সময়ে সমগ্র সুবার একটি ‘তাকসিম’ [মুঘল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায়, বিশেষ করে সম্রাট আকবরের আমলে টোডরমল প্রবর্তিত ভূমি পরিমাপ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে রাজস্ব নির্ধারণের পদ্ধতিই ‘তাকসিম’ বা ‘তাকসিম-ই-জমা’। এটি মূলত জমির পরিমাণ এবং উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে রাজস্বের বণ্টন বা বিভাজন, যা ১৫৮০-র আশেপাশে চালু করা হয় – অনুবাদক] বা বিভাজন হিসাব তৈরি করা হয়েছিল, যে হিসেব প্রতিটি জমিদারির অন্তর্ভুক্ত পরগনা, গ্রাম ইত্যাদি এবং প্রতিটি জমিদারের দেয় সাধারণ খাজনার অনুপাত দেখাত। তুমর [জমা তুমর হলো মুঘল আমলের, বিশেষ করে ১৫৮২-র রাজা টোডরমলের বাংলার সুবা (প্রদেশ) জরিপের পর তৈরি রাজস্বের বিস্তারিত তালিকা বা নথিপত্র। এটি মূলত জমির মালিকানা, রাজস্বের হার এবং প্রজাদের স্বত্ব ও অধিকার নির্ধারণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল- অনুবাদক] এবং তাকসিমের হিসাব রাখার জন্য কানুনগোদের বংশানুক্রমিক পদ তৈরি করা হয়েছিল। এই রেকর্ডের কর্তৃত্ব আজও স্বীকৃত ও সম্মানিত। জমিদারদের মধ্যে সম্পত্তির সমস্ত বিক্রয় ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে, নতুন সনদগুলো তুমর জমার ভিত্তিতেই জারি করা হয়। রাজকীয় কর্মকর্তা বা মনসবদারদের জায়গিরগুলো সর্বদা এই জমার অংশ হিসাবেই মঞ্জুর করা হত। কানুনগোদের রসুম বা ফি এখনও সেই সূত্র থেকেই গণনা করা হয়, এবং এমনকি বর্তমান সময়েও ভূমি সম্পত্তির সীমানা সংক্রান্ত দাবি বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাকসিমের সাহায্য নেওয়া হয়।’ (Francis; Op. cit. p. 33)

ফ্রান্সিসের দাবির জবাবে ওয়ারেন হেস্টিংস উত্তর দেন :

‘প্রাচীন তুমর এবং তাকসিম’ বা ভূমি রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থা, যা প্রায় ২২০ বছর আগে প্রণীত হয়েছিল, সেটি অনেক আগে থেকেই প্রশাসনিক নিয়ম হিসেবে বাস্তবে আর রাজস্ব আদায় কাঠামো হিসেবে প্রযুক্ত হয় না। পুরোনো সরকারের অধীনে, এই বণ্টন ব্যবস্থা বার্ষিকভাবে সেই হিসাবের মাধ্যমে সংশোধন করা হতো, যা জমিদার এবং অন্যান্য রাজস্ব সংগ্রাহকরা তাদের জমির বর্ধিত বা হ্রাসপ্রাপ্ত রাজস্ব এবং প্রাপ্তির পরিমাণ সম্পর্কে কানুনগো বা সম্রাটের নিবন্ধকদের কার্যালয়ে [কাছারিতে] জমা দিতে বাধ্য ছিলেন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালন সংক্রান্ত অবহেলা, বাংলায় পরবর্তীকালে ঘটে যাওয়া যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ, নদী বন্যা, প্রদেশের কিছু অংশে চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং অন্য অংশে হ্রাস, এবং দুর্ভিক্ষের অসম ধ্বংসযজ্ঞ (ছিয়াত্তর, যেমন, হেস্টিসের বাংলায় আসার ঠিক আগেই ১৭৬৯-৭০-এর দুর্ভিক্ষ) দেশের চেহারা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছে এবং তুমর রাজস্ব তালিকা নিছক পণ্ডিতি কৌতূহলের বিষয়ে পরিণত হয়েছে [এর কোনও প্রায়োগিক ভূমিকা বর্তমানে নেই — অনুবাদক]। তাই, বিগত বিশ বছর ধরে ভূমি রাজস্ব পূর্ববর্তী বছরগুলোর প্রাপ্তির পরিমাণ এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত জমির একটি আনুমানিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী করের হার প্রায় প্রতি বছরই পরিবর্তন করা হয়েছে।’(ফ্রান্সিস Minutes of the Governor-General, etc., পৃষ্ঠা ১৪৫)

তুমরি জমার উপর ফ্রান্সিসের নির্ভরতার বিরুদ্ধে আরও একটি আমূল আপত্তি উঠে এল এক পরিশ্রমী রাজস্ব বিশেষজ্ঞ জেমস গ্র্যান্ট প্রণীত সিদ্ধান্ত সূত্রে, যে দৃষ্টিভঙ্গী তিনি ‘এ ভিউ অফ দ্য ফাইন্যান্সেস অফ বেঙ্গল’ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন (সম্মানিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিষয়াবলী সম্পর্কিত হাউস অফ কমন্সের সিলেক্ট কমিটির পঞ্চম প্রতিবেদন, ১৮১২ এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাজস্ব বিশেষজ্ঞ জেমস গ্র্যান্ট আর সেই হেস্টিংসের প্রতিপক্ষ জেমস গ্র্যান্ট অভিন্ন নয়। দ্বিতীয়োক্ত গ্রান্ট ১৭৭৫-এ ওয়ারেন হেস্টিংসের ওপর আক্রমণে ফ্রান্সিসকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিলেন এবং যার নাম করে হেস্টিংস মন্তব্য করেছেন, ‘আমি জি. আর., এবং জেমস গ্র্যান্টের (এমন নাম যা লিখতে আমি লজ্জিত বোধ করি) মতো হতভাগ্যদের আমার পরিকল্পনা ব্যর্থ করার ক্ষমতা দেব না।’ হেস্টিংসকে ব্যতিব্যস্ত করা এই জেমস গ্র্যান্ট ১৭৭৬-এ ইংলন্ডে ফিরে যান, তাকে আর ভারতে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে যে জেমস গ্র্যান্টের প্রতি আমাদের এই প্রবন্ধে আগ্রহ, তাকে ১৩ই মে, ১৭৭৮-এ বাংলার রাইটার [কেরানি] পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু সম্ভবত তিনি ততদিনে ভারতে পৌঁছেগিয়েছিলেন, কারণ তার বাঙলা আসার তারিখ সেই বছরের ১৪ই জুলাই। ১৭৮২-তে তাঁকে হায়দ্রাবাদে রেসিডেন্টের সহকারী পদ দিয়ে পাঠানো হয়। ১৭৮৪-এ তিনি উত্তর সরকারসমূহের [নর্দান সরকার্স] রাজস্ব বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন সংকলন করেন এবং এর পরে বাংলার আর্থিক অবস্থা বাখানে তার লেখা ‘ভিউ অফ দ্য ফাইন্যান্সেস অফ বেঙ্গল’-এর প্রকাশ। বইটি লিখতে তিনি যে উপাদান ব্যবহার করেছিলেন, তার মধ্যে প্রধান ছিল রাজস্ব রেকর্ড, যা তিনি সৌভাগ্যবশত কিনতে পেরেছিলেন; এবং যেহেতু সেই রেকর্ডগুলো আজ হারিয়ে গেছে, তাই তিনি সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করেছিলেন সেই বিষয়টা পরীক্ষা করা আজ অসম্ভব। গভর্নর-জেনারেল (স্যার জন ম্যাকফারসন) এবং কাউন্সিলের ১৯শে জুলাই, ১৭৮৬ তারিখের চিঠি সূত্রে মিস্টার গ্রান্টের কাজ সমাপনের জন্যে প্রধান সেরেস্তাদার পদ তৈরি করা হয়েছিল। দেখুন কোলব্রুক: সাপ্লিমেন্ট, পৃষ্ঠা ২৫১-৫৩। স্যার জে. ম্যাকফারসনের প্রশাসন সম্পর্কে কিছু কৌতূহলোদ্দীপক এবং স্বল্প-আলোচিত তথ্যের জন্য, ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যানালাইজড’, ১৭৯৩, দ্বিতীয় খণ্ড, অধ্যায় ৬ দেখুন।)। এই গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ কিন্তু অত্যন্ত দুর্বোধ্য বইটির লেখক জেমস গ্রান্টের বক্তব্য হল: “পূর্ববর্তী খাজনার তালিকা, যা বর্তমানে প্রচলিত ফারসি শব্দ ‘জুম্মা তুমারি’ (Tumar-Jama; Tumar – a rent roll or register; তুমর-জামা; তুমর – খাজনার তালিকা বা রেজিস্টার) টোডরমলের প্রণীত আইন-ই-আকবরীতে নির্দিষ্ট করা মূল হিসাব নয়, এবং এটাই সরকারের দেশীয় কর্মকর্তারা অজ্ঞতাবশত বিশ্বাস করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সরলতার সুযোগ নিয়ে, তাদের ওপর চাপিয়ে দেন; বরং এটা হল বারবার বাড়তে থাকা, সংশোধন হতে থাকা বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, যা প্রায় দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রকৃত জরিপ, হস্তবুদ হিসাব বা নির্দিষ্ট স্থানীয় তদন্তের মাধ্যমে উন্নত করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলেছে।”’ গ্রান্ট বিশ্বাস করতেন আসল রাজস্ব তালিকা “কোম্পানির কোষাগারে নিযুক্ত দেশীয় কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন অনুশীলনে সম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল।”

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev