| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৪১ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

[এই কিস্তির শেষ স্তবকের শুরুতে যে কথা ফার্মিঙ্গার বলছেন, সেটা অর্ধেক সত্য — আওরঙ্গজেবের আমলে সুবাদরিত্বে অমুসলমানের অংশিদারিত্ব ছিল ৩০%+। দক্ষিণের সুবাদার মুঘল বাহিনীতে কাজ করতেন ‘নুকশাইদিলখুশা’র লেখক ভীমসেন সাক্সেনার পরিবারের ৫ প্রজন্ম। শাহজাদাকালে আওরঙ্গজেবের অধীনে কাজ করতেন ভীমসেন। খুবই সুসম্পর্ক ছিল। দক্ষিণে মারাঠারা সে সময় এলিট ছিল না — বরং হাবসিরাই এলিট ছিল। তিনি ৩৬ জাতের মারাঠাদের মুঘল বাহিনীতে নিয়ে এসে, তাদের কর্মসক্ষতার সুযোগ করে দেন। নিজের জন্মদিন পালনে তাদের ডাকতেন। এ সব আমি ‘আওরঙ্গজেব ভ্রম নিরসন ১৬১৮-১৬৫৮ বইতে বিশদে লিখেছি। মুর্শিদকুলির সময় অডিটর জেনারেল ছিল অমুসলিম, যার স্বাক্ষর না হলে আওরঙ্গজেব বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব গণ্য করতেন না — অনুবাদক]

নবাবী আমলে রংপুর জেলার রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ধারাবিবরণী কানুনগোরা তৈরি করেছিল ইংরেজ কালেক্টরদের ব্যবহার করার জন্য (কালেক্টর ডি. এইচ. ম্যাকডাওয়েল ১৭৮৭-তে লিখছেন: ‘[আমি] প্রায় নিশ্চিত যে, হিন্দুস্তানের রাজাদের অধীনে এই দেশ আসার পর থেকে রংপুর অঞ্চলের জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি; এবং জেলার নথিপত্রে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ অথবা ব্যক্তির দখলে থাকা বাজে জমির [বাজে জমি বা লাখেরাজ ভূমি হলো নিষ্কর জমি বা জলাশয়। যে জমি  থেকে মুঘল, বা পরে ব্রিটিশ সরকার রাজস্ব পেত না বলেই ব্রিটিশ সরকার এই ধরণের জমি উদ্ধার করে, দখল নিয়ে, তার ওপরে বছরের পর বছর বর্ধিত রাজস্ব আদায় করেছে। কয়েকটা আগের কিস্তিতে দেখিয়েছিলাম ঠিক পলাশীর পর বর্ধিত কলকাতার জমি মাপন করতে হয়ে তারা আবিষ্কার করে, অন্তত ৫০% জমিই বাজে জমি, অর্থাৎ শুল্কহীন। মুঘলেরা যেহেতু লুঠেরা ছিল না, তাই তারা শুল্ক মুক্ত জমি উদ্ধারে মাথা ঘামায় নি। এই কাজ করেছে লুঠেরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। এই ধরণের জমি, সাধারণ বা নিজ জমি হিসেবেও পরিচিত ছিল — অনুবাদক] পরিমাণ সম্পর্কে সামান্যতম তথ্যও পাওয়া যায় না।’ Glazier: Further Notes on the Rungpore Records, p. xli)। এবং এই বিবরণ নিঃসন্দেহে বাংলার অন্য অঞ্চলের জমি বিষয়ে প্রায় একই পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে: ১১৪৭ বঙ্গাব্দে (১৭৪০ খ্রিস্টাব্দ) কাসিম উলি খান ৩,৩৬,০০০ টাকার বিনিময়ে তহুদ (তাহুদ: বন্দোবস্ত, চুক্তি) নিয়ে এই অঞ্চলে আসেন, এবং সেই বন্দোবস্ত ১১৬৪ বঙ্গাব্দের শেষ পর্যন্ত (অর্থাৎ প্রায় এপ্রিল, ১৭৫৮) অপরিবর্তিতভাবে চলেছে। ১১৭৫ বঙ্গাব্দে, (অর্থাৎ, ১৭৬৮ — তারিখটা সংশ্লিষ্ট কানুনগো ভুল লিখেছেন। মাথায় রাখতে হবে মীর কাসিম অক্টোবর ১৭৬০-তে নবাব হন এবং ১৭৬৩-এ ক্ষমতাচ্যুত হন। কানুনগোদের ভুল তারিখ উল্লেখ, তাঁর বিবৃতির সাধারণ সত্যকে মিথ্যে প্রমান করে না) শেখ আব্দুল সুবহান, যিনি কাসিম আলি খানের [মীর কাসিম] কর্মচারী ছিলেন, মনিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে মুর্শিদাবাদে যান এবং মীর কাসিমকে (নবাব মীর কাসিম) জানান যে জেলা থেকে আরও বড়ভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই উদ্দেশ্যে মীর কাসিম আগের জমার উপর আরও এক লক্ষ টাকা বাড়ানোর আদেশের একটি তহুদ দেন এবং শেখ আব্দুল সুবহানকে নায়েব নিযুক্ত করে রংপুর পাঠান। রংপুর পৌঁছানোর পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই শেখ প্রয়াত হন। নবাব মীর কাসিম উক্ত শেখের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই অবিলম্বে এই স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং এখানে পৌঁছে সমগ্র জেলার উপর রাজস্ব বৃদ্ধি করে রামপ্রসাদের থেকে দশ লক্ষ টাকার তহুদ নিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন। রাজস্ব আদায় না হওয়ায় রামপ্রসাদ, আর তার আত্মীয়দের দুর্গে বন্দী করা হয়। ১১৬৬ বঙ্গাব্দে (১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দ) পূর্ব আমলের জমার উপর রাজস্ব কমানো হয় এবং দেওয়ান শ্যামসুন্দর রাজস্বের জন্য তহুদ দেন; এই তাহুদ ১১৬৬ ও ১১৬৭ বঙ্গাব্দ (১৭৫৯ ও ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত তার ব্যবস্থাপনায় চলেছে। ১১৬৮ বঙ্গাব্দে (১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ) দেওয়ান বৈদ্যনাথ এবং মীর মর্দন আলী আসেন এবং এক লক্ষেরও বেশি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেওয়ান শ্যামসুন্দরের থেকে পুনরায় সেই অর্থের জন্য একটি তহুদ গ্রহণ করেন, কিন্তু রাজস্ব পরিশোধ না হওয়ায় মীর দৌর বখশকে সাজাওয়াল নিযুক্ত করা হয়। এই ব্যক্তি বহু হিন্দুকে জাতিচ্যুত করেন এবং রাজস্ব আদায়ে চরম কঠোরতা অবলম্বন করেও প্রার্থিত পরিমান রাজস্ব আদায়ে চরম ব্যর্থ হন। ১১৬৮ বঙ্গাব্দের শেষে, বা ১১৬৯-র শুরুতে, আষাঢ় মাসে, প্রায় একশ লোকলস্কর নিয়ে জনৈক সুবেদার মুঙ্গের থেকে আসেন এবং সাজাওয়াল মীর দৌর বকশ ও আমলাদের বন্দী করে, বুধার (বোদা?) গোমস্তা রামচন্দ্র রায় প্রমুখকে নৌকায় করে নিয়ে যান। এরপর, ১১৬৯-এ দেওয়ান সোভা চাঁদ একই জমায় তহুদ (চুক্তি) দেন এবং খাজনা আদায় শুরু করেন; কিন্তু এরই মধ্যে কার্গিহাটের প্রজা বিদ্রোহ আরম্ভ হয় এবং বিদ্রোহীরা মফস্বলের খাজনা দখল নেয়। এই বিপ্লবের খবর মুঙ্গেরে পাঠানো হলে, সেখান থেকে প্রজাদের কাছে বার্তা আসে, যদি তারা তাদের দৈনন্দিনের কাজে ফিরে না যায়, তবে তাদের দমন করার জন্য সৈন্য পাঠানো হবে। সেই নির্দেশ অনুসারে সোভা চাঁদের পুত্রকে সৈন্যসহ পাঠানো হয় এবং বিদ্রোহ ছেড়ে প্রজাদের দৈনন্দিনের জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ফল পাওয়া যায়নি; শেষ পর্যন্ত তার নেতৃত্বে সৈন্যরা যুদ্ধে নেমে বহু মানুষ হত্যা করে। এরপর পূর্বোক্ত দেওয়ানকে খাজনা পরিশোধে ব্যর্থতার জন্য বন্দী করে মুঙ্গেরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছু পরে নবাব মীর কাশিম মুঙ্গের থেকে পালিয়ে যান আর কোম্পানি এই অঞ্চল দখল নেয় (১৭৬৩-র অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে রংপুর জেলা পলাতক নবাবের পক্ষ অবলম্বন করেছিল বলে মনে হয়। ১৭৬৩-র ৯ই নভেম্বরের ঢাকা কাউন্সিলের কার্যবিবরণীতে আমরা পড়ি: ‘রংপুর প্রদেশের অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং সেখানকার সরকারের নবাব মীর জাফরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ২রা নভেম্বরের আমাদের মাননীয় বোর্ডের কাছে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে; এবং জনৈক ইংরেজ এজেন্ট মি. মুরের কারাবাসের বিষয়ে তাঁদের অবহিত করার পর, আমরা আজ তাঁদের উত্তর পেয়েছি যে, আমরা যেন সেই দেশে একটি সৈন্যদল পাঠাই, যাতে ফৌজদারকে গ্রেপ্তার করা যায় এবং নবাব মীর জাফরের নামে সেই অঞ্চল বশীভূত করা যায়। স্থির হল, লেফটেন্যান্ট ডাওকে চার সিপাহী কোম্পানি এবং একটি হাউইৎজার দিয়ে এই কাজে নিযুক্ত করা হবে, এবং সৈন্যদের পরিবহনের জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত সংখ্যক নৌকার ব্যবস্থা করা হবে, এবং মাননীয় বোর্ডের চিঠির উদ্দেশ্য অনুযায়ী বেতন ও ভাতার জন্য ১০,০০০ টাকা মি. ডাউয়ের হাতে জমা দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, তাঁকে যে কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হলো: সেই অঞ্চলকে বশীভূত করা এবং নবাব নিযুক্ত ফৌজদারকে তার পূর্ণ ক্ষমতা আর কর্তৃত্ব অর্পণ করে অঞ্চলে প্রার্থিত শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা; কারারুদ্ধ সব ইংরেজ ভদ্রলোককে মুক্ত করা এবং প্রাক্তন ফৌজদারকে গ্রেপ্তার করা। এই সমস্ত কাজ সম্পন্ন হলে, তাঁকে, সৈন্যদলসহ ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে।’ ১৭৬৩-র গোলযোগের সময়, তৎকালীন ঢাকার প্রধান কার্টিয়ার কলকাতা কাউন্সিলের সভায় তাঁর দায়িত্ব পাল করছিলেন। ১৭৬৩-র জুনে ফকিরদের সশস্ত্র দলের আগমনে ঢাকা কাউন্সিলের বাকি সদস্যরা (ডব্লিউ. আসকানার সিনিয়র, আর. লেসেস্টার এবং টি. ফ্রেঞ্চ) নিরাপত্তার জন্য লক্ষ্মীপুরের কুঠিতে পালিয়ে যান। ঢাকা লেফটেন্যান্ট গ্রান্ট, লেফটেন্যান্ট সুইন্টন ঢাকা পুনরুদ্ধার করেন। দেখুন: বেঙ্গল: পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৯। কাসিমবাজারে ইংরেজ কর্মচারী (জন চেম্বার্স এবং লায়ন) পাটনায় ইংরেজদের সাধারণ গণহত্যার সময় বন্দী এবং নিহত হন)। রংপুরের পূর্ব ফৌজদার কাসিম আলী খান [মীর কাশিম – অনুবাদক], ১১৭০-তে (১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ) মীর জাফরের (পুনঃপ্রতিষ্ঠিত নবাব মীর জাফর) পক্ষ নিয়ে ফিরে আসেন এবং বড় অঙ্কের ছাড় দিয়ে ৬,১৭,২৬২ টাকা ১৫ আনা ৮ পাই ৩ কড়িতে রাজস্ব বন্দোবস্ত করেন। (গ্লেজিয়ার: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা xxxix-xi। মুসলিম শাসকরা অস্বাস্থ্যকর রংপুর জেলায় সারা বছর থাকতেন না, বরং রাজস্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেখানে যেতেন। রেনেল নভেম্বর, ১৭৬৫-র জার্নালে লিখেছেন: ‘রংপুর সম্পর্কে উল্লেখ করার মতো বিশেষ কিছু নেই, এটি কেবল একটি প্রধান গঞ্জ (বাজার), বেশিরভাগ জায়গার মতোই এখানকার বাড়িঘরগুলো মাদুর ও বাঁশ দিয়ে তৈরি, শহরে মাত্র একটি ইটের বাড়ি আছে।’ T. D. La Touche: The Journals of Major James Rennell, (Asiatic Society of Bengal, 1910) p. 55। বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে রংপুরের গুরুত্ব সম্ভবত জর্জ বোগলের জন্য ঘটেছিল – হেস্টিংসের সময়ে রংপুরের কালেক্টর ছিলেন।)

রাজ্যের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তাদের রাজস্ব ইজারা দেওয়ার পদ্ধতির আরেকটি সংক্ষিপ্ত উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৭৭১-র ২২শে জানুয়ারি, সিলেটের নবনিযুক্ত ডেপুটি সুপারভাইজার জন সামনার ঢাকার চিফ ও সুপারভাইজার টমাস কেলসালকে লিখছেন: ‘আমি আপনার চিঠিটি নায়েব ফৌজদারের কাছে পেশ করেছি; তিনি এটি দেওয়ানের কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি আপাতত ফৌজদারের অনুপস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে প্রতি বছর শেষে অনিবার্যভাবে বেশ কিছু বকেয়া থেকে যায়, এবং এই বিষয়টা তিনি বিশদে নবাবকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এবং আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এই বকেয়ার একাংশ তৈরিই হয়েছে জনৈক পূর্ব ফৌজদারের নবাবের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য, আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী অনুকরণ করে অতিরঞ্জিত বিবৃতি জারির ফলে; তবে, সেই পরিমাণ বকেয়া অর্থ কখনোই এক বছরে আদায় করা যায়নি।’

বোঝা কঠিন নয় কেন নবাবদের নীতি ছিল রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় হিন্দু পুঁজিপতি ব্যবহার করা। রাজস্ব আদায় অত্যাবশ্যক পরিষেবা হলেও, এই কাজে মাথা দিতে অতিরিক্ত স্বাধীন ফৌজদাররা কুখ্যাতভাবে উদাসীন ছিল। প্রভুর ভয়ে তারা মাথা নত করে থাকলেও, নজরদারি থেকে কীভাবে বাঁচতে হয় সেটা ভালো করেই জানত। প্রভুর সেবায় ভাগ্য গড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষী হিন্দুরা দেশীয় কৃষকদের অনুশীলিত গোপনীয়তা ও যোগসাজশের কৌশলগুলো খুব ভালভাবেই বুঝত; এই চাতুর্য সাধারণত অভিবাসী পারস্য সৈনিক ফৌজদাররা বুঝত না। কার্যত প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলি খান রাজস্ব আদায়ে মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুদের নিয়োগ করা অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন, কারণ হিন্দুরা ছিল অধিকতর নমনীয় ও দক্ষ; অন্যদিকে মুসলমান ফৌজদাররা অলস না হলেও বিদ্রোহে যথেষ্ট পারদর্শী। সে সময়ের বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা বোঝার যে কোনো বিবরণই সত্যের অপলাপ হবে, যদি ধরে নিই নবাবরা রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া পরিচালনায় নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠী সাথে কাজ করতে বাধ্য হতেন। মাল ও সায়ের [মাল-ও-সায়ের’ (Mal-o-Sair) মূলত মুঘল এবং প্রাক-ব্রিটিশ যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা। ‘মাল’ বলতে ভূমি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব (land revenue) এবং ‘সায়ের’ বলতে ভূমি বহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত শুল্ক বা কর বোঝাত। সায়ের ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং পরিবহন শুল্কের সাথে সম্পর্কিত ছিল] আদায়ের জন্য নবাবরা একদিকে ফৌজদারদের বা অন্যদিকে জমিদারদের ওপরে বিন্দুমাত্রও নির্ভর করতেন না; এবং নবাবের কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল না রাজস্ব আদায় বাবদে ফৌজদার-জমিদারদের ওপর নির্ভর করা। মুর্শিদাবাদের শাসকেরা পরিকল্পিতভাবে ছোট জমিদারি সৃষ্টি করেছিলেন সম্ভবত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প খোলা রাখার আকাঙ্ক্ষায়—একদিকে হিন্দুরা, যারা রাজস্ব দিতে বাধ্য জনগণের রীতিনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ধারণ করতেন, অন্যদিকে ফৌজদাররা, তাদের যদিও নিবাবেরা অবিশ্বাস করতেন, কিন্তু প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করে ছোট জমিদারদের থেকে জোর করে রাজস্ব আদায় করা যেত।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev