[এই পর্বের ইন্টারেস্টিং বিষয় হল ফিলিপ ফ্রান্সিসের ব্রিটিশপূর্ব সময়কে বাঙলার স্বর্ণযুগ হিসেবে মান্যতা দেওয়া এবং মুর্শিদকুলি খানকে অত্যাচারী শাসক হিসেবে গণ্য না করা। কয়েকটা আগের কিস্তিতে বলেছি, ফিলিপ ফ্রান্সিস মুঘল শাসকদের প্রজাবান্ধব শাসক হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁর এই দুটো অপ্রাচ্যবাদী অবস্থান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক কেলি ফার্মিঙ্গার ফিফথ রিপোর্ট সম্পাদনা করতে গিয়ে মানতে পারছেন না — বরং শুরু থেকেই, মুঘল আমলের সময় থেকেই বাংলাকে অনাচারের অঞ্চল হিসেবে দাগিয়ে দিচ্ছেন প্রবলভাবেই — তার কারন ব্রিটিশ শাসনের আগের সময়কে অন্ধকারের, অব্যবস্থার সময় দাগিয়ে না দিলে, ব্রিটিশ আমলে যে লুঠ, খুন, অত্যাচার হয়েছে — তাকে আইনের শাসন, শৃঙ্খলার শাসন, মুক্তির সময় হিসেবে উপস্থাপন করা সমস্যার হয়ে যেত। মাথায় রাখবেন, যে দশকে ফার্মিঙ্গার সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গীতে ফিফথ রিপোর্ট সম্পাদনা করে সাম্রাজ্যের সমস্য অভিচারের দায়, পাঁচ দশক আগে লুপ্ত হয়ে যাওয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর চাপাবেন — সেই দশকের শুরুর সময় এক বঙ্গ আর এক মারাঠি সন্তান রমেশচন্দ্র দত্ত আর দাদাভাই নৌরজী যৌথভাবে পলাশীর পরের ১৫০ বছরের ব্রিটিশ লুঠ পর্ব জগতের সামনে হাট করে খুলে দেবেন। এই দুজনও সাম্রাজ্যপন্থী ছিলেন — রবীন্দ্রনাথের মত ভাল ইংরেজ, খারাপ ইংরেজ আলাদা করতেন – দুজনেই প্রগতিশীল লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা হন — কিন্তু ধারণা পালটে দিচ্ছেন। যাই হোক, পলাশীপূর্ব সময়ে বাংলার সমৃদ্ধি বিষয়ে পড়াশোনা করতে তিন বছর আগে এই ওয়েবসাইটে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত আমার গুরুস্থানীয় সুশীল চৌধুরীর দুটি বই ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০ এবং ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল অনুবাদ পড়তে পারেন — অনুবাদক]]
স্যার উইলিয়াম হান্টার বলেছেন, এই ধরণের আবওয়াব অথবা উপকর আরোপের ফলে মূল রাজস্ব নির্ধারণ বা আসল তুমারি জমা ‘অকার্যকর’ হয়ে যেতে বসছিল, কিন্তু মুঘল শাসনের প্রাথমিক দিনগুলোতে এই উপকরগুলো ধার্য করা হতো না — তাঁর এই ধারণা সম্ভবত সম্পূর্ণ ভ্রান্তিমূলক তত্ত্ব। রায়তের ক্ষতি করে আমলাদের বিত্তশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই বাস্তব প্রলোভনের আকর্ষণেই ফৌজদারদের জেলার অক্ষহৃদয়ে বসতি স্থাপন করতে উৎসাহিত করত। রায়তের ওপর মাঙ্গন চাপানোর জমিদারের ‘অধিকার’ নিশ্চয়ই সুপ্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত ছিল। ফিলিপ ফ্রান্সিস প্রকৃতপক্ষে মুঘল শাসনের প্রাথমিক পর্বের [শাহী অত্যাচার] সংযম সম্পর্কে তার বিশ্বাসকে একটি অবিসংবাদিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছিলেন, আর তা হলো, কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে বাংলা একটি ধনী ও সমৃদ্ধশালী প্রদেশ ছিল। যে সময়কালকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়, সেই সময়ের বাংলার প্রকৃত দেশিয় অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না, এবং যখন নবাব মুর্শিদ কুলি খানের কঠোরতা, অত্যাচারের বিবরণ তার সামনে উপস্থাপন করা হলো, তখন তিনি কেবল অবিশ্বাস প্রকাশ করলেন (Of the actual internal condition of Bengal during the period spoken of as “palmy,” he knew nothing, and when presented with an account of the Nawab Murshid Kuli Khan’s severities, he simply professed incredulity)। আকবর আর টোডরমলের কার্যকলাপ সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গিই গ্রহণ করা হোক না কেন, ইংরেজরা যখন তাদের শাসন শুরু করেছিল, সেই সময়ের বাংলার নৈরাজ্যের পরিস্থিতির তথ্যগুলো আজ সম্পূর্ণভাবে এবং বেদনাদায়কভাবে দৃষ্টিগোচর। এবং আমরা যেন ভুলে না যাই, এই নৈরাজ্যের উৎপত্তি ঘটেছে বাংলার মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক দখলদারিত্বের ফলে। এই নৈরাজ্য ছিল বলেই এখানে সুবাহদার নিজেকে সম্রাটের থেকে স্বাধীন থাকার চেষ্টা করতেন, আর ফৌজদার সুবাহদার থেকে স্বাধীন থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর ভ্রাতৃঘাতী সংগ্রামে উঠে আসা ধূর্ত মুর্শিদকুলি খান নিজের ভাগ্যে নাজিম এবং দেওয়ান — দুটো পদ দখল করে বাংলায় স্বাধীন রাজা হিসেবে গড়ে তুললেন। আলিবর্দি খানের মৃত্যুর সময় থেকে সুবাহদারের পদ, তখনও পর্যন্ত মুঘলদের ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ করা হত, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পদ হিসেবে বিবেচিত হল। কেন্দ্রিয় সরকারই কেবল বৈপ্লবিক অবস্থার মধ্যে দিয়েই যায়নি, সামগ্রিক ব্যবস্থাও চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল হয়ে ধ্বসে পড়ছিল। ১৭৪২-এ মারাঠা[বর্গি]রা ভাগীরথী নদীর সমভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে কিছু সময়ের জন্য নবাবকে গঙ্গার পশ্চিমে অবস্থিত রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়; যদিও পরের ছয় বছর নবাব, মারাঠা বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল লড়াই করেছেন। কিন্তু ১৭৫১-য়, আলিবর্দি খান বাধ্য হন মারাঠা প্রধানকে ওডিসায় তার প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে; তাকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার প্রদান করতে এবং তাঁকে বাধ্য হতে হয় সেই অস্বস্তিকর অধস্তনকে বছরে বারো লক্ষ টাকা চৌথ দিতে। ইতিমধ্যে বিহারে আফগানরা বর্বরতা নামিয়ে আনে। ১৭৪৮-এ পাটনার দুর্বিসহ ছবি রাজা স্টিফেনের আমলে আমাদের মাতৃভূমির সেই ভয়াবহ বর্ণনা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন লোকেরা খোলাখুলিভাবে বলেছিল ‘খ্রিস্ট এবং সাধুরা ঘুমিয়ে ছিলেলেন।’ রিয়াজুস-স-সালাতিনের লেখক লিখেছেন, ‘বিদ্রোহীরা পাটনা শহর আর শহরতলিতে অবাধে লুঠতরাজ চালায়, সম্পদ দখল নেয় নারী-শিশুদের সম্মান হরণ করে পুরো পৃথিবী যেন জনশূন্য করেছিল’। এই তথ্য বিশ্বাস করা অসম্ভব যে প্রতাপশালী আলবর্দি খান মারা যাওয়ার পরে আবেগপ্রবণ এবং নারীসুলভ পৌত্র সিরাজ-উদ-দৌলা সুবাহদারির অধিকারী হলে, মুঘল শক্তি বিহারে বিশৃঙ্খলার শক্তির কাছে নতি স্বীকার করত না, অথবা মারাঠারা কটকে সন্তুষ্ট থাকত। মীর কাসিম আর শাহ আলমের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের আরও আকর্ষণীয় সাফল্য ১৭৬০-এ ইংরেজদের মারাঠা বিজয় জনমানসে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছিল। পলাশীর পরে দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় নি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা বুঝি নি কেন বাংলার ক্ষমতাশালী মানুষেরা পলাশীর পরে ইংরেজ এবং নবাবের যৌথ কর্তৃত্বকে অমান্য করেন নি। এটা কল্পনা করা যায় না যে সিরাজ-উদ-দৌলা বা প্রকৃতপক্ষে মীর জাফর অরক্ষিত ছিলেন, এমন একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে পারতেন যার মধ্যে আলীবর্দি খান প্রায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন (It cannot be conceived that Siraj-ud-daula or indeed Mir Jafar unprotected, could have passed through an ordeal in which Ali Verdi Khan all but succumbed)।
আমরা দেখিয়েছি, কেন্দ্রিয় সাম্রাজ্যের ভূমি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ফৌজদার আর জমিদাররা কৃষকদের থেকে অগণিত পরিমান আর চরিত্রের শুল্ক আদায় করেছে। কেন্দ্রিয় সরকারের পক্ষে রাজস্ব সংগ্রহের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এককে দায়িত্বে থাকতেন কানুনগো। (কানুনগো: গো = বক্তা; কানুন = বিধি বা নিয়ম। লিন্ডসে লিখেছেন ‘Congoo!’) এদের সম্পর্কে মি. ওয়েস্টল্যান্ড লিখেছেন: ‘কানুনগোরা ছিলেন শাসক শক্তির পক্ষ থেকে জমিদারি কাছারিতে নিযুক্ত কর্মকর্তা। তাদের কাজ ছিল জমি হস্তান্তর ও ইজারা অনুমোদন করা এবং জমিদারির হিসাবপত্র (বিভিন্ন বন্দোবস্তের ভিত্তিতে) উচিতভাবে, যথাযথরূপে রাখার ব্যবস্থা করা। অত্যন্ত প্রাচীন প্রথা অনুসারে, সংগৃহীত রাজস্বের অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ শতাংশ হারে, নিম-টাকি বা পাও-টাকি নামক আবওয়াব সূত্রে তাদের বেতন হতো। জমিদারির সদর কাছারিতে (সদর – প্রধান কার্যালয়।) কানুনগো ছাড়াও, মফস্বলের (মফস্বল – জেলা, গ্রাম) কাছারিগুলোতেও একইরকম অধস্তন কর্মকর্তা থাকত; কিন্তু এদের বেতন জমিদাররা নগদ অর্থে বা এক খণ্ড শুল্কমুক্ত জমি দানের মাধ্যমে দিতেন। কিছু জমিদার এই তদারকি পছন্দ করতেন না এবং কানুনগো ব্যবস্থার বিরোধিতার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন; কিন্তু কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে নিজের আমলাদের (ওয়েস্টল্যান্ড: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮। আমলা: ‘কোনো বিচারবিভাগীয় অথবা রাজস্ব আদালতের প্রধান দেশীয় কর্মকর্তাদের সমষ্টি’। উইলসন: গ্লসারি) উপর নজরদারির জন্য কানুনগো রাখতেন।’ টোডরমল বেশিরভাগ তথ্যই কানুনগোদের থেকে সংগ্রহ করেন এবং আইন-ই-আকবরীতে বলা হয়েছে, ‘কানুনগো কৃষকের রক্ষক, এবং প্রতিটি পরগণায় একজন কানুনগো থাকেন।’
রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামের প্রতিনিধি পাটোয়ারী, যিনি কৃষকদের থেকে ভাতা এবং গ্রামের জমির অনুদানে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কানুনগো রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, এবং পাটোয়ারী কৃষকদের প্রতিনিধি – সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমূল্য কর্মকর্তা হতে পারতেন, যদি না ফৌজদার, জমিদারদের বিপুল পরিমান আদায় করা আবওয়াব সমগ্র মুঘল ব্যবস্থা কলুষিত করত। তবে, আবওয়াব বিষয়ে জেলার নথিপত্র বিষয়ে স্যার জন শোর যথার্থই বলেছেন, ‘জবরদস্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক জটিল দৃশ্য এবং সুশৃঙ্খল দাবির পরিবর্তে অননুমোদিত দাবির প্রতিস্থাপন (an intricate scene of collusion opposed to exaction and of unlicensed demand substituted for methodised claims)। পাটোয়ারী জমিদারদের নিপীড়নমূলক দাবির প্রকৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতেন বলেই, তিনি সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিলেন, তিনি যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই কৃষকরা রাজস্ব দায়ী জমির চেয়ে অনেক বেশি জমির মালিক হতেন। (হ্যারিংটন ‘অ্যানালাইসিস’-এ উল্লেখ করেছেন যশোরে ভূমি রাজস্বের নামমাত্র হার ছিল প্রতি বিঘা তিন টাকা, কিন্তু প্রকৃত হার ছিল এক টাকা, ‘কারণ রায়তরা পনেরো বিঘা জমির মালিক হলেও তাদের পাট্টায় মাত্র পাঁচ বিঘা লেখা থাকত,’ এবং এই শেষোক্ত পরিমাণের উপরই কেবল তিন টাকা হারে রাজস্ব ধার্য করা হত) মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামো এতটাই পচে গিয়েছিল যে, ১৭৭২-এ ইংরেজ সরকার আবওয়াবের দৃশ্যত বেশ কিছু অপব্যবহার, যেমন হালদারি বা বিবাহের উপর ধার্য ফি বিলুপ্ত করে কৃষকদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেও এই বিলুপ্তি রায়তদের উপকারে আসেনি, কারণ আবওয়াবগুলো সংগৃহীত হত কিন্তু সে সব রাজকোষে জমা পড়ত না। রায়তদের জমির পরিমাণ সম্পর্কে সরকারের অজ্ঞতা, রায়তদের উপকার করার জন্য সরকারি বহু পদক্ষেপের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাটোয়ারীরা দীর্ঘকাল ধরে যোগসাজশের প্রতারণায় আস্থা রাখতে এতটাই অভ্যস্ত ছিল যে, তারা ইংরেজ সাহেবদের সদিচ্ছার মধ্যে তাদের মক্কেলদের পরিত্রাণ খুঁজে উঠতে পারেননি।
মুঘল আমলে ন্যায়বিচার প্রশাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যথেষ্টই সমস্যাসাধ্য বিষয়; প্রামাণ্য লেখকরা পরস্পরবিরোধী বিবরণ উপস্থাপন করেছেন। ফিল্ড, ‘দ্য রেগুলেশনস অফ দ্য বেঙ্গল কোড’ গ্রন্থে লিখেছেন: ‘এই আদালতগুলোর কার্যক্রম মুর্শিদাবাদের চারপাশের এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এবং দূরবর্তী জেলাগুলোতে অধস্তন বিচারব্যবস্থার জন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না। কাজীর অবশ্যই প্রতিনিধি ছিল, কিন্তু তাদের ক্ষমতা কোনো বৈধ ও কর্তৃত্বপূর্ণ আদেশের অধীনে প্রয়োগ করা হতো না, এবং তা জনগণের ইচ্ছা বা সেই ক্ষমতার প্রয়োগকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করত। তদনুসারে, জমিদার, ইজারাদার এবং অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তারা সেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল যার জন্য দেশের আইনে কোনো বিধান ছিল না, এবং তারা তা ন্যায়বিচারের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে প্রয়োগ করত।’ (ফিল্ড: উদ্ধৃত গ্রন্থ, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৩৫। ফিল্ড ঢাকায় বিশেষ ধরণের বিচারব্যবস্থাগুলো উপেক্ষা করেছেন।)
(ফিল্ড (উদ্ধৃত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৪-৩৫) সার্কিট কমিটির ১৫ আগস্ট, ১৭৭২ তারিখের চিঠিতে প্রদত্ত তালিকাটি দিয়েছেন:
(১) নাজিম : সর্বোচ্চ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গুরুতর অপরাধীদের বিচারের সময় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতেন।
(২) দেওয়ান : তাঁর স্থাবর সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত মামলার বিচার করার কথা, কিন্তু তিনি খুব কমই ব্যক্তিগতভাবে এই এখতিয়ার প্রয়োগ করতেন।
(৩) দারোগা : আদালত-আল-আলিয়া, বা ফৌজদারি আদালতে নাজিমের ডেপুটি, যিনি ঝগড়া, মারামারি এবং গালিগালাজ, এবং ভূমি ও উত্তরাধিকারের দাবি ব্যতীত সম্পত্তির সমস্ত বিষয়ের বিচার করতেন।
(৪) দারোগা-ই-আদালত-দিওয়ানি, বা দেওয়ানি আদালতে দেওয়ানের ডেপুটি।
(৫) ফৌজদার : পুলিশ কর্মকর্তা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নয় এমন সমস্ত অপরাধের বিচারক।
(৬) কাজী : উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত দাবির নিষ্পত্তি করতেন।
(৭) মুহতাসিব : মদ্যপান, মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি এবং জাল ওজন ও পরিমাপ পরীক্ষা করার দায়িত্বে।
(৮) মুফতি : কাজীকে আইনের ব্যাখ্যা দিতেন, এবং কাজী একমত হলে সেই অনুযায়ী রায় দিতেন। যদি তিনি একমত না হতেন, তবে বিষয়টি নাযিমের কাছে পাঠানো হতো, যিনি আইন বিশেষজ্ঞদের একটি কাউন্সিল আহ্বান করতেন।
(৯) কানুনগো : ভূমির নিবন্ধক, যাদের কাছে মাঝে মাঝে ভূমি সংক্রান্ত মামলা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পাঠানো হতো।
(১০) কোতোয়াল : রাতের শান্তি রক্ষাকারী কর্মকর্তা, (ফৌজদারের অধীনস্থ)
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ