| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৪৫ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুসলিম শাসনামলের বাংলায় পুলিশ ব্যবস্থা আলোচনা অত্যন্ত জটিল বিষয় ধারন করেছে, কারণ গবেষণায় দেখাগেছে একটি জেলার ক্ষেত্রে যে তথ্য সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে, সেই তথ্য আবার সম্ভবত অন্য জেলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অসত্য। পূর্বকালে এমন একটি ধারণা বেশ প্রচলিত ছিল, নিম্নবঙ্গের গ্রাম্য প্রহরী ব্যবস্থা গ্রাম্য ব্যবস্থারই অবশিষ্টাংশ। এই বিশেষ বিষয় সম্পর্কে রকদা মনে করা হতো যে এই কাঠামোটি “সমগ্র হিন্দুস্তান জুড়ে প্রচলিত ছিল”। কিন্তু ১৮৬৫-৬৬-এ.মি.ডি.জে. ম্যাকনাইলের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ তদন্তে কার্যে এই বিশেষ তথ্য প্রকাশিত হয় যে, “নিম্নবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে এবং বিশেষ করে ওডিসায়, গ্রাম ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।” (“সেবাকার্যের বিনিময়ে গ্রাম্য প্রহরীদিগকে জমি প্রদানের অতি সাধারণ প্রথাটিই এর টিকে থাকা বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান চরিত্র,”) বিদ্যমান গ্রাম্য প্রহরী ব্যবস্থাটি “গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম, ঢাকা, নদীয়া এবং রাজশাহী বিভাগের সমস্ত জেলায়, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং সম্ভবত নদীয়া ও যশোর জেলা ছাড়া, জিলা ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্বারা বেতনভোগী বাহিনী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।” (D. J. McNeile: Report on the Village Watch of the Lower Provinces of Bengal. Calcutta, 1866, p. 4.) মিঃ ম্যাকনিলের সিদ্ধান্ত ছিল যে, “মুর্শিদাবাদের যে অংশ সবেমাত্র বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং তার সঙ্গে পাটনা, ভাগলপুর, বর্ধমান এবং কটক বিভাগ জুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ চরিত্র অনেকটাই প্রাচীন প্রথার মতোই বজায় ছিল।” (জেলা রেকর্ডপত্রে গ্রামীণ প্রহরীকে কত যে অসংখ্য নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ম্যাকনিলের বইয়ে এর একটি আংশিক তালিকা দেখুন: পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৮ ও ৯। মি. ম্যাকনাইল উল্লেখ করেছেন যে, দশসালা বন্দোবস্তের আগে বাংলার কোনো অংশেই প্রকৃত গ্রাম্য প্রহরীকে ‘চৌকিদার’ শব্দটি দ্বারা অভিহিত করা হতো বলে মনে হয় না।)

প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী গ্রামের প্রহরীকে সহ-গ্রামবাসীদের জীবন ও সম্পত্তি পাহারা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হতো এবং তাকে সামান্য জমি বরাদ্দ ও ফসল কাটার সময় শস্যের অনুদান অর্পণ করে ভরণপোষণ করা হতো। মি. ম্যাকনাইল লিখেছেন, “সাধারণত, প্রহরী নিজেই কোনো চোর চক্রের সদস্য ছিল, এবং প্রহরী হিসেবে তার নিয়োগ আসলে এমন একটি ব্যবস্থা ছিল যার মাধ্যমে গ্রামবাসীরা শত্রুপক্ষের একজনকে বশ করে আক্রমণের হাত থেকে আংশিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।” (উক্ত) মনে হয় মুঘল আমলে প্রহরীরা বিভিন্ন জমিদারের অধীনে নিযুক্ত হত, গ্রামের পাহারার মূল কাজের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের কাজেও নিয়োজিত ছিল এবং অন্য নিম্নপদস্থ স্থানীয় কর্মচারীদের সাথে চাকরান জমিতে পুরস্কৃত হতো।

স্মরণ রাখতে হবে, বড় জমিদারদের হাতে বড় সংখ্যক সৈন্য ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ১৭৬০ সালে ইংরেজরা বর্ধমানে রাজার অধীনে তিনটি স্বতন্ত্র বাহিনী দেখতে পায়:

১. সামরিক বাহিনী (‘নগদী’) যা রাজার কোষাগার থেকে নগদে বেতন পেত, যার রক্ষণাবেক্ষণে বার্ষিক তিন লক্ষ টাকা খরচ হতো।

২. পুলিশ বাহিনী (থানাদারী)।

৩. একদল গ্রামের প্রহরী ও রাজস্ব সংগ্রাহক (‘মাল গ্রাম সরণ জমি’) যাদেরকে, থানাদারী বাহিনীর মতোই, নিষ্কর জমি বরাদ্দ করে ভরণপোষণ করা হতো।

বীরভূম এবং বিষ্ণুপুরের রাজাদের অধীনেও নিশ্চয়ই বেশ বড় সেনাবাহিনী ছিল, কারণ এই শক্তিশালী শাসকদের উপরেই পশ্চিম সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বর্তেছিল। বীরভূমে আমরা ঘাটওয়াল নামে পরিচিত এক ধরনের সীমান্ত পুলিশের দেখা পাই, যাদের সম্পর্কে স্যার উইলিয়াম হান্টার বর্ণনা করেছেন যে, তারা “বেশিরভাগই উত্তর ভারতের দুঃসাহসী যোদ্ধা, আফগান এবং রাজপুত, যারা তাদের উত্তরীয় শক্তি ও ধারালো তরবারি নিম্নবঙ্গের অভিজাতদের কাছে ভাড়া দিত।” প্রকৃতপক্ষে ঘাটওয়ালরা গ্রামীণ পুলিশ ছিল না, যদিও তাদের কিছু পুলিশি দায়িত্ব ছিল (দেখুন Hunter : Annals of Rural Bengal, 3rd edn., 1868, p. 324, এবং  Baden-Powell: Land Revenue in British India, p. 119)। রাজাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক বাহিনী নিয়ে আলোচনা বর্তমান আলোচনায় প্রাসঙ্গিক, কারণ জমিদারী ব্যবস্থায়, কেবল প্রকৃত পুলিশ বাহিনীকেই রাজস্ব আদায় এবং তাদের মূল কাজের সাথে সম্পর্কহীন অন্য দায়িত্ব পালনে ব্যবহার করা হতো না, বরং সমগ্র সামরিক বাহিনীই প্রধান জমিদারের শান্তি রক্ষা এবং দস্যুদলকে তাড়িয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়ার মতো দায়িত্ব পালনে তৈরি থাকত।

আমরা যে পুলিশ ব্যবস্থার বর্ণনা দিয়েছি, তার কাঠামো এবং পরিচালন ব্যবস্থা বাংলায় ইংরেজরা ক্ষমতা দখলের আগেই ভেঙে পড়েছিল। বলা দরকার, এই ঘটনাটির চেয়ে অধিক জোরালো বা বিশ্বাসযোগ্য আর কিছু হতে পারে না যে ডাকাতদের নিয়ে ইংরেজদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ডাকাতেরা ব্যক্তিগত পছন্দ বা প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং বংশগত পেশা হিসেবেই লুটতরাজ করত। ১৭৭২-এর ২৮শে জুন সার্কিট কমিটি এভাবেই লিখল, “বাংলার ডাকাতরা ইংল্যান্ডের ডাকাতদের মতো নয়, যারা আকস্মিক অভাবের তাড়নায় এমন বেপরোয়া পথ বেছে নেয়; তারা পেশাগতভাবে এবং এমনকি জন্মসূত্রেও ডাকাত।” (ফরেস্ট: সিলেকশনস ফ্রম দ্য স্টেট পেপারস অফ দ্য গভর্নর-জেনারেলস অফ ইন্ডিয়া: ওয়ারেন হেস্টিংস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮৯।) ছোট জমিদাররা কেবল অপরাধ গোপনই করত না, কারণ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তাদেরই দায়ী করা হতো, বরং মুঘল সরকারের দুর্বল অবস্থার সুযোগে তারা অপরাধীদের সাথে আঁতাত করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।

শিক্ষার্থীদের মনে রাখা দরকার যে, জমির রাজস্ব, যেভাবেই কোষাগারে পাঠানো হোক না কেন, তা সরাসরি চাষীর কাছ থেকে আদায় করা হত। অতএব, বর্তমান অধ্যায়টি শেষ করার আগে, রায়তদের অবস্থার কিছু বিবরণ দেওয়া প্রয়োজন।

গ্রামীণ বাংলার এক জরিপে প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন ধরণের রায়তওয়ারী জমিদারিত্বের তালিকা তৈরি করা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া বিশেষ এবং আমাদের বর্তমান উদ্দেশ্য পূরণে সম্পূর্ণ এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় কাজ হবে; তবে, ইংরেজ দখলদারিত্বের সময়কালে প্রক্রিয়াধীন অর্থনৈতিক আইনগুলো বোঝার জন্য খুদকস্ত এবং পাইকস্ত রায়তের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অতিঅপরিহার্য।(ক্যালকাটা রিভিউ, খণ্ড ৭৭, ১৮৮৩ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘বাংলার খুদকস্ত প্রজা’ শীর্ষক প্রবন্ধ দেখুন) খুদকস্ত (খুদ=নিজস্ব, কাশ=চাষ) রায়ত যে গ্রামে বাস করতেন সেখানে জমি চাষ করতেন (ভারতীয় রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায়শই ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ ‘ভিলেজ’ (village) বা গ্রাম শব্দের ব্যবহারে ইংরেজ পাঠকদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। ভারতীয় রাজস্বের ক্ষেত্রে গ্রাম বলতে শুধু বসতবাড়ির সমষ্টি বোঝায় না, বরং একটা অঞ্চলের সম্পূর্ণ চাষযোগ্য জমির এলাকা, যেখানে বসতবাড়িগুলোও একসাথে জড়ো হয়ে থাকতে পারে অথবা (যেমন রংপুর জেলায়) এমনকি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়েও থাকতে পারে)। চাষী নিজের বাসস্থান তৈরি করার পরে, জমি চাষযোগ্য করবেন এবং প্রায় সর্বদাই রাজস্ব আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে তার জমির প্রকৃত হিসাব দেওয়া থেকে অনেক বেশি জমি দখল নিতেন; এই ধরণের কৃষকের বেশি জমি দখলে রাখার সুস্পষ্ট কারণ ছিল। এই শ্রেণীর চাষীদের সম্বন্ধে হেস্টিংস লিখেছেন: ‘যারা নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করে, নিজেদের থাকার জন্য মজবুত (সাবস্ট্যান্সিয়াল) বাড়ি তৈরি করেছে, অথবা পৈতৃক সূত্রে লাভ করেছে, তারাই অধিক মূল্যবান (মোর ভ্যালুয়েবল)। এরা অনেক কষ্ট সহ্য করেও বাসস্থান ছেড়ে যায় না, তাই তাদের প্রভূত কষ্ট দেওয়া যায় (তাদের বাসস্থান ছেড়ে যাওয়ার আগে অনেক কষ্ট সহ্য করে, এবং সেই কারণেই তাদের অনেক কষ্ট — These men will suffer much before they abandon their habitations, and therefore they are made to suffer much) ।’ সাধারণত বুদ্ধিমান জমিদার, এতটা অত্যাচার নিশ্চই নামিয়ে আনবেন না, যার ফলে তিনি মূল্যবান কোনও চাষীকে সেই অঞ্চল ত্যাগ করতে বাধ্য করবেন এবং রাজস্ব আদায়ে নিজ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। রায়ত যে অধিকারই দাবি করুক না কেন, সেই অধিকারের প্রাথমিক শর্ত ছিল তিনি যে জমি চাষ করেন, সেই জমির রাজস্ব প্রদান করবেন; এবং এই শর্ত পূরণ করার পরেও জমিদার যদি বেশি অর্থ দেওয়া চাষীকে বসানোর জন্য রায়তকে উৎখাত করার চেষ্টা করেন, সেটিকে অসাংবিধানিক কাজ বলে গণ্য হবে।

পাইকাশত (পাই, শব্দটি ‘পাহি’ থেকে এসেছে, যার মূল ‘পাহ’ বা ‘পাস’ অর্থাৎ নিকটবর্তী, এবং তাই অনাবাসী/এবসেন্টি) রায়ত এমন এক গ্রামে [গ্রাম অর্থে রাজস্বদায়ী একক, উপনিবেশিক ভাষায় ক্ষমতা যাকে গ্রাম বলে অভিহিত করে সেই ভৌগোলিক অঞ্চল নয় — অনুবাদক] জমির অধিকার আর উৎপাদনের অংশ ভোগ করত, যে গ্রামের সে বাসিন্দা ছিল না। হেস্টিংস বলেন, “এই যাযাবর রায়তদের কিছুটা হলেও জমিদারদের সাথে নিজেদের শর্ত দরকষাকষি করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। তারা কম খাজনায় জমি নিত এবং এক মৌসুমের জন্য সেই জমির উৎপাদন ভোগ করত: এরপর জমিদার যদি তার খাজনা বাড়িয়ে দিতে চাইত অথবা চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্যর চেয়ে বেশি আদায় করার চেষ্টা করত, তাহলে রায়তরা হয় সেই গ্রাম ছেড়ে চলে যায়, অথবা যদি থেকে যায়, তবে তারা দেশের প্রচলিত খাজনার চেয়ে কম খাজনায় জমি ভোগ করে। এইভাবে প্রাচীন ও পরিশ্রমী প্রজারা (অর্থাৎ খুদকাশত রায়তরা) অন্যায় শোষণের শিকার হতে বাধ্য হয়, অথচ যাযাবর রায়তরা [অর্থাৎ পাইকাশত প্রজারা] অর্ধেক দামে জমি ভোগ করত; এই নীতি গ্রাম ছেড়ে অভিবাসিত হয়ে যাওয়া এবং দেশের জনসংখ্যা হ্রাসে উৎসাহ দেয়।” (ফ্রান্সিস; উক্ত, পৃ ১৫৪)

বলা হয়ে থাকে যে, জাগতিক বিচক্ষণতা জমিদারকে হয়তো খুদকস্ত রায়তদের জমিতে রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে বাধ্য করত, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জমিদাররা তত উদার ছিলেন না। (ফ্রান্সিস বলছেন, জমিদার এবং রায়তদের ‘যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে নিজেরাই খুব তাড়াতাড়ি নির্দিষ্ট কোনও চুক্তিতে পৌঁছাবে।’ এর উত্তরে হেস্টিংস বলেন: ‘এই ভাবনা অবশ্যই একটি ন্যায্য সিদ্ধান্ত হতো, যদি সমস্ত জমিদাররা কোন বিষয় তাদের জন্য লাভদায়ক, সেই বিষয়টা বিচার করার ক্ষমতা ধরতেন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা হল, যদিও ইংল্যান্ডের জনগণ সহজে বিশ্বাস করবেন না, যদিও এই ধারণা এতটাই সার্বজনীন যে, আমায় এই দাবি তোলার ন্যায্যতা দেয় যে, বাংলা আর বিহারের জমিদারদের মধ্যে বড় অংশই নিজেদের ভাল বুঝতে অথবা উচিৎ কাজ সম্পাদন করতে অক্ষম, কারণ তারা হয় নাবালক, অথবা দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন জড়পদার্থ, অথবা একেবারেই নির্বোধ। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে, জমিদার পক্ষীয়দের, জমিদারির সমৃদ্ধিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না বলেই, তারা অত্যাচার নামিয়ে আনে আর তাই এই অত্যাচার রায়তদের নিরাপত্তার জন্য নিয়ন্ত্রণ ও বিধিবিধান ব্যবস্থা করার উদ্যমকে অপরিহার্য করে তোলে।’ ফ্রান্সিস, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ১৫৩-৫৪। জমিদারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের অক্ষমতা সম্পর্কে হেস্টিংসের মতামতের সমর্থনে স্যার জন শোরের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা যেতে পারে।) আবার, অবিরাম বিদ্রোহ, মারাঠাদের হুমকি, দস্যুদলের আক্রমণ ইত্যাদি সবকিছুই এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট ছিল, যেখানে পৈতৃক ভিটেমাটির প্রতি ভালোবাসার চেয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাই প্রাধান্য পেত। আমাদের বর্তমান সময়েও ইওরোপের কোনো কোনো দেশে কৃষকদের সংসদীয় ভোটার হিসেবে তাদের অধিকার থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় সম্পর্কে আইনজীবীদের পরামর্শ নিতে দেখা গেছে, এবং সহজেই বোঝা যায় যে, রাজস্বের কঠোর দাবি মেটাতে গিয়ে রায়তের প্রধান উদ্বেগ থাকত মাটি থেকে তার এত ব্যয়বহুল অধিকার থেকে নিজেকে মুক্ত করা। খুদকাশত রায়ত তার জমি ছেড়ে দিলে সে তখন বাধ্য হত সে ভবঘুরেদের দলে যোগ দিত, এবং এইভাবে, সরবরাহ ও চাহিদার আইনের প্রভাবে মর্যাদার উপর নির্ভরশীল একটি ভূমিস্বত্ব ধীরে ধীরে চুক্তিনির্ভর স্বত্বে পরিবর্তিত হয়। ১৭৬৯-৭০-এর দুর্ভিক্ষ আর মহামারীর ফলে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা যায় বলে অনুমান করা হয়, যা অবশিষ্ট স্থায়ী কৃষকদের আরও সহজ শর্তে জমির সন্ধানে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতাকে অনিবার্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছিল। (এই অনুচ্ছেদে আমি স্যার উইলিয়াম হান্টারের ‘বেঙ্গল মিসলেনিয়াস রেকর্ডস’-এর ভূমিকার যুক্তি ধারা অনুসরণ করেছি: কিন্তু একই সঙ্গে আমি বলছি যে, রায়তদের ভূমিস্বত্ব সম্পর্কিত বেশ কিছু ঐতিহাসিক তথ্যের স্বার্থে তাঁর যুক্তির স্বচ্ছতা কিছুটা বিসর্জন দিতে হবে; যেমন, জোতদার, গাঁথিদার ইত্যাদি নামে পরিচিত রায়তদের উপর রাজস্বের হ্রাস করার দাবি, এই শর্তে যে তারা তাদের অধীনস্থদের থেকে রাজস্ব আদায় করবে। এমন কিছু রায়ত ছিল, যারা নথিপত্রে দূরবিনের অন্য প্রান্ত দিয়ে দেখলে জমিদার মনে হতে পারে। এই শ্রেণীর রায়তের সৃষ্টি অবশ্যই, অন্তত কিছুটা হলেও, স্যার উইলিয়াম হান্টার কর্তৃক স্পষ্টভাবে বর্ণিত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করেছিল। দেখুন ওয়েস্টল্যান্ড : পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৯১; সেটোন-কার : কর্নওয়ালিস : (‘রুলার্স অফ ইন্ডিয়া’ সিরিজ), পৃষ্ঠা ৫৬, এবং গ্লেজিয়ার: রংপুর রেকর্ডস সম্পর্কিত আরও টীকা, প্রজাদের (প্রজা বা প্রজা-রায়ত) সম্পর্কে টি. সিসনের বিবরণের জন্য।)

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev