| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫ম) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৯৬ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ফিফথ রিপোর্ট – পার্লামেন্ট বিতর্ক

ভূমিকা, কুশীলব

আজ থেকে শুরু হবে ফিফথ রিপোর্ট, পঞ্চম প্রতিবেদন নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮১২-র বিতর্ক। বিতর্কে কোম্পানির পক্ষে এবং বিপক্ষের মেম্বার অব পার্লামেন্ট, এমপি যোগ দিয়েছিলেন। এই বিতর্ক থেকে কিছুটা আন্দাজ করা যাবে নব্যকর্পোরেটরা, বিশেষ করে ফ্রি ট্রেডার্স আর আউট পোর্টস অর্থাৎ লন্ডনের বাইরের জেলার বন্দরগুলোর কর্পোরেট আর বণিকদের দল কি প্রাবল্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটিয়া বাণিজ্য অধিকারের অবসান চাইছিল।

মাথায় রাখতে হবে কোম্পানির প্রশাসনিক কাজকর্ম, ব্যবসা, রাজস্ব আদায় ইত্যাদি নিয়ে তদন্ত করতে পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটি ১৮১০-এ গঠিত হয়। ইন্টারেস্টিং হল অন্তত অন্তর্জালে এবং ফার্মিঙ্গারের সম্পাদিত রিপোর্টে আমি ১৮১০-এর কমিটি তৈরির নির্দেশনামা বা তার সদস্যদের নাম পাই নি। খোঁজ জারি আছে। আমি শুধু পেয়েছি হ্যান্সার্ডের পার্লামেন্টারি ডিবেট, যেটা আমি এখন উপস্থিত করতে যাচ্ছি। ভেবে অবাক হয়ে যাচ্ছি, ১৮১০-এর কমিটির রিপোর্টের বলে বিশ্বের সব থেকে বড় কর্পোরেট কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার নাশ হল, সেই কমিটির কার্যাবলী, বিতর্ক ইত্যাদি কোনও কিছুই পাওয়া যায় না, শুধু প্রেক্ষিতহীন একদিনের পার্লামেন্টারি ডিবেট আর কেলি ফার্মিঙ্গারের সম্পাদিত ফিফথ রিপোর্টটির বাঙলা পোরশান, যার অনুবাদ আমরা কয়েক কিস্তি পরে শুরু করব। যদি কোনও পাঠক বিশদ বিবরণ পান, জানালে বাধিত থাকব।

১৮১০-এ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলী তদন্তের জন্য সিলেক্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সিতে কোম্পানির ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ পদ্ধতি ও বিচার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা। তাদের তদন্তের ফলাফল ১৮১২-য় পার্লামেন্টে “পঞ্চম প্রতিবেদন” আকারে পেশ করা হয়, যা ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তো ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮১২-তে হ্যান্সার্ডদের পার্লামেন্টারি ডিবেটের নথিকরণ সূত্রে যে কজনের নাম পেয়েছি, এক্কেবারে সেকেন্ডারি সূত্র থেকে তাদের পরিচয় বোঝার চেষ্টা করা গেল।

ফেব্রুয়ারি ১৮১২ পর্যন্ত নিম্নলিখিত সদস্যরা কমিটির অংশ ছিলেন :

মিঃ ওয়ালেস — সম্ভবত টমাস ওয়ালেস, যিনি পরে ব্যারন ওয়ালেস হয়েছিলেন এবং প্রখ্যাত টোরি রাজনীতিবিদ। ১৮১২-র বছরে কমিটির কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবটি তিনিই উত্থাপন করেছিলেন।

মিঃ হাওয়ার্থ — যতদূর সম্ভব হামফ্রে হাওয়ার্থ। তিনি লুশিংটন-সহ ফেব্রুয়ারি ১৮১২ সালে কমিটিতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

মিঃ লুশিংটন — স্টিফেন লুশিংটন, আইনজীবী এবং সংসদ সদস্য। তিনি ফেব্রুয়ারি ১৮১২ সালে কমিটিতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

তাছাড়া আমি যে পার্লামেন্টারি রেকর্ড নিয়ে আলোচনা করছি, তাতে আরও উল্লেখ আছে যে, মিস্টার হাওয়ার্থ ও মিস্টার লাশিংটন লর্ড মেলভিল (Henry Dundas) এবং স্যার জন অ্যানস্ট্রুথার, চতুর্থ ব্যারোনেটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। অ্যানস্ট্রুথার চার্লস জেমস ফক্স (চার্লস জেমস ফক্স (১৭৪৯-১৮০৬) ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ হুইগ রাজনীতিবিদ, যিনি মূলত বিরোধী দলনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু ১৭৮৩ লর্ড নর্থের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে একটি স্বল্পস্থায়ী সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্টেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ‘ফক্স-নর্থ কোয়ালিশন’ সরকার নামে পরিচিত। তার বিতর্কিত কাজকর্মের ফলে সরকার দ্রুত ভেঙে পড়ে। তিনি ফরাসি বিপ্লবের প্রাথমিককালের সমর্থক এবং দাসপ্রথার বিরোধী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অদক্ষতা ও দুর্নীতি দূর করতে ১৭৮৩-তে তিনি একটা বিল, যার নাম ইন্ডিয়া বিল প্রস্তাব করেন। এই বিল কোম্পানির আঞ্চলিক ক্ষমতা ও বাণিজ্য, ব্রিটিশ সরকারের অধীনে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজা তৃতীয় জর্জ আর কোম্পানি সমর্থিত এমপিদের সক্রিয় বিরোধিতায় হাউস অব লর্ডস-এ এই বিল প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে ফক্সের জোট সরকার ভেঙে যায় এবং পিট দ্য ইঙ্গার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই পর্ব ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়) বড় সহায়ক এবং সমর্থক ছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংসের অভিশংসন, ইমপিচমেন্ট পরিচালনার জন্য নিযুক্ত ব্যবস্থাপকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল বেনারস থেকে আসা অভিযোগের প্রমাণ সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং উপহার সম্পর্কিত অভিযোগ পার্লামেন্টে তোলা। ১৭৯৭-তে তিনি বাংলার প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন এবং ১৭৯৮-তে ব্যারোনেট উপাধি লাভ করেন। ১৭৯৯ থেকে ১৮০৭ পর্যন্ত তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের সভাপতি ছিলেন। ১৮০৬-তে তিনি ব্রিটেনে ফিরে আসেন, প্রিভি কাউন্সিলে (ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের উপদেষ্টা সংস্থা, যেটা রাজা/রানীকে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে, বিশেষ করে প্রাইভেট বা গোপন বিষয়ে পরামর্শ দেয়; এটি পূর্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য চূড়ান্ত আপিলের আদালত ছিল, যা বর্তমানে মূলত যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী এবং সিনিয়র রাজনীতিবিদদের নিয়ে গঠিত একটি সংস্থা যা রাজার নির্দেশ জারি করা এবং কিছু বিচার বিভাগীয় আপিল শোনা সহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাজ করে) শপথ গ্রহণ করেন এবং একই বছর অ্যানস্ট্রুথার বার্গস জেলার সদস্য হিসেবে সংসদে পুনরায় প্রবেশ করেন। এর থেকে বোঝা যায়, লর্ড মেলভিল ও স্যার জন অ্যানস্ট্রুথার ছিলেন ১৮১০-এ গঠিত মূল কমিটির সদস্য, তাঁরা ১৮১২-র আগেই কমিটি থেকে সরে যান। লর্ড মেলভিলকে প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট লর্ড অফ ট্রেড (১৭৮৪–১৭৮৬), স্বরাষ্ট্র সচিব (১৭৯১–১৭৯৪), ভারতীয় বিষয়ক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের, বোর্ড অব কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়ান এফেয়ার্সের সভাপতি (১৭৯৩–১৮০১), যুদ্ধ সচিব (১৭৯৪–১৮০১) এবং ফার্স্ট লর্ড অফ দ্য অ্যাডমিরালটি (১৮০৪–১৮০৫) পদে নিযুক্ত করেন।

অন্যদের বিবরণ আমরা আগের কিস্তিতেই উল্লেখ করেছি।

পার্লামেটের বিতর্কের মূল ইংরেজি টেক্সট বাংলায় অনুবাদ করেছি। উৎসাহীদের জন্য ইংরেজি টেক্সটটার লিঙ্ক দিয়ে রাখলাম — https://api.parliament.uk/historic-hansard/commons/1812/feb/06/select-committee-appointed-on-the-east

পার্লামেন্ট বিতর্ক

  • মিঃ ওয়ালেস, বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর, বিশেষ করে যেহেতু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি শীঘ্রই হাউসের সামনে আসবে, তিনি বলেন যে কমিটি ইতিমধ্যেই দুটি বড় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেগুলোতে কোম্পানির বৈদেশিক লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ রয়েছে, এবং এখন কেবল ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বিভাগ বিবেচনা করা বাকি আছে, যাতে হাউস [অর্থাৎ পার্লামেন্ট], ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আর্থিক অবস্থার সম্পূর্ণ ইতিহাস তাদের সামনে পেতে পারে। তিনি দীর্ঘসূত্রিতার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ক্লান্তিকর ও জটিল হিসাবপত্র প্রস্তুত, বিন্যস্ত এবং বোধগম্য করার জন্য এই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ছিল। তিনি কেবল দুটি সামান্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, — লর্ড মেলভিল এবং স্যার জন অ্যানস্ট্রুথারের পরিবর্তে মিঃ হাওয়ার্থ এবং মিঃ লুশিংটনকে অন্তর্ভুক্ত করা। এরপর তিনি প্রস্তাব করেন, “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বর্তমান অবস্থা তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি নিয়োগ করা হোক এবং তারা যেমনটি দেখবে, সেই অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণসহ একটি প্রতিবেদন হাউসে জমা দিক।”
  • মিঃ ক্রিভি সম্পূর্ণরূপে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। বিষয়টির গুরুত্ব বোঝানোর জন্য, তিনি অনুরোধ করেন যে অধিবেশনের শুরুতে প্রিন্স রিজেন্টের (আগামী দিনের রাজা চতুর্থ জর্জ) ভাষণের সেই অংশটি পাঠ করা হোক, যেখানে ভারতে ব্রিটিশ অধিকৃত অঞ্চলের বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। [সেই অনুযায়ী কেরানি কর্তৃক এটি পাঠ করা হলে, মাননীয় সদস্য বক্তব্য শুরু করেন।] কোম্পানির সনদের মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চলেছে: তাই এর নবায়নের আলোচনার আগে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই কারণেই তিনি বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করেন, কারণ এটি সেই তথ্য প্রদানে সম্পূর্ণ অযোগ্য ও অপর্যাপ্ত ছিল। এই কমিটি নিয়োগের পর থেকে এটি পঞ্চম অধিবেশন চলছে, এবং তবুও তাদের হিসাবপত্র এতটাই দুর্বোধ্য ছিল যে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে সেই হাউসের বা বাইরের একজন ব্যক্তিও এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র কিছু বোঝেন না। তাই তিনি সমগ্র হাউসের একটি কমিটির প্রস্তাব করেন, যাতে দেশবাসী দেখতে পারে কী ঘটছে। ইতিমধ্যেই যথেষ্ট নথি ছিল যার ওপর ভিত্তি করে একটি তদন্ত শুরু করা যেতে পারে। বিবেচনার প্রথম বিষয় হওয়া উচিত ১৭৯৩-এর চুক্তি, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছিল একচেটিয়া একাধিকারের বিনিময়ে ৫০০,০০০ পাউন্ডের একটি অর্থরাশি… এই অর্থ প্রতি বছর জনসাধারণকে পরিশোধ করার কথা ছিল। অথচ, ১৯ বছরের মধ্যে এই অর্থ মাত্র একবারই পরিশোধ করা হয়েছিল; এবং অন্য একটি ক্ষেত্রে, জনসাধারণের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ পাউন্ড ঋণ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাদের বিবেচনার পরবর্তী বিষয়টি ছিল, কোম্পানির বাহ্যিক বা ভারতীয় ঋণ, ১৭৯৩-এর আইন অনুযায়ী ৮ মিলিয়ন থেকে ২ মিলিয়নে নামিয়ে আনার পরিবর্তে, ৩০ মিলিয়নে বৃদ্ধি করা হয়েছিল; বন্ড-ঋণ ২ মিলিয়ন থেকে ৭ মিলিয়নে বৃদ্ধি করা হয়েছিল; যদিও গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক পয়সাও (একটিমাত্র ব্যতিক্রম ছাড়া) প্রদান করা হয়নি। আর ১২,০০,০০,০০০ পাউন্ডের যে অর্থ, যা ১৭৯৩-এর আইন অনুযায়ী কোম্পানির মুনাফা থেকে তাদের মূলধনের জন্য একটি গ্যারান্টি তহবিল হিসেবে জমা হওয়ার কথা ছিল, সেই তহবিলে এই মুহূর্ত পর্যন্ত একটি পয়সাও জমা করা হয়নি। রাজা উইলিয়ামের সময়ে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের একচেটিয়া বাণিজ্যের জন্য একটি মূল্যবান প্রতিদান প্রদান করেছিল; এবং রানী অ্যানের রাজত্বকালেও, তাদের সনদের নবায়নের সময়, এবং পরবর্তীতে তাদের সনদের নবায়নের বিভিন্ন সময়েও, তাদের একচেটিয়া বাণিজ্যের জন্য মূল্যবান প্রতিদান প্রদানের নীতিটি ১৭৬৭ পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়। তবে, ১৭৬৫ থেকে — ভারতে লর্ড ক্লাইভের মহান সামরিক সাফল্যের বছর থেকে — ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পূর্ণরূপে তাদের বণিকের চরিত্র পরিবর্তন করে শাসকের চরিত্র ধারণ করেছিল; এই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোম্পানি কেবল তাদের একচেটিয়া বাণিজ্যের জন্য রাষ্ট্রকে কোনো প্রতিদানই দেয়নি, বরং তারা যে বিশাল ভূখণ্ডের প্রদেশগুলোর মালিক হয়েছিল, তার মাধ্যমে তারা জাতির জন্য এবং এমনকি নিজেদের জন্যও একটি অবিরাম বোঝা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্যার সমাধানের জন্য, তিনি হাউসকে ১৭৮০-র নবম প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনুরোধ করেন, যা মি. বার্ক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও ব্যাপক পাণ্ডিত্য সহকারে তৈরি করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতীয়মান হবে, কোম্পানি বণিক ছিল না, বরং তারা ছিল ভারতের বিশাল ভূস্বামী: তারা বিশাল নৌবহর সজ্জিত করত, যা পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং রসদ বহন করতে এবং রাজস্ব নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত হতো। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, যেখানে কোনো বাণিজ্য ছিল না, সেখানে তাদের চুক্তির শর্ত পূরণের জন্য কোনো আয়ও থাকতে পারে না। যদি সংসদ সেই জ্ঞানগর্ভ প্রতিবেদনের প্রতি এবং মি. হেস্টিংসের জবানবন্দির প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিত, তবে একটি ব্যক্তিগত কমিটির এই হাস্যকর প্রহসনের পরিবর্তে তারা বিষয়টি সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা পেতে পারত।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev