(ক্লাইভ এবং কোর্টের সিলেক্ট কমিটি, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৬৫। হেস্টিংস। (কনসালটেশন, ১১ই জুলাই, ১৭৭২) ‘নায়েব সুবাহ’ বা ‘নায়েব নিজাম’-এর পদের সংজ্ঞা : “মুঘলদের আদিম সংবিধান অনুসারে, (এই পদটি) তাঁর (নবাবের) শিক্ষার তত্ত্বাবধান, তাঁর পরিবারিক কাজকর্মের ব্যবস্থাপনা, তাঁর সমস্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, তাঁর প্রতিনিধিত্ব, বিচার প্রশাসনের প্রধান কাজ, সমস্ত আদেশ জারি করা এবং প্রদেশগুলির সরকার ও পুলিশ সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপের নির্দেশনা, সমস্ত সরকারি আলোচনা পরিচালনা এবং কোষাগারের কার্য সম্পাদন করে – এক কথায়, নির্বাহী সরকারের প্রতিটি শাখা নিয়ন্ত্রণ করে।”)
মাত্র দশ বছর আগেও কোনও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীকে যদি বলা হত, তার কোম্পানি কখনও না কখনও “এ দেশের সরকার নিয়ন্ত্রণ” করবে, তাকে পাগলের স্বপ্ন দাগিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কসুর করত না সে। অথচ একদা মুঘল সম্রাটের যে ধরণের সরকারি কাজকর্ম সাধন করতেন, সেগুলো এখন থেকে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া লর্ড ক্লাইভ নিজেই সম্পাদন করবেন। ইংল্যান্ডে অবস্থিত কোম্পানিএ কেন্দ্রিয় পরিচালকবর্গ সম্প্রতি বাংলা সুবায় নতুন ভূখণ্ড অধিগ্রহণের বিষয় নিয়ে তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার পরে পরেই একদিকে অযোধ্যা এবং বাংলার নবাবেরা এবং অন্যদিকে ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে ১৬ই আগস্ট, ১৭৬৫ তারিখে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্থির হল :
৪. বর্তমানে সম্রাট (শাহ আলম)-এর দখলে ‘কোরা’ এবং এলাহাবাদ প্রদেশের যে সব অংশ রয়েছে — সে সব অংশে তার পূর্ণ অধিকার বজায় রাখবেন; এই অঞ্চলগুলো তাঁর মর্যাদা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে ‘রাজকীয় ভূসম্পত্তি’ হিসেবে তাঁর মহিমান্বিত সত্ত্বার কাছে সমর্পণ করা হলো।
৫. মহামান্য নবাব (অর্থাৎ, অযোধ্যার নবাব) সুজা-উদ-দৌলা অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং দৃঢ়তা অবলম্বন করে এই বিষয়টি অঙ্গীকার করছেন যে, তিনি বলবন্ত সিংহকে বারাণসী আর গাজিপুর অঞ্চলের জমিদারিত্বে এবং সেই সমস্ত জেলায় বহাল রাখবেন — যে সব জেলা প্রয়াত নবাব জাফর আলী খান এবং ইংরেজদের পক্ষে যোগদানের সময় বলবন্ত সিংহের দখলে ছিল; তবে শর্ত হলো, তাঁকে পূর্বের মতই নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে যেতে হবে।
৬. যদিও সম্রাট, ইংরেজ কোম্পানিকে, বারাণসী অঞ্চল এবং বলবন্ত সিংয়ের ইজারাধীন অন্যান্য জেলাগুলোর অধিকার অর্পন করেছিলেন, তা সত্ত্বেও মহামান্য নবাবের থেকে উক্ত অঞ্চলগুলো প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি এখন দৃঢ়ভাবে নিশ্চয় করা হয়েছে; অতএব, এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে অঞ্চলগুলো মহামান্য নবাবের হাতে সমর্পণ করা হবে — অর্থাৎ, বলবন্ত সিংহ এবং কোম্পানির মধ্যকার চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত (যা আগামী ২৭শে নভেম্বর তারিখে সমাপ্ত হবে), উক্ত অঞ্চলগুলো এবং সেগুলোর রাজস্ব ইংরেজ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে; এরপর মহামান্য নবাব সেগুলোর দখল গ্রহণ করবেন। তবে এর একটি ব্যতিক্রম হলো ‘চুনার দুর্গ’ — সেটি এই চুক্তির ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ইংরেজরা পরিত্যক্ত অথবা খালি করবে না।
মহামান্য নবাব ইংরেজ কোম্পানিকে তাঁর শাসনাধীন রাজ্যের মধ্য দিয়ে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য পরিচালনার অনুমতি প্রদান করবেন।” (Aitchison: Treaties etc., vol. i, pp. 89-91)
১৯শে আগস্ট, ১৭৬৫ তারিখের সম্পাদিত চুক্তিপত্রে সিদ্ধান্ত করা হল, বাংলার নবাব নজম-উদ-দৌলা মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা রাজস্ব প্রদান করবেন; এই অর্থ ২,১৬,৬৬৬ টাকা ১০ আনা ৯ পয়সার নিয়মিত মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে এবং এর প্রথম কিস্তি ১লা সেপ্টেম্বর, ১৭৬৫ তারিখে প্রদান করতে হবে। যেহেতু এই অর্থ পরিশোধের জামিনদার হিসেবে ইংরেজ কোম্পানিকে থাকতে হচ্ছে, তাই সম্রাট শাহ আলম ১২ই আগস্ট তারিখেই কোম্পানিকে — “বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের দেওয়ানি — বাংলা ১১৭২ সনের ‘ফসল রবি’ (রবি শস্যের মরশুম) শুরুর সময় থেকে — অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা ব্যতিরেকে এবং দেওয়ানি বাবদ যে শুল্ক রাজদরবারে পরিশোধ করতে হতো, তা প্রদানের দায় থেকে অব্যাহতিসহ — একটি মুক্ত উপহার ও ‘আলতামঘা’ (স্থায়ী অনুদান) হিসেবে” অর্পণ করলেন।’
দিওয়ানির এই সনদ প্রদানের ফলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে বাংলার নবাব নবাব নজম-উদ-দৌলার নতুন একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। ৩০শে সেপ্টেম্বর, নবাব বার্ষিক ৫৩,৮৬,১৩১-৯-০ সিক্কা টাকা — যা ‘নিজামতের ভরণপোষণের জন্য একটি পর্যাপ্ত ভাতা’ হিসেবে গণ্য হল — সেটি নবাব গ্রহণ করতে সম্মত হন। এই অর্থের মধ্যে ৩৬,০৭,২৭৭-৮-০ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল সৈন্যবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণে — যা কেবল ‘আমার মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে’ নির্ধারিত ছিল; (বহু লেখক এই সত্যটি উপেক্ষা করে কিছু ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই অর্থরাশি নবাবের মোট ব্যক্তিগত আয় নয়, বরং রাজস্ব থেকে “নিজামতের ভরণপোষণের” জন্য বরাদ্দকৃত অর্থরাশি) আর এই ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ নবাব নিজে নয়, বরং চুক্তিতে উল্লিখিত ইংরেজ নিয়োজিত এক কর্মকর্তার হাতে ন্যস্ত থাকার কথা সিদ্ধান্ত করা হল।
নতুন অর্জিত এই ভূখণ্ডের গুরুত্ব সম্পর্কে লর্ড ক্লাইভের মূল্যায়নটি, ১৭৬৫-র ৩০শে সেপ্টেম্বর বাংলা থেকে ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি ‘সাধারণ পত্রে’র (General Letter) নিচের উল্লিখিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
“২২. নবাবগণ এবং আপনাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জন্য চলমান নিরন্তর সংঘাত — তদুপরি আমাদের সম্মুখে সদ্য উন্মোচিত চরম ও প্রকাশ্য দুর্নীতির নজিরসমূহ — (দীর্ঘ ও গভীর আলোচনার পর)আমাদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, এই সমস্ত অশুভ ব্যাধির মূলোৎপাটনের একমাত্র উপায় হলো কোম্পানির জন্য বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ‘দেওয়ানি’ অধিকার অর্জন করা। মহান মোগল সম্রাটের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আমরা তাঁর অধিকারসমূহকেও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি; এবং সম্রাট বাহাদুর — কৃতজ্ঞতা, ন্যায়পরায়ণতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়ে — এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি কোম্পানির ওপর অর্পণ করা সমীচীন বোধ করেছেন। এই দায়িত্বের মূল প্রকৃতি হলো — রাজস্বের সমুদয় অর্থ সংগ্রহ করা, সেনাবাহিনীর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা, ‘নিজামত’ অথবা শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা এবং অবশিষ্ট অর্থ দিল্লি কিংবা সম্রাট যেখানেই অবস্থান করুন বা নির্দেশ প্রদান করুন, সেখানে প্রেরণ করা। তবে যেহেতু সম্রাট বাহাদুর অত্যন্ত সদয় হয়ে — ‘সনদ’-এ উল্লিখিত কতিপয় শর্ত ও চুক্তির ভিত্তিতে — রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ চিরকালের জন্য কোম্পানিকে ভোগ করার অধিকার প্রদান করেছেন; তাই আমরা নবাবের নিজস্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতিক্রমে তাঁর সাথে এই মর্মে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছি যে, তাঁর মর্যাদা রক্ষা ও আনুষঙ্গিক যাবতীয় ব্যয়নির্বাহের জন্য তাঁকে বাৎসরিক ৫৩ লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে। অবশ্য সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ভার এর অন্তর্ভুক্ত নয়; সেই ব্যয়ভার দেওয়ানি সংক্রান্ত এই রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে কোম্পানিকে অর্পিত রাজস্ব থেকেই নির্বাহ করা হবে। (এই বিবৃতিটিকে নজম-উদ-দৌলার সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্তাবলীর সাথে তুলনা করুন) বস্তুত, এই চুক্তির শর্তাবলীতে সন্তুষ্ট হওয়ার যথেষ্ট কারণ নবাবের রয়েছে; (সুইন্টন মন্তব্য করেছেন: By this is to be understood that he would rather have this sum than less; and, in short, that he consented to be called Nabob on these terms rather than not be Nabob at all. The next section gives a more just statement of the case, acknowledging that a division of power is impossible without generating discontent and hazarding the whole, and that all must belong to the Company or the Nabob [ক্লাইভের এই বিবৃতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে নবাবি ক্ষমতা কমার বাস্তবসম্মত উপয়ায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, অনয় দিকে নজম-উ-দৌলার সঙ্গে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন করে, রাজস্ব আদায়ের (দিওয়ানি) দায়িত্ব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করে এবং নবাবের অসীম ক্ষমতা খর্ব করে, তাকে নির্দিষ্ট কিছু শাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করে কার্যত তাঁকে পুতুল শাসকে পরিণত করল — অনুবাদক]) এই চুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রকার ঝামেলা বা ঝুঁকি ছাড়াই তাঁর জন্য এমন একটি অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে যে পরিমান অঙ্ক তাঁর মতো উচ্চাভিলাষী এবং রুচিশীল ব্যক্তির কল্পনায় যতখানি আড়ম্বর ও সুখ-সমৃদ্ধি পূরণের ধারণা করা সম্ভব, সে সব যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষম। তাকে এর বেশি অর্থ প্রদান করা হলে তাঁর মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করত, তাঁর শাসনব্যবস্থাকেই বিপন্ন করে তুলত এবং যে সৌধ বিপুল পরিমাণ রক্ত প্রবাহ এবং অর্থ ব্যয়ের বিনিময়ে কোম্পানি অবশেষে সযত্নে নির্মাণ এবং সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে, সেই সুদৃঢ় ক্ষমতা ও বিত্ত-বৈভবের সৌধের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিত।”
“২৩. দেওয়ানি লাভের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনাদের অধিকার ও প্রভাব এখন একচ্ছত্র ও সুদৃঢ় হয়েছে; কারণ ভবিষ্যতে কোনো নবাবেরই আর সেই ক্ষমতা কিংবা পর্যাপ্ত বিত্ত থাকবে না, যার দ্বারা তিনি শক্তিপ্রয়োগ বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আপনাদের ক্ষমতা কেন্দ্র উৎখাত করার দুঃসাহস দেখাতে পারেন। এখন থেকে সকল প্রকার রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের অবসান ঘটবে; কেননা গুপ্তচরবৃত্তি, উপঢৌকন প্রদান কিংবা ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয়ের জন্য আর কোনো তহবিল আর নবাবের জন্য অবশিষ্ট থাকবে না। নবাব এখন আর অর্থলোভী ও ভাড়াটে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবেন না; অন্যদিকে কোম্পানিও নিজেদের রাজস্ব তহবিল থেকে এমন কোনো দাবি মেনে নেবে না, যা তাদের নিজেদের স্বার্থের পক্ষেই ক্ষতিকর চিহ্নিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষমতার বিভাজন ঘটানো কেবল অসন্তোষেরই জন্ম দেয় না, বরং সমগ্র ব্যবস্থার জন্য চরম ঝুঁকিও ডেকে আনে; তাই সমগ্র ক্ষমতা হয় কোম্পানির হাতে ন্যস্ত থাকতে হবে, নতুবা নবাবের হাতে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে — এই দুটো বিকল্পের মধ্যে কোনটি সর্বাধিক বাঞ্ছনীয় এবং অধিকতর হিতকর — তার বিচারভার আমরা আপনাদের ওপরই ন্যস্ত করলাম। আমাদের নিজেদের কথা বলতে গেলে, আমরা দেওয়ানি ব্যবস্থার মতোই এমন অন্য কোনো শাসনব্যবস্থার কথা জানি না — যা একইসাথে নবাবের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের মারাত্মক কুফল থেকে কোম্পানিকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে। ক্ষমতা এখন ঠিক সেই স্থানেই ন্যস্ত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতা ন্যস্ত থাকলেই আমাদের জন্য সর্বাধিক নিরাপদ; তাই আমরা এখন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথেই এ কথা ঘোষণা করতে পারি যে — ভবিষ্যতে কোম্পানির ওপর যদি কোনো বিপর্যয় নেমেও আসে — তবে তা হবে কেবল সাময়িক বিশৃঙ্খলা বা ক্ষয়ক্ষতির ফলমাত্র। আর এই ক্ষয়ক্ষতি কখনোই এমন ব্যাপক আকার ধারণ করবে না, যার ফলে আপনাদের রাজস্ব আয় থেকে — প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যয় নির্বাহ এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের অর্থ সংস্থানের জন্য — প্রয়োজনীয় তহবিলের জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
এই পর্যায়ে এসে ক্ষণিকের জন্য বিরতি নেওয়া জরুরি, যাতে এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায় — নবাবের নিয়ন্ত্রণ থেকে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে যাওয়া ‘দেওয়ান’ পদের সেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটা কি ধরণের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে লর্ড ক্লাইভের কোনো মৌলিক বা নিজস্ব ধারণা ছিল না।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ