[এই পর্বে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, প্রায় অনালোচ্য ইস্যু, quit-rent নিয়ে আলোচনা করব এবং বুঝতে চেষ্টা করব এই বিষয়টা বাংলার জমিদারির গতিপথ কিভাবে নির্ণয় করল এবং বাংলায় এবসেন্টি, গ্রামের প্রতি দায়-দরদ হীন ল্যান্ডলর্ড ক্টহামোর বিকাশ ঘটাল। quit-rent ঐতিহাসিকভাবে স্থির, নামমাত্র ভূমি রাজস্ব বা খাজনা। ভূমির মালিকরা সামন্ততান্ত্রিক সেবার বিনিময়ে প্রশাসনিক থাকবন্দীর ওপরের স্তরকে (জমিদার বা সরকার) quit-rent দিত। এই কাঠামো, জমির অধিকার ভোগ করা প্রজা/জমিদারকে অন্য বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত ও নির্বিঘ্ন হয়ে জমি ভোগ করার সুযোগ করে দিত। পঞ্চদশ শতে এই ধরণের খাজনা ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছিল পশ্চিম ইওরোপে। quit-rents ভূস্বামীদেরকে নির্দিষ্ট সামন্ত প্রভুকে শ্রম বা সামরিক পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার সুযোগ করে দিত, অর্থাৎ লাভের গুড় জমিদারের পকেটে ঢুকত, কোনও দায় পালন ছাড়াই। ১৭৬৫ থেকে বাংলায় চালু হল quit-rents। সে সময় থেকে এর প্রভাব আলোচনা করব।
তো ১৭৬৫ থেকে চালু হল quit-rent কাঠামো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি অধিকার পাওয়া এবং বাংলা সুবার নবাবকে সামনে রেখে, quit-rent কাঠামো চালু করে সর্বোচ্চ পরিমান ভূমি রাজস্ব আদায়ের বাহানায়, জমিদার বা জমির আধিকারিকদের তার অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক কর্তব্য পালনের প্রাচীনতম সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, জনকল্যাণের দায় থেকে মুক্তি দিল। অর্থাৎ ইওরোপিয় সামন্ততন্ত্রের অনুকরণে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সমাজ-অর্থনীতি-কৃষ্টি বিষয়ে দায়হীন উদাসীন একদল ভূস্বামীর ক্রমবিকাশ নিশ্চিত করা হল ১৭৬৫ থেকে — যারা নির্দিষ্ট পরিমান রাজস্ব, নির্দিষ্ট সময় চুকিয়ে, বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ, ব্যক্তি ভোগে লাগানোর বাহানা তৈরি করে ক্রমশ গ্রামীন দায়-দরদের বাধ্যবাধকতা মুক্ত হবে এবং উপনিবেশের দায় পূরণকে আপন দায় হিসেবে গণ্য করতে শুরু করবে। এই গ্রাম-দায়হীন জমি ভোগ কাঠামোর চূড়ান্ত রূপ দেখা যাবে ৩০ বছর পর ১৭৯৩ — চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে। ছয়ের দশক থেকেই কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা কাঠামোর অংশিদার হয়ে জেলার ব্যবসায়ীরা, ব্যবসা উদ্বৃত্ত দায়-দরদ-দায়িত্বহীন জমিদারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। এই জমিদারেরা হয়ে উঠবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সভ্যতা বিস্তার প্রকল্পের প্রাথমিক নাটবল্টু — আগামী ১৯০ বছরের সম্পদ লুঠ প্রকল্পের সক্রিয় অংশিদার। এই প্রকল্পে জমিদাররা উপনিবেশের তৈরি করা কালচারাল কাঠামোয় প্রভাবিত হয়ে বাধ্য হবে, গ্রামে মধ্যসত্ত্বভোগী নিয়োগ করে, জমিদারি, ব্যবসা, ইত্যাদি থেকে বিপুল পরিমান উদ্বৃত্ত গ্রাম, জেলা শহর থেকে তুলে রাজধানী কলকাতায় স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করে এবসেন্টি ল্যান্ডলর্ডের বিপুল নবজাগরণী কোলাবরেটর বাহিনী তৈরি করায় নিজেদের নিয়োজিত করতে। গ্রাম নিঃস্ব করে মেট্রোপলিটনে পুঁজি সংহত করার প্রক্রিয়া আজও প্রগতিশীলতা হিসেবে গণ্য। এটাই উপনিবেশের সক্রিয় দান। সেকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বকলমে ইওরোপকে গায়ে গতরে তাগড়া করাই ছিল নবজাগরণের মূল উদ্দেশ্য, আজ আম্বানি-আদানিদের তুষ্ট করাই সঙ্ঘী উন্নয়নের সূচক। — অনুবাদক]
বাংলা সুবার ক্ষমতা যে কার্যত ইংরেজদের দখলে চলে এসেছে, সে বিষয়ে ক্লাইভের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। ১০ই সেপ্টেম্বরের ‘সিলেক্ট কমিটি’র (Select Committee) কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত হয়েছে, “মহামান্য সম্রাটের দেওয়া দেওয়ানি অধিকার প্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে কোম্পানি এখন দেশের সরকারের স্থলাভিষিক্ত।” ১৭৬৭-র ১৬ই জানুয়ারি তারিখে লেখা সাধারণ প্রশাসনিক চিঠিতে গভর্নর এবং সিলেক্ট কমিটি যৌথভাবে লিখছে — “আমরা সম্পূর্ণরূপে অবগত আছি, দেওয়ানি অধিকার লাভের পর থেকে এই প্রদেশগুলোর সুবার (শাসকের) হাতে ন্যস্ত ক্ষমতা এখন পুরোপুরি এবং কার্যত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছে। নবাবের হাতে এখন কর্তৃত্বের নামমাত্র রূপ আর ক্ষমতার সীমিত ছায়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।” ক্লাইভ যে শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন, তাতে প্রকৃত কাজগুলো করার দায়িত্ব ছিল ইংরেজদের; কিন্তু তিনি একই সঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে রেখেছিলেন, কোম্পানি সম্পাদিত সেই সমস্ত কাজের ওপর নবাবের ছায়া বজায় রাখার ব্যবস্থা ছিল — যাতে ইংরেজদের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন বাহ্যত স্বয়ং নবাবের নির্দেশেই সম্পাদিত হচ্ছে বলে জনগণের কাছে প্রতীয়মান হয়।
“তার নাম — তার ছায়া — আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধার চোখে দেখা যে অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন, সেটা অনস্বীকার্য, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সুবার (প্রাদেশিক শাসকের) অনুমোদন এবং ছত্রছায়ায়, বিদেশি শক্তিগুলো যদি কোনো প্রকার অনধিকারচর্চার অপচেষ্টা চালায়, তবে আমাদের নিজস্ব কর্তৃত্বের কোনো দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ ছাড়াই সেই ধাক্কা কার্যকরভাবে প্রতিহত এবং নস্যাৎ করা সম্ভব; (অথচ নবাবের তখন নিজের কোনো কার্যকর সেনাবাহিনী ছিল না) এবং তাদের উত্থাপিত যাবতীয় প্রকৃত অভিযোগও একই মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও সুরাহা করা যেতে পারে। অতএব, সর্বদা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মাথায় রাখা বাঞ্ছনীয় — একজন সুবা বা প্রাদেশিক শাসক কিন্তু ফিগারেটিভ হেড হিসেবে কার্যকর রয়েছেন; এবং যদিও প্রদেশের রাজস্ব আদায় বা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আয়ের অধিকার শুধুই কোম্পানির হাতে ন্যস্ত, তবুও আঞ্চলিক শাসন এবং বিচারের এখতিয়ার অবশ্যই দেশের স্থানীয় প্রধানদের হাতেই ন্যস্ত থাকতে হবে—তারা সুবা এবং এই রেসিডেন্সির (প্রতিনিধি দপ্তরের) যৌথ নির্দেশনায় প্রশাসনিক, এবং বিচার কাজ পরিচালনা করবেন। কোম্পানির কর্মচারীদের ‘কালেক্টর’ বা রাজস্ব সংগ্রাহকের পদে নিয়োগ দেওয়া—কিংবা ইংরেজ শক্তির দাপট খাটিয়ে এমন কোনো কাজ সম্পাদন করা, যা আমাদের নির্দেশক্রমে নবাব অতি সহজেই সম্পন্ন করতে পারেন—সেটা হবে আমাদের ছদ্মবেশ খুলে ফেলাত শামিল; এর অর্থ দাঁড়াবে কোম্পানিই যে এই প্রদেশগুলোর প্রকৃত সুবা শাসক, সেটা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে দেওয়া। এর ফলে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো অবিলম্বে ক্ষুব্ধ এবং অসন্তুষ্ট হয়ে উঠবে এবং ব্রিটিশ রাজদরবারে তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সেটা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। তাছাড়া, এমনটি ভাবারও কোনো অবকাশ নেই — ফরাসি, ওলন্দাজ কিংবা দিনেমারদের (ড্যানিশদের) মতো বিদেশি শক্তিগুলো কোম্পানির ‘সুবা’ বা শাসকের মর্যাদা সহজে মেনে নেবে; কিংবা তারা তাদের (অর্থাৎ ইংরেজদের) কর্মচারীদের হাতে বাণিজ্য শুল্ক অথবা এই জেলাগুলোর ভূমি-খাজনা বা quit-rents পরিশোধ করতে সম্মত হবে — যে জেলাগুলোর ওপর তারা দীর্ঘকাল ধরে রাজকীয় ফরমান কিংবা পূর্ববর্তী নবাবদের প্রদত্ত অনুদানের বলে ভোগদখলের অধিকার বজায় রেখে আসছে।
এই বিষয়টা অবশ্যই উল্লেখ্য, দেওয়ানি লাভের বিষয়টি হস্তান্তরিত জমিদারিগুলোয় (অর্থাৎ, চট্টগ্রাম, মেদিনীপুর এবং বর্ধমান) ব্রিটিশ প্রশাসনের অবস্থার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বর্তমানে যা ‘দেওয়ানি অংশ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদে যে প্রশাসনিক সংস্থাটি গঠন করা হয়েছিল, চট্টগ্রাম, বর্ধমান ও মেদিনীপুর — এই তিনটি জেলার ওপর তার কোনো এখতিয়ার ছিল না; কারণ এই জেলাগুলোর অধিকারের বিষয়ে সম্রাট শাহ আলম পৃথক ফরমান জারি করেন, যার মাধ্যমে তিনি মীর কাসিম আর মীর জাফরের আগের কার্যকলাপকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। জেমস গ্রান্ট সেই জেলাগুলোর তালিকা দিয়েছেন, যে সব অঞ্চল নিয়ে এই ‘দেওয়ানি অংশ’ গড়ে উঠেছিল; তালিকা তুলে দেওয়া গেল (Grant: Analysis of the Finances of Bengal. Included in the Fifth Report from the Select Committee on the Affairs of the East India Company, 1812., p. 336; উল্লেখ করা আবশ্যক যে, গ্রান্টের বর্ণনা অনুযায়ী (পৃ. ৩৯১), ১৭ নম্বর ক্রমের “মহম্মদ আমিনপুর” হলো সাতগাঁও ও সেলিমাবাদ — এই প্রাচীন সরকারদ্বয়েরই একটি বিভাজিত অংশ)।
১. রাজেশে [রাজশাহী]।
২. দিনাজপুর
৩. বীরভূম
৪. পূর্ণাহ [পূর্ণিয়া]।
৫. রংপুর
৬. ঢাকা।
৭. নুদ্দিয়া [নাদিয়া]।
৮. হিজিলি
৯. রাজমহল।
১০. সিলেট।
১১. যশোর।
১২. মাহমুদশায় [মাহমুদশাহী]।
১৩. লুস্করপুর [লস্করপুর]।
১৪. রোকিনপুর [রোকনপুর]।
১৫. এদ্রাকপুর [ইদ্রাকপুর]।
১৬. ফুত্তেহসিং [ফতেসিংহ]।
১৭. মহমেদানপুর [Mahomedameenpore]
১৮. সিলবেরিস [সালবুরি]।
১৯. চুনাখলি।
২০. বিষেনপুর [বিষ্ণুপুর]।
২১. পাচিতে [পঁচেট]।
২২. টিপারাহ [তিপেরা]
২৩. ইছাঙ্গুরপুর [জাহাঙ্গীরপুর] অন্যত্র গ্রান্ট লিখেছেন “জাহাঙ্গীরপুর।”]
২৪. জমিদারি খুরদাহ
আমরা আগেই দেখেছি যে, লর্ড ক্লাইভ মুর্শিদাবাদে নবাবি প্রশাসনের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য Council of Control তৈরি করেন। মহম্মদ রেজা খান, ১৭৬৪-এর চুক্তি অনুযায়ী ‘নায়েব সুবাদার’ পদে নিযুক্ত হন। তাকেই আবার ইংরেজরা কোম্পানির ‘দেওয়ান’ পদের দায়িত্ব দেয়। রেজা খানের সঙ্গে কোম্পানি বছরে নয় লক্ষ টাকার মতো রাজকীয় আয়ের চুক্তি করে (Fourth Report of the Committee of Secrecy, 1773, p. 8. রায় দুর্লভকে বার্ষিক ২ লক্ষ টাকা এবং পাটনায় শীতব রায়কে ৯০,৯৯৬ টাকা মঞ্জুর করা হয়। লর্ড ক্লাইভ এবং সিলেক্ট কমিটি, শীতব রায়কে আলাদা করে মাসিক ২৫,০০০ টাকার ভাতাও মঞ্জুর করেছিল। ১৭৭১-এ কোর্ট অফ ডিরেক্টরস মহম্মদ রেজা খানের বেতন বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকায় কমিয়ে আনার আদেশ দেয়)। গ্রান্ট বলছেন, রেজা খান ছিলেন ‘সম্মান, বিচক্ষণতা ও সংযমের অধিকারী’ (যা স্থানীয় প্রেক্ষাপটে অনেকটাই সত্য)”; অথচ তিনিই তাঁকে আবার একজায়গায় মহা-বকেয়াদার (the great defaulter) হিসেবেও দাগিয়ে দিচ্ছেন (Analysis [5th Report, p. 250]। গ্রান্টের ভাষ্য অনুযায়ী মহাম্মদ রেজা খান দু’বছরে বাংলা রাজস্ব থেকে এক কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আলাদা করে রাখার কথা স্বীকার করেছিলেন। রেজা খান ছিলেন পুরোদস্তুর লুটেরা। গ্রান্ট এ কথাও মনে করেন, বাংলার রাজস্বের প্রকৃত ব্যবস্থা শুরু থেকেই (১৭৬৫) ভুল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কাঠামো অজ্ঞতা, দুর্নীতি এবং স্থানীয়দের প্রতারণা ভিত্তিপ্রস্তরে নির্মিত ভিত্তিহীন কাঠামো। বাহ্যিক কাঠামোর প্রতিসাম্য, সুবিধা এবং সরলতাকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে, অথবা সম্ভবত চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করার জন্য)। গ্রান্টের মতে, স্রফ বা ব্যাংকারদের বিশাল জৈন প্রতিষ্ঠানের প্রধান জগৎ শেঠ একমাত্র অর্থ-সংক্রান্ত লেনদেনের মুনাফা অর্জনেই ব্যস্ত থাকতেন; আর দেশে মোট নগদ আয়ের পরিমাণ যত বাড়ত, তাঁর সেই লেনদেনের পরিধিও আনুপাতিক হারে ততটাই বিশাল হত।
তবে, দেশীয় কর্মকর্তাদের ব্রিটিশ আবাসিক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধান ছাড়া অবাধে তাঁদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হতো না। এর আগে মুর্শিদাবাদ দরবারে ‘রেসিডেন্ট’ (পলাশীর পর লুক স্ক্র্যাফটন এই পদে ছিলেন এবং তাঁর পদে আসেন ওয়ারেন হেস্টিংস; ১৭৬৩-র জুলাই মাসে মীর জাফরের সাথে সম্পাদিত চুক্তির সপ্তম অনুচ্ছেদে এই পদ সরকারিভাবে স্বীকৃত হয়) নিযুক্ত থাকলেও, দেওয়ানি লাভের পর এই পদের গুরুত্ব এতটাই বাড়ে, এটা কার্যত নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিণত হয় এবং কোম্পানির অন্যতম প্রবীণ অভিজ্ঞ কর্মচারীর ওপর এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হত। রেসিডেন্টের মূল কাজের একটা ফর্দ দেওয়া হল (দেখুন Verelst’s View, etc., Appendix, p. 136-37)
১. রাজস্বের নিষ্পত্তি “আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা”।
২. “কোম্পানির কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের অনধিকার কাজকর্মের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সচেতন করা” এবং “স্থানীয়দের উপর নিপীড়ন প্রতিরোধ করা”।
৩. প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সিলেক্ট কমিটির সাথে মাসিক চিঠিপত্র চালাচালি করা এবং এই চিঠিগুলোর অনুলিপি ও এর সংযুক্তিসমূহ কোর্ট অফ ডিরেক্টরস-এ পাঠানো।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ