[এর আগের পর্বে আমরা আলোচনা করে দেখিয়েছি, কোম্পানির ইন্টারনাল চিঠিতে পরিষ্কার বাংলার দুর্দশা শুরু হয়েছিল দেওয়ানির বছর থেকেই, [হয়ত তার আগে, পলাশীর পরের সময় থেকেই]। ১৭৬৫-তে ইংল্যান্ড থেকে বাংলায় শেষ বারের জন্য ৬,১৫,৭৪১৫ টাকার দামি ধাতুর পাঠানো হয় বছরের পণ্য কিনতে = যাকে তারা ইনভেস্টমেন্ট বলতেন; অথচ ১৭৯৮ পর্যন্ত এক তোলা রূপোও ইংলন্ড থেকে বাংলায় আসে নি। কোম্পানি বাংলার চাষী কারিগরের হাত মুচড়ে আদায় করা রাজস্ব দিয়েই কোম্পানি তাদের ব্যবসার পণ্য কিনেছে। ১৭৬৯-র ২৪শে মে, [মুর্শিদাবাদ] দরবারের রেসিডেন্ট রিচার্ড বেচার গভর্নর [হ্যারি] ভেরেলস্টকে [১৭৬৭তে ক্লাইভকে লন্ডনে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হলে, তিনি বাংলার কোম্পানি প্রশাসনের প্রধান হন] একটা চিঠি লিখেছিলেন। কোম্পানির লন্ডনস্থ পরিচালনা পর্ষদ (Court of Directors) এই চিঠির একটা বাক্য উল্লেখ করছে, “একজন ইংরেজ হিসেবে এই ভেবে ব্যথিত না হয়ে পারা যায় না যে — দেওয়ানি অধিকার পাওয়ার পর থেকে এ দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থার উন্নতি তো দূরের কথা, বরং তাদের অবস্থা আগের সময়ের তুলনায় আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে”। এই পর্বে সেই চিঠির বাকি অংশ – অনুবাদক]
এমনকি একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অধীনে থেকেও এবং এমন এক সময়েও এই সমৃদ্ধি বজায় ছিল, বিশেষ করে যখন দেশের বিশাল একটি ভূখণ্ডে বছরের পর বছর ধরে মারাঠারা বারংবার আক্রমণ চালিয়ে আসছিল – সেই সময়েও। মারাঠারা তাদের হাতের নাগালের মধ্যে যা কিছু পেত, সবকিছুই পুড়িয়ে ছারখার করে দিত; আর অসহায় অধিবাসীরা প্রাণভয়ে আশ্রয় লাভের আশায় প্রধান প্রধান নগরী, ইউরোপীয় কুঠিবাড়ি ইত্যাদির দিকে ছুটে পালাত। বর্ষার আগমনকালে নদীগুলোর জলবাড়া অথবা বন্যার ফলে মারাঠারা অনেক সময় পিছু হটতে বাধ্য হতো এবং জানুয়ারি মাস না আসা পর্যন্ত অধিবাসীরা পুনরায় নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে দিন কাটাত। এই নিরাপত্তা ও উৎসাহ পেয়ে অধিবাসীরা অবিলম্বে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং মারাঠাদের সম্ভাব্য আক্রমণের সময় পুনরায় ফিরে আসার আগেই তাদের ফসল ঘরে তুলে বাজারে পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা করত। পরিস্থিতি এতটাই অনুকূল ছিল যে, এমন সব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ফলে জমিদার প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ নবাবের সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ-দাবি (মারাঠাদের প্রতিহত করার জন্য বিশাল সেনাবাহিনী পোষণের পেছনে নবাবের যে অতিরিক্ত ব্যয় হতো – সে বাবদ) পরিশোধ করতে সক্ষম হতেন — যার পরিমাণ ছিল একবারে এক কোটি টাকা এবং [অন্য সময়ে] পঞ্চাশ লক্ষ টাকা… …মালগুজারি (ভূমি রাজস্ব) প্রদানের পাশাপাশি আরও কিছু। আমি এই বিষয়টি কেবল এই উদ্দেশ্যেই উল্লেখ করছি যে, উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলার মত এই চমৎকার দেশ কত পরিমান সম্পদ অর্জন করতে সক্ষম। ইংরেজদের হাতে প্রথম বারের জন্য দেওয়ানি লাভের সনদ এসে পৌঁছোলে তাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল — রি দেশ থেকে যতটা সম্ভব পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা; যাতে স্বদেশের জরুরি চাহিদাগুলো সহজেই মেটানো যায় এবং এখানকার বিশাল প্রশাসনিক ব্যয়ভার নির্বাহ করা সম্ভব হয়। জমিদাররা যেহেতু প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে কখনওই ইচ্ছুক আবার অনেক সময়েই সক্ষম ছিলেন না, তাই অধিকাংশ জেলায়ই রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘আমিল’ বা রাজস্ব সংগ্রাহকদের পাঠানো হয়েছিল। এই আমিলরা নিয়োগের সময় মন্ত্রীদের সাথে নির্দিষ্ট চুক্তিতে আবদ্ধ হতেন – তারা যে জেলায় যাবেন, সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তারা সংগ্রহ করে দেবেন; এবং যিনি অর্থের সর্বোচ্চ অংকটি প্রদানের প্রস্তাব দিতেন, সাধারণত তাকেই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। দরিদ্র অধিবাসীদের জন্য এটি কী এক ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থা! আমিলদের সাথে যে দেশের রাজস্ব তারা সংগ্রহ করেন, সেই দেশের মঙ্গলের প্রতি তাদের কোনো সংযোগ বা স্বাভাবিক আগ্রহ থাকে না; তাছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের পদে বহাল থাকার ব্যাপারেও তাদের কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। তাদের নিয়োগ বহাল রাখার সর্বোত্তম উপায় হলো কিস্তিবন্দি বা নির্ধারিত কিস্তিগুলো যথাসময়ে পরিশোধ করা; আর এই উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে — যখনই তারা দেখেন যে অন্য কোনো উপায়ে কিস্তি পরিশোধ করা এবং নিজেদের জন্য মোটা অংকের অর্থ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না — তখনই তারা নির্দ্বিধায় দেশের ওপর চরম শোষণ ও পীড়ন চালাতে শুরু করেন। নিজেদের পদের অনিশ্চয়তা এবং পদচ্যুতির পর অর্থ উপার্জনের আর কোনো সুযোগ না থাকায় — এতে কি বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ আছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ মঙ্গল তাদের কাছে বিবেচ্য কোনো বিষয়ই নয়? বস্তুত, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা স্বভাবের বিচারেও এমনটি আশা করা যায় না। তাছাড়া, নিজেদের দায়িত্ব পালনকালে এই আমিলদের ওপর কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ অথবা তদারকিও ছিল না; তাদের অধীনে যারা কাজ করবে, তাদের নিয়োগের ক্ষমতাও ছিল তাদেরই হাতে — ফলে বছরের রাজস্ব সংগ্রহের পুরো সময়টা জুড়ে তাদের ক্ষমতা ছিল একচ্ছত্র ও নিরঙ্কুশ। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ‘হস্তাবুদ’ বা নির্ধারিত হিসাবের ভিত্তি ছিল না; আর দরিদ্র রায়ত বা প্রজার কাছে তার সাধ্যের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে তাকে চরম দুর্দশার মুখে ঠেলে না দেওয়া পর্যন্ত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা থাকত না। এই হতভাগ্য দরিদ্র প্রজারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এখানে এসে অভিযোগ দায়ের করার চেয়ে বরং অনেক বেশি অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করে নেয়; বিশেষ করে যখন এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয় যে — অভিযোগ করতে আসা মানেই হলো সময়ের অপচয়, প্রতিকার পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং শেষমেশ যদি… তবে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার নিশ্চিত ঝুঁকি। …আমিলের প্রভাবই হয়তো সেই দরিদ্র ব্যক্তিটিকে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে — এমনকি, যারা তাকে ন্যায়বিচার প্রদান করতে সক্ষম, তাদের সান্নিধ্যে পৌঁছানো থেকেও — বিরত রাখার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং অধিকতর রাজস্ব আদায়ের অবিরাম দাবির মধ্য দিয়েই, ইংরেজরা যখন থেকে ‘দেওয়ানি’র অধিকার লাভ করেছে, তখন থেকেই রাজস্ব সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। আরও বহুবিধ ত্রুটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেত; কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি যে, তাতে হয়তো আপনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। তাই আমি আশা করি, আমি যা কিছু উপস্থাপন করেছি, তা আপনাকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করবে যে — রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি এবং সেই সাথে কোম্পানির ‘ইনভেস্টমেন্ট’ (বা বিনিয়োগ)-এর সংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনায় — আমূল পরিবর্তন সাধন করা একান্তই অপরিহার্য।
এরপর বেচার সেই সংস্কারগুলোর প্রস্তাব করেন, যা বর্ণিত অপব্যবহার ও অনাচারসমূহ দূর করার জন্য তিনি অপরিহার্য বলে মনে করেছিলেন। তাঁর প্রারম্ভিক বাক্যটি ১৭৭৬-এর ফিলিপ ফ্রান্সিসের রাজস্ব পরিকল্পনার একটি প্রিয় যুক্তিকে অগ্রাহ্য বা খণ্ডন করে:
“মহোদয়, আমাকে এখানে আপনাকে এই নিশ্চয়তা দেওয়ার অনুমতি দিন যে — দরবারে আমার অবস্থানকালে রাজস্ব বৃদ্ধি করে আমি নিজের জন্য কোনো কৃতিত্ব অর্জনের লক্ষ্য রাখি না; বরং আমি এমন সব নীতি অবলম্বন করতে চাই, যা এই দেশকে এর বর্তমান নিপীড়িত অবস্থা থেকে মুক্তি দেবে এবং রায়তদের (প্রজাদের) এমন এক স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থায় উন্নীত করবে, যা কৃষিকাজে উৎসাহ জোগাবে। এই কৃষিকাজের সুফল ভবিষ্যতে আমাদের মাননীয় নিয়োগকর্তারা ভোগ করবেন; আর এমন একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমি যদি সামান্যতম অবদানও রাখতে পারি, তবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। যখনই ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’ (পরিচালক পর্ষদ) রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পূর্ণ দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া সমীচীন মনে করবেন — আমার মতে — এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, সমগ্র দেশজুড়ে যে পরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত, তা ঠিক তেমনই হওয়া উচিত যা বর্তমানে বর্ধমান রাজ্যে প্রচলিত রয়েছে। অর্থাৎ — জমিগুলো অন্তত তিন বছরের জন্য ইজারা বা ‘ফার্ম’-এ দেওয়া; এবং সেই সাথে এই নিশ্চয়তা প্রদান করা যে — যারা সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিজেদের রায়তদের যথাযথ উৎসাহ ও সহায়তা দেবেন, তাঁদের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় সেই জমিগুলোর ইজারাদার হিসেবে বহাল রাখার ক্ষেত্রে সর্বদা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই পদ্ধতি এবং রাজস্ব আদায় ও বিচারকার্য তদারকির জন্য ইংরেজ ভদ্রলোকদের নিয়োগ — এই দুইয়ের সমন্বয়েই বর্ধমান প্রদেশ আজ সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করেছে; অথচ এর সংলগ্ন যে দেশগুলো যে সব দেশি মন্ত্রীদের শাসনাধীনে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয় ও অধঃমুখী। আমার মতে — রাজস্ব আদায়ের কাজে নিযুক্ত কোনো স্থানীয় ব্যক্তিকে দেশের মঙ্গলের প্রতি যত্নবান করে তোলার একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হলো — দেশের মঙ্গলের সাথে তাঁর নিজস্ব স্বার্থকে এমনভাবে যুক্ত করে দেওয়া, যাতে দেশের কল্যাণেই তিনি নিজের কল্যাণ খুঁজে পান। আর রাজস্ব আদায়ের জন্য আপনারা যে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করবেন, তা এই মানদণ্ডের যত কাছাকাছি হবে, সেই পরিকল্পনা ততই বিচক্ষণ এবং কার্যকর বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া আরও কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক; যেমন — রাজস্ব সংগ্রাহক বা ‘কালেক্টর’-এর ওপর যথাসম্ভব কঠোর ও নিবিড় নজরদারি রাখা এবং রাজস্ব আদায়ের হার এমনভাবে নির্ধারণ করার প্রচেষ্টা চালানো, যাতে মৌসুমের শুরুতেই রায়তরা স্পষ্টভাবে জানতে পারে যে — কালেক্টরের তাদের কাছে ঠিক কতটুকু অর্থ দাবি করার অধিকার রয়েছে; এবং কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতেই যেন তাদের কাছে এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ দাবি করা না হয়। ‘মাথট’ (Matote) (মাথট – মাথাপিছু হারে ধার্য করা নির্দিষ্ট কর, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেকের কাছ থেকে সমহারে নেওয়া হয়। এই কর সাধারণত ব্যক্তি বা পরিবারকে নির্দিষ্ট সুবিধা বা পরিষেবার বিনিময়ে দিতে হয়, যা মূলত স্থানীয় পর্যায় বা পুরনো আমলের প্রশাসন ব্যবস্থা অনুযায়ী আদায় করা হতো – অনুবাদক) নামক বিশেষ করের আড়ালে বারবার নতুন নতুন দাবি যুক্ত করার যে বর্তমান ধ্বংসাত্মক অপকৌশলটি প্রচলিত রয়েছে — তা-ই দেশের বর্তমান দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ। আমার একান্ত ইচ্ছা যে — এই ‘মাথট’ শব্দকেই চিরতরে বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এই শব্দটি কারো মুখে উচ্চারিত হতে না শোনা যায়। যেহেতু বর্তমানে আমরা সরাসরি অগ্রসর হতে পারছি না… মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে থাকা জেলাসমূহে — বিশেষত বর্ধমান জেলায় — যে পরিকল্পনা বর্তমানে অনুসৃত হচ্ছে, ঠিক সেই একই পরিকল্পনার ভিত্তিতে আমার মতে রাজস্ব আদায়ের যে পদ্ধতিটি সফল হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা রাখে, তা হলো — রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সেইসব জেলার জমিদারদের হাতেই ন্যস্ত রাখা; তবে শর্ত হলো, উক্ত জমিদারগণকে তাদের দেয় ‘মালগুজারি’ (ভূমি-রাজস্ব) পরিশোধের জন্য উপযুক্ত জামানত বা নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ