হুগলির গোঘাটের বালিতে মিশন মোড়ে হুল দিবস উপলক্ষে বসল সিধু-কানুর মূর্তি। এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই মহান সংগ্রামীকে স্মরণ করা হয়। ৩০ জুন দিনটিকে রাজ্য জুড়ে হুল দিবস হিসেবে পালন করা হয়। রাজ্য সরকার এবছর দু’ দিন ধরে মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালন করছে। এদিন বালির নতুন বাজারের মিশন মোড়ে সিধু-কানুর মূর্তি স্থাপন করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হল।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন সাঁওতাল বিদ্রোহ ও সাঁওতাল গণহত্যা দিবস। এই দিনে ‘জমি চাই, মুক্তি চাই’ — এই দাবি নিয়ে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল ব্রিটিশ শাসক ও তাদের দোসর মহাজনদের বিরুদ্ধে। আজ পূর্ণ হচ্ছে সেই গৌরবোজ্জ্বল বিদ্রোহের ১৬৬ বছর। ১৮৮৫ সালের এই দিনে সাঁওতাল নেতা সিধু, কানু ও তার বোন ফুলমতির নেতৃত্বে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন এবং জমিদারদের অত্যাচার ও মহাজনী চক্রবৃদ্ধি ঋণ প্রথার বিরুদ্ধে তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির উপজাতি অধ্যূষিত এলাকায় এই ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। প্রসঙ্গত, এই ৩০ জুনের সাঁওতাল বিদ্রোহ ও গণহত্যা নিয়ে মহাশ্বেতাদেবী লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘চোট্টি মুণ্ডা ও তার তীর’। আবার মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালের ৩০ জুনের সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে।

এদিকে এদিনের অনুষ্ঠানে গোঘাটের আদিবাসী পাড়া থেকে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত থাকেন। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার জানান, গোঘাটে অসংখ্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু অনেকেরই নিজস্ব থাকার জায়গা নেই। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় আজ ১৪৭ জন ভূমিহীন আদিবাসীর হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়া হল। এছাড়া সিডিউল টাইপ সার্টিফিকেট, কৃষকবন্ধু ডেথ বেনিফিট সার্টিফিকেট, রূপসী সার্টিফিকেট, জয় জোহার সার্টিফিকেট এবং এখানকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া এখানকার বিখ্যাত কুটিরশিল্পের উপহার হিসেবে পিতলের ঘড়া দেওয়া হয় রাজ্যের বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা-র হাতে।

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা সভাধিপতি আলহাজ সেখ মেহেবুব রহমান, অসীমা পাত্র, অসীম মাঝি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।