বহু বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল অভিমানী নদীটি। প্রাচীন জনশ্রুতি বলছে, সাধক অভিরাম গোস্বামীর অভিশাপে শীর্ণ হয়ে গেছে তার জলধারা। তখন তার নাম ছিল রত্নাকর। চওড়ায় সেই নদীর বিস্তৃতি ছিল কয়েক কিলোমিটার। তারই চরায় গড়ে উঠেছিল খানাকুল কৃষ্ণনগর সমাজের অনেকগুলি গ্রাম। সেই নদীর কোলেই তখন লালিত-পালিত হতো এই এলাকার মানুষজন। খানাকুল বন্দর, রাজহাটি বন্দর ইত্যাদি নদীবন্দর ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাক্সি কে কেন্দ্র করে বহির্বাংলায় চলত ব্যবসা-বাণিজ্য। বর্তমানে সেই নদী মুছে যাওয়ার ফলেই নিম্ন দামোদর বা মুণ্ডেশ্বরী অববাহিকার স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানকার বন্যা।

এখন একদিকে অরোরা খাল এবং অপরদিকে কানা দ্বারকেশ্বরের শীর্ন স্রোত তার স্মৃতি বহন করে চলেছে মাত্র। এলাকার জল নিকাশের ক্ষমতা, তাদের বিন্দুমাত্র নাই। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৮ সাল থেকে অরোরাখাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। প্রায় সাত কোটি টাকা বাজেট খরচ করে ১৪ কিলোমিটার খাল সংস্কার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। কিন্তু তাতে সমস্যার কোন সুরাহা হয়নি, কারণ এই খালের শেষ এবং শুরুর দিকে কোন কাজ হয়নি। মোটকথা প্রাচীন সময়ের রত্নাকর নদী অর্থাৎ বর্তমানে কানা-দ্বারকেশ্বর নদীর উৎস থেকে মহানা পর্যন্ত সংস্কার করলেই এখানকার নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব, অনেক দেরিতে হলেও আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চলেছেন।

কিছুদিন আগেই এই নদীটির গতিপথ নির্ণয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেন আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন ও আরামবাগ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা। গত বুধবার আরামবাগ চাঁদুর ফরেস্ট এর আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই এলাকার চাঁদুর ফরেস্ট ও তেলিপাড়া মৌজায় পুরানো ম্যাপ অনুযায়ী নদীর স্থান সার্ভে করে নির্দিষ্ট করা হয়। অধিকাংশ জায়গাতেই নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, জবরদখল হয়ে গেছে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর জায়গা। কোথাও কোথাও সংকীর্ণ খাল কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে আছে। এই এলাকায় আরামবাগ পুরো প্রশাসন ও সেচ দপ্তর এর পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের কাজে হাত লাগিয়েছেন।একে একটি মাস্টার প্ল্যান এর আওতায় এনে কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে জানা গেছে দপ্তরের সূত্রে। আরামবাগ পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, পরীক্ষিত হালদার জানিয়েছেন, “ফরেস্টের পাশে কানা দারকেশ্বর নদীর যে কানা খালটি আছে, তা এতদিন কেউ জানতো না। আমাদের কাজ ছিল এই নদীর অস্তিত্ব চিহ্নিত করা, সেই অনুযায়ী আমরা চূড়ান্ত ভাবে নদীর গতিপথ চিহ্নিত করলাম।” আরামবাগ মহকুমা সেচ দপ্তরের আধিকারিক দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, “মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশে আমরা কাজটি শুরু করেছিলাম একেবারে শেষ পর্যায়ে কাজ চলছে। আরামবাগ পুরো প্রশাসন রিপোর্ট দিলে সংস্কার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে আরামবাগ পুরপ্রশাসন এলাকায় শুধু নয়, সামগ্রিকভাবে দ্বারকেশ্বর থেকে বেরিয়ে আসার পর অরোরা খাল হয়ে রূপনারায়ণ পর্যন্ত পুরো নদীটির যদি সম্পূর্ণ সংস্কার করা যায় তবেই সমস্ত আরামবাগ মহাকুমার মানুষ এর সুফল পাবেন। সেই আশাতেই দিন গুনছেন সকলে।
নিউজ ১৮ বাঙলায় খবরটা পেয়েছি। নদীটির গতিপথ সংস্কার হলে এলাকাটি উপকৃত হবে।