দেশে নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানাচ্ছে সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (civil registration system) নির্ভর সরকারি রিপোর্ট। দেখা যাচ্ছে ২০১৯ সালে ভারতে মারা গিয়েছিলেন ৭৬.৪ লক্ষ মানুষ। এক বছর পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১.২ লক্ষ। দেশের ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মৃত্যুর সংখ্যা হিসেব করে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। নথিভুক্ত মৃত্যুগুলির ২৮ শতাংশ ঘটেছে কোন সরকারি বা বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র বা হাসপাতালে। অর্থাৎ প্রতিটি মৃত্যুই যাকে বলে ইনস্টিটিউশনাল ডেথ। মৃতদের প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষ, ৩৯ শতাংশের বেশি মহিলা।

ভারতে কোভিডে মৃতের সংখ্যা কত তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটা বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের পটভূমিতে সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের রিপোর্ট একটা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। কোভিড মোকাবিলায় আমাদের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কতটা সফল, দুর্বলতাগুলিই বা কোথায়, কীভাবে তা উন্নত করা যাবে এসব বুঝতে এই তথ্য খুব সাহায্য করবে বলে নীতি আয়োগের (স্বাস্থ্য) [national institute of transforming india] মুখপাত্র ভি কে পাল জানিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতে কোভিড সংক্রমণের ব্যাপকতা ও মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণ করার ব্যাপারে এই তথ্য সাহায্য করবে। আপনারা সবাই জানেন, দেশে কোভিডের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটা আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার যে তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা মানতে নারাজ। খুব শীঘ্রই তারা এ নিয়ে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করবে। হু’র মতে ভারতে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের থেকে অনেক বেশি।

নীতি আয়োগের মতে এই রিপোর্টে দেওয়া তথ্যগুলি সম্পূর্ণ সঠিক। এরমধ্যে কোন কল্পনা বা বিভ্রান্তি নেই। অতিমারির সময়ে দেখা গেছে মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণের জন্য কোন অনুমান বা বিশেষ কোন মডেল খুব একটা কাজ দেয় না। সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম রিপোর্ট তৈরি হয়েছে দেশের প্রতিটি রাজ্য এবং জেলা থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান যাচাই করার মাধ্যমে। মৃতদের মধ্যে সবাই যে কোভিডে মারা গেছেন তা নয়। স্বাভাবিক বা অন্য কারণে মৃতদের থেকে কোভিডে মৃত্যুকে এই রিপোর্টে পৃথক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রথম থেকেই খুব সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। কোভিডে মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য তৈরি হয়েছে নিয়মিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে।

তথ্য সংগ্রহ একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১৯৬১ সালে দেশে জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সমস্যা থেকে যায়। বেশ কিছু রাজ্য থেকে তথ্য সময়মত না পাওয়ার ফলে তা সরকারি হিসেবে ঢোকানো যায়না। দেশে কোভিডে মৃত্যুর হিসেবে ২০২০র ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১ডিসেম্বর অবধি নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা জায়গা পেয়েছে।