মিশরীয়রা মৃতদেহকে মমি করে রাখতো সে কথা আমাদের জানা। মৃতদেহকে বড় বড় পাথরের জার বা বয়ামে রেখে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা কবর দেওয়ার কথা জানা গেলো অস্ট্রেলিয়ার লাওসে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিকেরা লাওসের প্রত্যন্ত এবং পার্বত্য বনের মধ্যে ১৫টি স্থানে খনন কার্য চালিয়ে প্রায় ১৩৭টির বেশি বিশালকায় পাথরের জারের সন্ধান পেয়েছে। যদিও এর আগে ভারতের অসমে ও ইন্দোনেশিয়ায়ার সুলাওয়েসি-তেও এইধরণের জারের সন্ধান পাওয়া গেছিলো।

তবে এই ‘মৃতদের কলসী’ গুলি এইস্থানে কেন আনা হয়েছিল বা কারা এনেছিল, এর মূল উদ্দেশ্য কি ছিলো তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিছু জারের ওজন কয়েক টন। সম্ভবত মৃতদেহ সৎকারের কাজে এগুলো ব্যবহৃত হতো। কয়েক টন ওজনের জারগুলি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কীভাবে নিয়ে যাওয়া হতো, তা নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন গবেষকরা।
জারগুলোর ঢাকনায় মানুষ ছাড়াও তরবারি ও জন্তু জানোয়ারের ছবি আঁকা আছে। জারের অভ্যন্তরে গ্লাসের জপমালা, অলংকারিক সিরামিকস, লোহার সরঞ্জাম, কাপড় তৈরির জন্য ব্যবহৃত স্পিন্ডাল ঘূর্ণির নিদর্শন পাওয়া গেছে। মানবদেহ ভরা বেশ কয়েকটি গর্তের সন্ধান মিলেছে যা প্রায় ২৫০০ বছর আগেকার। সম্ভবত লাওসে জার তৈরির বাজার ছিলো। সম্পূর্ণ সত্য জানতে বিভিন্ন স্থানে খনন কার্য চলছে।

লাওসে আবিস্কৃত এই বিশালকায় জারের পাশে বেশকিছু একইরকম দেখতে মিনি জারের সন্ধান মিলেছে। গবেষকদের অনুমান, মিনি জারগুলো আসলে বড়ো জারগুলোর নমুনা। হয়তো এই জারের নক্সা অনুযায়ী বিশালকায় জারগুলো তৈরি করা হতো।
এই প্রসঙ্গে ভূজঙ্গবাবুর একটি গপ্প মনে পড়ে গেলো। গল্পটি তারাপদ রায়ের লেখা। ভূজঙ্গবাবু একটি অভিনব কোম্পানি খোলেন। কোম্পানির নাম ‘ম্যমি ইন্ডিয়া করপোরেশন’। এই কোম্পানির বহু বিজ্ঞাপন খবরের কাগজে বেরিয়েছিল, বিজ্ঞাপনটি পাঠ করলেই কোম্পানিটির অভিনবত্ব জানা যাবে।
ম্যমি ইন্ডিয়া করপোরেশন
প্রাচীন মিশরীয় পদ্ধতি
ম্যমি বানাইবার সহজ উপায়
আর চিন্তা নাই
প্রিয়জনের মৃত্যুর পর মৃতদেহ
অল্প খরচে
ম্যমি করিয়া ঘরে রাখুন
মৃতদেহ আর পোড়াইতে হইবে না।
মৃতদেহ আর কবর দিতে হইবে না।।
যোগাযোগ করুন : পোস্ট বক্স নং…..

দুঃখের বিষয়, কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরে বিষয়টি বহুজনের সঙ্গে পুলিশেরও নজরে পড়ে। এবং একটু খোঁজখবর নিয়েই পুলিশ বুঝতে পারে ব্যাপারটি পুরো জোচ্চুরি। নারকেল তেল এবং সর্ষের তেল একত্রে মিশিয়ে তার মধ্যে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে একরকম প্রলেপ বানানো হয়েছে, সেটাই মৃতদেহের গায়ে মাখাতে হবে। ব্লিচিং পাউডারের গন্ধে কয়েকদিন মৃতদেহের পচনের গন্ধ টের পাওয়া যাবে না। এরপর পুলিশের চাপে পড়ে ভূজঙ্গবাবু লাইন বদল করেন এবং সরাসরি টাকা জাল করার ব্যবসায় চলে আসেন।

সে যাই হোক, কোন এককালে আচার মমি করা থুড়ি সংরক্ষণ হতো বয়ামে। আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা আচার, লাড্ডু, চানাচুর, গুড়বাদাম, খেঁজুর ….সংরক্ষণ করতো কাঁচের বা সিরামিক বয়ামে। খাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখার অন্যকোন ব্যবস্থা তখনকার দিনে ছিলো না। তবে, বর্তমান প্রজন্মের সংসারে এ ধরনের বয়ামের ব্যবহার আর দেখা যায়না। ভারী আর ক্ষণভঙ্গুর হওয়ার দরুন ঘরে এদের ব্যবহার ফ্যাশনেবল হয়ে উঠেছে। তবে নব-আঙ্গিকে সাজিয়ে তুলুন ফেলে আসা বয়ামগুলোকে। দেখবেন এই আবিষ্কারের জন্য একটি নস্ট্যালজিক দুনিয়া তৈরি হয়েছে।
Besh laglo. Notunotto aache
ধন্যবাদ????
Bah valo
থ্যাংক ইউ।
Sotti apnar lekha pore anek gyan orjon kori ami…thank you Rinki…you r best