ঊনবিংশ শতকে বাংলার নবজাগরণের ইতিহাস ভারতবাসীর নবজাগরণের ইতিহাস। মধ্যযুগীয় অন্ধতা, কুসংস্কার, পৌত্তলিকতা, সতীদাহ প্রথা, বহুবিবাহ, সাগরে সন্তান বিসর্জন প্রভৃতি সামাজিক ব্যাধি ও ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস দূর করার মধ্য দিয়ে আত্মবিস্মৃত জাতির অজগর-নিদ্রাভঙ্গ করতে বাংলার নবজাগরণের আলোক বর্তিকা তুলে ধরতে এবং প্রাচীন ভারতের হৃত গৌরব উদ্ধারের লক্ষ্যে এক ঝাঁক সর্বসংস্কার মুক্ত প্রতিভাধর চিন্তানায়কের ঐতিহাসিক আবির্ভাব ঘটে। পাশ্চাত্যের উদারপন্থী যুক্তিবাদী ভাবধারার প্রভাবে সমাজসংস্কার ও ধর্মসংস্কারের সাথে সাথে নারীশিক্ষা প্রবর্তন করা ও বেদ উপনিষদের যুক্তি নিষ্ঠ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রাচীন ঐতিহ্যের পুররুজ্জীবন ঘটাতে অনন্য কান্ডারী হন রাজা রামমোহন রায়। এ প্রসঙ্গে ঋষি রাজনারায়ণ বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয়কুমার দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ মনীষীদের ভূমিকা স্মরণীয়। ধর্মে ধর্মে বিভেদ, সম্প্রদায় সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ, চেতনা চেতনায় আত্মবিস্মৃত সমাজের খৃস্টিয় প্রভাবে ধর্মান্তকরণ প্রবণতা দূর করার মধ্য দিয়ে জাতীয়তা বোধে যুব সমাজকে প্রাণিত করার লক্ষ্যে রামমোহন ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রদ, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদ, অ্যাংলো হিন্দু স্কুল (১৮২৩) তৈরি, একেশ্বরবাদী ধর্মমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তীক্ষ্ণ যুক্তিবাদকে হাতিয়ার করে মসীযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। রক্ষণশীল সমাজের শক্রতার বিরুদ্ধে এবং পৌত্তলিকতার যুক্তিহীন ধর্মান্ধতা দূর করতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আত্মীয়সভা (১৮২৫)-র (পরিবর্তিত নাম ব্রাহ্মসমাজ ১৮২৮) পথ ধরে সমাজসংস্কারে তিনি ব্রতী হন এবং এই সমাজসংস্কারের উত্তাল আন্দোলনের ফলে নবযুগের সূচনা হয়। ঈশ্বর নিরাকার, সর্বত্র বিরাজমান, অদ্বিতীয় ও উপাস্য — এই ছিল তাঁর ব্রাহ্মধর্মের মর্মার্থ।
রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজের আদি প্রতিষ্ঠাতা হলেও প্রকৃত স্থপতি ও ভাস্কর ছিলেন ভারতখ্যাত ঠাকুর পরিবারের প্রখ্যাত প্রিন্স দ্বারকানাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র দেবেন্দ্রনাথ। পরবর্তীকালে ঠাকুর পরিবারের সহযোগিতায় ব্রাহ্মসমাজের উপাসনা ভবন নির্মিত হয়। সালটা ছিল ১৮৩০।
ধর্মপ্রাণা দীগম্বরী দেবীর কোল আলো করে ১৮১৭ সালের ১৫ মে দেবেন্দ্রনাথ জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃ অর্থানুকুল্যে প্রতিষ্ঠিত অ্যাংলো হিন্দু স্কুলে দেবেন্দ্রনাথ ১৮৩১ সালে শিক্ষা শেষ করে হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন করেন। পিতার ইচ্ছায় বিশাল জমিদারী ও ব্যবসা বাণিজ্য তদারকির দায়িত্ব সহ ঠাকুরবাড়ির শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতির পরিমণ্ডলকে ঐতিহ্যবাসী করে তোলার সমূহ বিষয় দেখভাল করতে হতো দেবেন্দ্রনাথকে। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সত্তা ও কর্মকুশলতায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরবাড়ির প্রাণপুরুষ হয়ে ওঠেন। জমিদারী ও দেশ-বিদেশে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়ীকম৪এ তিনি যেমন দক্ষ ছিলেন তেমনি ধম৪ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে তিনি খুবই ব্যস্ত ছিলেন। ধর্ম ও শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিনি ব্রাহ্মবিদ্যালয় স্থাপন করেন। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অগ্রণী হন। বহু শাস্ত্রে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। ব্রাহ্ম ধর্ম প্রচারের কাজে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
১৮৩৫ সালে পিতামহী অলকাসুন্দরীর প্রয়াণের পর ধনীর দুলাল দেবেন্দ্রনাথের বিলাসবহুল জীবনে আসে বিরাট পরিবর্তন। ঈশ্বর জিজ্ঞাসা যেমন তাঁর মনে প্রকটতর হয় তেমনি সংস্কৃত ও ইংরাজি সাহিত্যে বুৎপত্তি অর্জনের সাথে সাথে তিনি প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের দর্শন ও ধর্মগ্রন্থাদি পাঠে আকর্ষণ অনুভব করেন। পিতার মৃত্যুর পর পিতার পারলৌকিক ক্রিয়াদি সম্পন্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে যখন পারিবারিক সংকট দেখা দেয় ঠিক সে সময় প্রয়াতা জননী স্বপ্নাদেশে দেবেন্দ্রনাথকে জানালেন, “তুই ব্রহ্মজ্ঞানী, কুলং পবিত্রং ও জননী কৃতার্থা। মানসিক দোদুল্যমানতা থেকে মুক্তির পথের দিশারী — এই স্বপ্নাদেশ তাঁকে অনুপ্রাণীত করল পিতার শ্রাদ্ধ ব্রাহ্ম মতে সম্পন্ন করতে। পৌত্তলিকতা বিরোধী দেবেন্দ্রনাথ তাঁর উপবীত বর্জনের সাথে সাথে উক্ত শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বর্জন করলেন শালগ্রাম শিলাকে। প্রয়াত দ্বারকানাথের বিপুল পরিমান ঋণ পরিশোধে অরাজী না হয়ে দেবেন্দ্রনাথ পাওনাদারদের উক্ত ঋণ পরিশোধ করে পিতৃসত্য পালনের এক অনন্য নজির গড়ে তোলেন। ১৮৬০ সালের ২৬ জুলার তাঁর প্রথমা কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করেন সম্পূর্ণ ব্রাহ্ম মতে। স্বাজাত্যবোধের তাগিদে তিনি প্রত্যাখান করলেন তাঁর আত্মীয়দের লেখা ইংরাজি ভাষার পত্রাদি। তাঁর কর্মকুশলতার ফলে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ছিল বহুজ্ঞানীগুণীর এক অপূর্ব মিলনতীর্থ। সেকালের মহামনীষীদের অন্যতম রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঞষি রাজনারায়ণ বসু, কেশবচন্দ্র সেন, ডিরোজিও, রামকৃষ্ণদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা প্রমুখদের গৌরবময় উপস্থিতিতে ঠাকুরবাড়ির শিক্ষা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের জগৎ ছিল সমৃদ্ধ। দেবেন্দ্রনাথের স্বদেশ প্রীতি ছিল প্রশ্নাতিত। শিল্প সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চার প্রতি উৎসাহদানের জন্য তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ও নবগোপাল মিত্র ও ঋষি রাজনারায়ণের প্রচেষ্টায় ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা হলো হিন্দুমেলার। তিনি ছিলেন উনিশ শতকের এক বিরল প্রতিভা। বিষয় কর্মে দক্ষতার পাশাপাশি নিজ সংস্কার ধর্ম ও সিক্ষা প্রসার নিয়েও তিনি ব্যস্ত ছিলেন। আর্য মুণি ঋষিদের মতো তিনি সত্যানুসন্ধানের জন্য মাসের পর মাস নির্জন বনানী ও হিমালয়ে তপস্যা করেছেন। তাঁর সাধনার মধ্যে তাঁর হৃদয়বীণার অনুরণিত হয় ব্রহ্মসঙ্গীত “আজি প্রণমি তোমারে করিব নাথ সংসার কাজে / তুমি আমার নয়নে নয়ন রাখো অন্তর মাঝে …।”
মাত্র সতেরো বছব বয়সে দেবেন্দ্রনাথ বিয়ে করলেন যশোহরের নিষ্ঠাবান রায়চৌধুরী পরিবারের কন্যা ছয় বছরের সারদাদেবীকে। তিনি ছিলেন রত্নগর্ভা। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় ঠাকুরবাড়ির সংসার ছিল নানা প্রতিভায় সমৃদ্ধ চাঁদের হাট। প্রথম পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ দার্শনিক, কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রশিল্পী, গায়ক, সুরকার, নাট্যকার ও স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। জ্যোতিরিন্দ্র জায়া কাদম্বরী দেবী ছিলেন বিদূষী, গায়িকা ও সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক। পঞ্চম কন্যা স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির উপন্যাস লেখিকা। চতুর্দশ গর্ভজাত অষ্টমপুত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেন বিশ্বকবি। রবীন্দ্রপ্রতিভা বিকাশে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী ও জ্যোতিরিন্দ্র জায়া কাদম্বরীর দেবীর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৮৭৩ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বালক ররীন্দ্রনাথ পিতার সাথে শান্তিনিকেতন হয়ে হিমালয় ভ্রমণে যান। সেখানে দেবেন্দ্রনাথ বালক রবীন্দ্রনাথ রচিত ব্রহ্মসঙ্গীত “নয়ন তোমার পায় না দেখিতে …” রবীন্দ্র কণ্ঠে অভিভূত ও আপ্লুত হন এবং পুত্রকে পাঁচশত টাকার একটি চেক উপহার দেন।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বরঞ্জিনী সভাই (১৮৩৯) তত্ত্ববোধিনী সভা রূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা যা ধর্মতত্ত্ব আলোচনার পীঠস্থানে পরিণত হয়। ১৮৪৩ সালে অক্ষয়কুমার দত্ত সম্পাদিত এবং দেবেন্দ্রনাথের অর্থানুকুল্যে ও নির্দেশনায় প্রকাশিত হয় “তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা”। এই পত্রিকার পরবর্তীকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, ব্রাহ্মধর্মতত্ত্ব ও জাতীয় সংস্কৃতির আলোচনার মূল হাতিয়ার। মহর্ষির সাহিত্যকৃতিকে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে তাঁর “আত্মজীবনী”। তিনি উক্ত গ্রন্থটি প্রিয়নাথ শাস্ত্রীকে দান করেন এবং তাঁর নির্দেশে তাঁর মৃত্যুর পর গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গভীর আধ্যাত্মিক চিন্তা, সাত্ত্বিকভাব ও সাত্ত্বিক মন নিয়ে মহর্ষি তাঁর ঈশ্বর সম্পর্কে যে বিচিত্র অনুভূতি লাভ করেছিলেন তা পরবর্তীকালে বাংলা সাধুগদ্যরীতি ও ভাষাশিল্পে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর বক্তৃতা ও ধর্মালোচনা কেবল অথ্যভিত্তিক ছিল না, তা ছিল প্রগাঢ় অনুভূতিমূলক ও হৃদয়গ্রাহী। রাজনারায়ণ বসু লিখেছেন “ব্রহ্মসমাজের বক্তৃতার মধ্যে শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যাখ্যান অতি প্রসিদ্ধ, উহা তড়িতের ন্যায় অন্তরে প্রবেশ করিয়া আত্মাকে চমকিত করিয়া তোলে এবং মনশ্চক্ষু সমক্ষে অমৃতের সোপন প্রদর্শন করে।” আবার গবেষক মোতিলাল মজুমদার বলেছেন, “দেবেন্দ্রনাথের বাংলাসাহিত্যের মধ্য ধর্মজীবন উপনিষদের বাণী যেভাবে পুষ্পিত ও বিকশিত হইয়াছিল তেমন আর সে যুগে কোথাও দেখা যায় না।” মাতৃভাষার প্রতি দেবেন্দ্রনাথের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ছিল।
পিতামহী অলকা সুন্দরীর মৃত্যুর পর দেবেন্দ্রনাথের মনে উদিত হয় প্রবল বৈরাগ্যভাব। ঈশ্বর ও সত্যতত্ত্ব কী তা জানবার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। পরে একদা ঈশোপনিষদের পাতায় তিনি পেলেন “ঈষাবাস্যামিদং সর্ব্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ …” ঈশ্বর জগৎময় — এই ভাবনা থেকে তাঁর হৃদয়ে উদিত হয় একেশ্বরবাদ। রাজা রামমোহনের সংস্পর্শে এসে যুক্তিবাদের নিরিখে তা আরও সমৃদ্ধ হয়। নবজাগরণের ভগীরথ রামমোহনের অন্তরে একদা ব্রহ্মচিন্তার যে বীজ উপ্ত হয়েছিল, তা দেবেন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায় ব্রাহ্মসমাজরূপে মহীরূহে পরিণত হয়, তাঁর মূল হাতিয়ার তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার মাধ্যমে।
ইংরাজীয়ানার দিকে যখন যুব সমাজ আকৃষ্ট, তখন ব্রাহ্মসভার মাধ্যমে বেদান্ত শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রাচীনত্বকে আঁকড়ে থেকে মসিঅস্ত্রে শান দিলেন এবং বিজ্ঞান চেতনার মধ্য দিয়ে তিনি ধর্ম সংষ্কারে ব্রতী হলেন। ১৮৫৯ সালে ব্রাহ্মধর্মের নির্মল মুক্তিপ্রদ জ্ঞানার্জনের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়ে তিনি নব্যসমাজের অনেককে ঈশ্বরপতের দিশা ও গভীর তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। দিকে দিকে ব্রহ্মসমাজের কেন্দ্র গড়ে উঠলো। উল্লেখ্য বীরভূম জেলার রায়পুর থানার অন্তর্গত ভূবনডাঙ্গায় ২০ বিঘা জমি কিনে দেবেন্দ্রনাথ তাঁর স্বপ্নের শান্তিনিকেতন আশ্রম ও ব্রহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি বিশজন বিশ্বস্ত ব্রহ্মবাদীদের সঙ্গে নিয়ে মহাসমারোহে মহান আচার্য রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীসের কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং এই অনুষ্ঠানে ব্রহ্মসঙ্গীত পরিবেশন করেন পুত্র রবীন্দ্রনাথ। এই শুভদিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শান্তিনিকেতনে ১৮৯২ সালের ৭ই পৌষ ঐতিহাসিক পৌষমেলার সূচনা হয়।
একদিকে হিন্দুধম৪এর পুরোহিত তন্ত্রবাদের অযৌক্তিক আচার সর্বস্বতা অপরদিকে ব্রাহ্মসমাজের নির্বাণসর্বস্ব অখণ্ড অদ্বৈতবাদ — এই দুই মতাদর্শের সমন্বয় সাধন করে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কথায় ও কাজে অনুভবময় ব্রহ্মসাধনা ও ভক্তিধর্মের আশ্রয়ে ধর্মপিপাসু মানুষজন প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তিলাভের পথ খুঁজে পান।
কথিত আছে ১৯০৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ইহলোক ত্যাগের আগে মহর্ষি ধ্যানস্থ অবস্থায় বলেছিলেন, “আমি আর এখানে নেই; অমরলোকে আছি।” এই ঋষিবাক্য সেদিন মিথ্যা হয়নি। তাঁর মতো মহর্ষির আবির্ভাব এক ঐতিহাসিক ঘটনা বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা। পুত্র রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তায় পিতা দেবেন্দ্রনাথের ব্রহ্মবাদী জীবন সাধনাই সমগ্র ভারতবর্ষের সমন্বয়ী আদর্শের সাধনারূপে প্রতিভাত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ পিতার উদ্দেশ্যে লিখেছেন — “ভোগেরে বেঁধেছ তুমি সংযমের সাথে, নির্মল বৈরাগ্যে দৈন্য করেছ উজ্জ্বল/ সম্পদেরে পুণ্যকম৪এ করেছ মঙ্গল/ লিখায়েছ স্বার্থত্যাজি সর্ব দুঃখে সুখে / সংসার রাখিতে নিত্য ব্রহ্মের সম্মুখে ।”
এই আদর্শ যেমন ভারতপথিক মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের, তেমনি নিত্য ভারতবর্ষেরও। এখানেই তাঁর স্বার্থকতা।