এরপর রাজা বিশ্বসিংহ লোকজন নিয়ে উপস্থিত হলেন নীলাচলে। জঙ্গল পরিষ্কার করে পীঠস্তূপের খননের ব্যবস্থা করলেন। ধীরে ধীরে কামদেবের প্রস্তরনির্মিত ধ্বংসাবিশিষ্ট মন্দিরের নিম্নভাগ এবং যোনি মুদ্রাসহ মূল পীঠ আবিষ্কার হলো। মহারাজের আনন্দের সীমা নেই তিনি মন্দির নির্মান কাজ শুরু করলেন। প্রতিজ্ঞা অনুসারে সোনার মন্দির তৈরির পরিবর্তে ইঁটের তৈরি মন্দির নির্মানের কাজ শুরু করলেন।
একদিন রাতে রাজা স্বপ্ন দেখলেন এক রক্তবস্ত্র পরিহিত কুমারী তাঁর মাথার শিয়রে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলছে, তুমি বলেছিলে সোনার মন্দির করে দেবে কেন তুমি ইঁটের তৈরি মন্দির করছো।
রাজা বুঝতে পারলেন ইনি স্বয়ং মা কামাখ্যা। রাজা হাতজোড় করে দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বললেন, এতো সোনা পাবো কোথায়। তখন সেই কুমারী মা বললো, ঠিক আছে প্রতি ইঁটে একরতি করে সোনাদিয় ইঁট তৈরি করো। মহারাজ বিশ্বসিংহ তাই করলেন। সেই সময় বাসত্তরীয় ব্রাহ্মণরাই শীর্ষস্থানীয় ব্রাহ্মণ ছিলেন। মহারাজ শেয়ালকুচি গ্রাম থেকে তাদের এনে দেবত্বর ভূমি দান করে মায়ের পূজার্চনার ব্যবস্থা করলেন।
নাঃ তুমি দেখছি মাথাটা খারাপ করে দেবে।
কেন!
আমরা এখন ইন্টারনেট যুগে বাস করছি এই সব মানা যায়।
আমি যদি প্রমণ করে দিই এই গল্পের মধ্যেও বিজ্ঞান আছে।
তোমাকে পাগল বই কেউ কিছু বলবে না।
তাহলে থাক তোকে আর শুনতে হবে না।
আচ্ছা আচ্ছা বলো শুনি।
ভূমি কর্ষণ করলে তবে ফসল ফলে। এটা মানিস।
হ্যাঁ।

শুধু কর্ষন করলেই হবে। বীজ লাগবে, জল লাগবে। ভূমিকে ফসল ফলানোর জন্য উপযুক্ত করতে হবে তবে ফসল ফলবে। এটা মানিস।
মানি।
শুকনো মাটিতে নিশ্চই ফসল ফলবে না।
কখনোই না।
আচ্ছা বর্ষা হয় কোন প্রিয়েডে?
আষাঢ়-শ্রাবণ মাস।
আষাঢ়-শ্রাবণ মাস নিশ্চই মাসে মাসে আসে না। বছরে একবার আসে।
দাঁড়াও দাঁড়াও দাঁড়াও। তুমি এতোদূর ভেবেছো!
আমি ভাবি নি। তখনকার দিনের মুনি ঋষিদের খেয়েদেয়ে কোন কাজ ছিল না। তারাতো টিভি দেখতো না, আর ইন্টারনেটের বোতাম টিপতো না। তাদের জ্ঞান বুদ্ধিতে পরিবেশের প্রভাব বেশি থাকতো। তাই তারা আমাদের থেকে অনেক বেশি জ্ঞাণী গুনী ছিলেন।
এক থেকে দশ এই সংখ্যা শিখেছিস কি করে।
ওয়ান টু থ্রি ফোর….।
ও তোরা তো আবার ইংলিশ মিডিয়াম। আমরা এক থেকে দশ কিভাবে শিখেছি জানিস।
বলো।
একে চন্দ্র, দু-এ পক্ষ (কৃষ্ণপক্ষ মানে অমাবস্যা আর শুক্লপক্ষ হচ্ছে পূর্ণিমা), তিনে নেত্র মানে আমাদের তিনটে চোখ কেতাবী ভাষায় থার্ড আই হচ্ছে মন, চারিবেদ (ঋক, সাম, যজু, অথর্ব), পাঁচে পঞ্চবান (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক), ছয়ে ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত বসন্ত), সাতে সমুদ্র, আটে অষ্টবসু, নয়ে নবগ্রহ, দশে দিক।
শেষের গুলো বললে না।
জেনে নে।
এবার আসল কথায় এসো।

কেনো বলছি এই তিনদিন মা ঋতুমতী হচ্ছেন। কেনই বা বলছি অম্বুবাচী।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তির পর আষাঢ় মাসে কৃষ্ণপক্ষে মিথুন রাশিতে সূর্য যখন মৃগশিরা নক্ষত্রের তিন পাদ পর চতুর্থ পাদে আদ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদ ভোগ করে তখন পৃথিবী ঋতুমতী হন। এই সময়কে অম্বুবাচী বলে।
সাধারণতঃ ৬ই কিংবা ৭ই আষাঢ় থেকে ১০ই কিংবা ১১ই আষাঢ় পর্যন্ত এই যোগ থাকে।
ঝেড়ে কাশো।
তুই যদি একটু খেয়াল করিস তাহলে দেখবি এই প্রিয়েডটায় বর্ষা আরম্ভের সময়। এর আগে ধরণী অর্থাৎ পৃথিবী থাকে শুকনো খটখটে। সৃষ্টির সব কিছুই কেমন যেন ঝিমিয়ে পরে। বর্ষার জল পেয়ে এরাই কেমন যেন চনমনে হয়ে ওঠে। কৃষকেরা নাচতে নাচতে মাঠে যায়। জমি কর্ষণ করে। ফসল ফলায়।
একটু ভাবলে দেখতে পাবি, বর্ষা কিন্তু পাকা পাকি ভাবে বিদায় নেয় ভাদ্র মাসের গোড়ার দিকে। তারপর আবার বর্ষার দেখা পাওয়া যায় একবছর পর। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস।
আমার কাছে টোটাল ব্যাপারটা সিম্বলিক।
সঠিক ভাবে মন রাখার জন্য ধর্মের আধারে তাকে ব্যাখ্যা করা। মানুষ ধর্মভীরু।
আমাদের মানব জীবনে তুই এটাকে ইমপ্লিমেন্ট কর। দেখবি মিলে যাচ্ছে।
আবার অম্বুবাচির দিন কয়েক আগে দশহারা বা গঙ্গাপূজো। ঠিক এই প্রিয়েড থেকে দুর্গাপূজো পর্যন্ত একটা ফেজ চলে। ধর্মীয় বাতাবরণে তাদের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমার একটা নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে।
ব্যাপারটা নিয়ে আমি তাবড় তাবড় লোকের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ আমাকে সঠিক উত্তর দিতে পারে নি।
কি রকম।
সে আর এক গল্প।
শুনি না।
এক জায়গায় এটা লিখেছিলাম। অনেক হৈ হৈ হয়ছে সেটাই তোকে বলতে হয়।
আমি পরেছি?
কি করে বলবো।
বলো শুনি।
ধরে নে এটা একটা গল্প।
ধরে নিলাম।

মহালয়ার দিন দেবীপক্ষ শুরু। তারমানে বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসবের ঘন্টা বেজে গেলো। অফিস-কাছারি থেকে শুরু করে যেখানেই যাবি শুধু পূজো পূজো গন্ধ, পূজোর চারদিন কে কি খাবে। কি ভাবে পূজোর চারটে দিন চুটিয়ে কোথায় কি ভাবে আড্ডামারা হবে এই সব আর কি।
আর কাগজের অফিসে? পূজোর নিত্য নতুন খবর চাই। কোন বনেদি বাড়ির পূজো কি রকম, কোন রাজবাড়ির পূজোতে কি ধরণের উপকরণ বংশ পরম্পরায় চলে এসেছে এইসব আর কি।
সেবার আমর ওপরও দায়িত্ব বর্তেছে লিখতে হবে। নতুন লেখা। মহা ফাঁপরে পড়ে গেলাম।
মাঝে মাঝে আমার মনে এমন সব উদ্ভট চিন্তা ভাবনার উদয় হয় যে কি বলবো। প্রায় নিজেই নিজের ওপর রাগ করি। কেনো বাবা আর কি জায়গা পেলে না আমার মনে এসেই বাসা বাঁধতে হবে।
মহালয়ার কয়েকদিন আগে বিশ্বকর্মা পূজো।
হিন্দু দেব-দেবী মতে দেবতা বিশ্বকর্মা হচ্ছেন দেবতাদের আর্কিটেকচার।
স্বর্গে যতো প্রাসাদ তৈরি হয়েছে তা উনি ডিজাইন করেছেন এবং তৈরি করেছেন। যাদের মেসিন পত্র নিয়ে কারবার তাদের এইদিন মেসিন-পত্র বন্ধ। পূজো আর প্রাণ ভরে খাওয়া-দাওয়া করো।
আমাদের অফিসেও মেসিন-পত্র আছে, বন্ধ থাকলে কাগজ বন্ধ, তা হয় না। তাই পূজো হলেও মেসিন চলে, দৈনিক কাগজও বার হয়। কিন্তু পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়াটা জোরদার হয়। (আগামীকাল)
DADA KAJALDIDHI TA KI 240 ER POR R PABONA R JODI KOTHAO BOOK HISABE BERIYE THAKE SETAO EKTU KINDLY BOLUN