করোনা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকার। বিগত ১০ দিন ধরে কোনো তথ্যই জনসমক্ষে আনেনি তারা! এর ফলে রাজ্যজুড়ে করোনা আতঙ্কও বাড়ছে।
এবার প্রশ্ন শেষ কবে তথ্য জানিয়েছিল রাজ্য সরকার? গত ২৬ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশ সরকারের স্বাস্থ্য দফতর শেষ বার বুলেটিন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট ৩৮,৭০৮ জনের লালা রস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪৩০ জনের পরীক্ষা রিপোর্ট আসা বাকি রয়েছে। এই বুলেটিন প্রকাশের পরেই তড়িঘড়ি আরেকটি বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। সেখানে মোট কত জনের পরীক্ষা করা হয়েছে, কত জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বা কত জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে–এই সব তথ্য দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দুটি বুলেটিনে তথ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক ছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, একটা বুলেটিন প্রকাশের পর কেন তড়িঘড়ি পরবর্তী বুলেটিন প্রকাশ করা হলো? কেন দুটি বুলেটিনের মধ্যে এত তথ্যের ফারাক? তাহলে সরকার কি আসল তথ্য ধামাচাপা দিতে চাইছে?এতেই আশঙ্কার মেঘ দেখছেন চিকিৎসক, গবেষকরা।
মধ্যপ্রদেশ সরকার তথ্য চেপে গেলেও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ৫ মে-র তথ্যে জানা যাচ্ছে, মধ্যপ্রদেশে এই মুহূর্তে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৪৯ জন।
করোনার অন্যতম হটস্পট ইন্দোর থেকে ১০৮৯৯ টি নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ইতিমধ্যেই ১৭৬ মারা গেছেন। দেশে মৃত্যুর জাতীয় গড় হার যখন ৩.৪২% তখন বিজেপি শাসিত এই রাজ্যের মৃত্যুর হার ৫.৭৭%। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রের শাসক দলের মুখ পুড়বে ভেবেই কি তথ্য জনসমক্ষে আনছে না মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার? এই কারসাজি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষকে এর জন্য একদিন চরম মূল্যও দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা।