কেউ জানেন, কারও হয়তো অজানা। নিজেকে ফিট রাখতে দিনে ২০ কিলোমিটার হাঁটা মাস্ট। আর ২০ বছর হয়ে গেল ভাত খান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তা এখন খেতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার ১ এপ্রিল নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে লকডাউনের গুরুত্ব বোঝাচ্ছিলেন তিনি। তখনই জানালেন ২০ বছর যা খাননি তাই খেতে হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার বাড়িতে এখন কাউকে আসতে দিচ্ছি না। দুটি মেয়ে সব সময় থাকে। ওরা যা খায় আমি তাও পাই না। মুড়ি খাই। চিকিৎসকরা বলেছেন, ইমিউনিটি বাড়াতে ফ্লুইড খেতে। তাই এক চামচ ভাত, ডাল আর আলু সিদ্ধ দিয়ে খাচ্ছি। মনে রাখবেন, এখন লাটসাহেবি করার সময় নয়। আলু সিদ্ধ ভাত পেট ভরে খেলে ভালো থাকবেন।

করোনা আবহে ঘরের মধ্যে থাকতে সকলকে হাতজোড় করে অনুরোধ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২ থেকে ৩ সপ্তাহ নিজেদের শরীরের প্রতি যত্ন নিন। জল বেশি করে খাবেন। অনেকে ওআরএস খান। নুন-চিনি খেতে পারেন। করোনা সংক্রমণ এড়াতে উষ্ণ গরম জলে লেবুর রস দিয়ে খান। প্রবীণ মানুষরা নানা রোগে ভোগেন। তাঁদের প্রতি যত্ন নিতে হবে। দমবন্ধ ঘরে না থেকে জানালা খুলে রাখুন। অক্সিজেনের সমস্যা থাকলে ঘরে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখতে পারেন, ঘরেই অক্সিজেন দিলে অনেক সময় অক্সিজেনের প্যারামিটার ঠিক হয়ে যায়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী নিমপাতা, সজনে ডাটা থেকে শুরু করে কাঁঠালি কলা, ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মানসিকভাবে ভালো থাকতে তাঁর দাওয়াই কজন আক্রান্ত, কজন মারা গেলেন তা নিয়ে না ভেবে নজর রাখুন করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষদের দিকে। একসঙ্গে তিনি রাস্তার ধারে আড্ডা, খেলাধুলো করা, ঘুরে বেড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। বাজারে ভিড় না করতে বলেছেন। তাঁর কথায়, আপনি লকডাউন নির্দেশিকা অমান্য করলে আপনার জন্য আপনার পরিবার শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত সকলকে বাঁচাতে পারে। পথশিশুদের যেখানে নাইট শেল্টারে রেখে খাওয়ানো হচ্ছে সেখানে কেউ অকারণে বাইরে বেরোবেন না। কমপ্লিট লকডাউন হলেই স্টেজ থ্রি এড়ানো সম্ভব।