পুলিশ শুধু একটি পেশার নাম নয়। পুলিশ একটি আবেগ, একটি সিস্টেম বা পদ্ধতির নাম। মানুষের সাথে, মানুষের পাশে সবসময় যে পুলিশ কমীর্রা রয়েছেন, সেটা লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে উপলব্ধি করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের মেয়ে সঞ্চিতা পাত্র, জন্ম থেকেই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রত্যেক মাসেই তাকে নিয়ম করে রক্ত দিতে হয়। লকডাউনের ফলে এইরকম শ-য়ে শ-য়ে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্তেরা বিপদে পড়েছেন। রক্তের অপ্রতুলতা তার সঙ্গে হাসপাতালের অস্বাবাবিক অবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সব জায়গাতেই পুলিশ কর্মীরা রক্তদানের মাধ্যমে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে সচল রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু ছোট্ট মেয়ে সঞ্চিতার O+ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে খুব সিরিয়াস অবস্থায় সঞ্চিতার বাবা-মা প্রথমে তাকে গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর হাসপাতালে ভর্তি করেন সেখান থেকে তাকে নিয়ে এসে কাকদ্বীপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে O+ গ্রুপের রক্ত না পাওয়া যেতে সঞ্চিতার বাবা সোজা চলে আসেন কাকদ্বীপ থানায়। সেখানে তিনি সমস্ত কথা জানান। কিন্তু লকডাউন চলছে থানার আইসি সুদীপ সিংহ তাঁকে কিভাবে সাহায্য করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না, পাশে ছিলেন ওই থানার এএসআই শওকত আলী সেনাপতি। তাঁর রক্তের গ্রুপ O+ হওয়ায় তিনি ছোট্ট সঞ্চিতাকে বাচাঁতে সঙ্গে সঙ্গে কাকদ্বীপ হাসপাতালে চলে যান। রক্ত দিয়ে সঞ্চিতাকে সুস্থ এবং সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত করেন। এর আগে সঞ্চিতাকে গঙ্গাসাগর রুদ্রনগর হাসপাতালে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিলেন গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিক ভলেন্টিয়ার। স্যালুট তোমাদের স্যার। প্রচারের আলোর বাইরেও যে একটা মস্ত পৃথিবী আছে তোমরাই তার সাক্ষাৎ নিদর্শন।