মর্নিং ওয়াক? একদমই নয়। ইভিনিং ওয়াক? কোনও প্রশ্নই ওঠে না। লকডাউনের দিনগুলোতে আপাতত ভুলে যান ওইসব। বাড়িতে বসে যাঁরা ছটফট করছেন তাঁরা সংযত করুন নিজেদের। ভুলে যান সকাল, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় বাইরে রুটিনমাফিক হাঁটার কথা। শরীরচর্চার বিকল্প পথ খুঁজে নিন বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই। শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। কারণ, এই মুহূর্তে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে আছে নোভেল করোনা। একদিকে দৃশ্যমান আতঙ্ক, অন্যদিকে অদৃশ্য শত্রু। আমজনতার প্রতি এই পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মহলের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরবন্দি বলে হতেই পারে মানসিক এবং শারীরিক অস্বস্তি। কিন্তু তা মানিয়ে নিতেই হবে। শুধুমাত্র নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সুরক্ষিত রাখতে এবং অবশ্যই রাজ্য তথা দেশবাসীকে নিরাপদে রাখতে। কথা হচ্ছিল এস এস কে এমের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির অধিকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সাহার সঙ্গে। লকডাউনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, এর প্রভাবে মানুষের Sense of Autonomy তে কিছুটা আঘাত লাগা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ কী? অনেকে ভাবতেই পারেন, তাঁর কথা বলার এবং যেখানে খুশি যাওয়ার স্বাধীনতা আছে। কে কার কাছে যাবেন, কতটা কাছাকাছি যাবেন বা কতটা দুরত্ব রাখবেন, এটাও যার যার নিজস্ব ব্যাপার। টানা লকডাউনের ফলে এই জায়গাটাতেই ঘা লাগছে হয়তো অনেকের। সবথেকে বড় কথা, বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে নিজের কাজের জায়গায় যথেষ্ট যোগ্য বলে মনে করেন। ফলে একটানা ঘরে বসে থাকার ফলে নিজেদের কর্মক্ষমতা হ্রাস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেককেই গ্রাস করতে পারে। ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে নিজেকে মনে হতে পারে অপদার্থ। এই অনুভূতি থেকেই জন্ম নিতে পারে উৎকন্ঠা, হতাশা কিংবা অবসাদ। সেই সঙ্গে করোনাকে কেন্দ্র করে সাইকো-ফোবিয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের এই মূল সমস্যাটা উপলব্ধি করে এর থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টাটা কিন্তু করতে হবে নিজেদেরই। কীভাবে? মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ সাহার পরামর্শ—
একই সুরে তরুণ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
ডা.অগ্নিভ মাইতি। এস এস কে এমের চিকিৎসক। ডা. প্রদীপ সাহারই ছাত্র। শিক্ষকের পরামর্শের সূত্র ধরেই তরুণ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অগ্নিভ বললেন, লকডাউন অমান্য করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে শরীরচর্চা ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ। সে মর্নিং ওয়াক, ইভিনিং ওয়াক, জিম—যাই হোক না কেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁদের সহজেই কাবু করে ফেলতে পারে নোভেল করোনার আক্রমণ। তাই ছাদ, সিঁড়ি, লন কিংবা কিছু না হলে ঘরের মধ্যেই বেছে নিতে হাঁটা এবং শরীরচর্চার জায়গা। বাড়িতে ব্যায়ামের উপকরণ থাকলে তো আরও ভালো। অগ্নিভর আশ্বাস, দু-একদিন শরীরচর্চায় বিঘ্ন ঘটতেই পারে। কিন্তু তাতে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে বেশিদিন বিঘ্নিত হলে কিন্তু ঘাটতি দেখা দিতে পারে প্রতিরোধ ক্ষমতার। অবশ্য বেশিদিন বাড়িতে থাকলে খাওয়া-দাওয়াতেও একটু সংযম আনা জরুরি বলে জানিয়েছেন ডা. মাইতি।
অধিকর্তার অনুরোধ
অভূতপূর্ব এই ভাইরাস-সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে সরকারি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ রেখেছেন ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির অধিকর্তা ডা. প্রদীপ সাহা। তাঁর বক্তব্য, নিজের জীবনকে বিপন্ন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতালে, বাজারে। রাস্তায় নেমে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোথায় কতটা দুরত্ব রাখতে হবে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ফ্রন্টলাইন সেনার থেকেও বেশি। মানুষের সুরক্ষার স্বার্থেই তাঁর কথা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।