শারদীয় উৎসবে মেতেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এখানকার মানুষ। বিভিন্ন থিমের পুজোগুলি ঘিরে নজরকাড়া ভিড়। ষষ্ঠীর দিন থেকেই প্রতিটি সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে বাঁধভাঙা ভিড় উপচে পড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনও কঠোরহাতে মোকাবেলায় নেমেছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যান্য বিগ বাজেটের দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম গঙ্গারামপুর ফুটবল ক্লাবের পুজো। ৪৫ বছরে পদার্পণ করল। এবারের থিম ‘নিরুদ্দেশের খোঁজে’। যা ষষ্ঠীর দিন থেকেই হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন তা দেখতে। পুজোমণ্ডপ তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ পাটের উপকরণ দিয়ে। শিল্পীর হাতের অপূর্ব কারুকার্যময় সকলকে মুগ্ধ করেছে। পাটের সমস্ত কিছু দিয়ে শিল্পী ফুটিয়ে তুলেছেন বিভিন্ন মডেল। মডেলে উঠে এসেছে নারী – পুরুষ ও শিশুরা। এছাড়া বিভিন্ন রকম পশু ও জীবজন্তুর মডেলও শিল্পী নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। যা দর্শনার্থীরা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবারের পুজোর থিম দেখতে পঞ্চমীর দিন থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। পূর্ব মেদনীপুরের আগত শিল্পী ও কারিগরদের প্রচেষ্টার ফসল হল পাটের উপকরণ দিয়ে অপূর্ব পুজোমণ্ডপ। মানুষের জীবন থেকে যেসব জিনিস হারিয়ে গেছে সেই জিনিসগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শিল্পীরা।

প্রসঙ্গত, পুজোকে কেন্দ্র করে বসেছে মেলা। এছাড়া মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলার মধ্যে সেরার শিরোপা পাওয়ার আশা করছে এবারেও ক্লাব কতৃপক্ষ। ক্লাবের সম্পাদক গৌর ঘোষ জানান, পুজো পাঁচদিনই থাকছে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান। ২০ লক্ষ টাকার বাজেটের থিম নজর কাড়বে এমনটাই আশা।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ পরিবেশে শারদীয় উৎসবে আলাদা মাত্রা পেয়েছে এখানকার পুজোগুলিতে। গত দু-বছর করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পেয়ে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মেতেছে মানুষ।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মোট দশটি দুর্গাপুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছেন। এই জেলার সদর শহর বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, বুনিয়াদপুর, কুশমণ্ডি, হরিরামপুর, হিলি তপন, কুমাগঞ্জ সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় সর্বজনীন পুজোমণ্ডপগুলি বিভিন্ন থিমের পসরা সাজিয়ে বসেছে। আর তা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে ষষ্ঠীর সকাল থেকেই।
সীমান্ত জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতেও শারদীয় উৎসবে আনন্দে মেতেছে মানুষ। জেলাজুড়ে সীমান্তবর্তী এলাকাতে সর্বজনীন পুজোগুলিতে থিমের ছড়াছড়ি। জমেছে দুর্গোৎসবও।