| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

সংবাদ নিয়ে মিথ্যাচারিতার কোনো গুরুত্ব নেই : ড. মিল্টন বিশ্বাস

Reporter
ড. মিল্টন বিশ্বাস / ৫৭৭ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১০ জুলাই, ২০২৩

‘দৈনিক প্রথম আলো’ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নিয়েছে। আসলে কোনো কোনো গণমাধ্যমকর্মী নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্বেচ্ছাচারীর ভূমিকা পালন করেন। আবার কেউ কেউ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছেন। যেমন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে কেউ কেউ বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে দেশদ্রোহী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আজ বিশ্বব্যাপী একথা স্বীকৃত যে, গণমাধ্যমের মাধ্যমেই নিজেদের পরিশীলিত করা যায়। এসব কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করলে তা দেশ ও জনতার ক্ষতি হিসেবে গণ্য হবে- এটা মনে রাখা দরকার মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সবার। সাধারণ মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম উৎস হলো — গণমাধ্যম। তা যেন নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনে ব্যস্ত না থাকে। বরং দেশপ্রেমিক পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথা ও বক্তব্যকে নিজের দেশের জন্য যথার্থ বিবেচনা করে বিকৃত না করে প্রচার করতে হবে।

দুই.

লেখাবাহুল্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের মন্তব্যকে বিকৃত করে আবারও মিডিয়া ক্যু হয়েছে। ‘প্রথম আলো’র সাংবাদিক সোহরাব হাসান (৯ জুলাই ২০২৩) তার পত্রিকার কলামে লিখেছেন : “পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে বলেছেন, ‘আপনারা যত খুশি পর্যবেক্ষক পাঠান, আমরা স্বাগত জানাব।’ আর দেশে এসে বলছেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষক এল কি এল না, তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।’ কোনটা সত্য? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমস্যা হলো তিনি সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা। মানুষ কোনটা বিশ্বাস করবে?”

সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক। পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ছোট করা মানে সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করা- এটা তিনি ভালো করেই জানেন ও বুঝেন। জেনে-বুঝে আক্রমণান্তক লেখনি উপস্থাপন করেছেন তিনি। উদ্দেশ্য — সরকারকে নাজেহাল করা।

এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি দেশে-বিদেশে কোথাও বলেছেন — বিদেশের পর্যবেক্ষকদের আমরা চাই না বা আসতে দিব না বা কোনো বাধা আছে? দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন করেন, বিদেশের পর্যবেক্ষক না পাঠালে কী হবে? আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাবে যদি বলেন যে, তারা পর্যবেক্ষক না পাঠালে তো কিছু আসে যায় না, এতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তো কোনো সমস্যা নাই। তিনি যদি আমেরিকা, ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, অনেক দেশেই তো নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায় না তাতে কি সমস্যা হয়েছে?

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ৮ জুলাই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই কথাটিই বলেছিলেন, ‘তারা যদি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায় আমরা তাদের স্বাগত জানাই। আর যদি না পাঠায় তাতে কিছু যায় আসে না।’

সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকা, ভারত-সহ অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে দেশের সংবিধান ও আইনের আলোকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। তিনি যদি আমেরিকা, ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, অনেক দেশেই তো নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ডাকেই না তাতে কি তাদের নির্বাচনে সমস্যা হয়েছে?

এখনে একটি প্রশ্ন এসে যায়, একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকার যুগ্মসম্পাদক হিসেবে সোহরাব সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তিপূর্ণ ও সত্য কথাটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন কেন? এর কী কারণ থাকতে পারে? তিনি সম্ভবত উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী ও বিশেষ দেশকে খুশি করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হেয় করে আগামী নির্বাচন সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করছেন।

এখানে আরো উল্লেখ করা দরকার, ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সোহরাব সাহেবের পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ-ও উপস্থিত ছিলেন যিনি অতি সম্প্রতি আমেরিকার স্পন্সরে সেই দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা শিখতে গিয়েছিলেন। ধারণা করা যায়- তিনি প্রতিবেদক হিসেবে ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে কী আলোচনা হয়েছে তা সোহরাব সাহেবকে অবহিত করেছিলেন। এখনে আরেকটা প্রশ্ন এসে যাচ্ছে তাহলে কি তাদের চক্র বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা শেখার নামে বিশেষ দেশের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল শিখে এসেছেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। উক্ত অনুষ্ঠানের (৮ জুলাই) প্রশ্ন-উত্তর পর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশ নিম্নরূপ-

‘‘দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষায় নির্বাচন প্রক্রিয়া আগের থেকে অনেক অনেক পরিপক্ব। সুতরাং নাম্বার ওয়ান পার্টিসিপেশন আমাদের করতে হবে। আমরাও এলার্ট, আমরাও পার্টিসিপেশন চাই। এই পার্টিসিপেশন সবচেয়ে ভালো হওয়ার জন্যে আমরা ভোটার লিস্ট তৈরি করেছি। আমি আগেও আপনাদের বলেছি যে, ভোটার আইডি করেছি আমরা। যাতে ফেইক ভোটার না থাকে। এক কোটি ত্রিশ লক্ষ বিএনপি মার্কা ফেইক ভোটার করতে চাই না। সবই এখন স্বচ্ছ। আপনার ফটো, বায়োমেট্রিক ফটো আমরা নিশ্চিত করেছি। সিটি করপোরেশনের ইলেকশনগুলোতে আপনারা দেখেছেন। আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বক্স তৈরি করেছি, যাতে কেউ আগে থেকে ব্যালট স্মাগলিং করতে না পারে। আর একটা ইনডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন কমিশন তৈরি করেছি আইনের মাধ্যমে। সব তথ্যের মাধ্যমে ইলেকশনতো সেই কন্ডাক্ট করবে। ওই সময় অফিসার যা কিছু মনে করে- কাউকে টার্মিনেট করতে পারে, ট্রান্সফারও করতে পারে। প্রচেষ্টা থাকবে যাতে সবাই স্বচ্ছভাবে ভোট দান করে সরকার গঠন করতে পারে।

আর বিদেশীরা আসেন বিভিন্ন দেশ থেকে। তারা আসুক দেখুক এবং আই হোপ তারা তখন সার্টিফিকেট দিবে modern Election হিসেবে। আশা করছি যে আমাদের ইলেকশনটা Will be modern Election in the World।

আমরা আফগানিস্তান কিংবা মায়ানমারের মতো ইলেকশন করতে চাই না। সেগুলো পশ্চিমারা সার্টিফাই করেছে ভালো ইলেকশন হিসেবে। আমরা সব দলকে নিয়েই নির্বাচন করতে চাই।

কোনোদিন ভারতবর্ষে সন্ত্রাসী দল ইলেকশনে আসে নি। আমেরিকাতেও নজির নাই। এদেশে সন্ত্রাসী দল থাকতে পারে — তারা যদি না আসে তাহলে নির্বাচনের কিছু যায় আসে না। তবে যারা পলিটিক্যাল পার্টি তাদের প্রত্যেককে আমরা চাই। সুতরাং ইউরোপিয়ান পার্টি বলেন, আমেরিকান পার্টি যেই আছেন তাদের আমরা দেখাতে চাই, আমাদের লুকানোর কিছুই নাই। কিন্তু তারা যদি মাতব্বরি করতে আসেন সেটা ভালো হবে না। বরং যদি সাজেশন থাকে দিতে পারেন।

ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ কেউ হয়তো ইলেকশন বানচাল করার চেষ্টা করবে। সেটা যদি করে তাহলে দেশে অমঙ্গল ডেকে নিয়ে আসবে। আপনাদের-আমাদের সবার জন্য অমঙ্গল নিয়ে আসবে। সেই ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। ইলেকশন প্রসেস যাতে ধ্বংস না হয়। ইলেকশন প্রসেস ধ্বংস করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ খুব খারাপের দিক চালিত করা। উন্নয়নের মহাযাত্রা সব স্তম্ভিত হয়ে যাবে।

ইলেকশন প্রসেস যাতে কেউ ধ্বংস না করতে পারে — এটাই আমাদের পণ। আর প্রেসার টেসার আমাদের নাই।বিরোধী দলের দাবি নয় আমরা আমাদের নিজেদের তাগিদেই ইলেকশন করছি। সংবিধান মেনেই আমরা সক্রিয় সুন্দর ইলেকশন করছি। অন্যের পীড়াপীড়িতে না।

গত সাড়ে ১৪ বছরে একটা সুন্দর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জিয়া সাহেবের মতো ইয়েস নো সিদ্ধান্তে ছেড়ে দিতে চাই না। কিংবা গুন্ডামির দুনিয়াতে যেতে চাই না। এখন আমার ভোট আমি দেবো যাকে ইচ্ছা তাকে দেবো সেই সিদ্ধান্তে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিন.

‘প্রথম আলো’র মতো আরো অনেক পত্রিকা এবং টিভি ও অনলাইন নিউজে মন্ত্রী মহোদয়ের মন্তব্যকে বিকৃত করে মিথ্যাচার করা হয়েছে এবং হচ্ছে। ড. এ কে আব্দুল মোমেন সেদিন কি কথা বলেছিলেন তার ভয়েজ রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। তবু মিডিয়া ক্যু করে সজ্জন এই মন্ত্রীকে বিব্রত করা হচ্ছে বারবার। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ হওয়া দরকার।

ওয়াশিংটনে গত ১০ই এপ্রিল (২০২৩) আব্দুল মোমেন বৈঠক করেন অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে। এই বৈঠক নিয়েও মিথ্যাচারিতা করে প্রথম আলো।তখন পত্রিকার শিরোনাম ছিল-‘নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার’ (প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল) প্রকৃতপক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি জে ব্লিঙ্কেন সেদিন বলেছিলেন, বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে মুখিয়ে বিশ্ব। অন্যদিকে ড. মোমেন তাঁর বক্তব্যে উপস্থাপন করেন অনেকগুলো গুরুত্ববহ বিষয়। প্রকাশিত সংবাদটি এরকম — ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য তথা মডেল বা আদর্শ নির্বাচন দেখতে চায়। জবাবে আমি বলেছি, আমরাও তাই চাই। তিনি বলেন, আমি বলেছি গণতন্ত্র আমাদের রক্তে মিশে আছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে মানুষ রক্ত দিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মোমেন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং স্বচ্ছভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলেন, আমি বলেছি, বাংলাদেশ মার্কিন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানায় কিন্তু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো পক্ষপাতিত্বমূলক পর্যবেক্ষককে নয়। মন্ত্রী মোমেন বলেন, আমি বলেছি- একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলকেও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকদের অধিকার সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাসবাদ দূর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান মোমেন। বলেন, তিনি মার্কিন মন্ত্রীকে খোলাসা করেই বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। সেই সঙ্গে সরকার ও দল আশা করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সাহায্য-সহায়তাসহ নানাভাবে তারা খুশি রাখতে পেরেছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে সব দল এলেও তারা বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন। মন্ত্রী বলেন, এ জন্য আমার সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য তথা মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এই বক্তব্যে কোথাও ‘নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার’- প্রভৃতি প্রসঙ্গ নেই। অথচ হঠাৎ করে সোহরাব সাহেব আবিষ্কার করেছেন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতর অনুষঙ্গ। উপস্থাপন করেছেন মিথ্যা সংবাদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিডিয়ায় অপপ্রচার চলছে অনেকদিন যাবৎ। এজন্য ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, আমাদের দেশে সাংবাদিকতা যারা করেন তাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। এদের পরিপক্বতা দরকার।

অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য হলো — যে সাংবাদিকরা মিথ্যাচারিতা করেছেন, এটা তাদের জন্য লজ্জার বিষয়। এই ধরনের বানোয়াট জিনিস প্রকাশ করেছেন অনবরত। আমি অনেক সাংবাদিকদের বলেছি আপনাদের এই নিয়ে গবেষণা করা উচিত। কেন এতো নিম্নমানের এই সাংবাদিকতা। এটা আপনাদের জন্য দুঃখের বিষয়।…যে জিনিসগুলোর ধারে কাছে বলিনি সেগুলো সাংবাদিকরা প্রকাশ করেছেন। তারা কোন উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচারণা করছেন? তাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করবে আমরা বোধ হয় তাদের শত্রু। এমনভাবে প্রচারণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে শত্রু বানানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে যা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।’

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে একবার শত্রু বানায় মিডিয়া আবার সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মিডিয়া। এভাবে নানান মিথ্যাচারে ভরা সংবাদে সত্যিই পাঠকসমাজ হতভম্ব। অন্যদিকে মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে আতঙ্কিত নন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি নতুন নিয়ম-কানুনকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। ২৫ মে তিনি বলেছেন —‘এ ভিসা নীতি নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’ কারণ মার্কিন সরকার নিজেরাই বলেছে এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়।

চার.

অবশ্য একথা সত্য, স্বাধীনতার পরে গত ৫৩ বছরে মিডিয়ার ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হলেও বাংলাদেশী সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধ ততটা উন্নত হয়নি। এজন্য পরিতাপের সঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিকরা এসব নিয়ে অনেক কথা বলে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের গুরুত্ববহ ভূমিকা ছিল। কেবল চাকরি করা নয় বরং দেশ ও জাতির বিবেক হিসেবে সংবাদকর্মীরা বিবেচিত হতেন। বলা হয়ে থাকে সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানের বিষয় ছিল। একুশ শতকে নানাকারণে সেই সম্মানের জায়গাটা দখল করেছে পুঁজিপতিরা। তবু মিডিয়া বিশ্বব্যাপী মানুষের অধিকারের কথা বলে চলেছে।

মিডিয়াকে বঙ্গবন্ধু নিজের সাধ্যের মধ্যে রেখে প্রসারিত করেন তাঁর শাসনামলে। মুক্তিসংগ্রামে ইত্তেফাক, সংবাদ প্রভৃতি পত্রিকার প্রগতিশীল ভূমিকা তিনি ভালো করেই জানতেন। এজন্য ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু দেশের সংবাদপত্রকে স্বাধীন মতপ্রকাশে সুযোগ তৈরি করে দেন। এমনকি সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাজে সরকারি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা তৈরি করেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন পাস হওয়া ‘নিউজ পেপার ডিক্লারেশন এনালমেন্ট অর্ডিন্যান্স’নামে আইনটি করা হয়েছিল তখনকার সাংবাদিক নেতাদের পরামর্শে। এর আগ পর্যন্ত সাংবাদিকদের কোনো বেতন কাঠামো ছিল না। মালিকরা সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন দিতেন না। বঙ্গবন্ধু এসব জানতেন। এজন্য ৭৫ সালের ১৬ জুনের পর যেসব পত্রিকা বন্ধ করা হয় তিনি সেসব সাংবাদিক-কর্মচারীর বেতন নিশ্চিত করেছিলেন। তারা এক তারিখ ট্রেজারিতে গিয়ে বেতন নিয়ে আসতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যাবে না।’ গণসচেতনতা তৈরিতে মিডিয়ার ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকৃত।

এই গণসচেতনতা তৈরিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিজে একজন লেখক। জনপ্রিয় কলামিস্ট। তাঁর রয়েছে এক ডজনের অধিক গ্রন্থ। দেশ-বিদেশে যোগাযোগের দিক থেকেও তিনি পররাষ্ট্রনীতিকে সমুন্নত করেছেন। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জাতিসংঘের আঙিনায় আমাদের অধিকার আদায়ে তাঁর সদা তৎপরতা লক্ষণীয়।

বলা হয়ে থাকে, গণমাধ্যম জনগণের মতামতকে ঠিক করে দেয়। অর্থাৎ গণমাধ্যমের এজেন্ডা পাবলিক এজেন্ডায় পরিণত হয়। সমাজে নানা ঘটনার মধ্যে কোনটি বেশি আলোচিত হবে বা গুরুত্ব পাবে গণমাধ্যমই তা নির্ধারণ করে দেয়। এর মধ্যে সহজবোধ্য ও দ্রুততম তথ্য প্রাপ্তির উৎস হিসেবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া একধাপ এগিয়ে। অতীত এবং বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা যেমন নিশ্চিত করতে হয়েছে তেমনি স্বাধীনভাবে কাজ করার যাবতীয় দিক উন্মোচিত। সুশাসন প্রতিষ্ঠার গতি আরও ত্বরান্বিত এখন। আর সুশাসন সুমন্নত অবস্থানে আছে বলেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও ভাল হবে।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মিডিয়ার ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সত্যনিষ্ঠ প্রিন্ট ও টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক ন্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনলাইন গড়ে ওঠে। অপরদিকে ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমে কর্পোরেট মালিকানার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হলেও তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সাংবাদিকতায় উৎকর্ষ অর্জিত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ও সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০১ থেকে ২০০৮ অবধি সেই অগ্রগতি থমকে দাঁড়ালেও শেখ হাসিনার আমলে মিডিয়ার পরিস্থিতি অনেক ভালো।

এই ভালো সময়ে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের ঝোঁক মারাত্মকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে দেশকে। মিডিয়া যদি মনে করে থাকে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে জনপ্রিয় হবে তাদের হাউজ- তাহলে বোকার বেহেশতে বসবাস করছে তারা।

গত সাড়ে ১৪ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে এদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত আমলে গণমাধ্যমের করুণ দশা সকলেরই জানা। অবশ্য কর্পোরেট সুবিধার কথা ভেবে গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করা শুরু করেছে। অর্থাৎ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ সময়েও দেখা যায় বিশ্বের প্রায় ৭৭টি দেশে এখনও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ভিন্ন চিত্র। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রচুর। আর এই স্বাধীনতা লালন করার জন্য দরকার দায়িত্বশীল আচরণ। কারণ এখানে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন না। বরং মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সু সম্পর্ক রয়েছে। তারা জানেন কোন মন্ত্রী দেশপ্রেমিক, উদার ও সজ্জন।

নিজের দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌম রক্ষায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সবসময় সোচ্চার। গত বছর (২০২২) ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো দেশের মাথা ঘামানোর দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কোনো প্রস্তাব দিলে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো পরামর্শ বা মাতব্বরি করার সুযোগ নেই। কারণ ১৯৭১ সালে এসবের জন্য ৩০ লাখ লোক রক্ত দিয়েছেন। দেশের বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেছেন-‘আমরা চাই না আমেরিকা-রাশিয়া কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে। আমরা চাই প্রতিটা দেশ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী চলবে। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ নাক গলাক- সেটা আমরা চাই না।’

দেশপ্রেমিক এই মন্ত্রী মহোদয়ের বিভিন্ন অবদানকে তুলে ধরা যায় এভাবে-জানুয়ারিতে (২০২৩) ঢাকা সফর করে গেছেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। তার ওই সফরের আগে নানা জল্পনা-কল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর শাহীনবাগে মার্কিন দূতাবাস পিটার ডি হাস এর যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। ফলে ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরের আগে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার গুঞ্জন উঠেছে। গুঞ্জন উঠেছিল ঢাকার ওপর আবার নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার। কিন্তু ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরে তেমন কোনো কিছুই হয়নি। বরং তিনি ঢাকা সফরে এসে বলেছেন, আমি বাংলাদেশে এসেছি, আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করতে। লু আরও বলেন, র‌্যাব নিয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে। আপনারা যদি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সবশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্বীকৃতি দিয়েছে, আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। খুব চমৎকার কাজ হয়েছে। তারা ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। সন্ত্রাস প্রতিরোধে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। জিএসপি সুবিধার বিষয়ে ডোনাল্ড লু বলেন, জিএসপি সুবিধার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কিছু দেশ অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি। জিএসপি সুবিধা চালু হলে প্রথমে বাংলাদেশ এই সুবিধা পাবে।’

অর্থাৎ ডোনাল্ড লু’র সফরের আগে নানা রকম গুঞ্জনের কথা শোনা গেলেও সেগুলোর কোনটাই হয়নি। আর এর পেছনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকার জন্যই বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা পাল্টেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এর পেছনে কৃতিত্ব রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের।

পাঁচ.

মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথে চলে নিজের মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজিয়েছেন। নিজের দেশকে নিয়ে সর্বদা কেবল গর্ব করেন না, বরং তিনি কাজ দিয়ে মানুষের মূল্যায়ন করে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন ও তাঁর নিজের অফিসারদের নির্দেশনা দিয়ে সুরক্ষা করেন। ড. মোমেনের মতো মন্ত্রী আছেন বলেই এদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে আরো বেশি উজ্জ্বল হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করার পিছনে যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য অবদান রয়েছে তেমনি দেশের এই সাফল্যকে ধরে রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এই কাজটি সুচারুভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কেবল একজন যোগ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন বলেই। এজন্য ‘প্রথম আলো’র সাংবাদিক সোহরাব হাসানের মিথ্যাচারিতার কোনো গুরুত্ব নেই। বরং এ ধরনের অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর সময় এসেছে এখন।

লেখক : বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। drmiltonbiswas1971@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev