অবশেষে তিস্তা-তোর্সা বাতিলের সিদ্ধান্ত রদ করল রেল দফতর। এর আগে ডিসেম্বর থেকে একটানা তিন মাস তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুক্রবার রেল দফতর থেকে জানানো হয়, ঘন কুয়াশার ছাড়া বাতিল হবেনা তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস। এদিন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অরুন আবরা আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনে এসে এ কথা জানান। তিনি বলেন, একমাত্র ঘন কুয়াশার দিনগুলিতে বাতিল করা হবে। তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস আলিপুরদুয়ার কুচবিহার জলপাইগুড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষদের কলকাতা যাওয়ার একমাত্র ভরসা। এই ট্রেন চরে বিভিন্ন অফিস যাত্রী প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। এর আগে রেল দপ্তরের তরফ থেকে ঘন কুয়াশার দাবি তুলে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস টানা তিন মাসের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়। এরপর আন্দোলনে ফেটে পড়ে বিভিন্ন সংগঠন। শুক্রবার ময়নাগুড়ি স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং স্মরকপত্র তুলে দেন সেবা দল। অবশেষে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস বাতিল সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় বহু মানুষ থেকে সংগঠন।
ময়নাগুড়ি ১নং ব্লক তৃণমুল কংগ্রেস সভাপতি মনোজ রায় বলেন, কেন্দ্রের তুঘলকি সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের মানুষকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস তিনমাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করাতে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছেন। এর জন্য আমরা বিভিন্ন সংগঠনকে ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে তিস্তা তোর্সা চালায় খুশি শিলিগুড়ির সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলি। এমন বহু জায়গা আছে উত্তরবঙ্গে যেখান থেকে মানুষ আসেন শিলিগুড়িতে। সেইসব সাধারণ মানুয়ের তিস্তা তোর্সা ছাড়া অন্য ট্রেনে আসতে সমস্যা তৈরী হয়, তাই রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশী সকলে। প্রচুর লোক নবদ্বীপ, কালনা এবং কাটোয়া থেকে শিলিগুড়িতে আসেন তাদের আসাই বন্ধ হয়ে যাবে যদি এই ট্রেন না চলে, জানালেন শিলিগুড়ির এক বিখ্যাত পর্যটন ব্যাবসায়ী। তিনি জানালেন, এই ট্রেনের উপর নির্ভর করে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যাবসা চলে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেনী ট্রেনে করেই চলাচল করেন, এদের মধ্যে একটা ট্রেন বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের সত্যি সত্যি অসুবিধা হত। তাই এটা অত্যন্ত খুশীর খবর যে তিস্তা তোর্সা ট্রেনটি বন্ধ হচ্ছে না।
ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির মুখপাত্র সুশান্ত সুর বলেন, সেবা দলের আমন্ত্রণে সারা দিয়ে শুক্রবার নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছি আমরা। তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস বন্ধ করার সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ-সহ ব্যবসায়ী সকলেই বঞ্চিত হতেন। পুনরায় এক্সপ্রেসটি চালু হবে শুনে ভালো লাগছে। উত্তরবঙ্গের আপামর মানুষ এতে উপকৃত হবেন।
শনিবার তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে নিউ ময়নাগুড়ি থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার জন্য এক যাত্রী নির্মাল্য ঘোষ জানান, ট্রেনটি বন্ধ হলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য জনক ব্যাপার। আমরা চাই ট্রেনটি চলুক এবং উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগযোগ বজায় থাকুক।
ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির মুখপাত্র সুশান্ত সুর বলেন, সেবা দলের আমন্ত্রণে সারা দিয়ে শুক্রবার নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছি আমরা। তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস বন্ধ করার সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ-সহ ব্যবসায়ী সকলেই বঞ্চিত হতেন। পুনরায় এক্সপ্রেসটি চালু হবে শুনে ভালো লাগছে। উত্তরবঙ্গের আপামর মানুষ এতে উপকৃত হবেন। শনিবার তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে নিউ ময়নাগুড়ি থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার জন্য এক যাত্রী নির্মাল্য ঘোষ জানান, ট্রেনটি বন্ধ হলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার। আমরা চাই ট্রেনটি চলুক প্রতিদিন এবং উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগযোগ বজায় থাকুক।
ছবি : কুশল দাশগুপ্ত