আমি এর আগের পর্বে লিখেছিলাম যে যীশু সাসপেণ্ডেড অ্যানিমেশন বা নির্বিকল্প সমাধিতে চলে যাওয়ার জন্যই সম্ভবত ইহুদী সৈন্যরা তাঁকে মৃত বলে ভুল করেছিলেন। সাসপেণ্ডেড অ্যানিমেশনে থাকা ব্যাক্তি মাটির নীচে অক্সিজেনের অভাবে যে বেশ কিছুক্ষণ জীবিত থাকতে পারেন, ডা. অপূর্ব নন্দীর লেখা থেকে আপনারা আগেই তা জানতে পেরেছেন। কিন্তু সেই ‘বেশ কিছুক্ষণ’টা ঠিক কতক্ষণ—তা আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয়, সেই সময়টা কয়েক ঘণ্টার বেশী নয়। সুতরাং এই কথা অনস্বীকার্য যে, সমাহিত করবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যীশুকে তাঁর অনুগামীরা সমাধি থেকে তুলে পরিচর্যা করে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন।
প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, এই সময় সমাধির প্রহরীরা কি করছিল? একটা ব্যাপার লক্ষ্য করুন, যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করবার দিনটি ছিলো ইহুদীদের উৎসব ‘সাবাথ’ এর দিন। এইদিন তাঁরা পরদিনের জন্য প্রস্তুতি নেন, বিশ্রাম নেন। সুতরাং এইদিন তাঁরা কড়া মনোভাব নিয়ে একজন মৃত ব্যাক্তির সমাধি পাহাড়া দিচ্ছিলেন, একথা মনে করবার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নেই। তাছাড় ‘ঘুষ’ ব্যাপারটার মাহাত্ম্য সর্বকালে এবং সর্বস্থানে থাকে। প্রহরীরা যেভাবে দেবদূতের আগমন এবং তাঁদের সঙ্গে যীশুর সশরীরে মহাপ্রস্থানের বিবরণ দিয়েছিলেন তাতে ‘ঘুষ’ কিংবা ‘নেশা’ কিংবা উভয়ের প্রভাব ছিলো বলেই আমার মনে হয়।
যাই হোক, যীশুকে তাঁর সমাধির বাইরে তোলা হলো এবং কিছুটা সুস্থ করা হলো। এরপর কি? নিজের কমন সেন্সকে কাজে লাগান। যীশুর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন। মনে করুন, আপনি বর্তমান সমাজের ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে নিজস্ব একটি মত প্রচার করেছেন এবং সেই অপরাধে সমাজ আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। সেই দণ্ড কার্যকর হয়েছে, কিন্তু কপালজোরে আপনি বেঁচে গেছেন। এই অবস্থায় আপনি কি করবেন? উত্তর হলো—নিজের জান বাঁচাতে সেই হোস্টাইল সমাজকে ছেড়ে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি পালিয়ে যাবেন। কিন্তু পালাবেন কোনদিকে?

ওপরে প্রথম শতাব্দীর রোমান সাম্রাজ্যের একটি ম্যাপ দেখানো হয়েছে। ম্যাপে জেরুজালেমকে আমি লাল ডট দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এই স্থান থেকে যীশু উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব কিংবা পশ্চিম—যেকোনো দিকে যেতে পারেন। লক্ষ্য করে দেখুন, জেরুজালেম থেকে উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিকে গেলে কিন্তু আপনি পুনরায় রোমান সাম্রাজ্যের আরও ভিতরে ঢুকে পড়ছেন (ম্যাপের হলদে অংশ)। সুতরাং, এক্ষেত্রে পূর্বদিকই হলো একমাত্র দিক যেদিক দিয়ে পালিয়ে গেলে চটজলদি রোমান সাম্রাজ্যের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া যায় (ম্যাপের তীরচিহ্ন দ্রষ্টব্য)। আমার বিশ্বাস, যীশু এইদিক দিয়েই পালিয়ে গিয়েছিলেন। আমার এই বিশ্বাসের পিছনে আরও একটি কারণ আছে। কি কারণ?
কখনও ‘Easter’ নামটা খেয়াল করেছেন? ‘Easter’—সংস্কৃত অর্থ ‘পূর্বতর’। যদিও বাইবেলে Easter শব্দটা বাইবেলে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘পূর্বতর’ কথাটির আবার দুইরকম অর্থ হয়। প্রথম অর্থ ‘More toward east’ অর্থাৎ ‘আরও পূর্বদিকে’ এবং দ্বিতীয় অর্থ ‘More toward previous place’ অর্থাৎ ‘সেইদিকে, যেখানে তিনি আগে ছিলেন’। দুইটি অর্থকে একত্র করলে হয়, ‘পূর্বদিকের সেই স্থান, যেখানে তিনি আগে ছিলেন’! আরেকবার মনে করিয়ে দিই সেই তিনজন জ্ঞানী ব্যাক্তির কথা—তাঁরাও কিন্তু পূর্বদিক থেকেই এসেছিলেন।
প্রশ্ন হলো, যীশু যদি পূর্বদিকেই যাত্রা শুরু করেন তাহলে তাঁর গন্তব্যস্থল কোথায় ছিলো? আপনি বলবেন, ‘কেন? স্বর্গের দিকে। তিনি তো সশরীরে স্বর্গেই গিয়েছিলেন।’ একদম সঠিক উত্তর দিয়েছেন আপনি। কিন্তু আমার প্রশ্ন, ‘স্বর্গ অবধি পৌঁছাতে তাঁর ঠিক কতোদিন সময় লেগেছিলো?’ আমার মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনার পক্ষে একটু কঠিন হবে।

খৃস্টধর্মে ইস্টারের পরেও আরও দুটি অনুষ্ঠান আছে। প্রাচ্য খ্রিষ্টানদের মতে যীশুর সশরীরে স্বর্গে পৌঁছাতে চল্লিশ দিন সময় লেগেছিলো। ইস্টার দিনটিকে এক নম্বর দিন ধরে চল্লিশতম দিনটিকে তাঁরা বলেন ‘Ascension to heaven’—এইদিনে নাকি যীশু সশরীরে স্বর্গের মাটিতে পা দেন। আবার পাশ্চাত্ত্য খ্রিস্টানদের মতে, যীশুর স্বর্গে পৌঁছাতে সময় লেগেছিলো পঞ্চাশ দিন। সেইজন্য ইস্টার থেকে সপ্তম রবিবারকে বলা হয় ‘Pentecost Sunday’। পাশ্চাত্ত্য মতে এই দিনটিই ছিলো যীশুর স্বর্গারোহণের দিন।
এবার দেখে নেওয়া যাক, যীশু যদি জেরুজালেম থেকে চল্লিশ দিন ধরে পূর্বদিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হাঁটেন—তাহলে তিনি কতোদূর অবধি পৌঁছাতে পারেন? নীচে একটি ছবিতে গুগল ম্যাপের গণনা করা, জেরুজালেম থেকে পূর্বদিকে চল্লিশ দিনের হাঁটাপথ দেখানো হয়েছে। খেয়াল করে দেখুন, জেরুজালেম থেকে চল্লিশ দিন এবং সাত ঘণ্টার যাত্রাপথের গন্তব্য হলো শ্রীনগর—ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর! আমি জানি না কোনো মানুষ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত ঘণ্টায় চার কিলোমিটার বেগে হাঁটতে পারে কি না—কিন্তু গুগল ম্যাপের হিসাব এটাই। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমি ২০১১ সালে যখন এই হিসাবটি করেছিলাম, সেইসময় গুগল ম্যাপের অস্তিত্ব ছিলো না। একটি ম্যাপ এবং একটি কাঁটা কম্পাসের সাহায্যে আমার করা হিসাবের ফলাফল বেরিয়েছিল একচল্লিশ দিন…যা ‘Ascension to heaven’-এর হিসাবের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়!
কিন্তু আমরা জানি একটি রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে দিনের প্রতিটি মুহূর্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়—রাতে অন্ততপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুম জরুরি। সেক্ষেত্রে দেখুন, যীশু যদি প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করেও ঘুমান—তাহলে চল্লিশ দিনের সঙ্গে আরও দুশো চল্লিশ ঘণ্টা অর্থাৎ আরও দশদিন যোগ হবে—অর্থাৎ সর্বমোট পঞ্চাশ দিন যা কি না ‘Pentecost Sunday’এর হিসাবের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এবারে আপনারই ঠিক করুন কে ঠিক?
আপনারা বলতেই পারেন, ‘একজন মানুষের পক্ষে কি প্রতিদিন একশ কিলোমিটার করে হাঁটা সম্ভব? হয়তো না। হয়তো বা হ্যাঁ। একটা কথা মনে রাখতে হবে—যীশু কিন্তু প্রাতঃভ্রমণে বেরোননি—তিনি পালাচ্ছিলেন—স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর গতিবেগ অন্য সবার চাইতে বেশী হবে। তা ছাড়া পথে তাঁর জন্য তাঁর অনুগামীরা ডুলি, পালকি বা ঘোড়ার ব্যবস্থা করে রেখেছিলো—এমনটাও হতে পারে।

এইবার প্রশ্ন, যীশু যদি শ্রীনগরে এসে থাকেন তবে তিনি সেখানে কতোদিন ছিলেন? এই উত্তর দেওয়ার আগে আমি আরেকটি ছবির দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। ছবিতে একটি মসজিদ দেখা যাচ্ছে—নাম ‘রোজা বাল’। মসজিদটি ছোট—চারদিকে বড় বড় তালা ঝোলানো—প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু মসজিদের সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডের কথাগুলি বড় অদ্ভুত—এটি পবিত্র কোরানের একটি বাণী যার অর্থ, ‘ইহুদীরা মনে করেন, তাঁরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু আদপেও তা নয়। স্বয়ং আল্লা যীশুকে স্বর্গে নিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন।’ আর কোনো মসজিদের বাইরে আপনি এমন লেখা দেখেছেন? আমি তো দেখিনি।
এই মসজিদের ভিতরে দু-জনের সমাধি আছে। প্রথম জন ইউজা আসফ, অপরজন সৈয়দ নাসিরউদ্দিন। ইউজা আসফের সমাধিটি পূর্ব পশ্চিমে শায়িত। ইউজা আসফের পদচিহ্ন ওই মসজিদে রক্ষিত আছে (এই বিষয়ে আমার একটু সন্দেহ আছে)। পদচিহ্নে দুই পায়ে ক্ষতচিহ্নের দাগ বর্তমান (?ক্রুশবিদ্ধ)। সেই পদচিহ্নের ছবি আমি নীচে দেখিয়েছি। ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। বলা হয় এই ইউজা আসফই হলেন প্রকৃতপক্ষে জিসাস খ্রাইস্ট বা যীশু বা ঈসা যিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পরে চলে আসেন ‘স্বর্গে’ বা ‘ভূস্বর্গে’ বা কাশ্মীরে তথা শ্রীনগরে!

সমাধি ইউজা আসফ, অপরজন সৈয়দ নাসিরউদ্দিন
কাশ্মীরের ইতিহাসের অন্যতম উৎস ‘রাজতরঙ্গিনী’ নামক প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘ইসা নামক একজন মহৎ সাধু ডাল হ্রদের তীরে ইসাবারে বসবাস করতেন। তাঁর অনেক ভক্ত ছিল। ‘বৈশ্যমহাপুরাণ’ ভারতের একটি প্রাচীন শাস্ত্র-গ্রন্থ। বৈশ্যমহাপুরাণে প্রথম শতকের কাশ্মীরের রাজার সঙ্গে যীশুর সাক্ষাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। বৈশ্যমহাপুরাণে যীশুকে ‘ইসাপুত্তম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীনগরের কাছে রাজা শালিবাহনের সঙ্গে ইসার সাক্ষাতের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এই গ্রন্থে। শালিবাহন কুষাণ সাম্রাজ্যের কাশ্মীর অঞ্চলের রাজা ছিলেন। এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা আমি যাচাই করিনি।
রুশ সাংবাদিক নিকোলাস নটোভিচ ১৮৮৭ সালে বৌদ্ধধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে ভারতের কাশ্মীর আসেন এবং লাদাখের হেমিস মঠে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নটোভিচকে প্রাচীন তিব্বতিয় পান্ডুলিপির কথা বলে, যাতে ইসা নামে এক পশ্চিমদেশিয় জ্যোর্তিময় পুরুষের কথা রয়েছে। ভিক্ষুরা ইসাকে বোধিসত্ত্ব (পবিত্র পুরুষ) বলে উল্লেখ করেন। যীশুর হারানো বছরগুলো ভারতবর্ষে কেটেছিল কিনা সেই বিষয়ে নটোভিচের মনে প্রশ্ন দানা বাধে। নটোভিচ তিব্বতিয় পান্ডুলিপি অনুবাদ করেন এবং রাশিয়া ফিরে যান। পরে প্রকাশ করেন The Unknown life of Jesus Christ বলে একটি বই। বইয়ের তথ্য কোনোভাবেই সন্দেহের ঊর্ধে নয় (আমিও তাই মনে করি)। বলা হয় যে স্বামী অভেদানন্দ নটোভিচের আবিস্কারে ঘোরতর সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। নটোভিচকে ভন্ড মনে করে তার মুখোশ উন্মোচনের জন্য লাদাখ পৌঁছান স্বামী অভেদানন্দ। হেমিস মঠে যীশুবিষয়ক তিব্বতি পাণ্ডুলিপি স্বচক্ষে দেখে বিস্মিত হন ওই প্রখ্যাত বাঙালি সাধক এবং তাঁর বই ‘কাশ্মীর ও তিব্বতী’ গ্রন্থে যীশুবিষয়ক তথ্যাদি সর্বমোট ২২৪ পংক্তি বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন। এই সম্বন্ধে আমি পড়েছিলাম ২০১১ সালে—এখন আর বিশেষ কিছু মনে নেই।

লাদাখের হেমিস মঠ
লাদাখের হেমিস মঠে আমি গিয়েছিলাম ২০১৩ সালের জুন মাসে। সেখানে কথা বলেছিলাম প্রধান ভিক্ষুর সঙ্গে। মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিয়েছিলাম—সেসব কথা গুপ্তই থাক। নীচে হেমিস মঠের নিজের তোলা একটি ছবি দিলাম।
যীশু অনেক বড় মাপের যোগী ছিলেন—হয়তো তিনি এই যোগশিক্ষা ভারত থেকেই পেয়েছিলেন। যেসব ব্ল্যাক ম্যাজিক দেখিয়ে তিনি ইহুদীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, সেগুলি হঠযোগ এবং অথর্ব বেদে বর্ণিত কিছু ক্রিয়াকলাপ বলেই আমার মনে হয়েছে। যে সাসপেণ্ডেড অ্যানিমেশন বা নির্বিকল্প সমাধির সাহায্যে তিনি নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, তা প্রকৃতপক্ষে রাজযোগ বা ক্রিয়াযোগের অঙ্গ। ঘটনাচক্রে এই ক্রিয়াযোগের সঙ্গে আমার অল্পবিস্তর পরিচিতি আছে।

জগৎবিখ্যাত ক্রিয়াযোগীদের মধ্যে মহাবতার বাবাজি, যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী, স্বামী যোগানন্দর সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে যীশুর নাম উচ্চারিত হয়। লস অ্যঞ্জেলসে ‘যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি’র প্রধান কার্যালয়ে সমস্ত বিশিষ্ঠ ক্রিয়াযোগীদের সঙ্গে যীশুর ছবি এক ফ্রেমে টাঙ্গানো আছে। স্বামী যোগানন্দ’র লেখা ‘Autobiography of a yogi’ বইতে একাধিকবার যীশুর প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। শোনা যায় ১২০ বছর বয়সে শ্রীনগরে দেহরক্ষা করেন যীশু। যোগাভ্যাস ছাড়া এতো বছর বাঁচা হয়তো সম্ভব নয়।
কিছু লেখায় আমি দেখতে পেয়েছিলাম, রাজা সলোমন এবং রাজা ডেভিড—এই দুই রাজবংশের জিনের মিলনের ফলেই জন্ম হয়েছিলো যীশুর। তৎকালীন ইহুদীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মতপ্রচার করা এবং বিভিন্ন ইহুদী সম্প্রদায়কে এক ছাতার তলায় আনাই এর উদ্দেশ্য ছিলো। কিন্তু কোন সম্প্রদায় এই কাজ করলো, তাঁদের কোন স্বার্থ এর পিছনে ছিলো—এইসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। মাত্র তিন বছর ধর্মপ্রচার করতে পেরেছিলেন যীশু। কার অঙ্গুলিহেলনে তাঁর মাত্র বারোজন শিষ্য সেই ছোট্ট ধর্মকে পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্মে পরিণত করলো—এই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত পড়াশুনা এবং চিন্তা করে যা জেনেছিলাম এবং বুঝেছিলাম, তা আজ আপনাদের সামনে ফেলে দিলাম—বিশ্বাস করা বা না করা আপনাদের ব্যাপার।
২০১৩ সালের জুন মাসের এক সকালে যখন রোজা বালের সামনে ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়েছিলাম…আক্ষরিক অর্থেই উত্তেজনায় পা কাঁপছিল। আমি এখনও জানি না যে ওই পূর্ব পশ্চিমে শায়িত সমাধির নীচে কে শুয়ে আছেন—ইউজা আসফ না কি জিসাস খ্রাইস্ট? কিন্তু মন বলছিল, ওই সমাধির নীচে শুয়ে রয়েছেন মানব সভ্যতার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ব্যাক্তি—আমার থেকে মাত্র পঁচিশ ফুট দূরে!