ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০, উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
তৃতীয় অধ্যায়
কোম্পানির ব্যবসায় বিকাশ এবং উন্নয়ন
বাংলা ব্যবসার বিস্তৃতি
অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় দশকে কোম্পানি বাংলার ব্যবসায় আরও বড় করে নজর দিল এবং ব্যবসা বাড়াতে কোমর বাঁধল। গোটা দশক ধরে বাংলা ব্যবসার জন্যে লন্ডনের কর্তারা গড়ে বাৎসরিক ২ লক্ষ পাউন্ড বরাদ্দ করেছিল। নিচের তালিকায় আমরা বুঝতে পারি কোম্পানির বাংলা ব্যবসা বাড়াও নীতিতে বাংলায় ব্যবসা কোন গুরুত্ব পাচ্ছে আর মাদ্রাজের ব্যবসারই বা হালত কি হচ্ছে (হিসেব নেওয়া হয়েছে ডি বি ৯৬, ৬৫২; খণ্ড ৯৭, ১২৪, ৪৩১, ৭৬৯; ৯৮ খণ্ড, ১৯২, ৪৫২, ৭৭৮; খণ্ড ৯৯, ৭৩-৭৪, ৩৬২, ৬৩২; খণ্ড ১০০, ১৩৬, ১৭৯, ৫৬৫; খণ্ড, ১০১, ১৩২)।
বাংলায় এবং মাদ্রাজে পাঠানো স্টকের পরিমান
বছর বাংলা মাদ্রাজ মোট
১৭১০ ১,৮০,০০০ ৮০,০০০ ২,৬০,০০০
১৭১১ ১,৮০,০০০ ৯০,০০০ ২,৭০,০০০
১৭১২ ১,৭০,০০০ ১,০৫,০০০ ২,৭৫,০০০
১৭১৩ ১২০ ৯৮ ২১৮
১৭১৪ ১৫০ ১০০ ২৫০
১৭১৫ ২০০ ১১০ ৩১০
১৭১৬ ২০০ ১০০ ৩০০
১৭১৭ ২৭০ ১৩০ ৪০০
১৭১৮ ২৫০ ১৩৮ ৩৮৮
১৭১৯ ২৫৭ ১৯১ ৪৪৮
১৭২০ ১৫০ ১৫০ ৩০০
১৭২১ ২০০ ১০০ ৩০০
১৭২২ ২৭০ ১২০ ৩৯০
ওপরের তালিকা থেকে স্পষ্ট বাংলার ব্যবসা কোম্পানির ব্যবসা জগতে অনেক বেশি করে স্থান করে নিচ্ছিল। আমরা যে সময়ে এই আলোচনা শেষ করছি, সেই সময়ের শেষের দিকে কোম্পানির বাংলার ব্যবসা মাদ্রাজ এমন কি সুরাটের ব্যবসার পরিমান এবং মোট মূল্যকে ছাড়িয়ে যায়। বাস্তবিকভাবে অষ্টাদশ শতকের শুরু থেকেই কোম্পানি বাংলা ব্যবসায় বেশি করে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। সুরাটে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মারাঠাদের হুঙ্কার, স্থানীয় শাসকের অত্যাচার এবং একইসঙ্গে দেশিয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধতা আর করমণ্ডলে স্থানীয় ক্ষমতাধরদের লড়ালড়ি, অযৌক্তিক যুদ্ধবিবাদ ইত্যাদি সেই অঞ্চলগুলোর ব্যবসাকে অনিশ্চেয়তার দিকে ঠেলে দিতে থাকে। ফলে এই দুটি কেন্দ্রর তুলনায় তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক দিক থেকে স্থিতিশীল বাংলায় ব্রিটিশ কোম্পানির ব্যবসা বাড়ছিল। ব্রিটিশ কোম্পানির কাছে বাংলা ব্যবসার গুরুত্ব ছিল এর বর্ধনশীল চরিত্র। সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ডাচেরা বাংলায় ব্রিটিশদের বড় ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, তারা অষ্টাদশ শতকের শুরু থেকে ব্রিটিশদের বাড়তে থাকা বাংলা ব্যবসার তালে তাল মেলাতে পারছিল না। ইওরোপের বাজারে বাংলার পণ্যের ক্রমশঃ বাড়তে থাকা চাহিদা, কোম্পানিকে বার বার বাংলায় নজর নিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছে। পলাশীর পর বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষম্লতা তার হাতে চলে এলে বাংলার সম্পূর্ণ সম্পদ, যা দিয়ে তারা শুধু বাণিজ্যিক কর্তৃত্বই পেল না, বাণিজ্যের একচেটিয়াকরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্তৃত্বও পাবে। (চলবে)