ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০, উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
প্রথম অধ্যায়
পৃষ্ঠভূমি
যদিও মুঘল তখনও ভারতের শাসক, কিন্তু হুগলী বন্দরকে পর্তুগিজেরা এতই জোরালো অধিকারে পাকড়ে রেখেছে যে সেখানে মুঘলদের শুল্ক আদায় করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। পর্তুগিজেরা সেখানে স্বাধীন স্বাধীনভাবে কাজকর্ম করত। এমন কি মুঘল সুবাদারকে বন্দর-শহরে ঢুকতে হত পর্তুগিজদের অনুমতি নিয়ে — এমই ছিল পর্তুগিজদের রমরমা। মুঘল মালিকদের অধীনে থাকা জাহাজগুলোকেও পর্তুগিজ শক্তির শর্ত পালন করেই বন্দরে ঢুকতে হত। এমন কী ১৫৩৫ সালে রেবেলো, সাতগাঁওতে হুগলী বন্দরের পর্তুগিজ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জাহাজ ঢুকতে দিত না। ভারতীয় এবং অন্যান্য দেশের জাহাজের তুলনায় পর্তুগিজ জাহাজগুলি এতই শক্তিওশালী ছিল যে তাদের ছাড়পত্র ছাড়া বন্দরের দিকে আসা যে কোন জাহাজকে পর্তুগিজেরা শত্রু জাহাজ দাগিয়ে, বলপ্রয়োগ করে দখল করে নিত। মুসলমান বণিকদের ব্যবসা ধ্বংস করতে তারা বাংলায় এই নীতি কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছিল (ক্যাম্পোস, প্রাগুক্ত, ৬২, ১১২)। কাব্রাল সূত্রে জানতে পারছি বাংলার সুবাদারের জাহাজেরও ছাড়া ছিল না। তার জাহাজ হুগলী বন্দরে ঢুকতে পর্তুগিজদের চাপিয়ে দেওয়া শর্ত পূরণ করতে হত (মনরিকে, প্রাগুক্ত, ২ খণ্ড, ৩৯৩)। হুগলীতে পর্তুগিজদের এই শক্ত পকড় ডাচ আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই অঞ্চলে ব্যবসা করার কাজে বিপুল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। ১৬১৬ সালে সুরাটের ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা লিখলেন গঙ্গা মুখের অঞ্চল ধরে ব্যবসা করার সুযোগ তারা পাচ্ছেন না। বাংলা ভৌগোলিক অঞ্চলের ব্যবসার দখল একচেটিয়া ভাবে হার্মাদদের দখলে (উইলিয়াম ফস্টার, সম্পাদন লেটার্স রিসিভড ফ্রম দ্য সারভেনটস অব দ্য কোম্পানি, ৫ খণ্ড, ১১৯-২০)। ডাচেরাও মনে করত পর্তুগিজদের শক্ত পকড় যতদিন থাকবে ততদিন বাংলায় ব্যবসা করা সম্ভব হবে না (টি রায়চৌধুরী, জন কোম্পানি ইন করমণ্ডল, ৭৫-৭৬)।
কিন্তু এ হেন প্রতাপী পর্তুগিজ শক্তির বাংলা ব্যবসা একটা বড় অংশ, হুগলী দখলদারির জ্বলন্ত সূর্য অস্তাচলে গেল। ১৬৩২ সালে শাহজাহানের নির্দেশে মুঘল সেনাপতি কাশিম খান পর্তুগিজদের ধনে মানে হারিয়ে হুগলী বন্দর দখল করে তাদের হুগলী থেকে উচ্ছেদ করলেন। হুগলী তখন থেকে মুঘল দরবারে বাংলার সুবার প্রধান বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেল। সেখানে সব আমলাতান্ত্রিক কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হল এবং তারপর থেকে হুগলীতে মুঘল দখল নিশ্চিত হয় (এস দে, প্রাগুক্ত; হান্টার, প্রাগুক্ত, ৩ খণ্ড, ৩০০; জি টয়েনবি, প্রাগুক্ত, হুগলী ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার)। ১৬৩৩তে পর্তুজিগেরা আবার ফিরে এসে বলপ্রয়োগ করার চেষ্টা করলেও, এর আগে মুঘলেরা তাদের ওপর যে রণনৈতিক বিজয় সম্পন্ন করেছিল, সেই ধাক্কা তারা আর কাটিয়ে উঠতে পারে নি; বাংলার পণ্য ব্যবসায় যে উচ্চতায় তারা পৌঁছেছিল, সেই অবস্থা তারা আর ফিরে পেল না। হুগলী বন্দরে পর্তুগিজদের পতন সত্ত্বেও বাংলার হুগলী বন্দরের মোট ব্যবসা কিন্তু পতনের দিকে গেল না। এবারে জাঁকিয়ে বসল দেশিয় ব্যবসায়ীরা তাদের সামুদ্রিক ব্যবসা নিয়ে (সি জে হ্যামিলটন, দ্য ট্রেড রিলেশনস বিটুইন ইংলন্ড এন্ড ইন্ডিয়া, ১৬০-১৮৯৬, ৩১; ওম্যালি এবং চক্রবর্তী, প্রাগুক্ত, ৫৪, ১৮৯)। এই ঘটনার পরে পরেই ডাচ আর ব্রিটিশেরা তাদের কুঠি খুলল হুগলীতে এবং বাংলায় সরাসরি ব্যবসার কাজ শুরু হল।
বাংলার দেশিয় ব্যবসায়ীরা বহুকাল ধরে সামুদ্রিক বাণিজ্যে মাহির ছিল এবং সেই পরম্পরার প্রবাহ তারা সপ্তদশ শতক পর্যন্ত চালু রেখেছিল। তারা বিপুল বিশাল জাহাজ বহর নিয়ে নানান এশিয় দেশে ব্যবসা করতে যেত। লোহিত সমুদ্র বন্দর আদেন এবং জেড্ডা থেকে পূর্বের সুমাত্রা এবং মালাক্কা পর্যন্ত তাদের ব্যবসা এলাকা ছিল। বাংলার ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী এবং প্রভাবশালীও ছিল। ১৬৩২ সালে পর্তুগিজদের বাংলা থেকে বহিষ্কারের পর হুগলীতে ডাচেরা ঘাঁটি গাড়লেও মুসলমান ব্যবসায়ীদের বিরোধিতায় তারা উতকণ্ঠিত হয়ে উঠছিল (টি রায়চৌধুরী, প্রাগুক্ত, ৭৬)।
সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলি হুগলীতে কুঠি খোলে। তখন বাংলার ব্যবসা পূর্ণদ্যমে মধ্যগগনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অতিরিক্ত পরিমানে শস্তা, এবং উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকার থেকেও শস্তা এলাকা হল বাংলা। রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘকালীন শান্তি বাংলার ব্যবসা বাণিজ্যের বিকাশে সরাসরি সহায়ক হয়েছে। বাংলা অঞ্চলের অর্থনীতি স্বনির্ভর। ফলে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাজার খুবই সীমিত। বাংলার সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য করতে হত দামি ধাতু আর দাতু মুদ্রার বিনিময়ে। সে সময়ের একমাত্র বাংলার চরম চাহিদাযুক্ত বৈদেশিক আমদানি করা পণ্য হল দামি ধাতুগুলোই। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় বাণিজ্য করতে এল।
দ্বিতীয় অধ্যায়
বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসাকর্মের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
৩১ ডিসেম্বর ১৬০০ সালে একটি রাজকীয় সনদের দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্ম হয় (ডবলিউ ফস্টার ইংলন্ডস কোয়েস্ট অব ইস্টার্ন ট্রেড, ১৫০; সিএইচজে, ৫ খণ্ড, ৭৭)। কোম্পানি নথিবদ্ধ করার জন্যে চারটি যুক্তি দেওয়া হল — দ্বিতীয় ফিলিপের রাজত্বকালে ১৫৮৫ সনে লিসবন থেকে ব্রিটিশ এবং ডাচ ব্যবসায়ীদের বহিষ্কার করা হয়, ফলে পর্তুগিজদের একচেটিয়া মশলা ব্যবসা আর এই দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আওতায় রইল না; ব্রিটিশদের সামুদ্রিক শক্তি হয়ে ওঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং একইসঙ্গে স্প্যানিশ হার্মাদদের আন্তর্জাতিক জলপথ থেকে ক্রমশঃ পিছু হঠা; মশলা ব্যবসায় ডাচেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র আতঙ্ক এবং শেষতমটি ব্রিটিশ পশমের নতুন বিশ্ব বাজার সৃষ্টি করা (কে এন চৌধুরী, দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ১০)। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরুর যথাযোগ্য কারণ অন্য। ষোড়শ শতকের শেষ পাদে এন্টর্পএর সঙ্গে ইংলন্ডের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরে ব্রিটিশদের বৈদেশিক বাণিজ্যকে নতুন খাতে বইয়ে দেওয়ার যে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাভাবনা চলছিল, সেই মুহূর্তটাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্মলগ্ন বলে দাবি করা হয় (ঐ, ১০-১৪; নতুন খাতে বইয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে দেখুন প্রাগুক্ত বই, ৫-৭)।
কোম্পানির প্রথম (১৬০১-৩) এবং দ্বিতীয় (১৬০৪-৬) বাণিজ্য অভিযানটা কিন্তু ভারতের পানে নির্দিষ্ট ছিল না। সে দুটি গিয়েছিল আচিন, বান্টাম এবং মলুকাসে, ইস্ট ইন্ডিজের মশলার রাণী গোলমরিচ এবং অন্যান্য মশলা জোগাড়ের উদ্দেশ্য নিয়ে (সিএইচআই, ৫ খণ্ড, ৭৭)। প্রথম যে ব্রিটিশ জাহাজ আচিনের বন্দরে ভিড়ে দেখল, ভারত থেকে নিয়মিত এবং অসংখ্য জাহাজ সেই বন্দরে নিয়মিত যাতায়াত করে এবং সেই অঞ্চলে গোলমরিচ খুব দামি পণ্য নয় (এনিথিং বাট এক্সপেনসিভ) (ডি কে বাসেত, দ্য ফ্যাক্টরি অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইন ব্যান্টাম, ১৬০২-১৬৮২, অপ্রকাশিত সন্দর্ভ, লন্ডন ইউনিভার্সিটি, ১৯৫৫, ৭)। বান্টামে শস্তায় গোলমরিচ পেয়ে যাওয়ায় যেখানে একটি কুঠি স্থাপন করে ব্রিটিশেরা ১৬০৩ সালে (ঐ, ৮)। কিন্তু তারা সেখানে দেখল, বাটাভিয়ায় ব্রিটিশ পণ্যের কোন বাজার ছিল না, বিশেষ করে মালয় দ্বীপপুঞ্জে পশম বস্ত্র বিক্রিই হল না। একই সঙ্গে তারা দেখল যে এই বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় বস্ত্রের আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য এবং সেই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মশলার বিনিময়ে ভারতীয় বস্ত্র সংগ্রহ করে থাকে। এই অভিজ্ঞতায় ব্রিটিশেরা তাদের বাণিজ্য নীতি কিছুটা পরিবর্তন করে। তারা অসীম চাহিদার শস্তার ভারতীয় ক্যালিকো বস্ত্র হাত বদল করতে শুরু করল মশলার বিনিময়ে। ফলে তৃতীয় যাত্রার (১৬০৬-৭) অভিমুখ বদল করতে বাধ্য হল ব্রিটিশ কোম্পানি। তাদের লক্ষ্য বান্টাম হলেও তাদের মশলা ব্যবসায় টিকে থাকতে বন্দর আদেন এবং সুরাটের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করতে বাধ্য হল। এই সূত্রধরে হকিন্স ১৬০৮ সনে সুরাট বন্দরে নেমে মুঘল রাজধানী আগরার উদেশ্যে রওনা হন। সেখানে তাকে অসীম সমাদর জানাবেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর। ব্রিটিশদের সমস্যা হল সুরাটের ব্যবসায়িকেরা পর্তুগিজদের সঙ্গে বহু কালের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করতে রাজি ছিল না। মাথায় রাখতে হবে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশেরা সুরাটে কুঠি খুলতে পারে নি। সেই বছর সম্রাটের ফরমান নিয়ে সুরাটে ব্রিটিশ কুঠি স্থাপিত হয় (সিএইচআই, ৫ খণ্ড, ৭৭-৭৯)।
বাস্তব হল, উপমহাদেশে বহুকাল ব্যবসা করার পরেও ব্রিটিশেরা বাংলায় সরাসরি সামুদ্রিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির কথা ভাবে নি। এর দুটি কারণ হতে পারে কোম্পানির ভারত ব্যবসা সামগ্রিক বিশ্ব ব্যবসার তুলনায় খুবই কম ছিল, ফলে বহু কুঠি খুলে সে ব্যবসাকে জটিল করে তুলতে চায় নি। এছাড়াও সে সময় পর্তুগিজেরা বাংলার বন্দর এবং বাণিজ্য এলাকাগুলি নিজেদের দখলে রেখেছিল। হয়ত ভারতে খুব কম সময়ে ব্যবসা করা ব্রিটিশেরা পর্তুগিজদের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে চায় নি। বাংলার সঙ্গে কোম্পানি ব্যবসা করতে চায়, সঙ্গঠনের পক্ষে প্রথম একটা বার্তা দেখি ১৬১৫ সালের ২৪ নভেম্বর টমাস রো’র ডেসপ্যাচ করা নথিতে। তিনি লিখলেন, মুঘল বাংলার সঙ্গে ব্যবসা করার কথা ভাবা দরকার। আমি চেষ্টা করছি বাংলার সব থেকে গুরুত্বতম বন্দরে ব্যবসা করার এবং কুঠি তৈরির জন্যে কিভাবে ফরমান আনানো যায় (বি এম এডিশনাল ম্যানু, ৬, ১১৫, ৬৩এ; ডবলিউ ফস্টার, দ্য এম্বাসি অব স্যর টমাস রো টু ইন্ডিয়া, ৭৯)। কিন্তু রো’ও নিজে বাংলার সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্য করার বিষয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন না। সুরাটের কুঠিয়ালদের তিনি পরামর্শ দিয়ে বললেন ‘বাংলার সঙ্গে স্থলবাণিজ্য আগে শুরু করা যাক, এবং এটা কোম্পানির কর্তাদের একান্ত ইচ্ছা। ক্যাপ্টেন কিলিং আমায় এই কথা বলেছেন’। সুরাটের কুঠিয়াল কেরিজ এবং তার কুঠির আমলারা, বাংলায় ব্যবসা করতে যাওয়ার রো’র পরামর্শে খুব একটা আস্থা পেশ করেন নি। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘বাংলা গরমের দেশ, অধিকাংশ জনসাধারণ গরীব গ্রাম্য ব্যক্তি। এছাড়া এরা তটরেখায় বাস করে। আমাদের ধারনা সেখানে গিয়ে বাণিজ্যের কোনও সুবিধে হবে না। বাংলায় ডাচ আর পোর্তিঙ্গালস (পর্তুগিজ) বড় ব্যবসা করে। এছাড়া স্থলপথে মালপত্র আদানপ্রদান করাও খুব ঝামেলাদার এবং বিপুল খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার এবং সেই কম মাল বিক্রি করে আমরা কতটুকু আর লাভ করব’ (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, সুরাট, ৮৪ খণ্ড, ১, ৮৩, লেটার্স রিসিভড, প্রাগুক্ত, ৪ খণ্ড, ৩১৪)।
এর উত্তরে রো লিখলেন, ‘বাংলা গরীব, আপনাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নই; এই ভূখণদ সারা দেশকে চাল আর গম খাওয়ায়; সারা দেশে চিনি রপ্তানি করে; প্রচুর সুতির কাপড় পাওয়া যায়, পিন্টাডোজ, অগুরু, সিভিট, এম্বার ছাড়াও পাওয়া যায় পেগু থেকে আনা নানান ধরণের অদ্ভুত পণ্য (বি এ, এডি ম্যান, ৬, ১১৫, ১৫; ডবলিউ ফস্টার দ্য এম্বাসি অব টমাস রো, ১৯৩)। সুরাটের কুঠিয়ালেরা রে’এর বক্তব্যে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হল না। তারা লিখল, আমরা অস্বীকার করছি না যে বাংলা থেকে চাল গম চিনি রপ্তানি হয়; সে সুন্দরতম বস্ত্রও তৈরি করে, সেই কাপড় খুব বেশি বিক্রি হয় না কারণ সেই গরমের দেশে ধনীর সংখ্যা কম আর সাধারণ জনসাধারণের সংখ্যা বেশি। সমুদ্রবাহিত হয়ে মালামাল আসা খুব শস্তা এটা স্বীকার করি, তবুও আমাদের মনে হয়, খুব ভাল হয় যদি আমরা আজমেঢ়ের সঙ্গে ঝামেলা ছাড়া, খুব বেশি ব্যয় না করেই ব্যবসা করি’ (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, সুরাট, ৮৪ খণ্ড, ১, ১১৪, লেটার্স রিসিভড, প্রাগুক্ত, ৪ খণ্ড, ৩২৭)। (চলবে)