| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী (৪ নং কিস্তি), অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩১৮ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩

ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০, উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

দ্বিতীয় অধ্যায়

বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসাকর্মের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ব্রিটিশ কোম্পানির বাংলা ভূখণ্ডে ব্যবসা করার ভাবনাটা সে সময় আর বেশিদূর এগোল না। ১৬১৬ সালের ২ নভেম্বর সুরাট কাউন্সিল লন্ডনে লিখল ‘পোর্তো পেকুইনোতে [পর্তুগিজ ভাষায় ছোট বন্দর — হুগলী বন্দর; আর পোর্ট গ্রান্ডি – বড় বন্দর, চট্টগ্রাম — অনুবাদক] একটি অস্থায়ী কুঠি তৈরি করার ইচ্ছে থাকলেও ছোট জাহাজ মিলছে না বলে, এই মুহূর্তে সে কুঠি তৈরির ইচ্ছে পূরণ করা গেল না (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, সুরাট, ১ খণ্ড, ১, ২২৭, লেটার্স রিসিভড, প্রাগুক্ত, ৪ খণ্ড, ৩৪২)। রোও হুগলীতে কুঠি বানাতে প্রাথমিকভাবে দোনোমনা করছিলেন। তার ধারনা ছিল হুগলীর কুঠি থেকে পণ্য বিক্রি সম্ভব হবে না। ক্যাথে বা টারটারি থেকে আমদানি করা পণ্য বাংলায় বিকোবে না (পোর্তো পেকুইনো সম্বন্ধে রো যতদূর সম্ভব যে সব জনশ্রুতি শুনেছিলেন, তার ভিত্তি ছিল না। সে তথ্যগুলো বিন্দুমাত্রও নির্ভযোগ্য ছিল না। তিনি লন্ডনকে ২৪ নভে ১৬১৬তে জানান সেখানে (বাংলায়) বাজার বলে কিছুই নেই। সেখানে খুব বড় ব্যবসায়ীও থাকে না। দেখুন বি এম, আডি ম্যানু ৬, ১১৫, ১৩৭)। রো বললেন বাংলা ভাল মিহি বস্ত্র তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু তার কোম্পানি বাংলায় কুঠি খুলে যে কাপড় সংগ্রহ করবে, সেগুলো [দামে এত বেশি যে] কমদামি মুসলিপত্তনম বা শস্তার গুজরাটি বস্ত্রের সঙ্গে লড়াইতে পেরে উঠবে না। তিনি বললেন বাংলার চিনি বিদেশে বিক্রি যোগ্য নয়, মোমও খুব ভাল পরিমানে মেলে না, যদিও কোরা রেশমের গুণমান ভাল, কিন্তু সেই পণ্য আগরার বাজারেই মেলে [তার জন্যে বাংলায় উজিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কী?] (বি এম, আডি ম্যানু ৬, ১১৫, ১৩৭; রোজ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩০৮-৯)। কোম্পানির চিঠির উত্তরে ১৬১৬র ডিসেম্বরে রো লিখলেন বাংলার রেশমের জন্যে নতুন কুঠি তৈরি করার বিষয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন; কিন্তু আমার মতে বাংলার রেশম বাংলা থেকে শস্তা দরে আগরার বাজারেই মেলা পরিমানে পাওয়া যায়, এবং এই একটি পণ্য কেনার জন্যে বাংলায় কুঠি তৈরি করা, আমাদের কর্মচারীদের সেই অগম্য স্থানে যাওয়ার, সেখানে কষ্ট করে বসবাস করা কতটা যুক্তিযুক্ত ভাববেন, বর্তমানে যে অবস্থায় কুঠিটা সুরাটে চলছে চলুক’ (ও সি, ১ ডিসে ১৬১৬, ৪১১, খণ্ড ৪; রো’জ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩২০)।

তবে সুরাট কুঠিয়াল হুগলীর পতুগিজ সমস্যার কথা সম্যকভাবে জানতেন, তাই তারা পিপলি বন্দরে কুঠি তৈরি করে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলেন, ‘…সেটি [পিপিলি বন্দর] কম সঙ্কুল, কম দুর্গম এবং যেখানে পণ্যের বাজার আছে’, তারা রোকে প্রস্তাব দিলেন, পিপলিতে ব্যবসা করার জন্যে প্রয়োজনীয় ফরমান জোগাড় করা যায় কিনা চিন্তা ভাবনা করতে (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, সুরাট, ৮৪ খণ্ড, ১, ২৬৪; রো’জ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩০৯)। কিন্তু পিপলি সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা আছে এমন কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে রো বুঝলেন পিপলি খুব উৎসাহব্যাঞ্জক বন্দর নয়, মশলা ছাড়া এখানে কিছুই প্রায় বিক্রি হয় না; এই বন্দর থেকে মুঘল হিন্দুস্তানের সেরা পাইকারি বাজার আগরা পর্যন্ত নদীপথে যোগাযোগ রাখাও খুব কঠিন (বি এম, আডি ম্যানু ৬, ১১৫, ১৮২এ; রোজ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩০৯)। মুঘল দরবারে বহু চেষ্টা করেও তিনি বাংলায় ব্যবসা করার ফরমান জোগাড় করতে ব্যর্থ হলেন — যদিও আসফ খান এবিষয়ে তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মুঘলদের ভয় ছিল ব্রিটিশেরা সুরাট ছেড়ে বাংলায় ঘাঁটী গাড়লে মুঘল আমলাদের সুরাত নির্ভর ব্যবসা মার খাবে; দ্বিতীয়ত পর্তুগিজদের সঙ্গে মুঘলদের সেই সময় বাংলাতে ঝামেলাও চলছিল (রো’জ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩০৯, ৩৭৭-৭৮, ৩৮৫, ৪১৭, ৪১৯)। বাংলায় ব্যবসা করা নিয়ে কর্তাদের চাপ বাড়তে থাকায় রো কোর্ট অব কমিটিকে লিখলেন বাংলায় তেমন কোন ভাল বন্দর নেই, হার্মাদরা প্রচুর ছোট জাহাজের বহর বানিয়ে রেখেছে, এখানে আমাদের কুঠি তৈরি করে কিস্যু লাভ হবে না। এখানকার মানুষেরা যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক’ (ও সি ১৪ ফেব ১৬১৮, ৬১, ৫ খণ্ড; রোজ এম্বাসি, প্রাগুক্ত, ৩৩৪, ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৪)।

প্রথম উদ্যমেই কুঠি খোলায় বাধা এসে যাওয়ায় বাংলা ব্যবসা পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ধাক্কা লাগল। যদিও কোম্পানি বাংলায় কুঠি খোলার ধারণা এক্কেবারে মাথা থেকে বের করে দেয় নি। ক্রমশ বাংলায় কুঠি খোলার প্রয়োজনীয়তার তাগিদ চাগাড় দিতে থাকে। ১৬১৮ সালে মেথউড, রোকে লিখলেন, বাংলায় ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যদি কোন ভাবনা জ্বলে ওঠে বা আশা জেগে ওঠে তাহলে আমরা যেন সেই কাজ সম্পন্ন করতে তৈরি থাকি (ইগারটন ম্যানু, ২০৮৬, ৪৫এ, ইএফআই, ১৮১৮-২১, ৪৯-৫০)। কর্তাদের বাংলার সুন্দর রেশমের প্রতি আকর্ষণের (ও সি ১৫ ডিসে ১৬১৯, ৮২৭, ৭ খণ্ড; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৬১) পাশাপাশি ইওরোপ এবং দেশের মাটিতে বাড়তে থাকা ক্যালিকো এবং অন্যান্য সুতি বস্ত্রের (যা ইওরোপ থেকে আমদানি করা লিনেনের তুলনায় অনেক অনেক শস্তা) চাহিদা বাংলার সুতিবস্ত্রের দিকে কোম্পানিকে মুখ ঘোরাতে বাধ্য করছিল। ১৬১৯ সালে কোম্পানি, ক্যালিকো কেনার বহর বাড়ানোর নির্দেশনামা জারি করে, as give best hopes, as well for attaining quantity as also for their procuring to best advantage for price, condition etc. (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ইএফআই, ১৬১৮-২১, ১৬১)। এই নির্দেশনামার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ল গুজরাট থেকে বিশাল পরিমানে সুতিবস্ত্র জোগাড় করার সমস্যা, ফলে সুরাট কাউন্সিল প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমান কাপড় উৎপাদন এলাকা খুঁজে বার করার চেষ্টা করতে থাকে। প্রাথমিকভাবে সুরাটের কর্তাদের মাথায় এসেছিল পাতিয়ালার সামনা [Samana] এবং পাটনার কথা। পাটনার এম্বার্তি ক্যালিকো কিছু দিন আগেই বিহার ব্যবসায়ীদের থেকে জোগাড় করেছে কুঠিয়ালদের মধ্যস্থরা, তারা সেই কাপড়ের এলাকা কোথায়, সেই খোঁজ শুরু করল। এইভাবেই বাংলাভূমে ব্যবসা করার দিকে এগোতে শুরু করে ব্রিটিশ কোম্পানি।

পাটনায় কুঠি খোলার দায়িত্ব দেওয়া হল রবার্ট হিউজকে। তিনি পাটনায় পৌঁছলেন ১৬২০-র ৩ জুলাই। পৌঁছলেন ব্রিটিশ কোম্পানির একটাও পণ্য বনা নিয়ে, শুধুমাত্র হাতে মাত্র ৪০০০ টাকার হুণ্ডি সম্বল করে। পাটনায় পৌঁছে, সেখানকার বাজার দেখে হিউজের মনে হল এই অঞ্চলে কুঠি খোলা কাজের কাজ হতে পারে। সেইমত তিনি সুরাট এবং আগরা কুঠিকে বেশ কিছু ব্রিটিশ পণ্য এবং হাতে আরও অর্থ নিয়ে কয়েকজন সাহায্যকারী পাটনায় পাঠাতে বললেন যাতে এখন থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় এবং অন্য পণ্য কিনতে পারা যায় (ঐ, খণ্ড ১, ইএফআই ১৬১৮-২১, ২১২; আর সি টেম্পল ডকুমেন্টস রিলেটিং টু  দ্য ফার্স্ট ইংলিশ কমার্শিয়াল মিশন টু পাটনা ১৬২০-২১, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ১৯১৪, ৮৩)। হিউজের পাটনা আগমনের সঙ্গাদ পৌঁছল দরবারে; সুবাদার মুকরম খান তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন। মুকরম খানের সহায়তায় তিনি পাটনার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একটি বাড়ি ভাড়া করে ব্রিটিশ কোম্পানির কুঠি উদ্বোধন করলেন। সেপ্টেম্বরে আরও একজন ব্রিটিশ কোম্পানি আমলা জন পার্কার, হিউজের সঙ্গে পাটনা কুঠিতে যোগ দিলেন বেশ কিছু ব্রিটিশ কুঠির পণ্য নিয়ে। তার পরে শীঘ্রই ইওরোপের বাজারের জন্যে উপযুক্ত পণ্যসামগ্রী কেনার কাজ শুরু হল। ব্রিটিশদের পাটনায় আসার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল, বকেয়া পড়া কোরা রেশম এবং ক্যালিকো কেনা। সেই কাজটা চলতে থাকে পুরোদমে। পাটনায় পৌঁছনোর কিছু দিনের মধ্যেই হিউজ, কোম্পানি প্রেসিডেন্ট এবং সুরাট কুঠিয়ালকে লিখলেন, এখানে (পাটনা) প্রচুর পণ্য উৎপাদন হয় এবং যে উদ্দেশ্যে আমরা কুঠি বানিয়ে সেই উদ্দেশ্য একমাত্র এখানেই পূরণ হবে (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ১; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৭২)। পাটনার পাশের অঞ্চল লাকোয়ারে (লক্ষ্মীশ্বর? — অনুবাদক) কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রচুর পরিমানে ক্যালিকো পাওয়া গেল। এছাড়াও বাংলার রেশম আগরার তুলনায় ৩৫% কম দামে মিলল পাটনায় (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ২-৩; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৭০-৭১; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ১৯৪)। তিনি লিখে পাঠালেন তাঁতিদের থেকে শস্তা আর ভাল ঘুণমানে ক্যালিকো পাওয়া সম্ভব। কাপড়্গুলো তাঁতিদের থেকে সংগ্রহ করে, কুঠিতে ব্লিচ করে নিলেই হবে। কোরা রেশম কিনে ৩০ কারিগর ভাড়া করে তাদের চাহিদামত সেগুলি রিলিং করার কাজে নিয়োগ করলেন। তার ভাবনা ছিল, কাজটি যদি কোম্পানির পছন্দ হয় তাহলে তিনি এই কাজে সারা বছর ধরে ২০০-৩০০ কারিগর নিয়োগ করবেন (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ৫; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৮১; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ১৯৮)। তার প্রস্তাবে সুরাট কাউন্সিল ভাগ হয়ে গেল, তাকে বাংলা রেশম কেনার কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। এই রেশম ইংলন্ডে কোম্পানিকে প্রচুর লভ্যাংশ দিতে পারে, এই যুক্তি দিয়ে তিনি লন্ডনের কর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে গেলেন (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ১৫; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৮১)। দুজন ফ্যাক্টর খবর পাঠালেন লাকওয়ার থেকে অসীম পরিমানে আম্বাতি ক্যালিকো পাওয়া যাবে এবং বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার কাপড় পাওয়া খুব সমস্যার ব্যাপার নয়। এছাড়াও পাটনা থেকে কোম্পানির আপাতত ৩০০ মন বাংলা রেশম সংগ্রহের মাত্রা পূর্ণ হতে পারে। তারা লিখে পাঠালেন আম্বাতি ক্যালিকো আর কোরা রেশমের ওপর ভিত্তি করে গোটা একটা পাটনা কুঠির অর্থনীতি চলতে পারে (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ১৮; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৮৩; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ২১৩)।

কিন্তু আগরা থেকে এল উল্টো প্রতিক্রিয়া। দুই ফ্যাক্টরের কাজ রইল না। যে রেশম আগরা পেল তার গুণমান খুব ভাল নয় বলে জানিয়ে দিল আগরা কুঠি। তারা জানাল যে দামে তাদের রেশম পাঠানো হয়েছে সেই দামের সঙ্গে রাস্তার খরচ জুড়লে যে পরিমান দাম দাঁড়ায়, তার থেকে কম দামে আগরার বাজারেই রেশম পাওয়া সম্ভব। ঠিক হল হিউজ এবং পার্কারকে মুর্শিদাবাদে পাঠানোর হবে, যেটা আদতে রেশমের আড়ং এবং সারা ভারতের যে কোন জায়গার তুলনায় সেখানে ২০% কম দরে রেশম পাওয়া যায়। তারা আরও জানাল যে মুর্শিদাবাদের আশেপাশে প্রচুর পরিমানে দক্ষ রেশম কারিগর আছে, এবং ভারতের যে কোন স্থানের তুলনায় তাদের মজুরি শস্তা (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ২১; আর সি টেম্পল প্রাগুক্ত, ইন্ডিয়ান এন্টিকুইটি, ৯৮; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ২৩০)। ক্যালিকো পাটনায় বেশ শস্তা কিন্তু কুঠিয়ালদের ভাবনা হল শুধু একটি পণ্য কেনার জন্যে পাটনায় কুঠি না রেখে আগরা থেকে ক্যালিকো কেনার কাজ চলুক। এই ভাবনার সঙ্গে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার খবরে দুই কুঠিয়ালকে পাটনা থেকে সরিয়ে নেওয়া হল। ১৬২১ সালের মার্চ মাসে পাটনা কুঠিতে বিধ্বংসী আগুণ লাগে, কুঠিয়াল বেশ কিছু পরিমান পণ্য সরাতে পারলেও গোড়া বাড়ি ভষ্মীভূত হয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় ক্ষমতায় বদল এল। মুকরব খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন শাহজাদা পারভেজ, তিনি জুন মাসে ব্রিটিশদের পাটনা ছাড়া করলেন (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ২৪, ২৫, ২৯;  ইএফআই ১৬১৮-২১, ২৪৬-৭, ২৫৬)। পাটনা কুঠি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে দুই ফ্যাক্টরের উত্তেজনা প্রশমন ঘটল; বর্তমান পরিস্থিতিতে সুরাট কাউন্সিলের পাটনা কুঠি বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব তারা সহজেই মেনে নিলেন। ফেটিপ্লেসের মৃত্যুর পর সুরাট কাউন্সিল হিউজকে আগরার প্রধান কুঠিয়াল বানানোর প্রস্তাব দিল এবং এরই সঙ্গে তাদের লন্ডন থেকে জানানো হল যে বছরে ৩-৪ হাজার ক্যালিকো লন্ডনের বাজারের জন্যে যথেষ্ট এবং এক্ষুনি তারা বাংলার রেশমের কথা ইংলন্ডের বাজারের জন্যে ভাবছে না (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ১৭; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ২৩৪; ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ৩০; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ২৫৭; ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ১১৬; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ৩২৭)। তাদের দ্বিতীয় নির্দেশনামায় সুরাট কাউন্সিল জানাল পার্কারকে পাটনায় রেখে হিউজ আগরার পথে রওনা হোক, তারা আগরা থেকে আরেকজন ইয়ং নামে কুঠিয়ালকে পাটনায় পাঠাচ্ছে। কিন্তু দুই কুঠিয়াল প্রথম নির্দেশনামা অনুসারে সমস্ত হিসেব চুকিয়ে দিয়ে, তাদের হাতে থাকা টাকাকে পণ্যে রূপান্তরিত করে পাটনা কুঠি তুলে দিয়ে চলে যাওয়ার জন্যে তৈরি; তারা দ্বিতীয় নির্দেশনামাটি দেখলই না (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, পাটনা, ১ খণ্ড, ৩৫; ইএফআই ১৬১৮-২১, ১৯৩, ২৬৪)। পাটনায় প্রথম কুঠি খোলার চেষ্টা ব্যর্থ হল। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev