ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০, উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ষষ্ঠ অধ্যায়
রপ্তানি পণ্য
বাংলা থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তিন ধরণের চরিত্রের পণ্য রপ্তানি করত — মেলানো মেশানো পণ্য, সুতিবস্ত্র এবং রেশম। মেলানো মেশানো পণ্যের মধ্যে ছিল সোরা, চিনি, বোরাক্স, হলুদ, কড়ি, লালকাঠ, নানান ধরণের গামল্যাক। সোরা, চিনি, হলুদ, লালকাঠ, রেশম, সুতিবস্ত্র, সুতো, বোরাক্স সাধারণত জাহাজের ওজন বাড়াবার কাজে ব্যবহৃত হত অর্থাৎ এগুলো ব্যবহার করা হত মাঝ সমুদ্রে জাহাজকে স্থিতিশীল করে রাখার পণ্য হিসেবে। এই পণ্যগুলো বিক্রিযোগ্য, কিন্তু দামে কম ছিল। আমরা যে সময়ক্রম নিয়ে আলোচনা করছি সে সময়ে সোরা, সুতিবস্ত্র এবং রেশম ছিল কোম্পানির মুল রপ্তানি পণ্য। তবে আমাদের আলোচ্য সময়ের প্রথম দিকে কোম্পানি বাংলার সুতিবস্ত্র বা রেশম কাপড় বা থান কাপড় বিক্রির তুলনায় সোরা ব্যবসায় টিকে থাকতে অনেক বেশি উতসাহী ছিল। সপ্তদশ শতকের সাতের দশক থেকে অনেক বেশি করে নিজেকে কোরা রেশম রপ্তানিতে জড়িয়ে ফেলতে থাকে। এবং এর পরে আসে আটের দশক। এই সময় থেকে ইংলন্ড এবং ইওরোপের নানান বাজারে বাংলার সাধারণ শস্তা কাপড়ের চাহিদা বিপুলভাবে বাড়তে থাকে। এই সময় থেকে কোম্পানির বিনিয়োগের খাতায় সোরার পরিমান ছাড়িয়ে যায় রেশম এবং সুতিপণ্য। এরপর থেকে বাংলার কাপড়ের রপ্তানি বাড়তে বাড়তে ইওরোপ আর ইংলন্ডকে ছেয়ে ফেলে। এই সময়ের পর বাংলার কাপড়ের চাহিদা সামগ্রিক ইওরোপে বাড়ায় কোম্পানি বাংলা থেকে বিপুল পরিমান কাপড় ইওরোপে পাঠাতে থাকে এবং কোম্পানির রপ্তানি রণনীতিতে বাংলা থেকে বস্ত্র রপ্তানি একটা বড় ভূমিকা পালন করতে থাকে।
মোট রপ্তানি মূল্যে দীর্ঘ কালীন প্রবণতা
কোম্পানির বাৎসরিক রপ্তানি মূল্যের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা দেখব নিয়মিত রপ্তানি বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে কয়েক বছর ইওরোপ বা ভারতে যুদ্ধ, রাজনীতির অস্থিতিশীলতা ইত্যাদিতে রপ্তানি মার খেয়েছে। বাংলা থেকে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা রকমফের আমরা এবারে আলোচনা করব। ১৬৫২ সালে কোম্পানি বাংলায় রপ্তানি পণ্য কেনার জন্যে বিনিয়োগ করে ৭ হাজার পাউন্ড (ও সি, ১৬৫২, ২২৪৬, খণ্ড ২২; ই এফ আই, ১৬৫১-৫৪, ৯৭)। এর ছয় দশক পরের সময়ে ১৭১৯-২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৩৬,৯৭৩ পাউন্ড (কোম্পানির রপ্তানি সম্পর্কিত নানান তথ্য আমরা ১১ রেঞ্জের একাউন্টট্যান্ট জেনারেল ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন খণ্ড থেকে আহরণ করেছি (দেখুন বই-এর শেষে পুস্তক তালিকা)। বাংলা থেকে রপ্তানি মূল্য আর পরিমান হিসেব করেছি জুলাই থেকে জুনের ১২ মাসের হিসেবে কারণ বাংলায় অধিকাংশ জাহাজ জুলাই মাসে আসত এবং জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই বন্দর ছেড়ে বেরিয়ে যেত। অন্যভাবে বলতে গেলে ১৭১৯/২০ সালের অর্থ যে বছর শুরু হচ্ছে ১৭১৯-এর জুলাই থেকে, সেই বছর শেষ হচ্ছে ১৭২০র জুনে)। অন্য ভাষায় বলতে গেলে আমরা যে সময় নিয়ে আলোচনা করছি, সেই সময়ের শুরুতে কোম্পানির যে রপ্তানি ছিল, আমাদের আলোচ্য সময়ের শেষের সময়ে সেই পরিমান বেড়েছে ৫০ গুণ। এরই সঙ্গে এটাও মাথায় রাখা দরকার, এই মূল্যমান বৃদ্ধিতে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটেছে প্রথমটি ১৬৯০-৯১ থেকে ১৬৯৪-৯৫ এবং আবার ১৭০২-০৩ থেকে ১৭০৬-০৭ (বাংলা থেকে ব্রিটিশ রপ্তানি মূল্যের বাৎসরিক তালিকা জানতে টেবল ১ দেখুন)।


নির্দিষ্ট গুণগত তথ্যের অভাবে আজ, সপ্তদশ শতকের পঞ্চাশের দশকে কোম্পানির মোট রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কোম্পানির রপ্তানিমূল্য আমি আহরণ করেছি কোম্পানির জার্নাল এবং লেজার থেকে যেখানে আমরা অতিরিক্তভাবে মোট রপ্তানি হওয়া পণ্যের পরিমানও জানতে পারি — তবে সেটি শুরু হচ্ছে ১৬৬৩-৬৪ সাল থেকে। যদিও আমরা আমাদের আলোচ্য সময়ের শেষের বছর পর্যন্ত তথ্য পাচ্ছি, কিন্তু তার মধ্যেও কিছু কিছু বছরে তথ্যের ফাঁকও থেকে গিয়েছে। তবে যেহেতু পঞ্চাশের দশকে কোম্পানির রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় হামাগুড়ি দিচ্ছিল, তাই যে সব প্রাথমিক বছরগুলির হিসেব পাওয়া গেল না তার মূল্য সামগ্রিক ছবিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। আমরা অন্য সূত্র থেকে ১৬৫৮/৫৯ সালে রপ্তানির যে মূল্যমান পাচ্ছি, তার অঙ্ক হল ১০,২১৬ পাউন্ড (রাওয়াল, সি ৩৯৫, ১৭, ২৫এ। এই পাতায় দুটি জাহাজ লাভ এবং ব্ল্যাকমোরের অসম্পূর্ণ পণ্য তালিকা পাচ্ছি। চিনির মোট মূল্য দেওয়া নেই। লাভ নাম্নী জাহাজ থেকে চিনির দাম নিয়ে ব্ল্যাকমোরের মোট চিনির রপ্তানিমূল্য পেলাম। সব অঙ্ক কষতে গিয়ে আমি ভগ্নাংশকে বাদ দিয়েগিয়েছি)।
ষাটের দশকে রপ্তানির মোট মূল্যের দৃশ্যত বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। ১৬৬৩-৬৪ সালে লাফিয়ে বেড়ে হয় ২৪,১০০ পাউন্ড এবং সব থেকে খারাপ হয় ১৬৬৮-৬৯ সালে ১৪,৫৩৭ পাউন্ড। ষাটের দশকে গড় বাৎসরিক রপ্তানি মূল্য দাঁড়ায় ১৮,০০০ পাউন্ডে। সাতের দশকে বাংলা থেকে কোম্পানির এই রপ্তানি বৃদ্ধি আরও তীব্র হয়, এবং আগের দশকের পরিমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়। ১৬৭১-৭২ সালে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩,১২৩ পাউন্ডে এবং সত্তরের দশকে এই পরিমানটি ঘোরাফেরা করে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। ১৬৭৫-৭৬ এবং ১৬৭৬-৭৭-এর হিসেব হল যথাক্রমে ৫২,২৯৭ এবং ৫৮,৫৪৭ পাউন্ড। আবার ১৬৭৮-৭৯ সালে বৃদ্ধিটা হয় অনেক বেশি ৮৮,৩৫১ পাউন্ড (বি এম, এডি ম্যানু ৩৪১২৩, ৩০এ, ৩১)।
সপ্তদশ শতকের আটের দশক থেকেই বাংলা থেকে কোম্পানির বাৎসরিক রপ্তানির মোট মূল্যের প্রবৃদ্ধি ঘটতে থাকে এবং ১৬৮৬-৮৮-র যুদ্ধের আগে এটি শীর্ষদেশ ছোঁয়। ১৬৮১-৮২ সালে রপ্তানির পরিমান দাঁড়ায় ১,৪২,৭৬৩ পাউন্ড। ১৬৮৩-৮৪ সালে আবার কিছুটা পড়ে যায় ১,৪৬,৬৬৮ পাউন্ড। যুদ্ধের আগের বছরে ১৬৮৪-৮৫তে পৌঁছয় সর্কালীন শীর্ষ অঙ্ক ২,১০,০৬৩ পাউন্ডে তার পরের বছরে আবার কিছুটা কমে যায় ১,৮১,৭৮৫ পাউন্ড।
আগের দশকের তুলনায় সেই শতাব্দের নয়ের দশকের প্রথম পাদ পর্যন্ত ব্রিটিশ কোম্পানির রপ্তানি খুব বড় কিছুই ছিল না। আমরা জানি ব্রিটিশেরা ১৬৮৮ সালে নিজেদের বাংলা থেকে সরিয়ে নিয়ে আবার ১৬৯০ সালে বাংলায় ফিরে আসে (সুপ্রা, ৩ অধ্যায়, ১)। ফলে তাদের আরও কিছু সময় লাগছিল নিজেদের বন্ধ ব্যবসা গুছিয়ে শুরু করতে। এর সঙ্গে ১৬৯০-৯৬ সালের ইঙ্গ-ফরাসী যুদ্ধের পরিবেশের সময়টায় রপ্তানি খুব বাড়ছিল না। ১৬৯০-৯১ বছরে কোম্পানি বাংলা থেকে মাত্র ১টি জাহাজ পাঠিয়েছিল যার পণ্যের মূল্যমান ছিল ৪০,৬৩৯ পাউন্ড। পরের বছর বাংলা থেকে একটাও জাহাজ ইওরোপের দিকে যায় নি। কোর্টের পাঠানো মার্চ ১৬৯১-এর তিনটে জাহাজ বাংলায় পৌঁছয় ১৬৯২-এর শেষের দিকে। তিনটি জাহাজের একটি বার্কলে ক্যাসল ফরাসীরা ডুবিয়ে দেয় (বি এম, এডি ম্যানু, ৩৮,৮৭২, ১১)। অন্য দুটি স্যামসন এবং চার্লস দ্য সেকন্ড বাংলা থেকে ১৬৯৪-এর জানুয়ারির আগে ছাড়তে পারে নি। এর ফলে একটি ছোট, যতদূর সম্ভব ইস্ট ইন্ডিজের জাহাজ টনকুইন মার্চেন্টএ মাত্র ১১,৭০০ টাকার পণ্য পাঠানো হয় ইওরোপে। ১৬৯৩-৯৪ সালে মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৬,৯৯২ পাউন্ড। কম অঙ্কের রপ্তানির কারণ হল দুটি জাহাজ প্রিন্স অব ডেনমার্ক ফরাসীরা দখল নেয় এবং আরেকটি রয়্যাল জেমস এন্ড মেরি বাংলার উপকূলে ডুবে যায় (প্রাগুক্ত, ১২)। ১৬৯৪-৯৫তে ইংলন্ডে পৌঁছল ৩০,৪২৫ পাউন্ডের বাংলা পণ্য যদিও বাংলার কুঠিয়ালেরা তিনটে জাহাজে ১,২৩,২৯৮ (ফ্যাক্ট্রি রেকর্ডস, মিসলেনিয়াস, খণ্ড ৩এ, ২৯৮) পাউন্ডের পণ্য পাঠিয়েছিলেন, একটাই জাহাজ হক, পণ্য নিয়ে ইংলন্ডে পৌঁছতে পেরেছিল অন্য দুটি ফরাসীদের হাতে পড়ে যায় (বি এম, এডি ম্যানু, ৩৮৮৭২)। ১৬৯৬-৯৭ সালে মার্থা নাম্নী জাহাজ বাংলায় আসে, তাতে পাঠানো হয় ৯০,৪৯০ পাউন্ড পণ্য (কোর্ট অব ডিরেক্টদের পাঠানো চিঠিতে সুরাট কুঠিয়ালের জানায় ১৯৯৬-এর জুনে দুটি জাহাজ মার্থা আর সারা বাংলা থেকে ইংলন্ডের দিকে পাঠানো হয় জানুয়ারি ১৬৯৬ সালে, সারায় পণ্য ছিল ১ লক্ষ পাউন্ড, ৮ লক্ষ টাকার; ও সি, ১৯ জুন, ১৬৯৬, ৬২৩১, খণ্ড ৫২। কিন্তু এজিডিতে আমি সারা নাম্নী কোনও জাহাজের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি) পরের দু বছরের গড় রপ্তানি ছিল ৭৩,০০০ ডলার। কিন্তু সেই দশকের দ্বিতীয় পর্বে ১৬৯৮-৯৯ থেকে রপ্তানি বাড়তে থাকে। সেই বছরে ১,৬৩,০৫৩ পাউন্ডের পণ্য ইওরোপে পৌঁছয়, ১৬৯৯-১৭০০তে পৌঁছয় ১,৯০,২৭৫ পাউন্ড এবং ১৭০০-০১-এ পৌঁছয় ২,৮০,৬৭২ পাউন্ড। ১৭০১-০২ সালেও রপ্তানির মূল্য আরও বাড়ল ২,২৮,০৪২ পাউণ্ড।

১৭০২-০৩ থেকে ১৭০৬-০৭ পর্যন্ত রপ্তানি আবার কমতে শুরু করে। এই বছরগুলিতে গড় রপ্তানি ৭০,০০০ পাউন্ড ছাড়ায়নি, সব থেকে কম ছিল ১৭০১-০২ সালে ৫৪,৭১৩ পাউন্ড, বেশিতম ছিল ১৭০৬-০৭ সালে ৮৪,৯০২ পাউন্ড। এই পতনের জন্যে অনেকগুলি চলক দায়ি। ১৭০২-এর ডিসেম্বরে ইওরোপিয়রা ভারতীয় জাহাজে চোরাচালান করছে এই অভিযোগে সমস্ত ইওরোপিয় পশ্চিম উপকূলের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল (ও সি, ২৪ ডিসে, ১৭০২, ৮০০৭, খণ্ড ৬৫)। ১৭০২ সালে স্পেনে সিংহাসনের লড়াই শুরু হয়। ব্যবসা ব্যহত হয়। কিন্তু আরও কিছু কারণ আছে যা বাংলা-ইওরোপ রপ্তানি ব্যবসায় মন্দা আনে। ১৭০৬ সালে কোর্ট অব ডিরেক্টর লিখল ইংলন্ডে পূর্ব ভারতের যে কোন পণ্যের জন্যে খুব বেশি শুল্ক চাপানো হয়েছে। এর সঙ্গে জুড়েছিল দামি ধাতু পাওয়ার সমস্যা। ফলে ইওরোপে বাংলা থেকে আমদানি কমে যায় (ডি বি, ১৮ জানু, ১৭০৬, ৯৫ খণ্ড, ৫১২)। ১৭০৭-০৮ থেকে কোম্পানির রপ্তানির মূল্যমান বাড়তে থাকে নিয়মিতভাবে, যা নিচের তালিকায় স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে (১৭০৮-০৯ সালের মোট মূল্যের পণ্য এনে নামক জাহাজটি নিয়ে যায় যার কথা বেঙ্গল জেনারেল লেজারে উল্লিখিত হয়েছে কিন্তু এ জি ডিতে আমি সেটির উল্লেখ পাই নি)
বছর রপ্তানির মোট মূল্য (পাউন্ডে)
১৭০৭-০৮ ১,৩৫,৬৬২
১৭০৮-০৯ ১,৪৮,৯৯৫
১৭০৯-১০ ২,০৮,৮৯২
১৭১০-১১ ২,২৮,৪৭৪
১৭১১-১২ ২,৩৩,৮৫৯
১৭১২-১৩ ২,৫৯,৫৯৩
পরের বছর ১৭০৩-১৪তে মূল্য পড়ে হয় ১,৭৫,৩৮৭ পাউন্ড এবং তার পরের বছর ১৭১৪-১৫তে আরও কমে হয় ১,৫৮,৭৩২ পাউন্ড। পরের বছর বেড়ে হয় ২,২১,৬৯৭ পাউন্ড এবং ১৭১৬-১৭তে হয় ১,৭৮,৮২১ পাউন্ড। পরের তিন বছর বাংলার রপ্তানির মূল্যমান বাড়ে দ্রুতহারে। ১৭১৭-১৮ হয় ২,৪৪,৯১৮, পরের বছর হয় ২,৫৯,২৭৯ এবং ১৭১৯-২০তে পৌঁছয় ৩,৩৬,৯৭৩ পাউন্ড যা এই সময়ক্রমে সব থেকে বেশি। ১ ছবিতে এই সময়ের বাতসিরিক রপ্তানির ওঠাপড়ার বিশদ ছবি ধরা হয়েছে। (চলবে)