প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন আজও অটুট ‘দ্বিতীয় নবদ্বীপ’ হুগলির কৃষ্ণনগরে। আচার ও প্রথা মেনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অসংখ্য ভক্তের সমাগমে অনুষ্ঠিত হল শুভ রথযাত্রা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর শ্রীপাটে সাড়ম্বরে পালিত হল রথযাত্রা উৎসব। শুরু হয়েছে সম্প্রীতির মেলা। রথযাত্রার বৈশিষ্ট্য হল গোপীনাথ এখানে বস্ত্রহরণবেশি মূর্তি। তিনি রথে আরোহণ করেন না। রথে চাপেন শ্রীব্রজগোপাল জিউ, রাধারমন ও শ্রীধর শালগ্ৰাম শিলা। উল্লেখ্য, এগুলি অভিরাম গোপালের বিগ্ৰহ নয়। এগুলি অভিরামের সময়কালে অথবা পরবর্তীকালে কোনো ভক্ত মন্দিরে দিয়ে গেছে। রথের দিন বিকেলে মন্দির থেকে এইসব বিগ্ৰহ শোভাযাত্রা বের করে রথঘরে গিয়ে রথে চাপেন। তারপর রথের রশি ধরে ভক্তরা বকুলতলায় নিয়ে যান। এরপর পূজা অর্চনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, এই ‘দ্বিতীয় নবদ্বীপ’-এ গোপীনাথ জিউ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন অভিরাম গোস্বামী। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে অভিরাম গোস্বামীকে শ্রীচৈতন্যের শাখাভুক্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি ছিলেন দ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল। কথিত আছে, অভিরামের সঙ্গে দেখা করার জন্য শ্রীচৈতন্য একবার এই কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন। তারপর থেকে এই কৃষ্ণনগর ভক্তদের কাছে পবিত্র ভূমি। প্রতি বছর ধুমধাম করে রাস উৎসব ও মেলা যেমন অনুষ্ঠিত হয়, পাশাপাশি রথযাত্রা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে উঠে এই দ্বিতীয় নবদ্বীপ।

এদিকে কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি খানাকুলের নন্দনপুর, বন্দর, বালীপুর ও হেলান বাজার এলাকায় রথযাত্রা উপলক্ষে উৎসব ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে হেলান-এ হাজার হাজার ভক্ত রথের রশিতে টান দেন। মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ভক্তদের হৃদয়ের আকুতিতে মুখর হয়ে উঠে সমগ্ৰ হেলান এলাকা। এই রথযাত্রার মূল উদ্যোক্তা অশোক পাল জানান, প্রতি বছর অসংখ্য ভক্তের সমাগমে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।