আজ আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস। যদিও সন্তানদের কাছে মাতৃ দিবস প্রতিদিনই। তবু আজকের দিনে মনে পড়ছে গায়ত্রীদেবীর কথা। গায়ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর আশীর্বাদ, গাইডেন্সে বড়ো হয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বীরভূমের কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাবাড়ি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাতৃভক্তিও সকলের কাছে শিক্ষণীয়। অনেকেই জানেন তবু বলি, মায়ের মুখ না দেখে বাড়ি থেকে বেরোতেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতে ১০ টাকা দিতেন মা গায়ত্রীদেবী। সেই হাতখরচের টাকা জমিয়ে কালীপুজোয় বাড়ির কালীমূর্তির জন্য একটা করে অলঙ্কার গড়তেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি পয়লা বৈশাখে নিয়ম করে শত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আজও। কালীঘাটে পুজো দিয়ে মা গায়ত্রীদেবীকে প্রণাম করে বছর শুরু করাই ছিল তাঁর নিয়ম। সিপিআইএমের আক্রমণ, অত্যাচার, প্রাণহানির চেষ্টা, শত হুমকি সত্ত্বেও অকুতোভয় মেয়েকে কখনও সত্যের পথ থেকে সরে আসতে বলেননি নির্ভীক গায়ত্রীদেবী।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এসেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। টালির বাড়ি, ঘুপচি ঘর দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা গায়ত্রীদেবীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বলেছিলেন, আপনি এমন এক সন্তানের জননী! এটা রেলমন্ত্রীর ঘর! গায়ত্রীদেবীর সঙ্গে অনেক কথা হয়েছিল বাজপেয়ীজির। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সাংসারিক সংগ্রামের কথা।

গায়ত্রীদেবী বলেছিলেন, বাবার মৃত্যুর পর মমতাই নিজের কাঁধে সংসারের ভার তুলে নিয়েছিল। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরিসর ঘর দেখে বাজপেয়ীজি গায়ত্রীদেবীকে বলেছিলেন, আপনার মেয়ে যেভাবে থাকে, তা আজকের দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেউ ভাবতেই পারে না। এমন জনপ্রিয় নেত্রীর এই বেডরুম, আমি ভাবতেই পারি না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলতেন, মা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। মা তাঁর কাছেও ছিলেন প্রেরণা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার পর যখন ২০১১-র ডিসেম্বরে গায়ত্রীদেবী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তখন মায়ের পাশেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লি থেকে তড়িঘড়ি ছুটে এসেছিলেন। মায়ের প্রয়াণে শোকাহত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, মা ছিলেন আমাদের গোটা তৃণমূল পরিবারের মা। মাওবাদীরা আমাকে খুনের হুমকি দেওয়ার সময় মা একটু চিন্তিত থাকতেন। আজ আমার জন্য চিন্তা করার কেউ রইল না।

মায়ের অভাব পূরণ হয় না। তবু কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়শি মাতৃসমা মহিলারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরনোর সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, অপেক্ষায় থাকেন ফেরার। সে কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বারবার বলেন। বাংলার সব মায়েদের দেখেই নিজের মাকে খুঁজে পান জননেত্রী। প্রতি বছর দুর্গাপুজোয় নিয়ম করে বৃদ্ধাশ্রমে ছুটে যান কিংবা বাড়ির কালীপুজোয় আবাসিকদের নিয়ে আসেন, মায়ের ভালোবাসা পেতে কার না মন চায়! বাংলার মা-মাটি-মানুষকে ভালো রাখতে যিনি নিরলস পরিশ্রম করছেন, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, আজ আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে জননেত্রীর রত্নগর্ভা মা-কে আমাদের প্রণাম।