শনিবার ও রবিবার দু-দিন ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হল পশ্চিমবঙ্গ কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলা ভাষার সম্মান ও বাংলার সম্মান রক্ষার প্রতিবাদে সোচ্চার হন কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। এ দু-দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদস্যরা গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। বাংলা ভাষীদের উপর বিজেপির সন্ত্রাস ও বাংলা বিদ্বেষ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সরব হন। পূর্ণেন্দু বসু বলেন, কৃষকরা যখন পথে নামে গোটা ভারতবর্ষকে নাড়িয়ে দেয়। বাংলা ভাষীদের উপর বিজেপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আজকের এই প্রতিবাদ। দোলা সেন জানান, ২০১১ সালে মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৬ সালে সিপিএম ও কংগ্রেস জোট হয়ে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২১ এ বিজেপি হারিয়ে গেছে। কারণ এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মানুষের আস্থা আছে, ভরসা আছে। বিজেপি যেভাবে বাংলা ভাষার ও বাংলার সম্মান রক্ষার বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করছে তা কখনো কখনো বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।

তিনি আরও জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী, রাজ্যের সম্মানীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো, বাংলা ভাষার ও বাংলার সম্মান রক্ষার্থে এবং বাংলাভাষীদের ওপর বিজেপি-র সন্ত্রাস ও বাংলা-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, পশ্চিমবঙ্গ কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের ৩০-৩১ অগাস্ট, দুপুর ২টো থেকে ৫টা, কলকাতা ধর্মতলা মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলনের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, দুদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত সকল সদস্যরা ঐক্যমতে পৌঁছান। সকলের অভিমত আমরা সতর্ক, সাহসী, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হই, অহিংস ও সত্যাগ্রহী প্রতিরোধ গড়ে তুলি বন্ধু, আমাদের আশঙ্কা সত্যি হতে চলেছে। দেশের সংবিধান পাল্টাতে চলেছে। তার জন্য কোনো সাংবিধানিক নিয়ম কানুনও মানা হচ্ছে না। কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় সরকার যা খুশি তাই করছে। সংবিধান সংশোধনী ৩টি বিল মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হঠাৎ করে সংসদে পেশ করা হয়েছে। দেশ জোড়া তীব্র প্রতিক্রিয়া আঁচ করে শেষ পর্যন্ত বিল তিনটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিল ৩টি হল — সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল ২০২৫, কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, ও জম্মু-কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫। এই বিলগুলি হল মন্ত্রী অপসারণের বিল। রাজ্য সরকারকে ফেলে দিতে এই চেষ্টা। এগুলো কালো বিল এবং সংবিধান বিরোধী বিল। সংবিধান, আইন, বিচার পদ্ধতি, গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী বিল।এটাকে মানা যায় না।

প্রসঙ্গত,বিলগুলিতে কি আছে? সংবিধানের ৭৫ নম্বর ধারার সংশোধন। তাতে বলা হচ্ছে — প্রধানমন্ত্রী সহ কোনো মন্ত্রী যদি ৩০ দিন জেলে থাকেন তাহলে ৩১তম দিনে তার বিচার ছাড়াই মন্ত্রীপদ খারিজ হবে। কেবল প্রধানমন্ত্রীর পদ যাবে ৩২তম দিনে। সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য কোনো মন্ত্রী ৩০ দিন জেলে থাকেন ৩১ তম দিনে মন্ত্রিপদ খারিজ হবে। সংবিধানের তৃতীয় সংশোধন ২৩৯-এ এ ধারায় দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরির জন্য দেশের সব কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল এবং জম্মু কাশ্মীরকেও এই আইনের ছাতার তলে আনা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে নিজেদের আড়ালে রেখে বিরোধী রাজ্য সরকারগুলিকে সরাবার মতলব করা হচ্ছে। সামনে এক মহাবিপদ ঘনিয়ে আসছে, নেমে আসছে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার। গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বাংলা ভাষা বলে নাকি কিছু হয়না। বাংলা ভাষায় কথা বললে, তাঁদের বাংলাদেশি বলে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর ফলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। দেখা দিচ্ছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর আতঙ্ক।গরিব-শ্রমিক এবং সংখ্যালয় মানুষদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এ-এক গভীর ষড়যন্ত্র বলেই মনে হচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যে সমস্ত বাঙালি শ্রমজীবী মানুষের উপর হামলা ও সন্ত্রাস চলছে, তাঁরা মূলত গরিব এবং প্রধানত নিম্নবর্ণ হিন্দু ও মুসলমান। এই হামলা মূলত সেই রাজ্যগুলির শ্রমজীবী বা অন্যান্য মানুষরা করছেন না। করছে পুলিশ প্রশাসন ও বানরসেনার দল। আসলে অমিত শাহদের বঙ্গভূমির দখল চাই।