করোনার জেরে লকডাউন প্রভাব ফেলেছে শিশুমনেও। টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে লক্ষ্মীর ভাঁড়ে জমানো টাকা বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার মাধ্যমে রাজ্য আপৎকালীন ত্রাণ তহবিলে দান করেছে দুই খুদে ছাত্রী। তাদের মতোই এগিয়ে এলো বসিরহাটের তৃষাও।

শিশুমন কেঁদে ওঠে আর্ত মানুষের জন্য। রাতে ঘুমাতে যাওয়া হোক বা ঘুম থেকে উঠে তারাও বাবা-মাকে প্রশ্ন করে, কী করে বাঁচবে সবাই?ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।বসিরহাট পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃষাচট্টোপাধ্যায়ের মনেও প্রবলভাবে ছাপ ফেলেছে করোনা নিয়ে চিন্তা।

৩১ মার্চ তৃষা ১০ বছরে পা দিয়েছে। দেশজুড়ে তখন লকডাউন চলছে। বাবা-মা একমাত্র কন্যাসন্তানের জন্মদিন বড় করে পালন করতে না পারলেও বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই তৃষার। জন্মদিনে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া ৩০০০ টাকা পেয়ে তা বাবার হাতে তুলে দিয়ে তৃষা বলে, এই সময়ে খেলনা কিনব না। তুমি বরং গরিব মানুষদের কিছু খাবার কিনে দাও এটা দিয়ে। মেয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে যান তার বাবা।

এরপর শুক্রবার ১০ এপ্রিল সকালে বাবার হাত ধরে বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসের অফিসে আসে তৃষা। জন্মদিনে পাওয়া তিন হাজার টাকা মিঠুকাকুর হাতে তুলে দিয়ে তৃষা বলে, এই টাকাটা জন্মদিনে পেয়েছি। এটা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটু পৌঁছে দেবেন। বিধায়ক দীপেন্দু পরে বলেন, অনেক ক্লাব, সংগঠন এবং ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনেকে সাধ্যমতো অর্থ দিচ্ছেন। তবে ১০ বছরের তৃষার এমন মানবিক চেতনা আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। ঈশ্বরের কাছে ওর সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করি৷