হারার আশঙ্কায় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে চুরি করে জেতার যে অভিযোগ আনছেন তার সমালোচনা করেছেন সমর্থকরাই। তার নিজের দলেরই কয়েকজন আইন প্রণেতা বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য আমেরিকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই শুধু নয়, মার্কিন নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ভোট গণনার ঐতিহ্যকেই ধ্বংস করবে। ইতিমধ্যেই অ্যারিজোনায় বেশ কিছু ভোট বাতিল হয়েছে। সে রাজ্যের প্রধান সচিব একথা গণমাধ্যমকে জানিয়ে বলেছেন, বৈধ ভোট না গোনার কোন প্রশ্নই আসেনা। অনেকের মতে, ট্রাম্পের রাজনীতির চেহারাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামির মত। এখানে যুক্তি-বুদ্ধির কোন জায়গা নেই। এ রাজনীতি আমেরিকাকে পিছনে ঠেলে দেবে। কিন্তু তিনি নিজের মত থেকে সরতে নারাজ।
ট্রাম্পের মেঠো বক্তৃতায় চাঙ্গা হয়ে তার চ্যালারা দলে দলে জড়ো হচ্ছেন ভোট কেন্দ্রের সামনে। তাদের আওয়াজ ‘ভোটের বুজরুকি’ বন্ধ করতেই হবে। অন্যদিকে ভোট গণনার সমর্থকরাও থেমে নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছেন তারা। পরিস্থিতি ক্রমশই বেশ অশান্ত হয়ে উঠছে।
ট্রাম্প কিন্তু এসব সমালোচনা শুনছেন না। তার এখন একটাই লক্ষ্য, আইনের ফাঁদে ভোটের রায়কে আটকে রাখা। এমন ঘটনা মার্কিন গণতন্ত্রে আগে ঘটেনি। এই তৎপরতায় অবাক আমেরিকা! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই মারকুটে ছায়াযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত। তারা বলছেন, দেশের সাধারণ মানুষের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিশ্বাস ও ভক্তিভাব ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষী রাজনীতির ফলে উবে যাবে। যেনতেন প্রকারেণ বিরুদ্ধ মতকে ধ্বংস করার যে রাজনীতি তিনি ফেরি করছেন তা শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধেই যাবে।
পরাজয়ের মুহূর্তে ট্রাম্পকে মাথা ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শ দিয়েছে জার্মানি। গতকাল জার্মানির বিদেশ মন্ত্রী হেইকো মাস ট্রাম্পকে বলেন, “ভুয়ো ভোটের অভিযোগ তুলে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও অশান্ত করবেন না। আমেরিকা ‘ওয়ান ম্যান শো’ নয়। উৎকণ্ঠার সময় উস্কানি দেওয়া বন্ধ না করলে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া হবে। ভোটের চূড়ান্ত ফল আপনার নিজের মত করে খতিয়ে দেখার সময় আসার আগে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা? একটা সাধারণ সত্য ট্রাম্পের মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না যে, ভোট গোনা বন্ধ হোক বা না হোক তিনি হারছেন। ট্রাম্প অ্যান্ড কোম্পানির দৌরাত্ম্যে ক্ষমতার হাতবদল শান্তিতে হবে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রীতিমত গবেষণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আমেরিকার পলিটিক্যাল ক্লাস। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার ইলেক্টোরাল ব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল। জানা যাচ্ছে, ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট’ বার্নি স্যান্ডার্স নাকি আগেই জানতেন বিদায়বেলাতেও ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী দাবি করতে পিছপা হওয়ার মত লোক নন। বার্নির ভবিষ্যৎ বাণীকে ‘ইরি প্রেডিকশন’ বলে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের ভরাডুবি হবে মেইল ইন ব্যালটের স্তূপে চাপা পড়ে।