| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

গ্রাউন্ড জিরোর দেওয়ালে হাত দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছে প্রিয় মানুষটিকে : অশোক মজুমদার

Reporter
অশোক মজুমদার / ৫৯১ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ছবি তুলতে তুলতে কখন যে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়েছি বুঝতে পারিনি। সেখানে ছবি তোলা দূরের কথা সাধারণ মানুষেরই প্রবেশ নিষেধ। কাজের জায়গাটা বড়ো বড়ো লোহার গেট টিনের ব্যারিকেড আর আমেরিকান কম্যান্ড পুলিশ হাতে হাতে জার্মান শেফার্ড কুকুর নিয়ে ঘেরা আছে। হটাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখি দুজন আমেরিকান পুলিশ দাঁড়িয়ে একজনের হাতে জার্মান শেফার্ড।

তালগাছের মতো কালো লম্বা পুলিস সাথে ওই নেকড়ের মত কুকুর দেখে আমি রীতিমত ভয় পেয়ে যাই। বুঝতে বাকি থাকে না যে আমি ভুল করে এখানে ঢুকে পরেছি। তৎক্ষণাৎ ক্যামেরা হাতে একবারে স্ট্যাচু। চোখের পাতাও ফেলতে পারছি না। ঘামতে শুরু করেছি। মনে মনে ভাবছি এই প্রথম অনেক কষ্টে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ছবি তুলতে আসা। শেষে কি আমেরিকান জেলে কাটাতে হবে নাকি!!

ওরা এগিয়ে এলো। পুলিশ অফিসারদের চেয়েও জার্মান শেফার্ডের চারপাশে ঘুরে ঘুরে আমায় শুঁকছে তাতে আরও ভয় লাগছে। কিন্তু অবাক হচ্ছি ও আমার পাশে ঘুরলেও একবারও গায়ে টাচ করে নি। শুধু জুতোটা মাঝে মাঝে শুঁকছিল। আমেরিকান পুলিস ইংরেজিতে যা বললো তা পুরো বোঝার ক্ষমতা আমার নেই। তবুও মোটামুটি যা বুঝলাম বাংলায় বললে, “তুমি এর ভেতরে ঢুকে পড়েছ এটা তো রেস্ট্রিকটেড এরিয়া। আমরা পুরো জায়গাটা ঘিরে কাজ করছি। উঁকি ঝুঁকি দেওয়া বা ছবি তোলা সব বাইরে থেকে।”

আমি থতমত খেয়ে বললাম, “স্যার আমি না বুঝে ভুল করে ঢুকে পড়েছি। সরি স্যার আর হবে না…বেরিয়ে যাচ্ছি। স্যার আমি ইন্ডিয়ান একজন প্রেস ফটোগ্রাফার এই প্রথম আমার নিউইয়র্ক আসা।”

ওরা আমার পাসপোর্ট দেখতে চাইলো। দেখলাম পাসপোর্টটা একটা ছোট হ্যান্ড মেশিনের মধ্যে ঢুকিয়ে অনেকক্ষণ ধরে আঙ্গুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে কি সব দেখলো। তারপর বললেন, ” নিউইয়র্ক তোমার প্রথম ভিজিট?”

“ইয়েস স্যার…!”

“ম্যানহাটানে তুমি প্রথম এসেছ?”

“ইয়েস..!”

“ওকে ছবিগুলো তোমার ক্যামেরা থেকে ডিলিট করে দাও। আমরা তোমাকে বেরোবার পথ বলে দিচ্ছি। ক্যামেরার ছবি সব ফরম্যাট করে দাও।”

আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। সকাল থেকে তোলা এত ছবি সব ডিলিট করতে হবে….

কাতর স্বরে বললাম, “স্যার একটা রিকোয়েস্ট ছিলো, আমি সকাল থেকে বাইরের অনেক ছবি তুলছি। ফরম্যাট করে দিলে সব ছবি চলে যাবে। স্যার ভেতরে তোলা ছবিগুলিই আমাকে ডিলিট করতে দিন। প্লীজ স্যার”…জোর হাত করে বললাম, “৯/১১ নিয়ে আমি ভারতে প্রদর্শনী করবো।”

ভয় লাগছে আমি যা বলছি ওরা বুঝতে পারছে তো। ভেবে ভেবে ঢোক গিলে গিলে তার ওপর নার্ভাস হয়ে কি বলছি নিজেও বুঝতে পারছি না। ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কি ভেবে একজন বললেন, “ঠিক আছে। আমাদের অফিসে চলো।”

আমি তো ঘাবড়ে, চোখে জল আসার যোগাড়। খুব ভয় পেয়ে গেলাম। ওরা দুজন আমায় মাঝখানে নিয়ে ফলো করতে বললেন। পেছনের পুলিশের কাছে সেই জার্মান শেফার্ড। আমি দৌড়ে পালাতে গেলেই এই নেকড়ে আমায় ধরে ফেলবে। যদিও সেই কান্ড আমার ভাবনার বাইরে। ওদের পেছন পেছন পেল্লাই এক রুমে ঢুকলাম। সবাই এমন সব ড্রেস আর্মস পরে আছে। মনে হচ্ছে এখুনি বোধয় কোথাও যুদ্ধ লেগেছে।

আমায় একটা জায়গায় বসিয়ে বললেন, “ভিতরের সব ডিলিট করে ওই টেবিলের ম্যাডাম কে দেখিয়ে বেরোবেন।”

“ওকে স্যার….”

কাছে ল্যাপটপ নেই, ছবি একটা একটা করে ডিলিট করে যাচ্ছি। এর ভিতরে বড়ো মগে একজন কফি আর কিছু কুকিজ দিয়ে গেলো। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের গ্রাউন্ড জিরোর ছবি ডিলিট করে সেই ম্যাডামের কাছে যাবার আগে নার্ভাস লাগছে এনাকে আবার বোঝাও। যাইহোক আমি কি বললাম….উনিও কি বুঝলেন জানিনা। একবার ক্যামেরা নিয়ে নাড়াচাড়া করে প্রাথমিক কিছু কথা বলে ছেড়ে দিলেন।

উফফফ প্রায় দুঘন্টা পর মুক্তি পেলাম। শুধু একটা কথা ভাবছি এরা আমার ভুলটা কিন্তু মাথা ঠাণ্ডা করে বিষয়টা হ্যান্ডেল করলেন। আমার ভয় লাগলেও ওরা কিন্তু কোনো মিস ব্যবহার করেননি। এরকম ঘটনা কলকাতায় করলে ক্যামেরা নিয়ে গালাগাল, চিৎকার চেঁচামেচি হয়তো চুলের মুঠি বা হাত ধরে কতো রকম হ্যারাস করা হত। অথচ এরা ছবি তোলার সময় টানাটানি পর্যন্ত না করে আমায় পথ দেখিয়ে দিল আর বলল ছবি তোলার আগে নোটিশ বোর্ড দেখে নেবে।

প্রথমবার আমেরিকা গিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দেখার ও ছবি তোলার অভিজ্ঞতা এটুকুই। মূল গল্পে আসার আগে বলি… সেপ্টেম্বরের এগারো তারিখ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিধর দেশের উপর কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার টেররিস্ট হামলার একুশ বছর হবে। ওসামা বিন লাদেনের মস্তিষ্কপ্রসূত সেই হামলা গোটা বিশ্বকে মুহূর্তে থমকে দিয়েছিলো। আজ ছবিওয়ালার গল্পে ভয়ংকর সেই জঙ্গি হামলায় একশো দশ তলার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অর্থাৎ টুইন টাওয়ার কিভাবে গেলাম সেই গল্পই শেয়ার করে নেবো… ।

আমার জীবনে প্রথম আমেরিকা যাওয়া অবশ্যই সাদা বাড়ি কালো গ্রিলের (আনন্দবাজার পত্রিকার) অ্যাসাইনমেন্টে। ঠিক তেরো বছর আগে ২০১০ সালে ৪, ৫, ও ৬ই সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথম আনন্দ উৎসব হয়। আমি ও পত্রিকার বিশিষ্ট প্রতিবেদক ইন্দ্রনীল রায় এবং টেলিগ্রাফের প্রীতম ডি গুপ্ত (এখন সিনেমার পরিচালক) এডিটর অভিক সরকারের নির্দেশে এই উৎসব কভার করার জন্য মনোনীত হই।

ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্টে এতদিন পাতার পর পাতা বাংলাদেশের স্ট্যাম্প পড়েছে। একটা পাসপোর্টের পুরো পাতাটাই বাংলাদেশের স্টাম্পেই শেষ হয়ে গেছে যদিও সেখানে একবার চায়না ভ্রমণ ছিলো। তবে বিদেশ হলেও বাংলাদেশকে আমার নিজের দেশই মনে হয়। আমার মা বাবা মামা মাসী দিদিমা ঠাকুমা কাকা সবাই তখন পূর্ব পাকিস্তানেই ছিলেন। পরে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়। ফলে আমেরিকা যাবার সুযোগে আনন্দ তো হবেই।

বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের তাবড় শিল্পীরা তিনদিন ধরে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। শর্মিলা ঠাকুর থেকে শুরু করে সোহা আলী খান, আমজাদ আলী খান, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, জেমস, সুনীধি চৌহান, নাটকের অভিনেতা গৌতম হালদার-সহ বহু বিশিষ্ট শিল্পী এই তিনদিন পারফর্ম করেন।

আমি ছবি তোলা ছাড়াও সময় সুযোগ পেলেই লস অ্যাঞ্জেলস-এর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। আপনারা ভালো করেই জানেন হলিউডের হেড কোয়ার্টার এই লস অ্যাঞ্জেলস শহরটি। পৃথিবীর বিখ্যাত হলিউড নায়ক নায়িকা এখানেই থাকেন। যেমন বলিউডের মুম্বাই। রাতের পরে রাত আমরা অনুষ্ঠান শেষে ঘুরতাম। নাইট ক্লাব তো ছিলোই।

লস এঞ্জেলস থাকার সময় জেনেছিলাম কিছুদিন পরেই ৯/১১…ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সেই অভিশপ্ত দিনটা আসছে। ওখানকার লোকেদের জিজ্ঞাসা করে বুঝলাম যে আমায় যেতে হলে নিউইয়র্ক যেতে হবে যেটা লস অ্যাঞ্জেলস থেকে টানা সাত ঘন্টার ফ্লাইট। এই জন্যই বলা হয় মহাদেশ। ভাড়াও অনেক। তারপরে ওখানে থাকা খাওয়ার এত টাকা আমি পাবো কোথায়। এবিপি থাকা খাওয়া বাদে যা ডলার দিয়েছিল। তার ওপর আমি নিজে বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করে ডলার নিয়ে যাই। তাও সামান্য। কিন্তু এত কাছে কাছে এসেও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জায়গাটা দেখা হবে না?

মনে মনে এটাই ভাবছি….ওসামা বিন লাদেন কোম্পানি যে ঘটনা ঘটিয়েছিল টিভিতে সেই লাইফ টেলিকাস্ট দেখে আমরা ভয়ে কুকড়ে গিয়েছিলাম। ভাবা যায় প্রেসিডেন্ট বুশকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এই ঘটনা মানুষ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। সাত ঘণ্টার জার্নি নিউইয়র্ক, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের এতো কাছে এসেও যাবো না সেটা কি করে হয়!! কিন্তু যাবোটাই বা কি করে? মাত্র তিন রাতের জন্য লস অ্যাঞ্জেলস এসেছি। কাজের ভিতরে শুধু এই চিন্তা করে যাচ্ছি।

আনন্দ উৎসবে গান বাজনা খাওয়াদাওয়া ছাড়াও অনেক মানুষ বই, শাড়ি, কাপড়, গয়নার স্টল দিয়েছিল। তার ভিতরে বাংলাদেশের একটা বইয়ের স্টল নাম “মুক্তধারা।” এই স্টলে আমি খুব আড্ডা দিতাম কারণ এখানে মন খুলে বাংলায় কথা বলতে পারতাম। বাকিগুলো তো কেন জানি না বাংলি হলেও ইংলিশ বলবেই। মুক্তধারার বিশ্বদীপ এবং স্ত্রী রুমা এর কর্ণধার। বেশ ভাব হয়ে গেল। একসময় সল্টলেকে আমার ইই ব্লকেই থাকতো বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো। এখন নিউইয়র্ক এর স্থায়ী বাসিন্দা।

আড্ডার ভিতরে জেনেছিলাম বাংলা সাহিত্যের সুনীলদা, শীর্ষেন্দুদা, সমরেশ মজুমদার, শঙ্খ ঘোষ সহ ওপার বাংলার অনেক সাহিত্যিকের সঙ্গে বিশ্বজিৎ রুমার নিবিড় যোগাযোগ। বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বজিৎ ও রুমার দাদার মতো। এটাও জেনেছিলাম নিউইয়র্ক-এ “মুক্তধারা” বইয়ের দোকান আছে। নিজেদের ফ্ল্যাট ছাড়াও একটা ফ্ল্যাট আছে। কলকাতা ও বাংলাদেশের বহু সাহিত্যিক ওই বাড়িতেই থেকেছেন। রাতে এটা মনে পরতেই ভাবলাম রুমা বিশ্বজিৎ কে বলবো আমায় তিনদিন তোমাদের ওখানে রাতটুকু থাকতে দাও। খাবার রাস্তায় খেয়ে নেব। উত্তেজনায় ঘুম গেলো চটকে।

পরদিন সাত সকালেই হাজির হলাম মুক্তধারা স্টলে। ওরা সেইমাত্র স্টল খোলার তোড়জোড় করছে। আমি কোনো ভনিতা না করে সোজা বলে ফেললাম…”বিশ্বজিৎ নিউ ইয়র্কে আমায় তিনদিন থাকতে দেবে। ম্যানহাটনে আমি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৯/১১-এর উপর কিছু ছবি তুলতে চাই। তোমরা আশ্রয় দিলেই আমি পারবো যেতে।”

ভাবতেই পারছি না আমার কথা শেষ হবার আগেই রুমা বলে উঠলো….”আসেন না দাদা। খুব ভালো হইবো। তিনদিন কেন ছয় সাত দিন থাকেন। খাবার আমরা যা খাবো আপনিও খাবেন। আমাদের সাথে আমার ছেলে মেয়ে দুজন থাকে। ওই ফ্ল্যাটের চাবি দিয়া দিমু। আপনি নিজের মতো থাকেন। খাবার আমাদের সাথে খাবেন। আমরা যেখানে থাকি সেখান থেকে মেট্রো করে কুড়ি মিনিট লোয়ার ম্যানহাটন। ওয়ার্ল্ড ট্রেড ধ্বংস তো সারা পৃথিবী কাঁপিয়ে দিয়েছিল।’

বাংলাদেশের লোকেদের ভেতরে এইরকম আতিথিয়তা বরাবর দেখেছি বাংলাদেশে থাকার সময়ও। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি নিউইয়র্ক এও রুমা বিশ্বজিৎ এতো সহজ ভাবে আমায় থাকতে দেবে। ভাবাই যাই না। যাক থাকার ব্যবস্থা তো হয়ে গেলো। এবার নিউইয়র্ক যাবো কি ভাবে। ওখান থেকে আবার ভারতে ফেরা। আমাদের তো চারদিন লস অ্যাঞ্জেলস আনন্দ উৎসব করে এখান থেকেই কলকাতা ফেরা। সেই ভাবেই টিকিট এবিপি করে দিয়েছে।

নিজের মনে একটু ভেবে আনন্দবাজার পত্রিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক ঘোষ কে বললাম, “যে ৬ই সেপ্টেম্বরে আমার কলকাতা ফেরার যে টিকিট সেটা তোমরা নিউইয়র্ক অব্দি করে দাও। আমি ওখান থেকে নিজের পয়সায় কলকাতায় ফিরবো।”

কৌশিক তো অবাক, শুনে বলল, “অশোক এসব করতে গেলে সম্পাদক অভিক সরকারের পারমিশন দরকার।”

আমি কৌশিকের হাত ধরে বললাম, “কৌশিক এত কাছে এসেছি আর কয়েক দিন পরই ৯/১১… এটা আমাকে একটু দেখতে দাও।”

কৌশিক বলল, “আমি বসের অনুমতি নিই। একটু সময় দাও।”

আসার সময় বললাম, “অভিকবাবুকে বলো আমি নিজের টাকায় লস অ্যাঞ্জেলস থেকে নিউ ইয়র্ক নিজের টাকায় চলে যাবো। তুমি লস অ্যাঞ্জেলস থেকে যেটা কলকাতা ছিলো সেটাই চারদিন পর নিউইয়র্ক থেকে কলকাতা করে দাও। প্লীজ কৌশিক।”

এবিপি ব্র্যান্ডে দীপ্তাংসুর সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব। ওকেও বললাম। এদিকে সারারাত আমার ঘুম নেই। সাত সকালেই কৌশিকের রুমের দিকে হাঁটছি। করিডোরে দীপ্তাংসুর সাথে দেখা। বললাম, “কৌশিক রাতে কিছু বলেছে।”

বললো, “যাও বসের কাছে গিয়ে শোনো”…. বলেই আমার নিউ ইয়র্ক যাবার জন্য মজা শুরু করলো। “ধুর তোমার হেঁয়ালি ভালো লাগছে না। একেই টেনশনে আছি।”

আমি সোজা কৌশিকের ঘরে ঢুকতেই ও বললো, অশোক বসো…” তোমার টিকিট লস অ্যাঞ্জেলস থেকে নিউইয়র্ক এমনকি নিউইয়র্ক থেকে কলকাতা করে দিয়েছি। তুমি আনন্দবাজার পত্রিকার চিত্র সাংবাদিক তোমার জন্য এইটুকু করতে পারব না। এটা তোমার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট। ফিরে ছবিগুলো দেখিও। ডলার লাগলেও দিতে পারি। অফিসে ফিরে দিয়ে দিও।”

বললাম, “নানা ম্যানেজ হয়ে যাবে। তোমায় অনেক ধন্যবাদ।”… বেরিয়ে এলাম। কৌশিকরা ৬ই সেপ্টেম্বর সবাই রাতে কলকাতা রওনা দেবে। আমার নিউইয়র্ক ফ্লাইট দুপুরে। আমি তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম।

একটা কথা বলে রাখি ইন্দ্রনীল ও প্রীতম আমায় বলেছিল, “অশোকদা নিউইয়র্কে আমরা দুদিন পর যাচ্ছি। হয়তো তোমার ওখানেই থাকবো। আমরাও বিশ্বজিৎকে বলে রেখেছি বুঝলে। সাবধানে যেও।”

বললাম, “এসো এসো খুব আনন্দ হবে।”

এদিকে আবার মনে মনে কিন্তু প্রচন্ড ভয়ও শুরু হয়েছে ইংলিশে কথা বলা নিয়ে। কিন্তু মানুষের কাজ অটোমেটিক যন্ত্র করে দেয়। কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করে না। মনে মনে সাহস রেখে প্লেনে উঠলাম। ভেতরে ভয় থাকলেও আনন্দ তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ছিল। কারণ আমি লাদেনের গুঁড়িয়ে দেওয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাজ দেখতে যাচ্ছি। ফ্লাইটের ভাড়া আনন্দবাজার পত্রিকার জন্য বেঁচে গেল। থাকা খাওয়া বিশ্বজিৎ-রুমা। উফফফ ভাবা যায়।

প্লেনের এই সাত ঘণ্টা কি ভাবে কাটলো এখন ভাবলেই হাসি পায়। দুই সাহেবের মাঝখানের সিট। এয়ার হোস্টেসরা আমার ইশারায় কথা বলা দেখে তো বোবা ভেবে বসেছিলো। পাশের যাত্রীর সাথে কথা বলবো না বলে মুভি চালিয়ে দিলাম। যথাসময়ে জে.এফ.কে বিমানবন্দরে নেমে আমি বিশ্বকে ফোন করতেই ও বললো দাদা তুমি বেরিয়ে ডান দিকে নেমে যাও। ওখানে সেকেন্ড টিউবে উঠে Jackson Heights এ নামবে। মেট্রো থেকে বেরিয়ে ফোন করবে আমি থাকবো। ৩৭ মিনিট সময় লাগবে তোমার।

পৃথিবীর প্রথম মেট্রো এই নিউইয়র্ক সিটিতে। এক একটা জায়গায় চার লেয়ারের মেট্রো চলে। যাইহোক অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে আমি অবশেষে বিশ্ব রুমার কাছে পৌঁছলাম। ওরা আমাকে গেস্ট হাউসে ঢুকিয়ে চাবি দিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলো। রাতে খানার সাথে পিনা আর বাংলা কথা। আমায় বলে দেওয়া হলো তুমি এই মেট্রো থেকে Rosevelt Avenue নামবে। ওপরে উঠলেই ৯/১১…।

গেস্ট হাউসে ফিরে ভাবছি আমেরিকার ওই ভয়ংকর দিনে টিভিতে পৃথিবীর মানুষের সাথে আমি যা দেখেছিলাম, কাল সেই জায়গাটায় আমি যাচ্ছি। উফফফ ভাবতেও পারছি না।

ওখানকার মেট্রোতে খাওয়া যায় এমন কি গরীব সাহেবরা ভিক্ষাও চায়। সবচেয়ে দেখতে ভালো লাগতো ইয়ং ছেলেমেয়েদের সবার সামনেই কিস করা।

আমার কাজ ছিলো, সকাল হলেই মেট্রো স্টেশন Jackson Heights থেকে উঠে Rosevelt Avenue নেমে সারাদিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ছবি তোলা। দুদিন পর ওখানে ইন্দ্রনীল আর প্রীতম এসে হাজির। ওরা দুজন বাসে ট্রেনে বহু জায়গা ঘুরছে। আমি কিন্তু ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ছাড়া কোথাও যাচ্ছি না। একে পয়সা নেই তার ওপর এই জায়গা ছেড়ে দিতেই ইচ্ছা করছে না। সকাল হলেই ম্যানহাটনে সারাদিন পর্ক বা বিফ বার্গার খেয়ে থাকতাম। মনে পড়ছে টিভিতে মহম্মদ আটা প্লেন নিয়ে কি ভাবে ট্রেড সেন্টারে যাত্রী নিয়ে ঢুকে পরলো। আমি সেই জায়গায় কিছু বছর পর হলেও এসেছি।

৯/১১ এর দিন যে যার মত স্বাধীনভাবে সেদিনের ঘটনা নিয়ে বিপক্ষে বক্তব্য রাখছে। আমেরিকার মত দেশে এতো বড় ঘটনার জন্য প্রেসিডেন্ট বুশকেই দায়ী করে ছাত্রছাত্রীরা মিছিল করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। কিন্তু কোথাও কোন ঝামেলা নেই। এমন কি এও দেখলাম পুলিশ আটকানোর পরে কলেজের মেয়েরা পোশাক খুলে শুধু অন্তর্বাস পরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। আবার কোরান বাইবেল পোড়ানো হচ্ছে। ছিঁড়ে ফেলে লাথি মারছে। এমনকি সব ধর্মগ্রন্থ নিয়ে একে অপরকে গালাগাল দিচ্ছে। আবার কত মানুষ তাদের প্রিয়জনের জন্য কান্নাকাটি করছে। গ্রাউন্ড জিরোর দেওয়ালে হাত দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছে প্রিয় মানুষটিকে। চারদিকে সকলেই সাদা রীবন বেঁধে দিচ্ছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করছে যাঁকে হারিয়েছে সেইদিন। ওখানে একটা জায়গায় টুইন টাওয়ারে মৃত সকলের নাম লেখা আছে, সেই নামগুলো খুঁজে ছুঁয়ে দেখছে কারো মা, বাবা, সন্তান, স্ত্রী আপনজনেরা। আমার এগুলো দেখে একটাই কথা মনে হচ্ছিলো, পৃথিবীর যেখানেই যাও দুঃখ কষ্ট আনন্দ সব মানুষের একরকম।

ঠিক দু-রাত পরেই সেই অভিশপ্ত দিন। তাই ভাবলাম ছবিওয়ালার গল্পে এটাই আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই। ৯/১১ নিয়ে ডিটেলে লিখলে একটা গল্পের বই হয়ে যেতে পারে। কারণ আমি তিনবার ৯/১১ এর স্পটে গেছি। ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লিট হবার আগে অবধি প্রতি বছর ওরা মেলের মাধ্যমে আমি আসবো কি না জানতে চাইতো। প্রথমবারের পর আমি দুবার নিজের টাকা খরচ করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার গেছি। সেইসব অনেক ছবি আনন্দবাজারেও প্রকাশিত হয়েছে।

এই মুহূর্তে নাম ভুলে যাচ্ছি কলকাতার আমেরিকান কনস্যুলেট এর প্রধান ম্যাডাম কলকাতা থেকে আমার যাবার খবর পেয়ে আমাকে একদিন কনস্যুলেট আসতে অনুরোধ করেন সঙ্গে এও বলেন, “আপনি ৩ বছর ৯/১১ যা যা ছবি তুলেছেন এক্সিবিশন করুন আমরা স্পন্সর করে দেব।”

করতে পারেনি। এ আমার ব্যর্থতা। দেশে এবং বিদেশে এরকম ঘটনা বারবার হয়েছে এখনও হচ্ছে। সারাজীবন বই বের করা কিংবা এক্সিবিশন করা আর হচ্ছে না। এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন যে আমি ছবিওয়ালার গল্প বলেই গেলাম কিন্তু সেই সব ছবি মানুষকে দেখানোর মতো একটা প্রদর্শনী বা বই করে উঠতে পারলাম না। সুযোগ বহু পেয়েছি এখনও পাই। আমার কত বন্ধুরা প্রদর্শনী করছে বই বার করছে সময় পেলে যাই দেখতে। খুব ভালো লাগে। তারাও আমাকে বলে, “কিছু একটা ভাবো অশোকদা।”

ইয়েস আমি ভাবছি আরও ভাবছি। আমার ভাবনা আকাশে মেঘ হয়ে ঘুরে বেড়ায়….আবার ভাবনা ভারী হয়ে গেলে বৃষ্টি হয়ে ঝরে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ধুর কি সব ভাবছি….জানেন এক বন্ধুকে সেদিন বলছিলাম, “আচ্ছা আনন্দবাজার পত্রিকায় যত ছবি তুলেছি সেটাই তো একটা এক্সিবিশন। কতলোক দেখেছে এত সার্কুলেশন।”….

এইযে তিনবার আমেরিকা যাওয়া, ছবি তোলা। এই সব লেখার বাতেলা যখন করছি তার চারদিন আগে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে একটা প্রদর্শনীর প্রস্তাব এসেছে নিউইয়র্ক বই মেলায়। প্রস্তাব ওরা ফাইনাল করে দিয়েছে। বাকি সবটাই আমার আর মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ আমার ও আপনাদের প্রিয় দিদির ওপর।

আসলে ভয় লাগে এই প্রস্তাব আবার মেঘ হয়ে হারিয়ে যাবে নাতো…? দেখা যাক। লেখা অযথা বড়ো করে ফেললাম। মনে হচ্ছে যেন ভ্রমণ কাহিনী লিখছি। অনেকেই বলেন, এখন বড়ো লেখা কেউ পড়তে চায় না। পড়া নিয়ে মাথাব্যাথা তাদেরই যাদের লেখালেখি জীবন।

সারাজীবন আমি যেখানেই যাই না কেন তিনবার ৯/১১ এর ছবি তোলা আমার জীবনের সেরা এক অভিজ্ঞতা। আমি জানি, জীবন আমায় অনেককিছু দিতে চেয়েছে। কিন্তু আমি গ্রহণ করতে পারিনি। সে আমার বোকামি বলুন কি পরিস্থিতি। আমি সময়ে বিশ্বাসী। হাজার চেষ্টা করলেও যা আমি চাই তা হবে না যতক্ষণ না সময়ের সঠিক তালমিল হচ্ছে। এই মন নিয়েই আমার দিন কাটে। মুহূর্তরা এভাবেই আমার কাছে ধরা দেয়। আমি তাদের সযত্নে সাজিয়ে রাখি। হয়তো কোনোদিন তা বই হয়ে বেরোবে অথবা প্রদর্শনী। কিন্তু ছবিওয়ালার মনের অন্তরে সর্বদাই চলে ছবিদের আনাগোনা।

ছবি, ছবির স্বত্ব অশোক মজুমদার, ০৯.০৯.২০২৩

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “গ্রাউন্ড জিরোর দেওয়ালে হাত দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছে প্রিয় মানুষটিকে : অশোক মজুমদার”

  1. Alok Sarkar says:

    আমি ১৯৭৯-১৯৯৮ নিউইয়র্কে থেকে পড়াশোনা এবং চাকরি করেছি। আমি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী, এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রাক্তন প্রোজেক্ট ম্যানেজার ছিলাম। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের খুব কাছে ২, রেক্টর স্ট্রীটে আমার অফিস ছিল; সেইজন্য জায়গাটির সঙ্গে আমি বিশেষ পরিচিত। আমি ১৯৯৮ এর নভেম্বর মাসে পাকাপাকি ভাবে দেশে ফেরত এসেছিলাম; সেজন্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের সময় নিউইয়র্কে ছিলাম না। থাকলে কি হতো জানিনা! আপনার নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা পড়ে ও ছবিগুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। তবে, আপনি লিখেছেন যে রুজভেল্ট এভিনিউতে নেমে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গিয়ে ছবি তুলতেন। রুজভেল্ট এভিনিউ স্টেশনটি কিন্তু জ্যাকসন হাইটসের একটি সাবওয়ে স্টেশন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ওখান থেকে অনেক দূরে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নামতে হলে ওয়াল স্ট্রীট কিংবা রেক্টর স্ট্রীটে নামলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়। আমি বছর দশেক ঐভাবে যাতায়ত করেছি। আশাকরি ভুল বুঝবেন না। আপনার হৃদয় স্পর্শ করা প্রতিবেদনটির জন্য ধন্যবাদ। ✅

  2. Alok Sarkar says:

    From 1979-1998, I lived in the different boroughs of NYC. Roosevelt Avenue subway station is situated in Jackson Heights itself. This station is no where near WTC. I am an ex project manager of New York City Department of Transportation. My office was at 2 Rector Street which is very close to WTC. That’s why I am very much familiar with the WTC neighbourhood. Except for the above error, I enjoyed your fascinating write up. Thanks!????

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev