গত দু’বছরে অতিমারির দাপটে ব্যহত হয়েছে টিবি নির্মূল করার কাজ। সেই কারণে বেড়েছে টিবি। এই অভিমত দিয়েছেন হু’র স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই সময়কালে বেড়েছে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সও। ২০২১ সালে বিশ্বে টিবি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০.৬ মিলিয়ন। যা তার আগের বছরের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে এই সময়কালে দুরারোগ্য টিবি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ শতাংশ। টিবির হালচাল নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে বহু বছর পর বিশ্বে টিবি সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল আধানোম ঘেব্রেইয়েসুস এর মতে, অতিমারির বিরুদ্ধে আমরা যেমন এক হয়ে লড়েছি ঠিক তেমনি টিবি প্রতিরোধেও মানব জাতিকে এক হতে হবে। এর পাশাপাশি আরেকটা সত্য মানতে হবে যে টিবি প্রতিরোধের কাজে ব্যয়ও চোখে পড়ার মত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা যে আগে খুব বেশি ছিল তা নয় এমনকি ২০১৯ সালেও বিশ্বের টিবি প্রতিরোধে বাজেট ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। রোগ প্রতিরোধের কাজটা মূলত সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেই সামলাতে হয়েছে। কম এবং মাঝারি আয়ের দেশগুলির আর্থিক চাপ এর ফলে বেড়েছে।

এটা ঘটনা যে পরিসংখ্যানের নিরিখে নতুন সংক্রমণের ঘটনা কম। কিন্তু এটা কোন সাফল্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টিং কম হচ্ছে বলে আক্রান্তের সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবে কম মনে হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ না পাওয়া কিংবা সচেতনতার অভাবে রোগ প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা না নেওয়া মানুষরাই সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন অন্যদের মধ্যে। সাম্প্রতিককালে সংক্রমণ বাড়ার এটা একটা বড় কারণ। টিবি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে আমরা এমনিতেই অনেক পিছিয়ে ছিলাম, অতিমারি সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অবস্থা সামাল দিতে সতর্কতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা চতুর্গুণ করতে হবে। প্রাণ বাঁচাতে এবং সংক্রমণ রুখতে হলে অবিলম্বে আক্রান্তদের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। নাগরিক সমাজকে একাজে অংশীদার করে বিশ্বের দেশগুলিকে এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন গ্লোবাল টিবি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর তেরেজা কাসেভা। বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চিন, উগান্ডা, জাম্বিয়ার মত দেশগুলিতে টিবি চিকিৎসার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। অন্যদিকে ভারত, নাইজেরিয়া, সাউথ আফ্রিকার মত দেশগুলির অবস্থা গত বছরের তুলনায় ভালো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছে হু।