মনোজিৎ মৌলিক
বাংলায় এসে প্রচার না করে আপনার উচিত ছিল আপনার নাকের ডগায় ঘটে যাওয়া দিল্লির হিংসার ঘটনায় ৫০ জন নিরীহ নাগরিকের প্রাণ বাঁচাতে না পারার ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ক্ষমা চাওয়া। রবিবার ১ মার্চ ২০২০ এভাবেই অমিত শাহকে বিঁধলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটে তিনি অমিত শাহকে উদ্দেশ করে আরও লেখেন, আপনার দল যে ধর্মান্ধতা ও ঘৃণা ছড়ায় তার থেকে বাংলা অনেক ভালো আছে। এদিন শহিদ মিনারে সভা করে বিজেপি। সেখানে অমিত শাহ নতুন কিছুই বলেননি। সামনে পুরভোট। বিজেপি পুরবোর্ড পেলে কী করতে পারে তার উল্লেখই ছিল না অমিতের হোমওয়ার্কহীন ভাষণে। বলবেন কী? শুক্রবারই তো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশংসা করেছে কেন্দ্র, অমিতের সামনেই। সিপিআইএম ও কংগ্রেস অমিতের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখালেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগাগোড়া আক্রমণ করে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকেই। বলেছেন, বাংলার ভূমিপুত্রকে মুখ্যমন্ত্রী করে সোনার বাংলা গড়বেন। এ আর নতুন কী? বাংলায় তো আর বিপ্লব দেবের মতো কেউ মুখ্যমন্ত্রী কস্মিনকালে হননি! দিদিকে বলোর পর সোমবার নতুন কর্মসূচি দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি দিদিকে বলোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখনও। অমিত শাহ বললেন, দিদিকে বলোর পাল্টা বলুন আর নয় অন্যায়। সত্যিই তো, এদিন কলকাতায় ‘গোলি মারো’ স্লোগান তোলার পর বিজেপি নেতাদের এই কথা বলতেই তো মুখিয়ে আছেন বাংলার মানুষ! ২০২১-এ মিসড কল দিয়ে সদস্য বানানো বিজেপি নাকি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাবে বলে দাবি অমিত শাহর। অবশ্য এমন দাবি তো দিল্লি ভোটের আগেও করেছিলেন, ফল দেখা গেছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন আর দিদিকে বলো ঝড় বেসামাল করে দিয়েছে বিজেপিকে। এরপর আবার আড়াই মাসের আরও ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল। বিজেপির বিশ্বাসযোগ্যতা এতো তলানিতে যে, তৃণমূল থেকে বিতাড়িত যে নেতাকে অমিতের দল ভাগ ভাগ বলেছিল, সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত সেই নেতাকেই মঞ্চে রেখে বড়ো বড়ো কথা বলে বসন্তের এক রবিবার কলকাতায় কাটিয়ে গেলেন অমিত। বললেন, বিজেপিকে নাকি সভা করতে দেওয়া হয় না। তা পরীক্ষার মধ্যে মাইক বাজিয়ে আজ কী হলো? ফুলও যে বাংলায় তাঁকে চায় না, তা বোঝা গেল অমিতের ভাষণের শুরুতে যখন মাইকের সামনে রাখা ফুল সরাতে বাধ্য হলেন বিজেপি নেতারা। জোরসে বলো বলে স্লোগান দিতে বললেও জনতার গর্জন ছিল না। কে আর আজ রাম মন্দির, নাগরিকত্ব, কাশ্মীর-কথা শুনতে চায়? পুরভোটে হার নিশ্চিত বুঝে অমিতও সেই পথ মাড়ালেন না।