| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মুসলমান লেখকদের আত্মানুসন্ধানে দুটি সংগঠন : দিলীপ মজুমদার

Reporter
দিলীপ মজুমদার / ৭৮৫ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩

করাচি প্রস্তাবের পরে পাকিস্তানপন্থী নেতা ও কর্মীরা পূর্ব বাংলার শিল্প-সাহিত্যকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উদ্ভাবন করলেন এক বিচিত্র সাহিত্যতত্ত্ব। সুলেখক হুমায়ুন আজাদ একে বলেছেন ‘পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্ব’। ধর্মীয় ও সামপ্রদায়িক মনোভাব থেকে উৎসারিত এই তত্ত্ব ছিল একটি ফাঁদ। সে ফাঁদে তাঁরা জড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন যুগপৎ পশ্চিমবাংলার হিন্দু ও পূর্ব বাংলার মুসলমান সাহিত্য ও সাহিত্যকর্মীদের।এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথকে।

পূর্ববর্তী শতকে ব্রিটিশের বিভাজননীতি, শিল্প-সাহিত্যের জগতে বাঙালি হিন্দুর আধিপত্য, মুসলমান সমাজের বিচ্ছিন্নতাবোধ ও রক্ষণশীলতার ফলে মুসলমান লেখকদের সাহিত্য সাধনা গতিবেগ লাভ করতে পারে নি। অধ্যাপক এনায়েত আলি বলেছেন, ‘ইংরেজের ভেদনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এ দেশের মুসলমানদের অর্থনৈতিক জীবনে চরম বিপর্যয় বহন করে এনেছিল। ইংরেজের শাসন প্রতিষ্ঠাকে হিন্দুরা কেবল প্রভু বদল মনে করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যহারা মুসলমানদের পক্ষে আঘাতটা ছিল আরও মারাত্মক। ইংরেজ শাসকরা মুসলমানদের প্রতিপক্ষরূপে কল্পনা করেছিলেন। তাই তাদের ধ্বংস করার ব্যাপারে তাঁরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সর্বক্ষেত্রে মুসলমানের উপর আঘাতটা এসেছিল প্রবলরূপে। ‘এই সময়কালের মধ্যে মুসলমান সমাজে কোন শক্তিশালী ও প্রভাবশালী লেখকেরও আবির্ভাব ঘটে নি। বিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের জগতে নজরুলের আবির্ভাব মুসলমান লেখকদের পরম প্রেরণা হয়ে ওঠে’।

মুসলমান সমাজের আত্মজাগরণ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চিন্তা শুরু হয়েছিল করাচি থেকে নজরুলের কলকাতায় আসার কয়েক বৎসর আগে থেকে। কয়েকজন শিক্ষিত মুসলমান যুবক আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য সভা-সমিতি ও পত্রিকা প্রকাশের গুরুত্ব অনুভব করেন। ১৯১১ সালের ৪ মে কলকাতার অ্যান্টনি বাগান লেনের করিম বক্স ব্রাদার্স দপ্তরিখানার মালিক মৌলবি আবদুর রহমানের বাসভবনে মোজাম্মেল হক এক সভা আহ্বান করেন মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলার জন্য।

এই সভায় সমবেত হন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মওলানা মনিরুজ্জামান, সাপ্তাহিক ‘দ্য মুসলমান’ পত্রিকার সম্পাদক মৌলবি মুজিবর রহমান, শেখ আবদুর করিম, মুনশি মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দিন আহমাদ, শান্তিপুরের কবি মোজাম্মেল হক, ‘কোহিনূর’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ রওশন আলি। সভায় সভাপতিত্ব করেন তখনকার স্কুল সমূহের পরিদর্শক মৌলবি আব্দুল করিম। এই সভা থেকে গঠিত হয় ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন যথাক্রমে মৌলবি আব্দুল করিম ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

এই সমিতির উদ্দেশ্য ছিল : —

১] বঙ্গীয় মুসলমান সমাজে বাংলা সাহিত্যের আলোচনা ও তার পরিপুষ্টিসাধন।

২] আরবি, ফারসি, উর্দু প্রভৃতি ভাষা থেকে ধর্মশাস্ত্র, ইতিহাস ইত্যাদির অনুবাদ প্রচার।

৩] বাংলা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পির, সাধুপুরুষ ও মহাজনদের জীবনী সংগ্রহ ও প্রকাশ।

৪] মুসলমানদের রচিত প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্যের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ।

৫] বঙ্গীয় মুসলমান সমাজের প্রাচীন বংশাবলির ও প্রাচীন কীর্তিকলাপের ইতিবৃত্ত ও জাতীয় ইতিহাসের উপকরণ সংগ্রহ।

৬] সাময়িকপত্রের প্রচার।

৭] সদগ্রন্থের প্রচারের ব্যাপারে লেখকদের উৎসাহিত করা।

৮] সাহিত্যক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন।

৯] পাঠাগার স্থাপন ও সংরক্ষণ।

এই সমিতি থেকে প্রকাশিত হত ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’। এই পত্রিকায় প্রকাশিত ‘মুক্তি’ কবিতাটি কাজি নজরুল ইসলামের প্রথম মুদ্রিত কবিতা। পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মহাকবি কায়কোবাদ, আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ, শেখ রেয়াজউদ্দিন মাশহাদী, কবি মোজাম্মল হক, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দিন, মৌলবি মুজিবর রহমান, ড. আব্দুল গফুর সিদ্দিকী, মোলানা আকরম খাঁ, সৈয়দ এমদাদ আলি, এয়াকুব আলি চৌধুরী, মুজফফর আহমদ, এস. ওয়াজেদ আলি, ডাঃ লুৎফর রহমান, আবু লোহানী, কবি শাহাদাৎ হোসেন, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ, কবি গোলাম মোস্তফা, কাজি আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, আবুল মনসুর আহমদ, মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ, মাহবুবুল আলম, নজরুল ইসলাম, আববাস উদ্দিন আহমদ, মুহম্মদ হবিবুল্লাহবাহার, আবু সয়িদ আইয়ুব, কবি আবদুল কাদির, আব্দুল মওদুদ, বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ, কবি কাদের নেওয়াজ, তালিম হোসেন, আহসান হাবিব, হুমায়ুন কবির।

১৮৯৪ সালে গঠিত হয়েছিল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ কিছু মুসলমান যুবক ছিলেন তার সদস্য। তথাপি মুসলমানদের জন্য কেন একটি পৃথক সমিতি গঠনের দরকার হয়েছিল, তার কারণ ব্যাখ্যা করে শহীদুল্লাহ বলেছেন,’আমরা কয়েকজন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভ্য ছিলাম। সেখানে হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদ না থাকলেও আমাদের সাহিত্যিক দারিদ্র্যের দরুণ আমরা বড়লোকের ঘরে গরিব আত্মীয়ের মতো তার সভায় যোগদান করতাম। আমাদের মনে হল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে সম্বন্ধ বিচ্ছেদ না করেও আমাদের একটি নিজস্ব সাহিত্য সমিতি থাকা উচিৎ’।

হাবির রহমান মুসলমান সাহিত্য সমিতি গঠনের গুরুত্ব আলোচনা করেছেন অন্য দিক থেকে। তিনি বলেছেন, ‘সাহিত্য সমিতির উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করে ধারণা হয় কেবল মন-মরা হয়ে থাকার ব্যাপারটি নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণে তাঁদের নিজস্ব একটি সমিতি গঠনের প্রয়ৌজন অনুভূত হয়েছিল। নবীন লেখকদের সংগঠিত করে উৎসাহ উদ্দীপনা জোগানো এবং সাহিত্যের মাধ্যমে মুসলমান সমাজের বিভিন্ন দিকের প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া সেদিন খুবই দরকার ছিল। তাছাড়া নিজেদের ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব তো কম নয়। কেবল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে এ সব কাজ করা সম্ভব ছিল না। তাই দরকার ছিল একটি নিজস্ব সংগঠনের। বলা দরকার যে কোন সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে এর জন্ম হয় নি। বরং সাহিত্যক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনই সমিতির অন্যতম নীতি ছিল।’

১৯১২ সালে ২৯ নং মির্জাপুর স্ট্রিটে অবস্থিত লায়েক জুবিলি ইন্সটিটুশনে সমিতির বার্ষিক অধিবেশন হয়। সভাপতিত্ব করেন একিনউদ্দিন আহমদ। কিন্তু ১৯১৪ সালে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ শিক্ষকতার কাজ নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডুতে চলে গেলে সমিতির কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ১৯১৭ সালে কলকাতায় ফিরে আসেন শহীদুল্লাহ। সেই সঙ্গে ট্রেনিং স্কুলের প্রথান শিক্ষক হিসেবে ঢাকা থেকে বদলি হয়ে আসেন কাজি ইমদাদুল হক। মুসলমান সাহিত্য সমিতি আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’।

শুধু তাই নয়, ১৯১৮ সালে ৩২নং কলেজ স্ট্রিটে মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে এসে ওঠেন মুজফফর আহমদ। মুজফফরের সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন কাজি আবদুল ওদুদ ও মোসলেম পাবলিশিং হাউজের স্বত্বাধিকারী আফজাল-উল হক। তারপর করাচির বাঙালি পল্টন থেকে সে ঘরে এসে উঠলেন কাজি নজরুল ইসলাম।

সমিতির সুদিন যদি দীর্ঘস্থায়ী হত, তাহলে ৩২নং কলেজ স্ট্রিট বাংলা সাহিত্যের তীর্থস্থানে পরিণত হত সন্দেহ নেই। ১৯২১ সাল থেকে সমিতির জীবনে নেমে এল বিপর্যয়। জীবিকার সূত্রে ইমদাদুল হক ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন ঢাকা। মুজফফর আহমদ এবং নজরুল ইসলাম বসবাসের জন্য অন্যত্র চলে গেলেন। দীর্ঘদিন বাড়িভাড়া বাকি পড়ায় ৩২নং কলেজ স্ট্রিটের মালিক উচ্ছেদের মামলা শুরু করেন।

স্বল্পস্থায়ী হলেও মুসলমান সাহিত্য সমিতির অবদান আছে। ১৯৪৩ সালের মে মাসে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে সমিতির শেষ সাহিত্য সম্মেলনে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার এ, এফ, রহমান বলেছিলেন, ‘নবীন মুসলমান সাহিত্যিকদের উৎসাহ দিবার জন্য, তাঁদের রচিত জিনিসগুলি জনসাধারণের সম্মুখে ফুটিয়ে তুলবার জন্য মুসলিম সাহিত্য সমিতির প্রয়োজন হয়। এই সমিতি অনেকটা সফলতা লাভ করেছে। নবীন সাহিত্যিকরা আজ বঙ্গ সাহিত্যে উচ্চ স্থান অধিকার করে সে সমাজের মুখোজ্জ্বল করেছেন। সেটা কতকটা এই সমিতির অক্লান্ত পরিশ্রম, চেষ্টা ও একনিষ্ঠ সেবার ফল, তা আপনাদের অবিদিত নেই।’

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী আবদুল ওদুদ

দুই.

কলকাতায় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি স্থাপিত হয় ১৯১১ সালে। পনেরো বছর পরে, ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় স্থাপিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। এটা মুসলমান লেখকদের পথানুসন্ধানের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহের সভাপতিত্বে এই সাহিত্য সমাজের আত্মপ্রকাশ। এর কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হোসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির।

ধর্মপ্রভাবিত মুসলমান সমাজকে সংস্কার মুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তির মাধ্যমে বিচার করার প্রবণতা সৃষ্টি করা ছিল এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। কাজি মোতাহার হোসেনের ভাষায়, ‘আমরা চাই সমাজের চিন্তাধারাকে কুটিল ও পঙ্কিল পথ হইতে ফিরাইয়া প্রেম ও সৌন্দর্যের সহজ সত্য পথে চালিত করিয়া আমাদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে। এক কথায় বুদ্ধিকে মুক্ত রাখিয়া প্রশান্ত জ্ঞানদৃষ্টি দ্বারা বস্তু জগত ও ভাব জগতের ব্যাপারাদি প্রত্যক্ষ করিতে ও করাইতে চাই।‘

সৈয়দ আনওয়ার হোসেন আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘মুসলিম সমাজে অনেক গলদ ঢুকিয়াছে। মিথ্যা হাদিস দ্বারা ওই সবের সমর্থন চলিতেছে। অনেক সময়ে লোকেরা নিজেদের মতলব হাসিল করিবার জন্য হাদিস সৃষ্টি করিয়াছে। যেসমস্ত হাদিস বুদ্ধির দ্বারা সমর্থিত নহে, তাহা মানিতে হইবে না। কুরআনের ব্যাখ্যা যাহা হইয়া গিয়াছে তাহা ব্যতীত আর হইতে পারিবে না, ইহা ঠিক নহে; কাল ও অবস্থাভেদে ইহার নতুন ব্যাখ্যা দিতে হইবে।‘

মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনের দিকে লক্ষ্য রাখলে দেখা যাবে সেখানে সাম্প্রদায়িকতার লেশমাত্র ছিল না। প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক চারু বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্মেলনের কার্যসূচিতে মুদ্রিত আছে সুশীলকুমার দে, রমেশচন্দ্র মজুমদার, বীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী প্রভৃতি বাঙালি হিন্দুদের নাম।

১৯২৯ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজের তৃতীয় বার্ষিকী অধিবেশনে যে পাঁচটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ :

১] এই সভা বাংলার মুসলমান নর-নারীকে, বিশেষভাবে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সমস্ত বাঙালিকে কুরআনের সহিত পরিচিত হইবার অনুরোধ জানাইতেছে।

২] এই সভা বাংলার পল্লির বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠাগার ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠায় বিশেষভাবে উদ্যোগী হইবার জন্য দেশের সমস্ত কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানাইতেছে।

৩] এই সভা বাংলার বিভিন্ন মক্তব ও মাদ্রাসায় যাহাতে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যায়াম শিক্ষার ব্যবস্থা হয় তজ্জন্য গভর্নমেন্টকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাইতেছে।

৪] এই সভা বাঙালি মুসলমান সমাজের নেতৃবৃন্দ পর্দাপ্রথা দূরীকরণার্থে আদশফ স্থাপন করিতে অনুরোধ জানাইতেছে।

৫] এই সভা সাহিত্য সমাজের কর্মীবৃন্দকে মুসলিম ইতিহাস, দর্শন ও ধর্মবিষয়ক আরবি ও ফারসি গ্রন্থসমূহ অনুবাদ করিবার জন্য একটি অনুবাদ কমিটি গঠন করিতে অনুরোধ জানাইতেছে।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের আয়ু ছিল দশ বৎসর (১৯২৬-১৯৩২)। এই সমাজের মুখপত্র ছিল ‘শিখা’ নামক পত্রিকা। পত্রিকটিকে কেন্দ্র করে যে লেখক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তা শিখাগোষ্ঠী নামে পরিচিত হয়। শিখাগোষ্ঠীর অবদানের কথা বলতে গিয়ে কাজি আবদুল ওদুদ বলেছেন, “১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ, মুখপত্রের নাম ছিল শিখা। আর তাঁদের মন্ত্র ছোল — বুদ্ধির মুক্তি — emancipation of the intellect . এই মন্ত্র তাঁরা পেয়েছিলেন রামমোহন-রবীন্দ্রনাথ -রোমাঁ রোলাঁর কাছ থেকে আর হজরত মোহাম্মদের (সা.) কাছ থেকে। এঁদের অন্যতম পরিচালক পরলোকগত অথ্যাপক আবুল হোসেন একসময়ে বলেছিলেন — হজরত মোহাম্মদের (সা.) একটি বিখ্যাত বাণী হচ্ছে ‘তাখাল্লাকু বি আখলাকিল্লাহ’; আল্লার গুণাবলিতে বিভূষিত হও; আল্লাহর গুণাবলিতে বিভূষিত হওয়ার অর্ধ অনন্ত সদগুণে ভূষিত হওয়া, কাজেই মানুষের উন্নতির অন্ত্য নেই।”

‘শিখা’ আত্মপ্রকাশ করার আগে ‘তরুণপত্র’ ও ‘অভিযান’ পত্রিকা দুটিতে প্রকাশিত হত তরুণ মুসলিম লেখকদের লেখা। বলা যেতে পারে, সেটি ছিল প্রস্তুতিপর্ব। মুসলিম সাহিত্য সমাজের বাৎসরিক অধিবেশনে যে সব লেখা পঠিত হত, সে গুলি প্রকাশিত হত ‘শিখা’য়। পত্রিকার প্রধান কর্মবীর ছিলেন আবুল হোসেন। অনেকাংশে তিনি পত্রিকার আর্থিক দায়ভারও বহন করতেন।

তখনকার রক্ষণশীল মুসলমানরা মুসলিম সাহিত্য সমাজ বা শিখা সম্বন্ধে প্রসন্ন ছিলেন না। সে কথা আমরা জানতে পারি আবুল ফজলের লেখা থেকে। তিনি লিখেছেন, “শিখা’র টাইটেল পৃষ্ঠায় একটি ক্ষুদ্র রেখাচিত্র ছিল, শুনেছি তাও এঁকেছিলেন আবুল হোসেন। একটি খোলা কুরআন শরিফ…. মানব বুদ্ধির আলোর স্পর্শে কুরআনের বাণী প্রদীপ্ত হয়র উঠেছে; এই ছিল রেখাচিত্রটির মর্ম। কিন্তু এর একটা কদর্থ বের করতে বিরুদ্ধবাদীদের বেগ পেতে হয় নি। তাঁরা এর অর্থ রটালেন — মুসলিম সাহিত্য সমাজের সমর্থকরা কুরআনকে পুড়িয়ে ফেলে শুধু মানব বুদ্ধিকে দাঁড় করাতে চাচ্ছে। বলা বাহুল্য গোড়া থেকে গোঁড়ারা মুসলিম সাহিত্য সমাজের বিরোধী ছিল। চিন্তার ক্ষেত্রে কায়েমি স্বার্থের বুনিয়াদ সবচেয়ে শক্ত। এরপর এঁরা রীতিমতো বিরুদ্ধতা করতে লাগলেন।”

আবুল হোসেন ছিলেন রক্ষণশীলদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য। ১৯২৭ সালে সাপ্তাহিক ‘মোহাম্মদি’তে ‘শতকরা পঁয়তাল্লিশ’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখে আবুল হোসেন মুসলমানদের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগ কোটা রাখার বিরোধিতা করেন। গোলাম মোস্তফা তখন আবুল হোসেনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লেখেন, ‘এই পঁয়তাল্লিশ ভাগ কোটায় আবুল হোসেনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন।’ তখন আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। নির্ভীক, যুক্তিবাদী আবুল হোসেন ১৯২৭ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিক অধিবেশনে ‘আদেশের নিগ্রহ’ প্রবন্ধ পাঠ করেন। সে প্রবন্ধে তিনি ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন আদেশ-নিষেধের স্পষ্ট সমালোচনা করেন। খান বাহাদুর আবদুল হাফিজ তাঁর বাসায় গিয়ে এসব আপত্তিকর লেখা লিখতে নিষেধ করেন। আহসান মঞ্জিলে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিচার সভা বসে।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বর্ষের সভাপতি ছিলেন মৌলবি তসদ্দুক আহমদ। সভাপতির অভিভাষণে তিনি বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা যে বাংলা সে কথা জোর দিয়ে বলেন, “মাতৃভাষার এমনি মহিমা যে মাতৃভাষা বলাটাই যেন আনন্দের বলিয়া মনে হয়। বাংলা যে আমার মাতৃভাষা সে কথাটা আপনাদের সমক্ষে জোর গলায় বলিতে আমার একটুও দ্বিধাবোধ হয় না। এতটা অধোগতি আপনাদের আশীর্বাদে এখনও আমার হয় নাই। তবু না কি শুনি এই বাংলাদেশে এখনও অনেক মুসলিম আছেন যাঁহারা বাংলাভাষাকে মাতৃভাষা বলিয়া স্বীকার করিতে লজ্জা বা অপমানবোধ করেন।”

এই কথার সূত্র ধরে আমরা বলতে পারি, পরবর্তীকালে পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্বের প্রবক্তরা ভাষা সম্বন্ধে যে জিগির তুলেছিলেন, তার বীজ ছিল রক্ষণশীল মুসলমানদের মনোভূমিতে।

‘শিখা’র মোট ৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

প্রথম সংখ্যা। সম্পাদক : আবুল হোসেন। এই সংখ্যায় ছিল : —

১] খোশ আমদেদ (গান)/কাজি নজরুল ইসলাম

২] অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ/এ.এফ.রহমান, এম.এ (অক্সফোর্ড)

৩] সভাপতির অভিভাষণ/খান বাহাদুর তসদ্দুক আহমদ, বি.এ, বি.টি

৪] বার্ষিক বিবরণী/সম্পাদক

৫] বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য সমস্যা/অধ্যাপক কাজি আবদুল ওদুদ

৬] বাংলার লোকসংগীত/আবদুল কাদের

৭] বাঙালি মুসলমানের আর্থিক সমস্যা/রকিবউদ্দিন আহমদ, এম.এ

৮] বাঙালি মুসলমানের সামাজিক সনদ/অধ্যাপক কাজি আনোয়ারুল কাদির, এম.এ, বি.টি

৯] হজরত মুহম্মদের প্রতিভা/শামসুল হুদা

১০] সংগীতচর্চায় মুসলমান/অধ্যাপক কাজি মোতাহার হোসেন, এম.এ

১১] শিক্ষা সমস্যা/অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ, এম.এ

১২] আমাদের নবজাগরণ ও শরিয়ত/আবদুর রসিদ, বি.এ . বি.টি

১৩] নার্টাভিনয় ও মুসলমান সমাজ/আবদুস সালাম খাঁ, বি.এ

১৪] বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা সমস্যা/আবুল হোসেন, বি.এ . বি.টি

১৫] মুসলমানের আর্থিক সমস্যা/আনোয়ার হোসেন

১৬] পরিশিষ্ট

দ্বিতীয় সংখ্যা। সম্পাদক : কাজি মোতাহের হোসেন

১] নতুনের গান/কাজি নজরুল ইসলাম

২] অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ/মি. মাহমুদ হাসান, বি.এ (অক্সফোর্ড)

৩] সভাপতির অভিভাষণ/খান সাহেব মৌলবি আবদুর রহমান খাঁ, এম.এ, বি.টি

৪] দ্বিতীয় বর্ষের কার্যবিবরণী/সম্পাদক

৫] বাংলার জাগরণ/অধ্যাপক কাজি আবদুল ওদুদ, এম.এ

৬] সমবায় আন্দোলনে মুসলমানের কর্তব্য/খান বাহাদুর মৌলবি কমরু্দ্দিন আহমদ, বি.এ

৭] মোগল যুগের চিত্রচর্চা/মৌলবি আবদুস সালাম, এম.এ

৮]বাংলার লুপ্তশিল্প/অধ্যাপক রকিবুদ্দিন আহমদ, এম.এ

৯] বাংলার পির পূজা/সৈয়দ আবদুল ওয়াহেদ, বি.এ

১০]মানব মনের ক্রমবিকাশ/অধ্যাপক কাজি মোতাহার হোসেন, এম.এ

১১] ইংরেজি সাহিত্যে রোমান্টিক যুগ/মৌলবি আনওয়ারুল কাদির, এম.এ, বি.টি

১২]স্থাপত্যচর্চায় মুসলমান/মৌলবি আবদুল মঈদ চৌধুরী, বি.এ

১৩]মুসলিম ভারতে শিক্ষাচর্চা/মৌলবি আতাউর রহমান

১৪] বৈদেশিক বাণিজ্য ও বাংলার মুসলমান/অধ্যাপক এ.কে. আহমদ খাঁ, এম.এ

১৫] নারী জীবনে আধুনিক শিক্ষার আস্বাদ/ফজিলাতুন্নেসা, এম.এ

১৬] পরিশিষ্ট

তৃতীয় সংখ্যা। সম্পাদক : কাজি মোতাহার হোসেন

১] অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ/মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

২] সধারণ সভাপতির অভিভাষণ/আবুল মুজফফর আহমদ, বি.সি.এল, বার-এট-ল

৩] তৃতীয় বার্ষিকী বিবরণী

৪] আব্বাসীয় যুগ/অধ্যাপক কাজি আকরম হোসেন

৫] মুসলিম সাহিত্য সমাজ/অধ্যাপক মোহিতলাল মজুমদার

৬] দারার ধর্মমত/অধ্যাপক কালিকারঞ্জন কানুনগো

৭] ইউরোপীয় সভ্যতায় মুসলিম স্মৃতি/মৌলবি মোহাম্মদ আবদুর রসিদ

৮] ইউরোপীয় শিক্ষার আদর্শের ক্রমবিকাশ/খান বাহাদুর আবদুর রহমান খাঁ, এম.এ, বি.টি

৯] কুরআনে মানবের স্থান ও অর্থনীতি/খান বাহাদুর কমরুদ্দিন আহমদ

১০] ফিকাহর উদ্ভব ও পরিণতি/মৌলবি মোখতার আহমদ সিদ্দিকী

১১] চলার কথা/মোলবি আকবর উদ্দিন

১২] আরবি ভাষা ও কাব্য/মি. ফসিহ

১৩] দার্শনিক ইবনে রোশদ/অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ

১৪] ইসলাম ও শরীরচর্চা/মৌলবি বিলায়েত আলি খাঁ

১৫] মানব প্রগতি ও মুক্তবুদ্ধি/মৌলবি নাজিরুল ইসলাম

১৬] কুসংস্কারের একটা দিক/মৌলবি শামসুল হুদা

১৭] ময়মনসিংহের গীত/মৌলবি মোসলেমউদ্দিন খাঁ

১৮] আরবি কাব্য/মৌলবি আবুল কাসেম

১৯] ধর্ম ও সমাজ/অধ্যাপক কাজি মোতাহার হোসেন

২০] বাংলা সাহিত্যের চর্চা/অধ্যাপক কাজি আবদুল ওদুদ

২১] স্যার সৈয়দ আহমদ/মৌলবি আবুল হোসেন

২২] তরুণ আন্দোলনের গতি/মৌলবি আবুল ফজল

২৩] Muslim Literary Conference

২৪] পরিশিষ্ট

চতুর্থ সংখ্যা। সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুর রশিদ

১] অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ/ড. সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন

২] সভাপতির অভিভাষণ/খান বাহাদুর নাসিরউদ্দিন আহমদ

৩] সম্পাদকের কথা

৪] প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দর্শনে জগৎ ও জীবন/অথ্যাপক উমেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

৫] প্রাচ্য ও প্রতীচ্য/কামালউদ্দিন

৬] তরুণের দায়িত্ব/ফতেমা খানম

৭] ধর্ম ও শিক্ষা/অধ্যাপক কাজি মোতাহার হোসেন

৮] বর্তমান বাংলার মহিলা ঔপন্যাসিক/করুণাকণা গুপ্তা

৯] গ্যেটে/অধ্যাপক কাজি আবদুল ওদুদ

১০] সাহিত্যে শুচিতা/প্রিন্সিপাল সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র

১১] ব্রিটিশ ভারতে মুসলমান আইন/আবুল হোসেন

১২] মুসলিম জাগরণ/নাজিরউদ্দিন আহমদ

পঞ্চম সংখ্যা। সম্পাদক : আবুল ফজল

১] অ্ভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ/অধ্যাপক আবদুর রব চৌধুরী

২] সাধারণ সভাপতির অভিভাষণ/হাকিম হাবিবুর রহমান

৩] পঞ্চম বার্ষিক বিবরণ/আবুল ফজল

৪] নাস্তিকের ধর্ম/অধ্যাপক কাজি মোতাহার হোসেন

৫] সভ্যতার উত্তরাধিকার/কামালউদ্দিন

৬] ভারতের আদর্শ/আলি নুর

৭] আল বিরুনি/মোহাম্মদ আবদুল ওদুদ

৮] ইউরোপে এখানে-ওখানে কিছুদিন/অধ্যাপক আবদুল হাকিম

৯] আমাদের রাজনীতি/আবুল হোসেন

১০] মোহাদ্দেস প্রসঙ্গ/আবুজ-জোহা নূর আহমদ

১১] মুসলিম নারীর কথা/ডাক্তার শামসউদ্দিন আহমদ

১২] হিন্দু মুসলমানের কথা/মোহাম্মদ আবদুর রশিদ

১৩] রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস/মোতাহের হোসেন চৌধুরী

১৪] স্বাধীন ভারতের দাস/অধ্যাপক নাজিরউদ্দিন আহমদ

১৫] মিলন সৌধ/মোসলেমউদ্দিন খাঁ

১৬] পাটের কথা/আবদুল ওহাব

১৯৩৬ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন শিখাগোষ্ঠীর লেখকরা। তারপরে সংগঠনের প্রাণ পুরুষ আবুল হোসেন মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ১৯৩৮ সালে মাত্র ৪২ বৎসর বয়েসে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পরে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা হলেও তা সফল হয় নি। যে ‘শিখা’ বাঙালি মুসলমানদের ইতিহাস বদলাতে পারত, সে শিখা নিভে গেল। তখন তৎপর হয়ে উঠলেন পাকিস্তানপন্থী সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা।

লেখক সিনিয়ার ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক

তথ্যসূত্র

১] কাজি নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা/মুজফফর আহমদ

২] শতবর্ষ স্মরণ : বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি/হাবির রহমান

৩] বাঙালির জাগরণ : বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি/ড. রবিউল হোসেন

৪] বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও আবুল হোসেন/হাবির রহমান

৫] মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশন : সভাপতিদের অভিভাষণ/হাবির রহমান সম্পাদিত

৬] শিখা গোষ্ঠী : বাঙালি মুসলমানদের কৃষ্টি ও কৃতি/খোন্দকার শামীম আহমেদ

৭] শাশ্বত বঙ্গ/আবদুল ওদুদ

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “মুসলমান লেখকদের আত্মানুসন্ধানে দুটি সংগঠন : দিলীপ মজুমদার”

  1. অমরনাথ করণ says:

    এবিষয়ে কিছু জানা ছিল। এখানে বিস্তৃত ভাবে জানলাম।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev