মেধাবী ছাত্র। খেলাধুলায় পটু। মিশুকে ও শান্ত স্বভাবের আহসান যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়বে একথা ভাবতে পারছে না প্রতিবেশিরা। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স উত্তর ২৪ পরগণার শাসনের খড়িবাড়ি এলাকা থেকে আলকায়দার জঙ্গি সন্দেহে আব্দুল রকিব সরকার ওরফে হবিবুল্লা ওরফে হারিফ। অন্যজন কাজি আহসান উল্লাহ ওরফে হাসান। কাজী আহসান উল্লার আদিবাড়ি আরামবাগের সামতা গ্রামের কাজী পাড়ায়। সূত্রের খবর, আরও ১৭ জনের নাম মিলেছে। ধৃত দুজনকে জেরা করেই এই নামের তালিকা তৈরি করেছে এসটিএফ। এবার তাদের খোঁজেও চলছে তল্লাশি।
প্রতিবেশিরা জানান, বিশ্বাস করা যাচ্ছে না আহসান আলকায়দার সঙ্গে জড়িত। আহসানের মা বলেন, পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হয়েছে ছেলেকে। এসটিএফ সূত্রে জানাগেছে, বাংলায় নাশকতার কোনও ছক কষেছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে গোপনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের জঙ্গি ভাবধারাকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত তারা। কীভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা যুব সমাজের মধ্যে বিষ ছড়াচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আহসানের মা
প্রসঙ্গত, সামতায় আহসানের মা একলা থাকেন। বাবা বর্ধমানের একটি মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক। সপ্তাহে বাড়ি আসেন। তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড়ো আহসান। মা জানান, গত ঈদের সময় ১০ জুলাই বাড়ি এসেছিল। এখানে পরিবার নিয়ে ছিল ১৩ জুলাই পযর্ন্ত। আহসান এখন পুরনো গাড়ি কেনাবেচা করে। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকে হাওড়ার বাঁকড়াতে। ও এমন কাজ কখনও করতে পারে না। এখানে বাংলা স্কুলে ফোর পর্যন্ত এবং পরে বর্ধমানে বাবার সঙ্গে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
এদিকে এস টি এফ যে দু-জনকে আলকায়দার জঙ্গি সন্দেহে শাসনের খড়িবাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে তাদের একজন আরামবাগের। আজ সকালেই এসটিএফের একদল সামতার আহসানের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসেন। আহসান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন অফিসাররা। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Good news