শনিবার বিএ ক্লাসের শিক্ষার্থীকে গণধর্ষনের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা শ্যাম প্রকাশ দ্বিবেদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মামলার অপর আসামি বেইলির তেজ প্রতাপ সাপ্রু হাসপাতালের চিকিৎসক অনিল দ্বিবেদী। বিজেপি নেতা শ্যাম প্রকাশ দ্বিবেদী (বিজেপি যুব মোর্চা কাশী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট) বেশ কয়েক দিন পলাতক ছিলেন। শনিবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
প্রয়াগরাজের কর্ণেলগঞ্জে থাকতেন বিএ ক্লাসের ওই শিক্ষার্থী। চিকিৎসক ও বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাকে খেতে বাধ্য করা হয় পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয়।

২০১১ সালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয় বেইলি হাসপাতালে। প্রতিবেশি একজনের মাধ্যমে পরিচয় হয় টিবি বিভাগের চিকিৎসক অনিল দ্বিবেদির সঙ্গে। বাবার চিকিৎসার জন্য প্রচুর খরচ হয় এবং পারিবারিক কিছু জমি-জমাও তাদের বেচতে হয়। তবুও চিকিৎসা খরচার বেশ কিছুটা বাকি পড়ে যায়। ডাক্তার তাকে টাকার জন্য বারংবার চাপ দিতে থাকে। একদিন তাকে আলোপিবাগের জয়া হাসপাতালে ডেকে কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে নেশার দ্রব্য মিশিয়ে জোড় করে পান করানো হয় এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মুখ খুললেই তাকে এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকিও দেয় ডাক্তার। প্রায়ই তাঁকে বিরক্ত করতে থাকে ডাক্তার। একদিন ময়রাবাদ মোড়ের কাছে তার বাড়িতেও তাকে ধর্ষণ করা হয়। ভয় দেখানো হয় বিজেপি নেতা শ্যাম প্রকাশ দ্বিবেদির নাম করে। এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে ডাক্তার তাকে চাপ দিয়ে সিভিল লাইনে হোটেল স্টার রিজেন্সিতে বিজেপি নেতা শ্যাম প্রকাশ দ্বিবেদির কাছে নিয়ে আসেন। এখানেও তাকে নেশার দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণকরা হয়। সেই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে, ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ বাধ্য হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ডা. দ্বিবেদীকে গ্রপ্তার করে। কিন্তু বিজেপি নেতা শ্যাম প্রকাশ ফেরার হয়ে যায়। শনিবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে তিনি অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত। কোর্টে তোলা হলে দুজনকেই জেল কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।
(Photo: Twitter / @drshyamprakash)