নাট্যকর্মী ঊষা গঙ্গোপাধ্যায় প্রয়াত। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিচারিকা দেখেন দরজা খোলা, মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন ঊষাদেবী। রাজস্থানের যোধপুরে জন্ম। ছোটো বয়সেই ভারতনাট্যম শিখতে শুরু করেন। এরপর কলকাতায় এসে শ্রী শিক্ষায়তন কলেজে পড়াশোনা, পরে হিন্দি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রিলাভ। এরপর ১৯৭০ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজে, ২০০৮ সাল অবধি সেখানেই অধ্যাপনা করে অবসর নেন। ১৯৭০ সালে সঙ্গীত কলা মন্দিরে নাট্যচর্চা শুরু করেন, ‘মিট্টি কি গাড়ি’ তাঁর প্রথম নাটক, বসন্তসেনার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে রঙ্গকর্মী গঠন করেন ঊষাদেবী, সেই নাট্যদলের হয়ে অনেক পরিচালক কাজ করেছেন। ১৯৮০ সাল থেকে নিজেই পরিচালনা শুরু করেন ঊষাদেবী। মহাভোজ, রুদালি, কোর্ট মার্শাল, অন্তর্যাত্রার মতো বেশ কিছু কাজ মনে গেঁথে রয়েছে নাট্যপ্রেমীদের। কলকাতায় হিন্দি নাটক জনপ্রিয় করতে তিনি একাই কাজ করে গিয়েছেন। ২০০৩ সালে কাশীনামা নাটক লেখার পাশাপাশি ২০০৪ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষের রেইনকোট ছবির চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হয়েছিলেন ঊষাদেবী। বেশ কিছু নাটকের হিন্দি অনুবাদ করে তা মঞ্চস্থ করেন। নব্বইয়ের দশক থেকে নাট্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে রঙ্গকর্মী। ১৯৯৮ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশেও সমাদৃত হয়েছে তাঁর নাটক। ঊষাদেবীর প্রয়াণে শোকাহত বাংলার সংস্কৃতিজগত।
শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।আজ সকালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৭৫। ১৯৭৬ সালে তিনি থিয়েটার গ্রুপ ‘রঙ্গকর্মী’ স্থাপন করেন। তাঁর পরিচালিত ও অভিনীত নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাভোজ, রুদালি, কোর্ট মার্শাল, অন্তর্যাত্রা। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে গিরীশ পুরস্কার-এ সম্মানিত করে। তিনি সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারেও ভূষিত হন। আমি ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।