| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মমতার সঙ্গে উত্তমকুমারের পরিবারের যোগাযোগের নেপথ্যে কিন্তু তরুণকুমার : লিখেছেন সৌম্য সিংহ

Reporter
সৌম্য সিংহ / ৭১৩ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

আত্মীয়তা নয়, সম্পর্কটা যেন একেবারে আত্মিক। আসলে বোধ হয়   সঠিক কোনও সংজ্ঞা হয় না এই সম্পর্কের। হয় না কোনও শর্তও। শুধুমাত্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর সমানুভূতির পথ ধরেই এগিয়ে চলেছে তা। পেয়েছে গভীরতাও। জননেত্রীর প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েছে মহানায়কের পরিবার। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা পথ প্রদর্শকের ভূমিকায় পেতে চেয়েছেন তাঁকে। পেয়েওছেন।

জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে

ক্ষেত্রটা আলাদা হলেও একক জনপ্রিয়তার প্রশ্নে সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙেছেন দু-জনেই। একজন রূপোলি পর্দার দৌলতে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাঙালির মনে। অন্যজন প্রাণবন্ত নেতৃত্বের গুনে রাজনীতির ময়দানে আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তি। উত্তমকুমারের জীবদ্দশায় তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাপ হয়েছিল কি না, সেটা কিন্তু বড়ো কথা নয়। আসল কথাটা হলো, উত্তমকুমারের অবর্তমানে আজ তাঁর পরিবারের অলিখিত অভিভাবক কিন্তু এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এবং তার পেছনে কিন্তু কোনও রাজনীতির গন্ধ নেই। এই সম্পর্ককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কোনও অভিপ্রায়ও নেই। সম্পর্কটা শুধুই বিশ্বাস আর ভালোবাসার। সত্যি কথা বলতে কী মমতার এই ভূমিকা রীতিমতো স্বস্তি দিয়েছে, ভরসা জুগিয়েছে উত্তমকুমারের পরিবারকে।

সেই স্নেহছায়ায়

মহানায়ক উত্তমকুমারকে চোখে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তিনি যখন চিরবিদায় নিয়েছিলেন তখন আমি বেশ ছোটো। কিন্তু তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়াটা রীতিমতো নাড়া দিয়েছিল আমার মনকে। তারপর থেকে বারবার রীতিমতো খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেছিলাম তাঁর প্রতিটি ছবি, প্রতিটি কাজকে। আর পাঁচটা মানুষের মতোই আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল তাঁর অনন্য প্রতিভা। এতটাই অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলাম তাঁর প্রতি যে মনেই হতো না তিনি নেই। ঘটনাচক্রে তাঁর মৃত্যুর অনেক বছর পরে আমি খুব কাছে এসে গিয়েছিলাম তাঁর পরিবারের। টেলিভিশন চ্যানেলের কাজ আর ব্যক্তিগত সম্পর্কটা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল ভবানীপুরে উত্তমকুমারের বাড়িতে। খুব অল্পদিনের মধ্যে স্নেহ আর আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলাম মহানায়কের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের। সহজ সরল গৌতমদা বেশ গল্প করতে ভালোবাসতেন। কিন্তু উত্তমকুমারের মতোই মৃত্যু এসে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই। সেই অভিশপ্ত জুলাই মাসেই। তার পরে বৌদি মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছি সেই স্নেহছায়া। এই সূত্রেই কিছু কথা, কিছু গল্প এবং ভেসে ওঠা কিছু তথ্যও।

সৌজন্যে তরুণকুমার

মমতার সঙ্গে উত্তমকুমারের পরিবারের যোগাযোগের নেপথ্যে কিন্তু তরুণকুমার। দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ হওয়ার কারণে মমতার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল উত্তমকুমারের ভাই অভিনেতা তরুণকুমারের, পরিবারের ছোটোরা যাঁকে ডাকতেন ‘বু কাকু’ নামে। প্রথমবার রেলমন্ত্রী হওয়ার পরে শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে মমতার কাছে মিষ্টি পাঠালেন তরুণকুমার। শুরু হলো যাতায়াত। তরুণকুমার মারা যেতে ছুটে এসেছিলেন নেত্রী। এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী সুব্রতার মৃত্যুসংবাদ পেয়েও। বিপদের বন্ধু হয়ে উঠলেন মমতা। মমতার কাছে যাতায়াত বাড়ালেন উত্তমপুত্র গৌতমদা। সঙ্গে বৌদিও।

উত্তমপুত্রের চোখে

উত্তমকুমারের বাড়িতে যাওয়া মানেই গৌতমদা আর তাঁর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে গল্প আর আড্ডা। মহানায়কের একমাত্র সন্তান বলে কথা, তাই ‘বাবি’-কে নিয়ে কত অজানা কথা। আমারও মনে হতো যেন শেষ না হয় এই কথামালা। মহানায়কের ছেলে, দেখতেও সুপুরুষ, সু্যোগ অপেক্ষা করতো বাড়ির দোরগোড়ায়। তবুও কেন সিনেমায় নামলেন না গৌতমদা? প্রশ্নটা শুনে উত্তম-তনয়ের মুখে কেমন যেন একটা আনমনা হাসি। বললেন, “মা গৌরিদেবী বলতেন, স্বামী তো নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। একমাত্র সন্তানকে আমি আর তাই কাছছাড়া করতে রাজি নই।” ফিল্মে অভিনয় না করার জন্য গৌতমদার মধ্যে কিন্তু তেমন কোনও আক্ষেপও লক্ষ্য করিনি কখনও। আর হ্যাঁ, গৌতমদার সঙ্গে আড্ডায় বারবারই উঠে আসতো মমতার কথা। নেত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁর চোখে ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। মমতা মানেই তাঁর চোখে একটা মানসিক ভরসার জায়গা।

দুর্যোগের আকাশে

২০০৪ সালে ২৪ জুলাই মহানায়কের মৃত্যুদিনে তাঁকে নিয়ে টানা আধ ঘণ্টার একটা প্রোগ্রাম করলাম আমাদের চ্যানেলে। তখন আমি সব থেকে জনপ্রিয় হায়দরাবাদ- ভিত্তিক এক বাংলা চ্যানেলের কলকাতার সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে। গৌতমদা আর তাঁর পরিবারের সহযোগিতায় দারুণ জমলো অনুষ্ঠান। শুটিং হলো ঐ বাড়িতেই। তাপসদা, মানে তাপস পাল এসে দোলনায় বসে বললেন মহানায়কের কথা। পেলাম রেকর্ড টিআরপি। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই মহানায়কের পরিবারে ঘনিয়ে এলো চরম দুর্যোগ। বাড়ির দালানে বসে গল্প করতে করতে গৌতমদা একদিন আমাকে খুব সহজভাবেই বললেন তাঁর অত্যন্ত কঠিন অসুখটা ধরা পড়ার কথা। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি প্রথমে। প্রিয়দা, মানে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি তখন কেন্দ্রে প্রথম ইউপিএ সরকারে জলসম্পদ মন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দায়িত্বে সুনীল দত্ত। সঙ্গে সঙ্গে দিল্লিতে ফোন করে প্রিয়দাকে জানালাম উত্তমপুত্রের অসুস্থতার কথা। প্রিয়দা তাঁর অত্যাধুনিক চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করলেন মুম্বাইতে। গৌতমদা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শুনে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন সাংসদ মমতাও। কথা বললেন গৌতমদার সঙ্গে, মহুয়া বৌদির সঙ্গে। বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত। মনের জোরে যুদ্ধে নামলেন গৌতমদা আর তাঁর পরিবার। বেশ কয়েক মাস ধরে মুম্বাইতে চিকিৎসা চললো উত্তমপুত্রের। অপারেশনও হলো। তখন ঘন ঘন খবর নিতেন মমতাদি।

চলে গেলেন গৌতমদা

চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে এলেন সস্ত্রীক গৌতমদা। সুস্থ হয়ে উঠছিলেন বেশ দ্রুতই। দরকারে বের হচ্ছিলেন বাইরেও। আচমকাই মৃত্যু এলো দুয়ারে। ২০০৫-এর ৩ জুলাই। সন্ধে থেকেই বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে। হায়দ্রাবাদে হেড অফিসে জরুরি মিটিং সেরে আমি তখন কলকাতার পথে। হঠাৎ মহুয়াবৌদির ফোন, “তোমার গৌতমদা চলে গেল, এই মাত্র।” বাড়ি ফিরেই পরের দিন সকালে ছুটলাম মহানায়কের বাড়িতে। শুনলাম খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে এসেছিলেন মমতাদি। তারপরে সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তদারকি করেছেন গৌতমদার শেষকৃত্যের। দাঁড়িয়ে থেকে সান্ত্বনা দিয়েছেন ছেলে-মেয়েদের।

যেন বাড়িরই মেয়ে

দিন কয়েক পরে মহুয়াবৌদি গেছেন কালিঘাটে দিদির বাড়িতে। স্বামীহারার বিষণ্ণ বেশে। পারলৌকিক ক্রিয়ার ব্যাপারে কথা বলতে। উত্তমকুমারের পুত্রবধূকে বিধবার বেশে দেখে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া : এইরকম পোশাকে থেকো না। এটা দেখে আমার খুব খারাপ লাগছে। স্বাভাবিকভাবে থাকো। তা না হলে কিন্তু তোমাদের বাড়ি আমি যাবো না।

পরিবারের হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে শ্রাদ্ধবাসরে পাশে এসে দাঁড়ালেন মমতাদি। পুরোপুরি শাস্ত্রীয় বিধি মেনে গৌতমদার ছেলে-মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্যদের জন্য যা কিছু করার করলেন। আয়োজনে যাতে কোনও ত্রুটি না থেকে যায়, নজর রাখলেন সেদিকেও। যেন বাড়িরই মেয়ে।

পথ দেখালেন ঘুরে দাঁড়ানোর

গৌতমদা যখন চলে গেলেন বড়ো মেয়ে নবমিতার বয়স তখন ২৪। ছোটো মেয়ে মৌমিতার বয়স তখন মাত্র ১২। আর গৌরব ১৮। সদ্য পার হচ্ছে হায়ার সেকেন্ডারির সীমানা। এর মধ্যে একমাত্র নবমিতাকেই দেখে যেতে পেরেছিলেন উত্তমকুমার। নামও রেখেছিলেন তিনিই। গৌতমদা অকালে চলে যাওয়ার আগে নবমিতা পা-ও রেখেছিলেন টালিগঞ্জে, অভিনয় করেছিলেন টেলিফিল্মে। কিন্তু বাবার অকালমৃত্যু তাঁর তিন ছেলে-মেয়ের জীবনেই নিয়ে এসেছিল অনিশ্চয়তার ঘন অন্ধকার। এদিকে গৌতমদার চিকিৎসার জন্য তখন খরচ হয়ে গেছে বহু টাকা। কী করবেন ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না মহুয়াবৌদি। ঠিক এই সময়ই যথার্থ অভিভাবকের মতোই এসে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিখুঁতভাবে একটার পর একটা সমস্যার সমাধান করে দিলেন তিনি। পথ দেখালেন ঘুরে দাঁড়ানোর।

ইচ্ছেশক্তির জোরে

গৌতমদা চেয়েছিলেন,পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসুক গৌরব। কিন্তু তা হতে দিলো না কঠিন বাস্তব। বি কম পড়তে পড়তেই উত্তমকুমারের নাতি বাংলা ছবিতে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নাতনি মেঘার বিপরীতে প্রথম আত্মপ্রকাশ ‘ভালোবাসার অনেক নাম’ ছবিতে। তারপরে সিরিয়ালে অভিনয়ের পালা। ছোটো পর্দায় গৌরব তো এখন রীতিমতো জনপ্রিয় মুখ। সিরিয়ালে ব্যস্ত নবমিতাও। ছোটো মেয়ে মৌমিতা চাকরিরতা বেসরকারি সংস্থায়। মহুয়াবৌদিও কাজ করছেন রেলে। গৌরবের বিয়েতে নিজে এসে আশীর্বাদ করে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবমিতার বিয়েতে নিজে না আসতে পারলেও এসেছিলেন মমতাদির পরিবারের অনেকেই। সব মিলিয়ে দিদির সক্রিয় অভিভাবকত্ব আর গৌতমদার স্ত্রীর অসাধারণ ইচ্ছেশক্তির জোরে মেঘ কেটে গেছে মহানায়কের পরিবারের আকাশে।

কথা রেখেছেন মমতা

উত্তমকুমারের মৃত্যুর পরে তাঁকে প্রাপ্য সম্মান জানায়নি বামফ্রন্ট সরকার। তাই নিয়ে ক্ষোভ ছিল তাঁর পরিবারেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলেই এই ক্ষোভ দূর করবেন তিনি। কথা রেখেছেন দিদি। যোগ্য জবাব দিয়েছেন মার্কসবাদীদের সংকীর্ণতার। দ্বিতীয় বার রেলমন্ত্রী হয়েই টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের নাম রেখেছেন মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতিতে।

এবং তথ্যচিত্র

এবারে আসুন মহানায়ককে নিয়ে তথ্যচিত্রের কথায়। উদ্যোগটা শুরু করেছিলেন উত্তমপুত্রই। পরিচালক স্বপন দাশের সঙ্গে যৌথ প্রয়াস। প্রাথমিক কাজ এগিয়েও গিয়েছিল অনেকটা। কিন্তু আচমকাই চলে যেতে হলো গৌতমদাকে। তা হলে তথ্যচিত্রের ভবিষ্যৎ? ২০০৫ সালের শেষে প্রিয়দা কেন্দ্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে আসার পরে ভাবনাচিন্তা শুরু করলেন এই নিয়ে। তাঁর দফতর থেকেই ব্যবস্থা হলো অর্থ জোগানের। গতি পেলো তথ্যচিত্র তৈরির কাজ। কিন্তু আবার বিনা মেঘে বজ্রপাত। ২০০৮-এ পুজোর পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। তবে টাকার জোগান ঠিকঠাক থাকায় গতি হারালেও থেমে থাকেনি কাজ। এখানেও অনুপ্রেরণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতেই বছর কয়েকের মধ্যেই বসুশ্রী হলে আত্মপ্রকাশ করে বহু প্রতীক্ষিত এই তথ্যচিত্র।

উত্তমকুমারকে নিয়ে কোনও অনুষ্ঠান তাঁর পরিবারকে ছাড়া আজ ভাবতেই পারেন না মুখ্যমন্ত্রী। সেদিনের মহাকরণ কিংবা আজকের নবান্ন, মহানায়কের জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন, ফুলের থালা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন পুত্রবধূ মহুয়া।

কৃতজ্ঞ মহানায়ক-পরিবার

মহানায়কের পরিবারে জননেত্রীর অবদানের কথা শুনে নিন মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের মুখেই—

বাবি নেই, গৌতমও নেই। দিদিই আমাদের পরিবারের অভিভাবক। ভালো থাকলেও তাঁকে বলি। খারাপ থাকলেও জানাই তাঁকেই। তিনি পরামর্শ দেন। সমস্যা সমাধানের পথও দেখিয়ে দেন। জোর পাই মনে। সামলে নিতে পারি নিজেকে।

যেদিন তোমার গৌতমদা চলে গেল সেদিন পায়ের নীচে মাটি হারিয়েছিলাম। আজ কিন্তু শক্ত কংক্রিটের ওপরে মোজাইক বসানো মেঝেতে দাঁড়িয়ে আছি শুধুমাত্র দিদির জন্যই। দিদি না থাকলে কী যে হতো আমাদের। দ্বিতীয় ইনিংসটাই হয়তো হয়ে যেতো অস্তিত্বহীন। সেই জন্যই দিদি ছাড়া আজ আমরা কিছু ভাবতেই পারি না। প্রতিবার আমাদের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় তাই তাঁকে আমাদের মাঝে পেতে চাই আমরা। তিনি আসেনও। আর না আসতে পারলে অবশ্যই প্রসাদ পাঠিয়ে দিই তাঁর বাড়িতে।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মহানায়কের পরিবারের সঙ্গে জননেত্রীর এই আত্মিক বন্ধনে কোথাও কিন্তু কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। এমনকী ভবানীপুরে ৪৬ এ গিরিশ মুখার্জি রোডে মহানায়কের বাড়িটি সরকারের পক্ষ থেকে সংরক্ষণের যে ভাবনা চলছে তার মধ্যেও নেই কোনও রাজনীতির গন্ধ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev