দেশের অনেক স্টার হোটেলেই কোভিড টিকা দেওয়ার গাইড লাইন ভেঙে টিকাকরণ হচ্ছে। হোটেলগুলিকে এব্যাপারে সাহায্য করছে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এই ব্যাপারে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিধি ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমনিতেই দেশে ভ্যাকসিন সঙ্কট তীব্র, কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে, মানুষের টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সচেতনতাও কম। সেই সময় একশ্রেণীর হোটেল ব্যবসায়ীর নিজেদের ক্লায়েন্ট বেস ঠিক রাখতে এমন বেআইনি ব্যবসা সঙ্গত কারণেই লজ্জাজনক ও বেআইনি। কিছু বেসরকারি হাসপাতালের মদতে এমন বেআইনি টিকাকরণ দেশের স্বাভাবিক টিকাকরণ প্রক্রিয়াকেই ব্যহত করবে। এটা ঘটছে এমন একটা সময়ে যখন দেশের কোভিড সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কমছে। গত ৪৫ দিন ধরে দেশে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার গ্রাফ একটু একটু করে নিম্নগামী হচ্ছে। এই সময় ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়িয়ে জনসাধারণের টিকাকরণ আরও ব্যাপক হওয়া দরকার। অতিমারিকে নিয়ে টাকা বানানোর খেলা এই প্রক্রিয়াতে ধাক্কা দেবে বলেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

কোভিড টিকাকরণের জাতীয় গাইড লাইন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতালের ভ্যাকসিনেশন সেন্টার, সরকারি দপ্তরগুলির কোভিড ভ্যাকসিনেশন সেন্টার, আবাসনগুলিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য ভ্যাকসিনেশন সেন্টার, কমিউনিটি সেন্টার, পঞ্চায়েত অফিস, স্কুল-কলেজ, ওল্ড এজ হোমের মত জায়গাগুলি ছাড়া অন্য কোন জায়গায় কোভিড টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবুও একশ্রেণীর স্টার হোটেলগুলি এমন স্বীকৃত বিধি কীভাবে ভাঙার সাহস পেল, সেটাই অবাক হওয়ার মত ব্যাপার!
প্রথমে এই বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। কিন্তু সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিনের সংকটও তীব্র হয়েছে। তখন খোঁজ পড়েছে টিকা কোথায় যাচ্ছে? কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর মতই এসেছে একশ্রেণীর স্টার হোটেলগুলির নাম! ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব এক চিঠি মারফৎ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই সমস্যার কথা জানিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
অতিমারি রোধে টিকাকরণের মত একটা জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার অধিকার দেশের সব মানুষেরই আছে। কিন্তু বেআইনি ব্যবসার মাধ্যমে এই অধিকার যারা খর্ব করছেন তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলিকেও সরব হতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে চিকিৎসক সংগঠনগুলিকেও। জনসাধারণ সরব না হলে এই অপকর্ম বন্ধ করা যাবেনা। শুধু স্টার হোটেলই নয়, যে বেসরকারি হাসপাতালগুলি মানুষদের বঞ্চিত করে ঘুরপথে অন্যদের ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের বিরুদ্ধেও। কোন দল বা মত যেন এই পদক্ষেপের অন্তরায় না হয়।