গোয়াতে ২০২২ সালে বিধানসভার ৪০ আসনের নির্বাচন। ত্রিপুরার পর তৃণমূলের পাখির চোখ এখন গোয়া। সমুদ্র রাজ্যে সবুজ ঝড় তুলতে আগামী ২৮ অক্টোবর গোয়ায় পৌঁছাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৈকত রাজ্যে তিনি পা রাখার আগেই টানটান উত্তেজনা। সমুদ্র রাজ্যে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করেছে। বোঝাই যাচ্ছে দেশ আরও একবার তৃণমূল-বিজেপির লড়াই দেখতে চলছে। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফালেরিওর তৃণমূলে যোগের পর থেকেই সমুদ্র রাজ্যে ঘাসফুল শিবিরের মাটি শক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই যোগ দিয়েছেন গোয়া তৃণমূলে। জানা গিয়েছে, সমস্ত কিছু ঠিক থাকলে মমতার গোয়া সফরকালেই বলিউডের নামকরা অভিনেত্রী বর্ষা উসগাঁওকার তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। তবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গোয়াতে তৃণমূলে যোগ দেবেন নাকি তার আগেই ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। তা নিয়েই এখন গোয়া রাজনীতিতে খই ফুটছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সিনেমা ও টেলিতারকাদের যোগ নতুন কথা নয়। জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তৃণমূলে একেবারে প্রথমে নাম লিখিয়েছিলেন টলি তারকা তাপস পাল। তিনি ২০০১ সালে বিধায়ক হয়েছিলেন। এরপর কৃষ্ণনগর থেকে দু’বার লোকসভায় জিতে সাংসদও হয়েছিলেন। তাপস পাল ছাড়াও তৃণমূলের সাংসদ হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম থেকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে শতাব্দী রায় সাংসদ হন। ২০১১ সালে রায়দিঘির বিধানসভা আসনে বাম হেভিওয়েট প্রার্থী কান্তি গাংগুলীকে পরাস্ত করে বিধায়ক হন আরেক টলি অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। ফের তৃণমূলে তারকা-যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতার দলে যোগ দেন ২০১০ সাল থেকে বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় ম্যাটিনি আইডল দেব। এক বার নয়, পর পর দু’বার ঘাটালের আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জেতেন দেব।
জানা গিয়েছে বর্ষা তৃণমূলে যোগ দিলে তাঁকে আগামী দিনে রাজ্যসভার সাংসদ পদ দেওয়া হতে পারে। তবে বর্ষার যোগদান তৃণমূলে যোগ নিয়ে এখনও তৃণমূলের কেউ মুখ খোলেননি। রাজনৈতিক বিশেষঙ্গদের মতে যদি এই অভিনেত্রী তৃণমূলের হয়ে গোয়ায় রাজনীতিতে যোগ দেন তবে গোয়াতে হিন্দু ভোটে অনেকটাই প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই গোয়াতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ডেরেক ওব্রায়েন বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। ডেরেক ছাড়াও ঘাঁটি গেড়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। গোয়াতে বিজেপিকে হারানোর মরিয়া প্রচেষ্টায় তৃণমূল কাজ করে চলেছে। তার মধ্যেই আগামী বৃহস্পতিবার গোয়ার মাটিতে পা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে মহালয়ার দিন গোয়ায় রাজনৈকিক কার্যালয় খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর গোয়া সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারই মধ্যে শুরু হয়েছে গোয়ার ভূমিকন্যা বর্ষা উসগাওকরের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জল্পনা।
বর্ষা এর আগে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলেও তিনি রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। তাঁর বাবা অচ্যুত কে এস উসগাঁওকর ছিলেন গোয়ার মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। অচ্যুত গোয়া বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার এবং মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। ২০১৭ সালে বর্ষা নিজেও একবার রাজ ঠাকরের পার্টি মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার হয়ে প্রচার করেছিলেন। বর্ষা গোয়ায় পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলে গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্য মাত্রা আনবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, গোয়ায় ৬৫ শতাংশ হিন্দু ভোটার রয়েছে, তাঁরা মনে করছেন, সেখানে ভাল রকম ভাবে বর্ষার প্রভাব পড়বে।
কেবল বর্ষা নয়, তালিকায় রয়েছে নফিসা আলি, লাকি আলির নামও। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন তাঁরা। একুশের ভোটের পর জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বলিউডের একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীর সঙ্গে আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক ছিল। একুশের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করতে জয়া বচ্চন এসেছিলেন। শোনা যাচ্ছে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখাতে চলেছেন একাধিক বলি তারকা।
আসলে ভোট নির্ভর রাজনীতিতে সিনেমা বা টেলিভিশন তারকাদের যোগদান কোনও নতুন ঘটনা নয় বা একটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা বিজেপি শিবিরেও নাম লিখিয়ে রেখেছেন। নির্বাচনের সময় যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে জনপ্রিয় মুখ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে আগামী বছর গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে গোয়ার ভূমি কন্যা বর্ষা উসগাওকরের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে গোয়াতে ঘাঁটি গেড়ে থাকা ডেরেক জানিয়েছেন, গোয়াতে কে যোগদান করছেন, কবে যোগদান করছেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, আগামী বছর গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেই লড়াইয়ের ময়দানে নামবে। এবং গোয়ায় তৃণমূলের রাজ্য কমিটি থেকে শুরু করে যুব, মহিলা-সহ সমস্ত সংগঠন এ বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই তৈরি হবে।