‘The condition of the working class in England’ নামক বইটি কার্ল মার্ক্সের বন্ধু ফ্রেডেরিক এঙ্গেলসের লেখা। ১৮৪৫ সালে। তার চার বছর পরে কার্ল মার্ক্স ফ্রান্স থেকে বিতাড়িত হয়ে ইংল্যান্ডে আসবেন।
প্রাগুক্ত বইটিতে এঙ্গেলস ইংল্যান্ডের তৎকালীন সমাজের শিশুশ্রম, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন। টাইফয়েড, কলেরা, টিবি ইত্যাদি রোগের জন্যে শ্রমজীবী মানুষের থাকার জায়গার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে দায়ী করেছেন।
সেই সময় ইংল্যান্ডে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার প্রাথমিক অবস্থা। ‘ব্লাড লেটিং’-এর কুফল মানুষ সবে বুঝতে শিখছে। অ্যালোপাথির সেই প্রিমিটিভ যুগে স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের হোমিওপ্যাথি আস্তে আস্তে জমি তৈরি করছে। ফ্রান্সিস কুরি, জন এপস প্রমুখ নামকরা হোমিওপ্যাথ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসারের জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
এই জন এপস আবার নামকরা রাজনীতিবিদ ছিলেন।
১৮৪৯-এর আগস্টে কার্ল মার্ক্স ইংল্যান্ডে প্রথম পা দেন। তখন তাঁর অর্থনৈতিকভাবে শোচনীয় দশা। ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস বন্ধুকৃত্য করে তাঁকে সংসার চালাতে সাহায্য করছেন। তবে তার সঙ্গে অন্যজনের সাহায্যও লাগছে।

ডা. জন এপস রাজনীতির লোক হওয়ায় এঙ্গেলসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তিনি কার্ল মার্ক্সকে আপদে-বিপদে অর্থসাহায্য করেছেন। থাকার বাড়িও দিয়েছিলেন।
কার্ল মার্ক্সের হোমিওপ্যাথির উপর বিশ্বাস ছিল কিনা জানা যায় না। তবে অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের একটি লেখায় হোমিওপ্যাথির ডোজের Standardization নিয়ে মন্তব্যের উপর টীকা লিখেছিলেন।
ডা. জন এপসের সঙ্গে কার্ল মার্ক্সের বন্ধুত্ব কতটা নিবিড় ছিল জানা যায় না। তবে কার্ল মার্ক্স যখন ইংল্যান্ডে এলেন তখন জন এপস রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, ফ্রেনোলজিস্ট (করোটিবিশেষজ্ঞ), বাগ্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানে তাঁর অবস্থান।
১৯৫০-এ লিখে ফেলেছেন ‘Domestic Homeopathy…’ নামে বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বই।
ভারতেও এই বইটির বাজার ছিল। রাজেন্দ্রলাল দত্ত, মহেন্দ্রলাল সরকার, লোকনাথ মৈত্র-র মতো দিকপাল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে এই বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বয়ং বিদ্যাসাগরমহাশয়।

তিনি নিজেও একজন শখের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। কার্মাটাঁড়ের সাঁওতালপল্লিতে তাঁর দরিদ্রসেবার প্রধান মাধ্যম ছিল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। বিদ্যাসাগরের সেজ ভাই শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন বিদ্যাসাগরের জীবনচরিত ও ভ্রমনিরাশ বইয়ে লিখেছেন , বিদ্যাসাগর প্রতি বছর থ্যাকারে কোম্পানিকে অর্ডার দিয়ে বিলেত থেকে বহু অর্থের বিনিময়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বই ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ আনাতেন। বিনামূল্যে সেসব বিতরণ করতেন। বেরিনি কোম্পানির বই তাঁর প্রিয় ছিল।
সেযুগে বছরে ২০০ টাকার বই ও ওষুধ নেহাত কম ছিল না।
এইভাবে ডা. জন এপস-এর ‘ডোমেসটিক হোমিওপ্যাথি’ বইটিও তিনি আনিয়েছিলেন।
বইটির একটি ফটোকপি দিলাম সকলের অবগতির জন্যে।
এই বইটির লেখকের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে তিনি নিশ্চয় কার্ল মার্ক্সের সঙ্গে লেখক ডা. জন এপসের বন্ধুত্বের কথা জানতে পেরেছিলেন।
কার্ল মার্ক্সের সমাজবাদী ধ্যানধারণার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটতেই পারে এইভাবে। পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন কিনা আমার জানা নেই। বিশেষজ্ঞরা জানলেও জানতে পারেন।