বায়োপিকের একটা ভালো বাজার আছে ভারতীয় সিনেমা মহলের প্রযোজকদের কাছে। সুশান্ত সিং রাজপুতকে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছিল এম.এস ধোনির বায়োপিক। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছে। মুক্তির জন্য প্রস্তুত ক্রিকেট নিয়ে সিনেমা ‘৮৩’। কপিল দেবকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। ভাগ মিলখা ভাগ মিলখা সিং-এর জীবন নিয়ে বায়োপিক করেছিলেন ফারহান আখতার সিনেমা প্রেমীদের মনে বেশ দাগ কেটেছিল ছবিটা। এবার এসে পরেছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার মুথাইয়া মুরলীধরন। মুরলী তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৮০০টা উইকেট নিয়েছেন। বায়োপিকটির নামও রাখা হয়েছে ‘৮০০’। মুরালিধরন হিসেবে রুপালি পর্দা কাঁপাবেন তামিল তারকা বিজয় সেথুপাতি। মুত্তিয়া মুরালিধরন, বিজয় সেথুপতি দুজনেই ফেসবুকে তাঁদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ছবির কথা জানিয়েছেন। বিজয় সেথুপতি একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘এমন ঐতিহাসিক এক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি। শিগগির পরবর্তী আপডেট আসছে।’ সিনেমার মেকিং যদি ভালো হয়, আর সেথুপতি যদি মুরালির বোলিং স্টাইলের আধাআধিও আয়ত্ব করতে পারেন; তাহলে এই বায়োপিক যে একটা মাস্টারপিস হতে যাচ্ছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা বিজয় সেথুপতি দর্শকদের মধ্যে বেশ পরিচিত। বিশেষ করে ‘৯৬’ সিনেমাটা মুক্তির পরে তার জনপ্রিয়তা প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে। এর আগে-পরেও দারুণ কিছু সিনেমা তিনি করেছেন। ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেননি তিনি। প্রথম জীবনে দোকানের কর্মচারী, সুপার শপের ক্যাশিয়ার বা ফোন বুথের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা সেথুপতি মেধা আর পরিশ্রমে নিজেকে আজকের অবস্থানে তুলে এনেছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড এক্টর হিসেবে ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করা এই অভিনেতাকে তাই সেলফ মেইড সুপারস্টার বললে ভুল হবে না একটুও।
এই সিনেমার ফার্স্ট লুক এবং মোশন পোস্টার মুক্তি পেয়েছে। এবং মুক্তির পরেই সেটা অনলাইনে ঝড় তুলেছে। পোস্টারে বিজয় সেথুপতিকে দেখে মুরালিধরনের সঙ্গে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না খুব একটা—এত পারফেক্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাকে! মুরালিধরনের বিশেষত্ব হচ্ছে ভয়ংকর দৃষ্টি, পোস্টারে সেথুপতিও নিজের চোখে সেই ভয়ানক সৌন্দর্যকে তুলে এনেছেন, মুরালিধরনে পরিণত হবার জন্য তার ডেডিকেশনটা বোঝা যাচ্ছে এই একটা ছবিতেই। ফরেস্ট গাম্পের হিন্দি রিমেক ‘লাল সিং চাড্ডা’-তে আমির খানের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন বিজয় সেথুপতি, এই সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হবে তার। তবে তাকে সর্বভারতীয় অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়ার কাজটা করতে পারে ‘৮০০’ সিনেমাটাই।
নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে এই চরিত্রের জন্য পারফেক্ট একজনকে খুঁজছিলেন, কিন্ত মিলছিল না কোথাও। বোলার মুরলির চরিত্রের যে আগ্রাশন, একই সাথে মানুষ মুরালিধরনের সরলতা—দুটোর মিশ্রণ পাওয়া যাচ্ছিল না খুঁজে। সাউথ ইন্ডিয়ান নায়কেরা বিখ্যাত অ্যাকশন এবং রোমান্সের কারনে, কিন্ত এই সিনেমায় দুটোর কোনটিরই জায়গা নেই। মাচোম্যানের পরিবর্তে দরকার ছিল একজন ক্যারেক্টার আর্টিস্টের। শেষমেশ নির্মাতারা দ্বারস্থ হয়েছেন বিজয় সেথুপতির। তখন সেথুপতির হাতে মোট ছয়টি সিনেমা ছিল। প্রথমে তিনি রাজি হননি তাই এই সিনেমার অভিনয় নিয়ে কোনো কথা বলতে পারেননি ‘মাক্কাল সেলভান’খ্যাত সেথুপাতি। অবশ্য তিনি মুরলীর জীবন কাহিনী শোনার পর রাজি হয়েছেন। কয়েক দফা অডিশন আর স্ক্রিন টেস্ট দেয়ার পর তাকে এই সিনেমার জন্য ফাইনাল করা হয়েছে। স্বয়ং মুত্তিয়া মুরালিধরনও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, তার চরিত্রে বিজয় সেথুপতি অভিনয় করবেন শুনে।
সিনেমার মেকিং যদি ভালো হয়, আর সেথুপতি যদি মুরালির বোলিং স্টাইলটা আধাআধিও আয়ত্ব করতে পারেন; তাহলে এই বায়োপিক যে একটা মাস্টারপিস হতে যাচ্ছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শোনা যাচ্ছে, মুরালিধরন নিজেই নাকি ভারতে এসে সেথুপতির সঙ্গে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কাজ করবেন কিছুদিন। মুরালিধরন নিজে বিজয় সেথুপতির অভিনয়ের মুগ্ধ দর্শক, তার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে, সেথুপতি এই বায়োপিকে তার চরিত্রটাকে দুর্দান্তভাবে উপস্থাপনা করবেন। এখন দেখার বিষয় রিজিওনাল স্টার থেকে অল ইন্ডিয়ান সুপারস্টারে তিনি নিজেকে পরিণত করতে পারেন কিনা।